Dr. Bashir Mahmud Ellias's Blog

Know Thyself

Sayings of the holy prophet (pbuh)

Leave a comment

☼ কেয়ামতের লক্ষণ হইল – জ্ঞানের চর্চা উঠে যাবে, মূর্খতা বৃদ্ধি পাবে, মদ্যপান শুরু হবে, ব্যভিচার বৃদ্ধি পাবে, এমনকি তা আর গোপন বিষয় থাকবে না । – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ যার কোন মাল চুরি যায় সে নির্দোষ মানুষকে অপবাদ দিতে শুরু করে। শেষ পর্যন- সে নিজেই চোরের চেয়ে বড় অপরাধী বনে যায় । – আল হাদীস (বায়হাকী শরীফ ‍ঃ)
☼ নবী করীম (দঃ) শিশু-কিশোরদের নিকট দিয়ে যাতায়াতের সময় তাদেরকে সালাম দিতেন । – আল হাদীস (মেশকাত শরীফ)
☼ কেউ যদি বিবাদ মীমাংসার উদ্দেশ্যে এক পক্ষের নামে অন্য পক্ষের নিকট কোন ভাল কথাকে অতিরঞ্জিত করে বলে থাকে তবে সে মিথ্যাবাদীরূপে গণ্য হবে না । – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন মারা যায় তখন প্রতিদিন তাকে জান্নাতে বা জাহান্নামে তার ঠিকানা দেখানো হয়ে থাকে । যদি সে জান্নাতী হয় তবে জান্নাত দেখানো হয় আর যদি জাহান্নামী হয় তবে জাহান্নাম দেখানো হয় এবং বলা হয় যে, এটা তোমার স্থায়ী ঠিকানা । প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা এরূপ প্রদর্শনী কেয়ামত পযর্ন্ত চলতে থাকবে। – আল হাদীস
☼ যে ব্যক্তি স্বপ্নে আমাকে দেখিবে সে সত্যই আমাকে দেখিবে। কারণ, শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করিতে পারে না । – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ যে ব্যক্তি নিজ বংশের পরিবর্তে অন্যের বংশকে নিজের বলে প্রচার করে তার ওপর আল্লাহর, ফেরেশতাদের এবং সমগ্র মানবজাতির অভিশমপাত। (আল হাদীস)
☼ আল্লাহর নিকট ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা অপেক্ষাও জুমু’আর দিন অধিক মর্যাদাপূর্ণ। -(ইবনে মাজাহ শরীফ)
☼ মানুষের অন-রে কৃপণতা এবং ঈমান কখনও একসাথে থাকতে পাবে না । – আল হাদীস (আবু দাউদ শরীফ ‍ঃ)
☼ ভাল স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং দুঃস্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে দেখান হয়ে থাকে । – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ে য ব্যক্তি কারো প্রেমে পড়ে তা গোপন রাখল এবং নিজের সৎচরিত্র বজায় রেখে মৃত্যুবরণ করল, সে শহীদের মর্যাদা পাবে। (কানযুল উম্মাল)
☼ যদি কোন যুবক দুনিয়ার রঙ-তামাসা পরিত্যাগ করে আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করে, আল্লাহ তাকে নিরানববই জন সিদ্দিকের সমান মর্যাদা প্রদান করবেন । – আল হাদীস – আল হাদীস (তিবরানী)
☼ (ইসলাম প্রচারে ) তোমরা সহজ পন্থা অবলম্বন কর, কঠিন পন্থা অবলম্বন করিও না । লোকদিগকে সুসংবাদ শোনাইয়া কাছে ডাকো, ভীতিপ্রদর্শন করে তাড়িয়ে দিও না । – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ মানুষ মানুষকে যা কিছু দান করতে পারে তার মধ্যে জ্ঞানই হলো শ্রেষ্ঠ দান । -আল হাদীস
