Dr. Bashir Mahmud Ellias's Blog

Know Thyself

Medicinal use of Toolsi tree

Leave a comment

তুলসী গাছের ঔষধি গুণ

আমাদের দেশের বহুল পরিচিত তুলসী গাছের ঔষধরূপে ব্যবহার সমপর্কে সকলেই কম-বেশী অবগত। এদেশের হিন্দু সমপ্রদায়ের নিকট ইহা একটি পবিত্র বৃক্ষরূপে সমাদৃত। তুলসী গাছের বৈজ্ঞানিক নাম হলো অসিমাম ক্যানাম (Ocimum canum)। ইহা ল্যাবিয়েসি (Labiate) পরিবারের একটি সদস্য। অসিমাম পরিবারের সকল বৃক্ষের মধ্যে সুগন্ধ বিদ্যমান। ব্রিটিশ ওয়েলসে যে প্রজাতিটি জন্মে তার নাম অসিমাম ফ্লুমিনেন্স (Ocimum fluminense) পক্ষানতরে পুর্তগালে ইহার ডাক নাম আলফাভেকা (Alfavaca)। ঔষধ তৈরীতে তুলসী গাছের তরতাজা পাতা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তুলসী পাতা রস থেকে যে হোমিওপ্যাথিক ঔষধটি তৈরী করা হয় তার নামও রাখা হয়েছে Ocimum canum । চিকিৎসা বিজ্ঞানী মুরের মতে, প্রাচীন কাল থেকে ব্রাজিলে এই গাছটি কিডনী, মুত্রনালী এবং মুত্রথলীর বিভিন্ন রোগের একেবারে স্প্যাসিফিক ঔষধরূপে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তিনি ইহার ওপর গবেষণা করে উনিশটি লক্ষণের একটি তালিকা তৈরী করেছেন যার কিছু ক্লিনিক্যাল এবং কিছু প্যাথোজেনেটিক। এই ঔষধের প্রধান লক্ষণ হলো কিডনী রোগ সমপর্কিত পেট ব্যথা যাতে রোগী হাত বাঁকা করে রাখে এবং সাথে থাকে প্রচণ্ড বমি। রোগী প্রচণ্ড ব্যথায় সর্বদা গোঙাতে থাকে। রোগীর প্রস্রাব হয় লাল রঙের এবং তাতে ইটের গুড়ার মতো তলানি পড়ে। এসব লক্ষণ সাধারণত কিডনীতে পাথর হলে প্রকাশ পায়। দুই কিডনীর ওপরই ইহার ক্রিয়া প্রকাশ পায় তবে ডান কিডনীর ওপর ক্রিয়া বেশী লক্ষ্য করা গেছে। প্রস্রাবের রঙ হলদেটে-কমলা রঙও হতে পারে। প্রস্রাব গাঢ়, পুঁজযুক্ত এবং মেশকের ন্যায় গন্ধ থাকতে দেখা যায়। প্রস্রাব করার সময় জ্বালা-পোড়া করে। এদেশের কবিরাজি চিকিৎসকরা তুলসী গাছকে প্রধানত ব্যবহার করে লিভারের রোগে এবং পিত্তযুক্ত সবিরাম জ্বরে অর্থাৎ যে জ্বর একবার বাড়ে একবার কমে। অসিমাম ব্যাসিলিকাম (Ocimum basilicum) প্রজাতিটি সবচেয়ে বেশী পরিচিত যার ডাক নাম সুইট বা কমন বেসিল। ইহা ভ্যাজাইনাম প্রল্যাপস, সতনের অতিরিক্ত সপর্শকাতরতা এবং বিশেষত সতন্যদানের সময় ব্যথা রোগে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ইহাতেও বমি, চিৎকার, হাত বাঁকানো প্রভৃতি লক্ষণ আছে।

অসিমাম কেনাম বা তুলসী গাছ আর যে-সব রোগে ব্যবহৃত হয় তা হলো প্রস্রাবের সাথে এলবুমিন যাওয়া, বিউবো বা লিম্ফ গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া, ডায়েরিয়া, অস্বাভাবিক প্রস্রাব ইত্যাদি। যাদের শরীরের ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেশী তাদের জন্য উপকারী। চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডানহাম ইউরিক এসিড ডায়াথেসিসে এই ঔষধের বহুল ব্যবহার করেছেন। ভ্যাজাইনার প্রাচীর বা দেওয়ালে ইহার ক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। ফলে ভ্যাজাইনাল প্রল্যাপস বা যোনী প্রদেশের স্থানচ্যুতি রোগে ইহার ব্যবহার ফলপ্রদ। দিনে কয়েকবার হয় এমন ডায়েরিয়াতে ইহা উপকারী। সতনের অত্যধিক সপর্শকাতরতা, চেপে ধরা ব্যথা এবং সতনের চুলকানিতে ইহার ব্যবহার আছে। যোনী ওষ্টের স্ফীতি এবং ছুরিমারার ন্যায় ব্যথায় সুফলদায়ক। ইহার রোগীরা স্বপ্নে দেখে কে যেন তাকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করতেছে। রানের চিপার গ্ল্যান্ডসমুহ ফুলে গেলে ইহা সেবন করতে পারেন। বাম অণ্ডকোষের গরম, ফুলা এবং অতিরিক্ত অনুভুতিশীলতা ইহার অন্যতম একটি লক্ষণ। ডান পাছার অনুভুতিহীনতা বা অবশ অবশ ভাবে ইহা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তুলসী পাতার রস পানিতে মিশিয়ে গোসল করলে বাতের উপকার হয়।

Author: bashirmahmudellias

I am an Author, Design specialist, Islamic researcher, Homeopathic consultant.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s