Dr. Bashir Mahmud Ellias's Blog

Know Thyself

Homeopathy as a career in Bangladesh

Leave a comment

Homeopathy as a career in Bangladesh

হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার হিসেবে ক্যারিয়ার

হোমিওপ্যাথি প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি। আজ থেকে দুইশত বছর পূর্বে জার্মান চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আবিষ্কার করেন। হোমিওপ্যাথি (homeopathy) ল্যাটিন শব্দ homeo -এর অর্থ সদৃশ বা একই রকম এবং pathy অর্থ ভোগান্তি বা অসুখ। তিনি হোমিওপ্যাথির মূলনীতিকে সংজ্ঞায়িত করেন এভাবে যে, “সদৃশ সদৃশকে নিরাময় করে” (Like cures like)। ল্যাটিন ভাষায় বলা হয় similia similibus curentur. অর্থাৎ যে ঔষধ সুস্থ শরীরে যে-রোগ সৃষ্টি করতে পারে, সেই ঔষধ অল্প মাত্রায় খাওয়ালে তা একই রোগ নিরাময় করতে পারে। পেশাগতভাবে স্যামুয়েল হ্যানিম্যান ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী একজন এলোপ্যাথিক ডাক্তার এবং ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক। প্রচলিত চিকিৎসা বিজ্ঞানসমুহের ইতিহাস নিয়ে যারা ব্যাপক পড়াশুনা করেছেন, তারা সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করেন যে, তিনি ছিঁলেন পৃথিবীতে আজ পযর্ন্ত জন্ম নেওয়া সর্বশ্রেষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষ্মেত্রে তিনি ছিলেন একজন বিদ্রোহী এবং বৈপ্লবিক চিন্তাধারার প্রবর্তক। চিকিৎসা বিজ্ঞানকে তিনি বাণিজ্যের পযার্য় থেকে পূণরায় সেবার পযার্য়ে ফিরিয়ে এনেছিলেন। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের আবিষ্কারক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান কেবল একজন শ্রেষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানীই ছিলেন না; একই সাথে তিনি ছিলেন মানব দরদী একজন বিশাল হৃদয়ের মানুষ, একজন মহাপুরুষ, একজন শ্রেষ্ট কেমিষ্ট, একজন পরমাণু বিজ্ঞানী, একজন শ্রেষ্ট চিকিৎসক, একজন অণুজীব বিজ্ঞানী, একজন শ্রেষ্ট ফার্মাসিষ্ট, একজন সংস্কারক, একজন বহুভাষাবিদ, একজন দুঃসাহসী সংগঠক, একজন অসাধারণ অনুবাদক, একজন নেতৃপুরুষ, একজন বিদগ্ধ লেখক, একজন সত্যিকারের ধার্মিক ব্যক্তি, একজন পরোপকারী-ত্যাগী মানব, একজন সুযোগ্য শিক্ষক, একজন আদর্শ পিতা, একজন রোমান্টিক প্রেমিক।