☼ কোন পথিক মরুভূমিতে তার হারিয়ে যাওয়া উটকে ফিরে পেলে যেরূপ খুশী হয়, কোন বান্দার তওবায় আল্লাহ তারও অধিক খুশী হয়ে থাকেন । – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ যার পা’দুটি আল্লাহর পথে চলতে গিয়ে ধুলি মলিন হয়েছে, তাকে জাহান্নাম স্পর্শ করবে না । – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ আমি বেহেশতের ভেতরে তাকিয়ে দেখলাম – ইহার অধিকাংশ অধিবাসী হচেছ গরীব শ্রেণীর এবং জাহান্নামের দিকে তাকিয়ে দেখলাম – তার অধিকাংশ বাসিন্দা হইল নারী। – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ নিজ হাতের উপার্জন দ্বারা সংগৃহীত খাদ্য অপেক্ষা উত্তম খাদ্য আর নেই । (আল হাদীস)
☼ অনেক লোক রয়েছে যাদের চুল উষ্কখুষ্ক, শরীর ধুলোবালিতে পূর্ণ এবং যাদেরকে সকল দুয়ার থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয় । কিন্তু তারা আল্লাহর নামে কোন শপথ করলে আল্লাহ তা পূরণ করে দেন । – আল হাদীস (মুসলিম শরীফ ‍ঃ)
☼ সেই ব্যক্তিকে আল্লাহ্‌পাক আনন্দে রাখূন যে আমার কোনো কথা শোনার পর হুবহু তা অন্যের নিকট পৌঁছে দিবে। এমনও হতে পারে তা থেকে প্রথম শ্রোতার চাইতে বরং দ্বিতীয় ব্যক্তি বেশী উপদেশ গ্রহন করবে। (তিরমিজী)
☼ যখন কোনো মুসলমান মিথ্যা কথা বলে, তখন তার দুর্গন্ধে ফেরেশতারা এক মাইল দুরে চলে যায় । – আল হাদীস (তিরমিযী শরীফ)
☼ একদিন রাসুলুল্লাহ (দঃ) উটের পৃষ্টে আরোহণ করে চলছিলেন । মোয়াজ ইবনে জাবাল (রাঃ) তাঁহার পিছনে বসে ছিলেন । রাসুলুল্লাহ (দঃ) বললেন – হে মোয়াজ ! মোয়াজ (রাঃ) উত্তর দিলেন – আমি উপস্থিত আছি, ইয়া রাসুলল্লাহ ! এইভাবে তিনবার সম্বোধনের পর নবী করিম (দঃ) বললেন – যে ব্যক্তি সর্বান-ঃকরণে এই কথা বিশ্বাস করবে যে, ‘আল্লাহ-ই একমাত্র প্রভু ; তিনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নাই এবং মোহাম্মদ (দঃ) আল্লাহর রাসুল’, সেই ব্যক্তির জন্য দোযখ হারাম হয়ে যাবে। মোয়াজ (রাঃ) বললেন – এই সুসংবাদ মানুষকে শোনাইয়া দেই যাতে সকলেই খুশী হইতে পারে। রাসুলুল্লাহ (দঃ) বললেন – তাহলে সাধারণ মানুষ ইহার উপর অতিরিক্ত ভরসা করে (ধর্ম-কর্ম বাদ দিয়ে নিষকর্মার ন্যায়) বসে থাকবে। – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ জুমু’আর দিনে বা রাত্রে যে মুসলমানের মৃত্যু হয়, আল্লাহ পাক তাকে কবরের আযাব থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন । — আল হাদীস (তিরমিযী শরীফ)
☼ প্রতিটি শিশুই ইসলাম ধর্মের উপর জন্মগ্রহণ করে থাকে । অতঃপর পিতামাতা তাকে ইহুদী, খ্রীস্টান কিংবা অগ্নিপূজকরূপে গড়ে তোলে। ( বোখারী)
☼ যে ব্যক্তি পশুর সহিত সংগম করে তোমরা তাকে হত্যা কর এবং তার সাথে পশুটিও হত্যা কর। (আল হাদীস)
