Dr. Bashir Mahmud Ellias's Blog

Know Thyself

Emergency diseases and their homeopathic treatment

Leave a comment

ইমারজেন্সী রোগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

একিউট ডিজিজ বা ইমারজেন্সী অসুখ-বিসুখ নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা অবলম্বন করার কথা বললে কেউ কেউ অবাক হতে পারেন। কেননা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে সমাজে যে-সব মিথ্যা কথা প্রচার করা হয়, তার একটি হলো “হোমিও ঔষধ দেরিতে কাজ করে বা ধীরে ধীরে কাজ করে”। অথচ বাস্তব সত্য হলো, হোমিও ঔষধ পুরোপুরি লক্ষণ মিলিয়ে দিতে পারলে, সেটি বাজারে আসা হাইপাওয়ারের লেটেস্ট এন্টিবায়োটিকের চাইতেও অন্তত একশ গুণ দ্রুত কাজ করে থাকে। হোমিওপ্যাথি একমাত্র বিজ্ঞান ভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি। অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি বিজ্ঞানের নামে প্রতারনা ছাড়া আর কিছুই নয়। ইহারা রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার নামে যদিও খুবই উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে থাকুক না কেন ; আসলে সেগুলো হলো মানুষকে বোকা বানানোর এবং পকেট মারার এক ধরণের অত্যাধুনিক ফন্দি মাত্র। তাদের নানা রকমের চটকদার রঙের এবং ডিজাইনের দামী দামী ঔষধগুলো কোন জটিল রোগই সারাতে পারেনা বরং চিকিৎসার নামে উপকারের চাইতে বরং ক্ষতিই করে বেশী। হোমিওপ্যাথির রয়েছে প্রতিষ্টিত বৈজ্ঞানিক নীতিমালা যা দুইশ বছরেও কোন পরিবর্তন হয়নি।

পক্ষান্তরে অন্যান্য চিকিৎসা শাস্ত্রের কোন বৈজ্ঞানিক নীতিমালা নেই। তারা কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অনুসরণ করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে আন্দাজ, অনুমান, কুসংস্কার, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, হোমিওপ্যাথির আংশিক অনুসরণ ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে চিকিৎসাকার্য পরিচালনা করে থাকে অর্থাৎ এতে দশ ভাগ আছে বিজ্ঞান আর নব্বই ভাগ হলো গোজামিল। হোমিওপ্যাথিতে একই ঔষধ দু’শ বছর পূর্বে যেমন কাযর্কর ছিল, আজও তা সমানভাবে কাযর্কর প্রমাণিত হচ্ছে বলেই সর্বত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। পক্ষান্তরে অন্যান্য চিকিৎসা শাস্ত্রের কোন ঔষধই দশ-বিশ বছরের বেশী কাযর্কর থাকে না। একদিন যেই ঔষধকে বলা হয় মহাউপকারী-জীবনরক্ষাকারী, কয়েক বছর পরই তাকে বলা হয় অকাযর্কর-ক্ষতিকর-বর্জনীয়। আজ যেই ঔষধের নাম মানুষের মুখে মুখে ফিরে, কাল সেটি হারিয়ে যায় ইতিহাসের পাতা থেকে। কাজেই আমাদের ভেবে দেখা উচিত যে, যেই সিষ্টেমকে কিছু দিন পরপরই পরিবর্তন-পরিবর্ধন-সংস্কার করতে হয়, তাকে কিভাবে নির্ভরযোগ্য বলা যায় ? আজ থেকে দুইশত বৎসর পূর্বে মহা চিকিৎসাবিজ্ঞানী জার্মান চিকিৎসক ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান হোমিওপ্যাথি নামক এমন একটি মানবিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আবিষ্কার করেন যাতে সূঁই দিয়ে শরীরে ঔষধ ঢুকানো, পায়খানার রাস্তা দিয়ে ঔষধ ঢুকানো, সামান্য ব্যাপারে শরীরে ছুরি-চাকু ব্যবহার করা, ঔষধের দাম দিতে না পারায় বিনা চিকিৎসায় ধুকেধুকে মৃত্যুবরণ করা, প্যাথলজীক্যাল টেস্টের নামে অসহায় রোগীদের পকেট কাটা, চিকিৎসার নামে রোগ-ব্যাধিকে যুগের পর যুগ জিইয়ে রাখা প্রভৃতি বর্বরতা থেকে মানবজাতি মুক্তি পেতে পারে।