আজ থেকে দুইশত বছর পূর্বে হ্যানিম্যানের সময় চিকিৎসা বিজ্ঞান এতই জঘন্য এবং বর্বরতায় পুর্ণ ছিল যে, হাসপাতাল বা ডাক্তারের চেম্বারকে কশাইখানা বলাই যুক্তিযুক্ত ছিল। সেখানে রোগীদেরকে রাখা হতো ভিজা এবং গরম কক্ষে, অখাদ্য-কুখাদ্য খেতে দেওয়া হতো, দৈনিক কয়েকবার রোগীদের শরীর থেকে রক্ত বের করে ফেলে দিয়ে দুর্বল করা হতো, রোগীদের শরীরে জোঁক লাগিয়ে (Leeching), সিঙ্গা লাগিয়ে (cupping) অথবা রক্তনালী কেটে রক্তপাত করা হতো, পায়খানা নরম করার ঔষধ (purgatives) খাওয়ানোর মাধ্যমে অনেক দিন যাবত রোগীদের পাতলা পায়খানা করানো হতো, বমি করানো হতো ইত্যাদি ইত্যাদি। সিফিলিসের রোগীদের প্রচুর মার্কারী খাওয়ানোর মাধ্যমে লালা নিঃসরণ (salivation) করানো হতো এবং এতে অনেক রোগীই কয়েক বালতি লালা থুথু আকারে ফেলতো এবং অনেক রোগীর দাঁত পযর্ন্ত পড়ে যেতো। অধিকাংশ রোগী (চিকিৎসা নামের) এই কুচিকিৎসা চলাকালীন সময়েই মারা যেতো। শরীরের মাংস অর্থাৎ টিস্যুকে গরম লোহা অথবা বাষ্প দিয়ে পুড়ানো হতো (cauterization), গরম সুঁই দিয়ে খুচিয়ে চামড়ায় ফোস্কা ফেলা হতো (blistering), লাঠি অথবা পাথরের আঘাতে শরীরে কৃত্রিম ফোঁড়া-ঘা-ক্ষত সৃষ্টি করা হতো এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব ঘা-ক্ষত মাসের পর মাস বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখা হতো। মানসিক রোগীদেরকে শিকলে বেধে রাখা হতো, নিষ্টুরভাবে লাঠি দিয়ে তাদেরকে প্রহার করা হতো, কাঠি দিয়ে খোঁচানো হতো, বালতি দিয়ে তাদের শরীরে ঠান্ডা নিক্ষেপ করা হতো এবং আত্মীয়-স্বজনরা দেখতে এলে তাদেরকে জংলী-জানোয়ারের মতো শিকলে বেধে টেনে হিচরে বাইরে এনে দেখানো হতো। উপরে বর্ণিত সকল কিছুই করা হতো মারাত্মক জটিল রোগে আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসা বা রোগমুক্তির নামে (যা আজকের দিনে কোন সুস্থ মানুষের পক্ষে কল্পনারও বাইরে)।

১৭৯০ সাল থেকে ১৮৫৫ সালে হ্যানিম্যানের মৃত্যু পযর্ন্ত এই দীর্ঘ সময়ে তিনি হোমিওপ্যাথির মুল সুত্রগুলি (aphorism) আবিষ্কার করেছেন, আরো গবেষণা-পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পযার্র্য়ক্রয়ে তাদেরকে সংশোধন-পরিবধন-পরিবর্তন করেছেন, ঔষধ আবিষ্কার করেছেন, ঔষধের মাত্রাতত্ত্ব (posology) আবিষ্কার করেছেন, ঔষধের শক্তিবৃদ্ধি (potentization) করার প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেছেন, জটিল (chronic) রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, রোগীদের শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতি (miasm theory) আবিষ্কার করেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। তাঁর সমস্ত আবিষ্কারকে তিনটি মৌলিক পুস্তকে লিপিবদ্ধ করে গেছেন এবং তাঁর জীবদ্দশায় তিনি বিভিন্ন সংশোধনীর পর অনেকগুলি এডিশন বের করেছেন। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তকরূপে বিবেচ্য এই বইগুলো হলো- অর্গানন অব মেডিসিন (Organon of Medicine), মেটেরিয়া মেডিকা পিউরা (Materia Medica Pura) এবং ক্রনিক ডিজিজ (Chronic disease)। তাছাড়া লেসার রাইটিংস (Lesser writings) নামে তাঁর আরেকটি মৌলিক গ্রন্থ বিদ্যমান আছে যাতে তাঁর ছোট ছোট সমস্ত গবেষণা প্রবদ্ধগুলি সংকলিত হয়েছে।

একজন হোমিওপ্যাথিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মানবজাতির প্রতি মহান আল্লাহর এক বিরাট রহমত স্বরূপ। কেননা তিনি ইচ্ছে করলে মাত্র পঞ্চাশ পয়সার ঔষধে এমন অনেক জটিল রোগ সারিয়ে দিতে পারেন, যা অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে লক্ষ টাকার ঔষধেও সারানো যায় না। হোমিও ঔষধে আজ থেকে দুইশত পুর্বেও এমন অনেক রোগ-ব্যাধি সারানো যেতো যা এখনও অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে নিরাময় করা যায় না। এমন অনেক জটিল রোগ আছে যা এক ফোটা হোমিও ঔষধে সারিয়ে দেওয়া যায় অথচ অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে এসব রোগের জন্য যুগের পর যুগ ঔষধ খেয়ে যেতে হয়। সে যাক, প্রথমকথা হলো হোমিওপ্যাথি পৃথিবীর একমাত্র চিকিৎসা পদ্ধতি যা শতকরা একশ ভাগ বিজ্ঞান সম্মত। পক্ষান্তরে অন্যান্য বহুল প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিসমুহের কোনটিই শতকরা একশভাগ বিজ্ঞানসম্মত নয়। এদের কোনটিতে বিজ্ঞান আছে দশ ভাগ আর বিজ্ঞানের নামে গোজামিল আছে নব্বই ভাগ আবার কোনটিতে বিজ্ঞান আছে বিশ ভাগ আর বিজ্ঞানের নামে ভাওতাবাজি আছে আশি ভাগ। একমাত্র শতভাগ বিজ্ঞানসম্মত হওয়ার কারণেই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় সকল রোগই সম্পূর্র্ণ নির্মুল হয়ে যায়।