☼ যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি উন্নত মানের খেজুর ভক্ষন করবে, বিষ ও যাদু তাহার কোন অনিষ্ট করতে পারবে না । – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ যে ব্যক্তি অহংকার বশতঃ পরিধেয় বস্ত্র মাটিতে হেচঁড়াইয়া চলে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার প্রতি দৃষ্টিপাতও করিবেন না । – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ যখন কালো পতাকাসমূহ তোমাদের দিকে আগমন করবে, তোমরা পারস্যবাসীদিগকে স্বাগত জানাইও । কেননা তোমাদের রাষ্ট্র ও ক্ষমতা তাদের দ্বারাই সুরক্ষিত হবে। -(ইবনে মাজাহ শরীফ)
☼ প্রত্যেকটি ভাল কাজই একটি দানস্বরূপ। -(- আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ))
☼ যখন এক বিসতীর্ণ এলাকা জুড়ে গাদাগাদি করে মানুষের লাশের সতূপ পড়ে থাকবে, অতীব ভয়ঙ্কর মহাযুদ্ধ হবে, সে সময় আল্লাহ পাক এমন একদল অনারব মুসলমানকে প্রেরণ করবেন যারা আরবদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট বীর হবে। তারা অস্র-শসত্র প্রশিক্ষণে সুদক্ষ হবে। আল্লাহ তায়ালা তাদের মাধ্যমেই দ্বীনকে মজবুত এবং সুসংহত করবেন । — আল হাদীস (ইবনে মাজাহ শরীফ ‍ঃ)
☼ (শেষ জমানায়) নদীর অপর পার্শ্বে (বোখারা, সমরখন্দ) এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে, যিনি ‘হারেসে হার্‌রাস’ নামে পরিচিত হবেন । তাঁর সেনাবাহিনীর অগ্রভাগে ‘মনসুর’ নামে এক ব্যক্তি থাকবেন । তিনি মহানবী (দঃ)-এর বংশধরকে (ইমাম মেহেদীকে) এমন ভাবে আশ্রয় দান করবেন যেভাবে কুরাইশগণ মহানবী (দঃ)-কে আশ্রয় দিয়েছিল। তখন সমস্ত ঈমানদারের ওপর তাঁকে সাহায্য করা কিংবা তাঁর ডাকে সাড়া দেওয়া অত্যাবশ্যক হয়ে যাবে। -(আবু দাউদ শরীফ)
☼ যখন তুমি খোরাসানের দিক থেকে কালো পতাকাবাহী সৈন্যবাহিনী আসতে দেখবে, তখন তাদের স্বাগত জানাবে। কেননা, ওর মধ্যে আল্লাহর খলীফা ইমাম মাহদী থাকবেন । – আল হাদীস (মেশকাত শরীফ)
☼ যে সমস্ত পানীয় দ্রব্যের মধ্যে মাদকতা (নেশা) থাকবে, তাদের সকলই হারাম । – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ সেই ব্যক্তি নিঃস্ব নয় যে দু‘মুঠো পেলে খুশী মনে ফিরে যায় বরং ঐ ব্যক্তি নিঃস্ব যার সচছলতাও নাই আবার কারো নিকট চাইতেও লজ্জা বোধ করে কিংবা বেহায়ার ন্যায় কারো নিকট হাত পাতে না । – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ (পৃথিবীতে) যে যাকে ভালবাসে, (পরকালে) সে তার সাথেই থাকবে। – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ জুমু’আর রাত নূরে পূর্ণ রাত এবং জুমু’আর দিন নূরে পূর্ণ দিন । – আল হাদীস (মেশকাত শরীফ)
☼ পিতামাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি আর পিতামাতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি। (আল হাদীস)
☼ মৃত্যুর পূর্বেই মৃত্যুর জন্যে প্রস’ত থাক। – আল হাদীস