যেহেতু হোমিও ঔষধের মূল্য খুবই কম, সেহেতু হোমিও ঔষধের ব্যবসা তেমন লাভজনক নয়। ফলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা যদি পৃথিবীর সকলের নিকট গ্রহনযোগ্য হয়ে যায়, তাহলে পৃথিবীব্যাপী বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানীসমূহের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ঔষধ ব্যবসা মাঠে মারা যাবে। এজন্য বড় বড় ঔষধ কোম্পানীগুলি হোমিওপ্যাথির বিরুদ্ধে বদনাম ছড়ানোর জন্য প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ করে থাকে। পাশাপাশি নিজেদের আজেবাজে সব মারাত্মক ধ্বংসাত্মক ক্ষতিকর ঔষধের কাল্পনিক গুণগান প্রচারে লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয় করে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে টাকার পাহাড় গড়ে তোলে। রোগের জন্য প্রযোজ্য সঠিক হোমিও ঔষধ প্রয়োজনে দীর্ঘদিন সেবনেও কোন ক্ষতি হয় না; পক্ষান্তরে রোগের জন্য প্রযোজ্য সঠিক এলোপ্যাথিক ঔষধও দীর্ঘদিন সেবনে এক বা একাধিক নতুন রোগের সৃষ্টি করে থাকে। ১৯৬৪ সালে যখন এলোপ্যাথিক ঔষধ থেলিডোমাইড (thalidomide) মার্কেটে আসে, তখন দাবী করা হয়েছিল যে, এটি টেনশানের বা মাথা ঠান্ডা রাখার কিংবা নিদ্রাহীনতার জন্য এ যাবত কালের সবচেয়ে ভালো এবং নিরাপদ ঔষধ। কিন্তু দুই বছরের মাথায় ১৯৬৬ সালে জানা যায় যে, যে-সমস্ত গর্ভবতী মহিলা থেলিডোমাইড খেয়েছেন, তারা হাত এবং পা বিহীন পঙ্গু, বিকলাঙ্গ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। পশ্চিম জার্মানীর স্বাস্থ্য বিভাগ একাই থেলিডোমাইড খাওয়ার ফলে দশ হাজার বিকলাঙ্গ শিশুর জন্মের ঘটনা রেকর্ড করেছে। সত্যিকার অর্থে এটি ছিল চিকিৎসার ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য এবং নির্মম ঘটনা।