পক্ষান্তরে অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে কোন রোগই নির্মুল হয় না বরং কিছু সময়ের জন্য চাপা পড়ে যায়। আবার অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় ছোট-খাটো রোগ চাপা পড়ে কিছু দিন পর বড় বড় রোগে রূপান্তরিত হয়ে আত্মপ্রকাশ করে। সে-সব চিকিৎসা পদ্ধতিতে ডায়েরিয়ার চিকিৎসা করলে কোষ্টকাঠিন্য/ পাইলস দেখা দেয়, চর্মরোগের চিকিৎসা করলে হৃদরোগ, বাতের চিকিৎসা করলে ক্যান্সার, মানসিক রোগের চিকিৎসা করলে ব্রেন ড্যামেজ, আলসারের চিকিৎসা করলে ধ্বজভঙ্গ ইত্যাদি ইত্যাদি। আরেকটি অসুবিধা হলো প্রচলিত অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির ঔষধে মারাত্মক ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, যেখানে সম্পূর্ণ শতভাগ বিজ্ঞানসম্মত হওয়ার কারণে হোমিও ঔষধের ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই কম ; একেবারে নাই বললেই চলে।

পেশাগত প্রশিক্ষণ ‍ঃ নতুন প্রজন্মের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের আমি হোমিওপ্যাথিকে পেশা হিসেবে গ্রহন করার আহ্বান জানাই। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো শতভাগ বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি হওয়ার কারণেই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞান খুবই জটিল যা একজন গোল্ডেন এ-প্লাস পাওয়া ছাত্র-ছাত্রী ব্যতীত অন্যদের পক্ষে ভালোভাবে আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। অথচ বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে কম মেধাসমপন্নরা হোমিওপ্যাথিকে পেশা হিসেবে নেওয়ার কারণে উল্টো হোমিওপ্যাথির আরো বদনাম বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশে সরকারীভাবে হোমিওপ্যাথিতে দুইটি প্রশিক্ষণ কোর্স বিদ্যমান আছে। তার একটি হলো ডিপ্লোমা কোর্স এবং অন্যটি হলো ডিগ্রি কোর্স। ডিপ্লোমা কোর্সটি সারে চার বছর মেয়াদী এবং ডিগ্রি কোর্সটি পাঁচ বছর মেয়াদী। ডিপ্লোমা কোর্সটিকে বলা হয় ডি.এইচ.এম.এস. (D.H.M.S.- Diploma in Homeopathic Medicine & Surgery) এবং ডিগ্রি কোর্সটিকে বলা হয় বি.এইচ.এম.এস. (B.H.M.S.- Bachelor in Homeopathic Medicine & Surgery)। ডিপ্লোমা কোর্সের চার বছর হলো থিওরীটিক্যাল ক্লাস এবং ছয় মাস হলো হাসপাতালে ইন্টার্নী ক্লাস। পক্ষান্তরে পাঁচ বছর মেয়াদী ডিগ্রি কোর্সের চার বছর হলো থিওরীটিক্যাল ক্লাস এবং এক বছর হলো হাসপাতালে ইন্টার্নী ক্লাস। ডিপ্লোমা কোর্সটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড (BANGLADESH HOMEOPATHY BOARD), ঢাকা এবং ডিগ্রি কোর্সটি পরিচালিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (UNIVERSITY OF DHAKA) অধীনে। ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা হলো যে-কোন বিভাগ থেকে এস.এস.সি. পাশ অথবা সমমানের যোগ্যতা। অন্যদিকে ডিগ্রি কোর্সের ভর্তির যোগ্যতা হলো বিজ্ঞান বিভাগে এস.এস.সি. এবং এইচ.এস.সি. পাশ অথবা সমমানের যোগ্যতা। ডিপ্লোমা কোর্সে যে-কোন বয়সে ভর্তি হওয়া যায় কিন্তু ডিগ্রি কোর্সে এইচ.এস.সি. পাশের সাথে সাথে ভর্তি হতে হয়। যদিও প্রায় সবগুলো হোমিও মেডিক্যাল কলেজই বেসরকারী, তথাপি এগুলোতে পড়াশুনার খরচ খুবই কম। সাধারণত পনের থেকে বিশ হাজার টাকার মধ্যেই আপনি সাড়ে চার বছর মেয়াদী একটি ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করতে পারবেন। তাছাড়া গরীব এবং মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জ্ন্য আছে বিভিন্ন ধরণের অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা। সাধারণত হোমিও কলেজগুলোতে এনাটমী, ফিজিওলজী, প্যাথলজী, প্র্যাকটিস অব মেডিসিন, মেটেরিয়া মেডিকা, অর্গানন অব মেডিসিন, মেডিক্যাল জুরিসপ্রুডেন্স, প্রিন্সিপালস অব হোমিওপ্যাথি, গাইনী এন্ড অবসটেট্রিকস, সার্জারী, ক্রনিক ডিজিজ, হাইজিন এন্ড পাবলিক হেলথ, ফার্মেসী এন্ড ফার্মাকোপিয়া, বায়োকেমিক মেডিসিন, কেইস টেকিং এন্ড রেপার্টরী ইত্যাদি বিষয়সমূহ পড়ানো হয়ে থাকে। যে-সব ছাত্র-ছাত্রী বিজ্ঞান বিভাগে এইচ.এস.সি. পাশ এবং এম.বি.বি.এস. পাশ করেছেন, তাদেরকে অনেকগুলো বিষয় পড়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের ঠিকানা ঃ-