☼ তোমাদের প্রভুর সাথে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন- – পরবর্তী যুগ পূর্ববর্তী যুগের চাইতে নিকৃষ্ট হইবে। – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ আমার উম্মতের সত্তর হাজার লোক বিনা হিসাবে বেহেশতে যাবে যারা মন্ত্র-তন্ত্রের ধার ধাবে না, শুভ-অশুভ বিশ্বাস করে না এবং আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখে। – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ জাহান্নামকে বেষ্টন করে রাখা হয়েছে আকর্ষনীয় কার্যাবলী দ্বারা এবং বেহেশতকে ঘিরে রাখা হয়েছে নীরস কার্যাবলীর দ্বারা । – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ বাহ্যিক দৃষ্টিতে অনেক সময় কোন ব্যক্তি জান্নাতবাসীর ন্যায় কর্ম করিতে পারে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে জাহান্নামী। আবার বাহ্যিক দৃষ্টিতে কেহ জাহান্নামে যাওয়ার উপযোগী কর্ম করিতে পারে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে জান্নাতী। – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ ইসলামের অনুসারী নয় এমন ব্যক্তি বেহেশতে প্রবেশ করিবে না । কেবল ইসলামের অনুসারীরাই বেহেশতে যাবে। অবশ্য আল্লাহ পাক পাপী লোকদো দিয়েও ইসলামের উপকার সাধন করে থাকেন । – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ মানুষ অস্তর্কভাবে এমন কথাও বলে থাকে যার দরুন সে দোযখের মধ্যে পৃথিবীর এক প্রান- হইতে অন্য প্রান- পর্যন- দূরত্বের গভীরতায় নিক্ষিপ্ত হবে। – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ একদা মহানবী (দঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো – সর্বোত্তম কাজ কোনটি ? তিনি বললেন- আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। আবার প্রশ্ন করা হলো – তারপর কোনটি ? তিনি বললেন – আল্লাহর পথে জিহাদ করা। পুনরায় তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো – এরপর কোনটি ? তিনি বললেন – (আল্লাহর নিকট গৃহীত) হজ্জ। -(বোখারী ও মুসলিম)
☼ দান গ্রহন করা মোহাম্মদের পরিবারের জন্য বৈধ নয়, কেননা দান হলো মানুষের ময়লাস্বরূপ। (আল হাদীস)
☼ ঋণ পরিশোধে সক্ষম ব্যক্তির গড়িমসি অত্যাচারের সমতুল্য। – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ যে ব্যক্তি বিনা কারণে জুমু’আর নামায ত্যাগ করে, তার নাম এমন কিতাবে লেখা হয় যা পরিবর্তন থেকে সুরক্ষিত। – আল হাদীস (মেশকাত শরীফ)
☼ জ্বরের উৎপত্তি জাহান্নামের উত্তাপ হইতে। তাই ইহার তাপমাত্রা পানির সাহায্যে হ্রাস করে দাও । – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ আমার অনুসারীদের মধ্যে কিছু লোক মদের নাম পাল্টিয়ে তা পান করবে। তাদের সামনে নর্তকীরা বাদ্যযন্ত্র সহকারে গান করবে। আল্লাহ্ তাদেরকে মাটির নীচে দাবিয়ে দেবেন, আর কতককে বাদর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দেবেন । (ইবনে মাজাহ্)
☼ সন্দেহের ক্ষেত্রে শাস্তি রহিত কর। যে ব্যক্তি অপরাধ ছাড়াই অপরাধের শাস্তি কার্যকর করিল, সে সীমালংঘনকারীদের অনতর্ভূক্ত। (আল হাদীস)
☼ নেশাকর বস্তু অল্পই হউক আর বেশীই হউক, তা সবই হারাম । (ইবনে মাজাহ শরীফ)
