Dr. Bashir Mahmud Ellias's Blog

Know Thyself

Cancer and its pre-symptoms

Leave a comment

ক্যান্সারের পূর্ব লক্ষণ

ক্যান্সার একটি রোগের দীর্ঘ পথ পরিক্রমার শেষ ধাপের নাম। একজন মানুষ এক লাফেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হন না। এটি প্রধানত চারটি ধাপে অগ্রসর হয়ে পরিপুর্ণ ক্যান্সারের রূপ লাভ করে। ক্যান্সারের প্রথম ধাপ হলো মানসিক লক্ষণের প্রকাশ, দ্বিতীয় ধাপ হলো শরীরিক লক্ষণ, তৃতীয় ধাপ হলো শরীরে টিউমার সৃষ্টি হওয়া এবং শেষ ধাপ হলো ক্যান্সারের আত্মপ্রকাশ ও বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া। ক্যান্সারের প্রথম দুটি ধাপ কোন রোগীর মধ্যে লক্ষ্য করেই বিজ্ঞ চিকিৎসক নিশ্চিত হয়ে যান যে, রোগী অদুর ভবিষ্যতে ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে যাচ্ছে ।

মানসিক লক্ষণ ঃ- ক্যান্সার রোগটি প্রথমে মানুষের মনকে আক্রমণ করে। যিনি ভবিষ্যতে একদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হবেন, তার মধ্যে একটি নিশ্চিত বিশ্বাস জন্মে যায় যে, সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হবেই হবে এবং ক্যান্সার তার মৃত্যুর কারণ হবে। এমনকি তার শরীরে কোন টিউমার সৃষ্টি হওয়ার বহু পুর্বেই এমন বিশ্বাস মনে বাসা বেধে থাকে। সে তার কল্পিত ভয় এবং বিশ্বাসের কথা নানানভাবে চিকিৎসকে বুঝাতে চেষ্টা করে।

শারীরিক লক্ষণ ঃ- ইন্টেসটাইন, লিভার এবং কিডনী এই তিনটি অঙ্গ প্রধানত ক্যান্সারজনিত পুর্ব অবস্থার বা সুপ্ত ক্যান্সারের শিকার হয়ে থাকে। যিনি দীর্ঘদিন যাবত শক্ত পায়খানা বা কোষ্টকাঠিন্যে ভোগছেন এবং ঔষধ না খেয়ে পায়খানা করতে পারেন না, তিনি নিশ্চিতভাবে ক্যান্সারের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। মুখে তিতা তিতা লাগা এবং সকালে বমিবমি ভাব হওয়া ক্যান্সারের একটি পুর্ব লক্ষণ। কয়দিন ডায়েরিয়া এবং কয়দিন কোষ্টকাঠিন্য নিশ্চিতভাবেই ক্যান্সারের একটি পুর্ব লক্ষণ। খাবারের পর পেট ভার ভার লাগা এবং ঘুম পাওয়া ক্যান্সারের আরেকটি পুর্ব লক্ষণ। খসখসে শুকনো বা তৈলাক্ত চামড়া এবং তাতে এখানে-সেখানে ছড়ানো কালো কালো দাগ বা তিল হলো ক্যান্সারের একটি পুর্ব লক্ষণ। বিশেষত নাক, কান এবং কপালে তিল থাকে এবং ধীরে ধীরে সেগুলো সারা মুখে ছড়িয়ে পড়ে। বুকের সামনের দিকে এবং পেটে ছোট-বড় লাল লাল দাগ দেখা যায়। যে-সব দাগ বাদামী রঙের এবং ধীরে ধীরে কালো হতে থাকে, সেগুলো ক্যান্সেরিনিক স্পট। ওয়ার্টস বা মেঞ্জ / আচিঁল, প্যাপিলোমা এবং কন্ডাইলোমা হলো ক্যান্সারের একটি পুর্ব লক্ষণ। উপরোক্ত লক্ষণগুলোর উপস্থিতি এবং তীব্রতাই ঈঙ্গিত করে যে, ক্যান্সারজনিত পুর্বাবস্থার শিকার হয়ে তার পুরো শারীরিক সিষ্টেম কতটা বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। শীর্ণতা বা চিকন হওয়া হলো শরীরে খনিজ পদার্থ বা মিনারেলের অভাব কিংবা বলা যায় খনিজ লবণকে ব্যবহারে অক্ষমতা। যক্ষা বা অন্যকোন জ্ঞাত কারণ ছাড়াই শীর্ণতা দেখা দেওয়া বা শুকিয়ে কঙ্কালসার হওয়া ক্যান্সারের একটি বড় পুর্ব লক্ষণ। হাইপারটেনশান বা উচ্চ রক্তচাপ হলো ক্যান্সারের একটি পুর্ব লক্ষণ আর নিম্ন রক্তচাপ বা লো প্রেসার হলো যক্ষার পুর্ব লক্ষণ। একই অঙ্গে বারবার আঘাত পাওয়া সেখানে ক্যান্সার হওয়াকে নিশ্চিত করে। নানা রকমের ঔষধেও নিয়নত্রণ করা যায় না এরকম বাত (rheumatism) হলো ক্যান্সারের আরেকটি পুর্ব লক্ষণ। দুর্দমনীয় অজীর্ণ বা বদহজম (indigestion) হলো ক্যান্সারের একটি উল্লেখযোগ্য পুর্ববস্থা। দীর্ঘদিনের পুরনো মাথা ব্যথা, স্মায়বিক ব্যথা (neuralgia) এবং গেটে বাত (gout) হলো ক্যান্সারের পুর্ব লক্ষণ।