বাড়ি নং-১৬

রোড নং-১/এ

নিকুঞ্জ – ২

খিলখেত

ঢাকা-১২২৯

ফোন ঃ- ৮৮০-৮৯৫৯২৮১

৮৮০-৮৯৫৯২৮২

শিক্ষা প্রতিষ্টান ‍ঃ- হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডিপ্লোমা এবং ডিগ্রি কোর্স পরিচালনা করার জন্য বাংলাদেশে আছে ৩৯ (উনচল্লিশ) টি হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতাল। উনচল্লিশটি কলেজের মধ্যে কেবল ঢাকাতেই আছে তিনটি হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ। বাংলাদেশের একমাত্র সরকারী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল আছে ঢাকার মিরপুরের চৌদ্দ নম্বরে। ঢাকার অন্য দুটি হোমিও কলেজের একটি হলো ফার্মগেটে এবং আরেকটি জয়কালি মন্দির রোডে। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন হোমিও কলেজ হলো বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হসপিটাল, যা ঢাকার ৪৬/২ নং জয়কালি মন্দির রোডে অবস্থিত (ফোন ঃ ৯৫৬৯৭৪৭)। রাজধানী ঢাকার তৃতীয় হোমিও কলেজটির নাম ফেডারেল হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হাসপাতাল, যা ৭৯ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, ফার্মগেইটে অবস্থিত (ফোন ‍ঃ ৮১৩০০৯৩, ৮১৪১০১৯)। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, নরসিংদী, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, নোয়াখালী, সিলেট, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল, বরিশাল এবং ভোলা জেলায় হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ আছে। ডিপ্লোমা কোর্স করা যায় সকল কলেজে অন্যদিকে ডিগ্রি কোর্স করা যায় কেবল মাত্র ঢাকার দুইটি হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজে।

