Dr. Bashir Mahmud Ellias's Blog

Know Thyself

Beware of worm medicine

Leave a comment

কৃমির ঔষধ থেকে সাবধান

সমপ্রতি এলোপ্যাথিক কৃমির ঔষধ খেয়ে আমাদের দেশের অনেকগুলি নিষপাপ শিশুর কর”ণ মৃত্যু হয়েছে মর্মে জাতীয় দৈনিকগুলোতে সংবাদ বেড়িয়েছে। সঙ্গত কারণেই এই মর্মানিতক খবরে সকল অভিভাবকদের মধ্যে ত্রাসের সৃষ্টি হয়েছে। কৃমির ঔষধ খেলে কেনো প্রায়ই শিশুদের মৃত্যু ঘটতে দেখা যায়, তার কারণ আমাদের অনেকেই জানি না। প্রথম কথা হলো কৃমিও একটি প্রাণী, আবার শিশুরাও প্রাণী। কাজেই যে ঔষধের কৃমি হত্যা করার ক্ষমতা আছে, সে ঔষধ শিশুদেরকেও হত্যা করার ক্ষমতা রাখে। সুস’-সবল শিশুকে না পারলেও অসুস’-দুর্বল শিশুকে খুন করার ক্ষমতা তার আছে। এই সহজ সত্যটি আমাদের বুঝতে হবে। দ্বিতীয় কথা হলো আসলে ঔষধ মাত্রই বিষ। ঔষধ এবং বিষের মধ্যে পার্থক্য হলো মাত্রা। মাত্রার মধ্যে থাকলেই ঔষধ আর মাত্রার চাইতে বেশী হলেই সেটি হয়ে যায় বিষ। আবার মাত্রা নিয়েও আছে মানুষ ভেদে পার্থক্য। একই মাত্রার ঔষধে একজন মানুষের রোগ সারাতে পারে আরেকজনের উল্টো ক্ষতি করতে পারে। এটা হয়ে থাকে ঔষধের প্রতি মানুষের সেনসিটিভিটির তারতম্য অনুযায়ী। একটি ঔষধের প্রতি কোন একজন মানুষ কম সেনসেটিভ হতে পারে আবার অন্য একজন বেশী সেনসিটিভ হতে পারে। এক্ষেত্রে যে ঔষধের প্রতি একজন মানুষ বেশী সেনসেটিভ, সেই ঔষধ সঠিক মাত্রায় খেলেও সেই ব্যক্তির বড় ধরণের সর্বনাশ হতে পারে ; এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

অধিকাংশ মানুষের ঔষধ খাওয়ার বদভ্যাস দেখলে মনে হয়, এ যেন ঔষধ নয় বরং পহেলা বৈশাখের পান্তা ভাত। এমনভাবে তারা ঔষধ খায় যেন, মনে হয় ঔষধ কেবল উপকারই করে ; কস্মিনকালেও ক্ষতি করে না। ঔষধ যে ক্ষতি করতে পারে, এ যেন তাদের কল্পনার বাইরে। আর বিশেষ করে মাগনা পেলে তো কথাই নাই। ফ্রি বা মাগনা জিনিসের প্রতি আমাদের দুর্দমনীয় লোভ সামলানোর সময় এসেছে। এলোপ্যাথিক কৃমির ঔষধগুলি কিভাবে কৃমি হত্যা করে ? এসব ঔষধকে বলা হয় বলা হয় স্পিন্ডল বিষ (spindle poison) । এগুলো কৃমির শরীরকে অবশ বা প্যারালাইজড করে দেয়। ফলে কৃমিরা নড়াচড়া করতে পারে না। এমনকি তারা কিছু খেতে পারে না এবং যা খেয়েছে তাও হজম করতে পারে না। ফলে কৃমিগুলো মরে পায়খানার সাথে বেরিয়ে যায়। একইভাবে এই ঔষধগুলো শিশুদের হৃৎপিন্ড এবং মস্তিষ্ককে প্যারালাইজড করে হত্যা করতে পারে। এজন্য ডাক্তাররা গর্ভবতী মহিলাদেরকে কৃমির ঔষধ খেতে নিষেধ করেন। কেননা এগুলো গর্ভস’ শিশুকে হত্যা করতে পারে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো একজন সাধারণ মানুষও জানে যে, গ্রীষ্মকালে কৃমির ঔষধ খাওয়া ভালো না। অথচ আমাদের স্বাস’্য বিভাগের কর্তাব্যক্তিরা সেটি জানেন বলে মনে হয় না। তারা গ্রীষ্মকালকেই বেঁছে নিয়েছেন শিশুদেরকে পাইকারী হারে কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ানোর উপযুক্ত সময় হিসেবে।