অস্ট্রিয়ার হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডাঃ জর্জ ভিথুলকাস ২০ই জুলাই ২০০০ সালে ডঃ পিটার মোরেলের সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, “প্রেসক্রিপশান ভিত্তিক এসব রাসায়নিক ঔষধের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বিপরযয়কর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে যা পাশ্চাত্যের লোকদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে দ্রুত পরিবর্তন করে ফেলছে। বিষয়টি কয়েক প্রজন্মের মধ্যে প্রকাশ লাভ করবে। আমাদেরকে ভয়ঙ্কর পরিণতি দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ব্যাপারটি কেবল আমেরিকান জনগণের বেলাতেই নয়; বরং সমগ্র সুসভ্য জগতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যারা প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি বেশী ব্যবহার করছে (এলোপ্যাথিক ক্যামিকেল ঔষধ এবং টিকা/ ভ্যাকসিন)। আমেরিকান লোকেরা যেহেতু এগুলো বেশী ব্যবহার করছে, সেহেতু ইহার মারাত্মক কুফল তাদের মধ্যেই প্রথম প্রকাশ পাবে। ক্যানসার, আলজেইমারস ডিজিজ, ডায়াবেটিস, হাঁপানি, নিউরোমাসকুলার ডিজিজ, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, কানেকটিভ টিস্যু ডিজিজ, এলার্জিক কন্ডিশানস, প্যানিক এটাক, এঙজাইটিস স্টেটস, ডিপ্রেশান, ফোবিক স্টেটস, মানসিক রোগ প্রভৃতি বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে দেখা দিবে যা দেখে আমাদের ভেতরে কম্পন সৃষ্টি হবে।” ওয়াশিংটন ডিসি-তে আমেরিকান ইনিস্টিটিউট অব হোমিওপ্যাথি’র এক সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন যে, “পৃথিবীর বুকে রোগ নিরাময়ের সব চাইতে শক্তিশালী পন্থা হলো হোমিওপ্যাথি। আমি দেখতে পাচ্ছি সাধারণভাবে মানুষের স্বাস্থ্যের অবস্থা এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, তাকে পুণরুদ্ধার করার কোন আশাই নাই। একমাত্র হোমিওপ্যাথি তাকে পুণরুজ্জীবিত করার আশা দিতে পারে। যেভাবে পাইকারী হারে এন্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করা হচ্ছে, তাতে ইমিউন সিষ্টেম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এতে করে ভয়ঙ্কর সব দুরারোগ্য রোগের আমদানীর দরজা খুলে যাচ্ছে”।

হোমিওপ্যাথি কেবল রোগের নয়, সাথে সাথে রোগীরও চিকিৎসা করে থাকে। হোমিও ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা বিষক্রিয়া এতই কম যে, নাই বললেই চলে। এন্টিবায়োটিকের মতো ইহারা হজম শক্তি কিংবা শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তির (immune system) ক্ষতি করে না। হোমিওপ্যাথিতে পচানব্বই ভাগ অপারেশনের কেইস শুধু ঔষধেই সারিয়ে তোলা যায়। প্রচলিত সকল চিকিৎসা শাস্ত্রে যাদের পড়াশুনা আছে, তারা দ্বিধাহীন চিত্তে স্বীকার করেন যে, হোমিওপ্যাথি রোগ-ব্যাধিগ্রস্ত মানুষের প্রতি আল্লাহর এক বিরাট নেয়ামত। হোমিওপ্যাথি মানুষ, পশু-পাখি, জীব-জন্তু সকলের ক্ষেত্রেই সমানভাবে কাযর্কর এবং নিরাপদ। হোমিওপ্যাথিতে রোগের সঠিক মূল কারণটিকে দূর করার চিকিৎসা দেওয়া হয়। হোমিও ঔষধ প্রয়োগ করা হয় খুবই অল্প মাত্রায় যা শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে বৃদ্ধি করার মাধ্যমে রোগ নিরাময় করে। নব্বই ভাগ হোমিও ঔষধ তৈরী করা হয় গাছপালা থেকে এবং বাকী দশভাগ ঔষধ তৈরী করা হয়ে থাকে ধাতব পদার্থ, বিভিন্ন প্রাণী এবং রাসায়নিক দ্রব্য থেকে। হোমিও ঔষধ মানুষের জন্মগত নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে (immune system) সাহায্য করার মাধ্যমে রোগ নিরাময় এবং রোগ প্রতিরোধ করে। পক্ষান্তরে এলোপ্যাথিক ঔষধ ইমিউন সিষ্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কখনও কখনও ধ্বংস করে দেয়। হোমিও ঔষধ দীর্ঘদিন সেবনেও এমন কোন নেশার সৃষ্টি হয় না যাতে পরবর্তীতে সেটি বন্ধ করে দিলে শরীরে কোন সমস্যা দেখা দেয়। মহাত্মা গান্ধী বলেছেন যে, “কম খরচে এবং (রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে) কম কষ্ট দিয়ে রোগ নিরাময়ের সর্বশেষ এবং সর্বোত্তম চিকিৎসা পদ্ধতি হলো হোমিওপ্যাথি।”

Author: bashirmahmudellias

I am an Author, Design specialist, Islamic researcher, Homeopathic consultant.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s