উচ্চতর প্রশিক্ষণ ঃ সরকারী রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত ডিপ্লোমা এবং গ্রাজুয়েট হোমিও ডাক্তারদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বেশ কিছু সেবামূলক সংগঠন কোচিং দিয়ে থাকে। তাদের মধ্যে একটি হলো হোমিওপ্যাথিক হেলপলাইন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন (৪৪ মধ্য পাইকপাড়া, আনসার ক্যাম্প, মিরপুর, ঢাকা। ফোন ঃ ০১৭১৮-০৮২৫১৫)। আরেকটি সংগঠন হলো সেন্টার ফর এডভান্সড স্টাডিজ ইন হোমিওপ্যাথি-ক্যাশ (শাহবাগ, ঢাকা। ফোন ঃ ৭১২১৫৭৭)। এসব সংগঠন থেকে খন্ডকালীন প্রশিক্ষণ নিয়ে যে-কোন হোমিও ডাক্তার তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করে রোগীদের সেবায় অধিকতর সাফল্যের পরিচয় দিতে পারেন। তাছাড়া বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজে পি.ডি.টি. (পোষ্ট ডিপ্লোমা ট্রেনিং) নামে একটি এক বৎসর মেয়াদী উচ্চতর কোর্স আছে, যা সম্পন্ন করে যে-কোন হোমিও ডাক্তার তার পেশাগত নৈপূণ্য বৃদ্ধি করতে পারেন।

কর্মসংস্থান ঃ বাংলাদেশে অন্তত কয়েক লক্ষ মানুষ হোমিওপ্যাথি সংক্রান্ত বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থেকে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন। এসব পেশার মধ্যে আছে হোমিও কলেজের অধ্যাপক, হোমিও ডাক্তার, হোমিও নার্স, হোমিও ফার্মাসিষ্ট, হোমিও কেমিষ্ট, হোমিও ঔষধের ব্যবসায়ী, হোমিও ঔষধ কোম্পানীর মালিক, কর্মচারী, বিভিন্ন পযার্য়ের সরবরাহকারী, বিক্রয় কর্মী, হোমিওপ্যাথিক ঔষধ এবং বই-পুস্তক আমদানীকারী, বোতল-শিশি-কর্ক-প্যাকেট ইত্যাদি কোম্পানীর মালিক-কর্মচারী, হোমিও বই-পুস্তক-জার্নালের লেখক-প্রকাশক-বিক্রেতা ইত্যাদি ইত্যাদি। যদিও এখনকার দিনে হোমিওপ্যাথিক গ্রাজুয়েট ডাক্তাররা বি.সি.এস. (স্বাস্থ্য) ক্যাডারেও চাকরি করার সুযোগ পাচ্ছেন, যে সুযোগ অতীতে ছিল না। কিন্তু ডিপ্লোমা হোমিও ডাক্তারদের সরকারী চাকরির সুযোগ অতীতেও ছিল না এবং এখনও নাই। তবে বর্তমানে হোমিও ডাক্তার এবং ছাত্র-ছাত্রীরা ডিএইচএমএস ডিপ্লোমাটিকে ডিগ্রির (বিএ-বিএসসি-বিকম) সমমান আদায়ের জন্য আন্দোলন শুরু করেছে। আশা করা যায়, সরকার বাহাদুর তাদের দীর্ঘদিনের এই ন্যায্য দাবীটি মেনে নিবেন। সেক্ষেত্রে ডিএইচএমএস ডিপ্লোমা করে যে-কোন সরকারী অফিসে চাকুরি করার সুযোগ এসে যাবে।