☼ সৃষ্ঠি স্রষ্টার অবাধ্যতা করিতে নির্দেশ দিলে তাহা মান্য করা যাইবে না । (আল হাদীস)
☼ কলেরা ও প্লেগ রোগে কারো মৃত্যু হইলে সে শহীদ হইবে। – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ আল্লাহ তা’য়ালা যার কল্যাণ চান, তাকে বিপদে ফেলেন । – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ তোমরা যাদেরকে সমকামিতায় লিপ্ত দেখিবে তাদের উভয়কে হত্যা করিবে। (আল হাদীস)
☼ তোমাদের মধ্যকার সেই ব্যক্তিই উত্তম যার চরিত্র সর্বাপেক্ষা উত্তম । (আল হাদীস)
☼ আল্লাহ যখন কোন জাতির উপর শাস্তি প্রেরণ করেন, তখন তা সেই জাতির প্রত্যেকের নিকট পৌঁছে। কিন্তু শেষ বিচার প্রত্যেকের কর্ম অনুযায়ী হবে। – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ যাকাত যে মালের সাথে মিশে থাকে সে সমপদকে যাকাত অবশ্যই ধ্বংস করে দেয় । – আল হাদীস
☼ আমি মানুষকে অভিশমপাত করতে নয় বরং আল্লাহর রহমত রূপেই প্রেরিত হয়েছি। (আল হাদীস)
☼ যে ব্যক্তি (নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্র-দ্রব্য) গুদামজাত করে রাখে, সে অপরাধী। – আল হাদীস (মুসলিম শরীফ)
☼ যে জিনিস তোমার অধিকারে নাই, তাহা বিক্রয় করিও না । (আল হাদীস)
☼ হে যুব সমপ্রদায় ! তোমাদের মধ্যে যে সত্রীর ভরণপোষণের ক্ষমতা রাখে, সে যেন বিবাহ করে। কেননা ইহা তার চোখ ও যৌনাঙ্গের সুরক্ষার সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা। আর যাহার সেই ক্ষমতা নাই, সে যেন রোজা রাখে, ইহা তাহার জন্য ঢালস্বরূপ। (আল হাদীস)
☼ কোন ব্যক্তি মোহরানার বিনিময়ে কোন নারীকে বিবাহ করিল, কিন্তু তাহা পরিশোধের ইচ্‌ছা তাহার নাই-সে ব্যভিচারী। (তিবরানী শরীফ)
☼ দুইটি ভিন্ন ধর্মের অনুসারী পরস্পরের উত্তরাধীকারী হইতে পারিবে না । (আল হাদীস)
☼ কোন ব্যক্তি তার নিজের জন্য, তার পরিবারের জন্য, তার সন্তানদের জন্য এবং তার ভৃত্যদের জন্য যাহা ব্যয় করে তাহা সবই দানস্বরূপ। (ইবনে মাজাহ )
☼ আমার জীবন তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আমার মৃত্যুও তোমাদের জন্য কল্যাণকর। তোমাদের আমলসমূহ আমাকে দেখানো হবে। যদি তা ভাল দেখি তবে আল্লাহর প্রশংসা করব আর যদি মন্দ দেখি তবে আল্লাহর নিকট তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব। – আল হাদীস
☼ যে ব্যক্তি মানুষকে ধোকা দেয় সে আমার প্রকৃত অনুসারী নয় । (আল হাদীস)
☼ তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া কর, তাহলে যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করিবেন । – আল হাদীস (তিরমিযী শরীফ)
☼ তোমরা পরস্পরকে উপহার দাও যাতে তোমাদের মধ্যে ভালবাসা বৃদ্ধি পায় । (আদাবুল মুফরাদ)
☼ যে ব্যক্তি দান করিয়া উহা ফেরত নেয় সে ঐ কুকুরের ন্যায় যে বমি করিয়া পুণরায় তা খেয়ে ফেলে। (- আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ) )