গ্রীষ্মকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ থাকে বেশী। ফলে রোগ-জীবাণূর বংশবৃদ্ধিতে, বাতাসের মাধ্যমে ভেসে বেড়াতে, দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে সুবিধা হয় বেশী। বৃষ্টির পানি আর বন্যার পানি ইত্যাদির আধিক্যের কারণে চারদিকে উদ্ভিদ বা প্রাণী যাকিছুই মর”ক না কেন, তাতেই পচঁন ধরে এবং সেগুলো থেকে রোগ ছড়াতে থাকে। ফলে গ্রীষ্মকালে মহামারী জাতীয় রোগ বেশী হয়। এই কিছুদিন আগে মাত্র সিজনাল ভাইরাস জ্বর এবং কলেরার মহামারী গেলো। তাছাড়া গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত ঘামানোর কারণে সকলেরই শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে আর কে না জানে যে, দুর্বল শরীর সহজে রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এইসব কারণে গ্রীষ্মকালে খাদ্যের বিষক্রিয়াও (Food-poisoning) বেশী হয় এবং ঔষধের রিয়েকশানও বেশী হয়। ভিটামিন-এ এবং কৃমির ঔষধ দুটোই বমি, পেট ব্যথা, ডায়েরিয়া, আমাশয় প্রভৃতি পেটের অসুখ সৃষ্টি করতে ওস্তাদ। কাজেই এই দুটো ঔষধই একসাথে এই দুর্বল শিশুদের খাওয়ানোর কি প্রয়োজন ছিল ? এগুলো কি আলাদা আলাদা সময়ে খাওয়ানো যেতো না ? তাহলে তো আর হাজার হাজার শিশুকে মারাত্মক মারাত্মক পেটের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হতো না।

পরিশেষে সকলের প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে, কৃমির হাত থেকে নিজেকে এবং আপনার সন্তানকে বাঁচানোর জন্য হোমিও ঔষধ খান। টিউক্রিয়াম (teucrium), স্যাবাডিলা (Sabadilla), নেট্রাম ফস (Natrum phos) প্রভৃতি হোমিও ঔষধগুলো কৃমি দূর করতে খুবই কার্যকরী এবং নিরাপদ ঔষধ। এমনকি এগুলো গর্ভবতীদেরকেও খাওয়ানো যায় ; কোনো বিপদের সম্ভাবনা নাই। হোমিও ঔষধগুলো কৃমিকে প্যারালাইজড করে না, তাই আপনার শিশুকেও প্যারালাইজড করে মেরে ফেলার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নাই। হোমিও ঔষধে সম্ভবত কৃমিদের শরীরে জ্বালা-পোড়ার সৃষ্টি হয়ে থাকে ; ফলে কৃমিরা মারা পড়ে না বরং জীবিতই পায়খানার সাথে বেরিয়ে যায়। এই ঔষধগুলোর যে-কোন একটিকে ৩০ (ত্রিশ) শক্তিতে খেতে পারেন এবং প্রতিবার এক ফোটা করে অথবা বড়িতে খেলে ১০ (দশ) টি বড়ি করে খাওয়া উচিত। প্রয়োজনে রোজ দুইবেলা করে দুই-তিন দিন খেতে পারেন। সাধারণত একমাত্রাই যথেষ্ট। হ্যাঁ, এই হোমিও ঔষধগুলোর তেমন কোন ক্ষতিকর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নাই ; কারণ এগুলোতে ঔষধের পরিমাণ থাকে খুবই কম। এমনটি ভুলবশত যদি নির্দিষ্ট মাত্রার চাইতে দশ গুণ বেশীও কেউ খেয়ে ফেলেন, তাতেও কোন ক্ষতির আশঙ্কা নাই। আবার অনেকে এমন আছেন যে, তাদের সারাজীবনই কৃমির সমস্যা লেগে থাকে এবং কিছুদিন পরপরই তাদের কৃমির ঔষধ খেতে হয়। এসব ক্ষেত্রে একজন হোমিও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কেননা কিছু হোমিও ঔষধ আছে, যেগুলো রোগীর শারীরিক-মানসিক গঠন বুঝে প্রয়োগ করলে বেশী বেশী কৃমি হওয়ার টেনডেন্সী সারাজীবনের জন্য চলে যায়।

ডাঃ বশীর মাহমুদ ইলিয়াস
গ্রন্থকার, ডিজাইন স্পেশালিষ্ট, ইসলাম গবেষক, হোমিও কনসালটেন্ট
চেম্বার ‍ঃ ১৩/ক – কে. এম. দাস লেন (২য় তলা),
(হুমায়ুন সাহেবের রেলগেইটের সামান্য পশ্চিমে
এবং হায়দার ফামের্সীর উপরে)
টিকাটুলী, ঢাকা।
ফোন ঃ +৮৮০-০১৯১৬০৩৮৫২৭
E-mail : Bashirmahmudellias@hotmail.com
Website : http://bashirmahmudellias.blogspot.com
Website : https://bashirmahmudellias.wordpress.com
সাক্ষাতের সময় ‍ঃ সন্ধ্যা ৬:০০ টা হইতে রাত ৯:০০ টা

Author: bashirmahmudellias

I am an Author, Design specialist, Islamic researcher, Homeopathic consultant.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s