ইন্টারনেট সুবিধা ঃ অন্যান্য শত-সহস্র বিষয়ের মতো ইন্টারনেটে হোমিওপ্যাথি সম্পর্কেও আছে লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট এবং বিশাল তথ্য ভান্ডার। এসব ওয়েবসাইটে আপনি পাবেন হোমিওপ্যাথি সম্পর্কিত লক্ষ লক্ষ বই-পুস্তক, মেটেরিয়া মেডিকা, রেপার্টরী, গবেষণা প্রবদ্ধ, হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের জীবনী, হোমিও ডাক্তারদের বিভিন্ন ঐতিহাসিক সভাসমিতির ছবি, বিভিন্ন সফটওয়ার, লক্ষ লক্ষ কেইস হিস্টোরি ইত্যাদি ইত্যাদি। ইন্টারনেটের বদৌলতে কোন হোমিও ঔষধ কোন গাছপালা থেকে তৈরী করা হয়, ইচ্ছে করলে আপনি তা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই জানতে পারছেন। তথ্য-প্রযুক্তির কারণে হোমিও ডাক্তারদের কষ্ট অনেক কমে গেছে। পূর্বে যেখানে মোটা মোটা বই নাড়াচাড়া করতে হতো, এখন সেখানে একটি কমপিউটার এবং একটি সিডি থাকলেই যথেষ্ট। একটা সিডিতেই হাজার হাজার মোটা মোটা বইয়ের স্থান হয়ে যায় এবং অনেকগুলো বই হাতড়ানোর বদলে মাউস বাটনের সামান্য কয়েকটা ক্লিকই যথেষ্ট। ইন্টারনেটের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই আপনি পৃথিবীর যে-কোন প্রান্তের যে-কোন হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞানী বা হোমিও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন এবং তাদের পরামর্শ পেতে পারছেন। ইন্টারনেটের দ্রূত গতির যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই আমি ঢাকায় বসে আমেরিকা, ইউরোপ, মিডেল ইস্ট, আফ্রিকার রোগীদের চিকিৎসা করতে পারছি ; যা দশ বছর পূর্বেও ছিল কল্পনার বাইরে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই বিদেশে হোমিওপ্যাথির ওপর বিভিন্ন কোর্স করতে পারছেন। সে যাক, হোমিওপ্যাথির ওপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ওয়েবসাইটের ঠিকানা নিন্মে দেওয়া হলো যা থেকে আপনারা প্রভূত উপকার লাভ করতে সক্ষম হবেন। এগুলো হলো ঃ http://www.homeoint.org, http://www.hpathy.com, http://www.homeopathic.com, http://www.vithoulkas.com, http://bashirmahmudellias.blogspot.com.

আর্থিক সুবিধা ঃ আপনি যদি একজন হোমিওপ্যাথিতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হতে পারেন ; তবে দৈনিক দশ-বিশ-পঞ্চাশ হাজার থেকে একলক্ষ টাকা উপার্জন করা কোন কঠিন কাজ হবে না। প্রকৃতপক্ষে যত লোক হোমিওপ্যাথিতে ক্যারিয়ার গড়তে আসেন, তাদের প্রত্যেকেরই নিয়ত থাকে চাকরি নয় বরং প্রাইভেট প্র্যাকটিস। আসলে ডাক্তারীটা হলো একটি স্বাধীন পেশা। চাকুরি করলে বরং নানারকম ঝামেলার শিকার হতে হয়। সরকারী-বেসরকারী চাকরির চাইতে মানুষের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, দোয়ার মুল্য অনেক বেশী। হোমিওপ্যাথি এতই উন্নত এক চিকিৎসা পদ্ধতি যাতে শতকরা নিরানব্বই ভাগ জটিল রোগই সারিয়ে তোলা যায় কেবল মিষ্টি মিষ্টি ঔষধ মুখে খাওয়ানোর মাধ্যমেই ; কোন প্রকার ইনজেকশান বা কাটাছেড়া না করেই। এমনকি শতকরা নব্বই ভাগ রোগের ক্ষ্মেত্রে ব্যয়বহুল কোন প্যাথলজিক্যাল টেস্ট করারও প্রয়োজন হয় না। এই কারণে শত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও আজ এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা থেকে আমেরিকা পযর্ন্ত সারা বিশ্বে আবারও হোমিওপ্যাথি জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। প্রচলিত অন্যান্য অবৈজ্ঞানিক অপচিকিৎসা-কুচিকিৎসার কারণে ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর রোগ-ব্যাধির সংখ্যা এমন কল্পনাতীতভাবে বেড়ে গেছে যে, মানবজাতির অস্তিত্ব নিয়েই আজ টানাটানি শুরু হয়ে গেছে। মানবসভ্যতার এই মহাদুযোর্গের সময় একমাত্র আদর্শ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তাররাই পারে ত্রাণকর্তার ভূমিকা পালন করতে।

ডাঃ বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

লেখক, ডিজাইন স্পেশালিষ্ট, হোমিও কনসালটেন্ট

চেম্বার ঃ জাগরণী হোমিও হল

৪৭/৪ টয়েনবী সার্কুলার রোড (৩য় তলা),

(ইত্তেফাক মোড়ের পশ্চিমে এবং ষ্টুডিও ২৭-এর সাথে)

মতিঝিল, ঢাকা।

ফোন ঃ +৮৮০-০১৯১৬০৩৮৫২৭

E-mail : Bashirmahmudellias@hotmail.com

Website : http://bashirmahmudellias.blogspot.com

Author: bashirmahmudellias

I am an Author, Design specialist, Islamic researcher, Homeopathic consultant.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s