☼ যে ব্যক্তি কোন ওয়ারিসকে সমপত্তি থেকে বঞ্চিত করিল, কেয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করিবেন । – আল হাদীস (ইবনে মাজাহ শরীফ ‍ঃ)
☼ আমার এবং অন্য সকল নবীদের দৃষ্টানত হলো এরূপ যেমন কোনো ব্যক্তি একটি প্রাসাদ নির্মাণ করল এবং সেটিকে পূর্ণতা দান করল কিন্তু একটি ইট পরিমাণ স্থান খালি রেখে দিল। অতঃপর আমি এসে সেই ইটের জায়গাটুকু পূর্ণ করলাম । (আল হাদীস)
☼ দুনিয়া হলো একজন ঘুমনত ব্যক্তির স্বপ্নের মতো। (তাম্বীহুল গাফেলীন)
☼ ভাল কাজের আদেশ কর এবং মানুষকে খারাপ থেকে নিষেধ কর। অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের মধ্যকার খারাপ লোকদেরকে ভাল লোকদের উপর ক্ষমতাবান করে দেবেন । (আল হাদীস)
☼ কেয়ামতের দিন আল্লাহ পাক চার শ্রেণীর লোককে নুরের মিম্বরে বসাবেন এবং নিজ রহমতের ছায়ায় স্থান দান করবেন ঃ-যারা ক্ষুধার্তকে খাদ্যদান করেছে এবং ধর্মযোদ্ধাদের সম্মান করেছে ; দুর্বলকে সাহায্য করেছে আর অত্যাচারিতের ডাকে সাড়া দিয়েছে। – আল হাদীস
☼ যারা পিতামাতাকে কষ্ট দেয়, যারা জুয়া খেলে, যারা উপকার করে খোটা দেয় এবং যারা মদ্যপানে অভ্যস্থ, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না । (মেশকাত শরীফ)
☼ কেয়ামতের দিন সকল মানুষ নবজাত শিশুর ন্যায় নগ্নদেহে হাশরের ময়দানে উপস্থিত হবে। সেদিন কেউ কারো দিকে কুদৃষ্টিতে তাকাবে না কারণ প্রত্যেকে স্বীয় মুক্তির চিন্তায় বিভোর থাকবে এবং আকাশের দিকে চেয়ে থাকবে। পানাহার ভিন্ন এই ভাবে তারা চল্লিশ বছর যাবত দাড়িয়ে থাকবে। তাদের মধ্যে কেউ পা পযর্ন্ত , কেউ হাঁটু পযর্ন্ত, কেউ পেট পযর্ন্ত, কেউ বুক পযর্ন্ত, কেউ গলা পযর্ন্ত, কেউবা তারো অধিক ঘর্ম-স্রোতে সাঁতার কাটতে থাকবে। সেদিন এমন কোনো সম্মানীত ফেরেশতা, নবী-রাসুল বা শহীদ কবর হতে উত্থিত হবে না, যে হিসাব-নিকাশ দেওয়া ও দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত ও পেরেশান না হবে। (হাশরের ময়দানে) নবী-রাসুল এবং তাদের পরিবার-পরিজন ছাড়াও রজব, শাবান ও রমজান মাসের রোজাদারগণও পরিতৃপ্ত হয়ে হাশরের মাঠে সমবেত হবে, তাঁর ক্ষুধা-তৃষ্ণা হতে মুক্ত থাকবে এবং অপর সকলে ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত থাকবে। -(আল হাদিস)
☼ সবচেয়ে নিকৃষ্ট চোর হলো যে নামাজের মধ্যে চুরি করে। (অর্থাৎ) নামাজের রূকু-সিজদা নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ ভাবে আদায় করে না । — আল হাদীস (মুসনাদে আহমদ)
☼ (হে আমার সাথীগণ!) তোমরা এমন যুগে আছো যে যুগে তোমাদের কেহ যদি তার প্রতি আদেশ-নির্দেশের এক দশমাংশও অমান্য করে, সে ধ্বংস হয়ে যাবে। সামনে এমন এক যুগ আসবে যখন কেহ যদি তার প্রতি আদেশ-নির্দেশের এক দশমাংশও পালন করে, সে মুক্তি পাবে। ( তিরমিযী শরীফ )
☼ যে ব্যক্তি আমার কথা শুনিবে অথচ আমি যাহা সহকারে প্রেরিত হয়েছি তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করেই মৃত্যুবরণ করিবে, নিশ্চয়ই সে জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভূক্ত হইবে। – আল হাদীস (মুসলিম শরীফ)