টিউমার সৃষ্টি ঃ- শরীরের টিউমারের উৎপত্তি হওয়া হলো ক্যান্সারের সবচেয়ে নিকটবর্তী ধাপ। ক্লার্কের মতে, টিউমার হলো টিস্যুর অস্থিতিশীলতা বা বিদ্রোহ (tissue instability)। টিউমারকে যদিও বিনাইন ও ম্যালিগন্যান্ট অর্থাৎ নিরীহ ও মারাত্মক নামে দুই ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে; তথাপি কোন টিউমারকেই বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখতে নেই। কারণ যে-কোন নিরীহ টিউমারই যে-কোন সময় মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে অর্থাৎ ক্যান্সারাস হতে পারে। শরীরের কোন অংশকে উৎপাত করা বা বিরক্ত করার ফলে কেবল টিউমারেরই সৃষ্টি হয় না ; এমনকি নিরীহ টিউমারকে ক্যান্সারাস টিউমারে রূপান্তরিত করে থাকে। টিউমার বা ক্যান্সার যেহেতু টিস্যুর অস্থিতিশীলতা, সেহেতু যে-সব ঔষধ টিস্যু তৈরীতে সাহায্য করে সেগুলোকে ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যবহার করা যায়। টিউমারের চিকিৎসা প্রথমে ঔষধের সাহায্যে করা উচিত। কেননা অপারেশন করে কেটে ফেলে দিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে একই স্থানে বা শরীরের অন্যত্র আবার টিউমার হতে দেখা যায়। প্রকৃতপক্ষে টিউমার নিজে কোন রোগ নয়; বরং শরীরের অন্তর্নিহিত কোন রোগের ফল বা লক্ষণ স্বরূপ। গাছকে রেখে ফল কেটে ফেললে যেমন ফল ধরা বন্ধ করা সম্ভব নয়; তেমনি টিউমারের মুল কারণকে দূর না করে শুধু অপারেশন করে টিউমারের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। এতে পরিস্থিতি বরং ক্রমাগত খারাপের দিকে অর্থাৎ ক্যান্সারের দিকে যেতে থাকে।

Author: bashirmahmudellias

I am an Author, Design specialist, Islamic researcher, Homeopathic consultant.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s