☼ কালজিরায় মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ আছে। ( – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ) )
☼ জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ। – আল হাদীস (মুসলিম শরীফ ‍ঃ)
☼ যে ব্যক্তি কোন দলের কাছে এমন হাদিস বর্ণনা করে যার অর্থ তারা বুঝতে অক্ষম, তবে সে হাদিস সে দলের জন্য কেবল মুসিবত রূপেই পরিগণিত হবে। মানুষের নিকট তোমরা এমন কথাই বলো যা তারা বুঝতে পারে। বুঝতে পারবে না এমন কথা কখনও বলো না । তোমরা কি চাও যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি মিথ্যারোপ করা হউক ? (আল হাদিস)
☼ একজন জ্ঞানী ব্যক্তির মৃত্যুর তুলনায় একটি জাতি ধ্বংস হওয়া অনেক হালকা ব্যাপার । – আল হাদীস – আল হাদীস (তিবরানী)
☼ যদি মানুষ হিকমত (বিজ্ঞান) সম্পর্কিত একটি বাক্য শিক্ষা করে, তবে তা হবে তার জন্য দুনিয়া এবং তদস্থিত সব কিছূ হতে উত্তম । (আল হাদীস)
☼ জ্ঞানীদের মজলিসে যোগদান করা হাজার রাকাত নফল নামায পড়া, হাজার রোগীর সেবা করা এবং হাজার জানাযায় শরীক হওয়া অপেক্ষা উত্তম । জিজ্ঞাসা করা হলো, ইয়া রাসুলুল্লাহ (দঃ) ! পবিত্র কোরআন পাঠের চেয়েও কি উত্তম ? বললেন, জ্ঞান ব্যতিত কোরআন কি উপকার করে ? (আল হাদীস)
☼ আমার যে উম্মত চল্লিশটি হাদীস স্মরণ রাখবে, রোজ কেয়ামতে সে আলেম হিসাবে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে। (ইবনে আবদুর বার)
☼ দুই ব্যক্তিকে কেবল ঈর্ষা করা যায় ঃ- (১) যাকে আল্লাহ জ্ঞান দিয়েছেন, ফলে সে তদনুযায়ী কর্ম করে এবং মানুষকে তা শিক্ষাদান করে । (২) যাকে আল্লাহ ধন-দৌলত দিয়েছেন এবং তাকে তা সৎপথে ব্যয় করার মনোভাব দিয়েছেন । (বোখারী শরীফ , মুসলিম শরীফ)
☼ জ্ঞানের সন্ধানীদের চলার পথে ফেরেশতাগণ তাদের পাখা বিছিয়ে রাখেন । – আল হাদীস (তিরমিযী)
☼ জ্ঞানের একটি অধ্যায় শিক্ষা করা সারা দুনিয়া এবং তার মধ্যস্থিত সব কিছু থেকে উত্তম । (ইবনে হাব্বান)
☼ আল্লাহ্ পাক জান্নাত সৃষ্টি করার পর হযরত জিবরাঈল (আঃ)-কে ডেকে বললেন – আমি আমার বান্দাদের জন্য যা কিছু সৃষ্টি করেছি সে-সব একবার দেখে আস। আল্লাহর নির্দেশে তিনি জান্নাতের এদিক ওদিক ঘুরেফিরে দেখছিলেন । এমন সময় একজন হুর তাকে দেখে হেসে ওঠলেন । তার দাঁতের উজ্জ্বলতায় জান্নাতে আদন ঝলমল করে উঠল। তাতে হযরত জিব্রাঈল (আঃ) বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন । তিনি ভাবলেন এটা আল্লাহর নুরের ঝলক। অতঃপর হযরত জিবরাঈল (আঃ) হুরের অনুরোধে মাথা উত্তোলন করে বললেন – তোমার স্রষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় । হুর জিজ্ঞেস করলেন – হে জিরবাঈল ! আপনি কি জানেন আল্লাহ আমাকে কার জন্যে সৃষ্টি করেছেন ? হযরত জিবরাঈল (আঃ) বললেন – তাতো আমি জানি না । হুর বলল – যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে স্বীয় কামনা-বাসনাকে বিসর্জন দেয়, আল্লাহ আমাকে তাঁর জন্যেই সৃষ্টি করেছেন । – আল হাদীস
☼ রাসুলুল্লাহ (দঃ) অশ্লীলভাষী ছিলেন না এবং অশ্লীলতার ধারে-কাছেও যেতেন না । তিনি বাজারে শোরগোল করতেন না এবং খারাপ ব্যবহারের জবাবে খারাপ ব্যবহার করতেন না বরং ক্ষমা করে দিতেন । – আল হাদীস
☼ রাসুলুল্লাহ (দঃ) কে একবার জিজ্ঞাসা করা হলো, “নিকৃষ্টতম মানুষ কে ?” তিনি জবাব দিতে অস্বীকার করলেন এবং বললেন , “হে প্রভু, ক্ষমা করো।” তারপর তিনি পুণঃ পুণঃ জিজ্ঞাসিত হয়ে বললেন, “নিকৃষ্টতম মানুষ হলো খারাপ আলেম”। (আল হাদিস)
☼ দুনিয়া এবং দুনিয়াস্থিত সব কিছুই ধিকৃত এবং অভিশপ্ত ! কিন্তু আল্লাহকে স্মরণকারী, তাঁর সাথে বন্ধুত্ব স্থাপনকারী, জ্ঞান অন্বেষণকারী এবং জ্ঞান শিক্ষাদানকারী ছাড়া। – আল হাদীস (তিরমিযী)
☼ সায়হান, জায়হান, ফোরাত ও নীল এ সমস্ত নদীগুলি জান্নাতের নদী। -(আল হাদিস)
☼ কোন সৎকাজ করার জন্য কাউকে উপদেশ দেওয়া নিজে তা করার সমতুল্য (সওয়াবের কাজ)। – আল হাদীস (তিরমিযী)
☼ মৃত্যুর সাথে সাথে মানুষের সকল সৎকর্ম বন্ধ হয়ে যায়, কেবল তিনটি বিষয় অব্যাহত থাকে ঃ- (১) তার শিক্ষাদানকৃত জ্ঞান যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হতে থাকে । (২) সদকায়ে জারিয়া বা দীর্ঘস্থায়ী দান (বিদ্যালয়, হাসপাতাল, ইয়াতীমখানা ইত্যাদি), (৩) পূণ্যবান সন্তান যে তার জন্য দোয়া করতে থাকে । (আল হাদীস)
☼ ঈমান (সারা পৃথিবী থেকে) মদীনায় এসে নিজেকে গুটিয়ে নিবে সাপ যেমন ভাবে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে গর্তে ঢুকে পড়ে। -(- আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ))
☼ ইসলামের যাত্রা শুরু হয়েছিল নিঃসঙ্গ অবস্থায় । শীঘ্রই আবার সে নিঃসঙ্গ অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করবে। অতএব, সুস্বাগতম সেই নিঃসঙ্গদের জন্য । জিজ্ঞাসা করা হলো, “ইয়া রাসুলুল্লাহ ! সেই একাকী কারা”? তিনি বললেন, “ যারা আমার সুন্নতের অনুসরণ করবে এবং মানুষের হাতে যা বিনষ্ট হয়েছে তাকে পুনরুজ্জীবিত করবে। তারা অগণিত লোকের মধ্যে অল্প সংখ্যক সৎ লোক। তাদের বন্ধুর তুলনায় শত্রু অনেক বেশী হবে”। (আল হাদিস)
☼ যে অন্যায়পন্থীী ব্যক্তি তর্কবিতর্ক বর্জন করে আল্লাহ তার জন্য বেহেশতের এক কোণে একটি গৃহ নির্মাণ করে রাখেন আর যে ন্যায়পন্থী ব্যক্তি বিতর্ক বর্জন করে আল্লাহ বেহেশতের সর্বোচচ স্থানে তার জন্য এক সুরম্য গৃহ নির্মাণ করে রাখেন । (আল হাদীস)
☼ রাসুলুল্লাহ (দঃ) ছিলেন পর্দানশীল কুমারী মেয়েদের চাইতেও অধিকতর লাজুক। যখন কোন কিছূ তাহার রুচি বিরুদ্ধ হইত, আমরা তাহার চেহারা দর্শনেই বুঝতে পারতাম । তাঁর উত্তম চরিত্রের কথা কি বলব, মদীনার কোন নগণ্য ক্রীতদাসীও তাকে হাত ধরে যেখানে ইচছা নিয়ে যেতে পারত। তিনি কখনও নিজ হাতে কাউকে প্রহার করেন নি। (আল হাদীস)
☼ কেয়ামতের দিন জ্ঞানীদের কলমের কালি শহীদগণের রক্তের সাথে ওজন করা হবে। (আবু দারদা)
☼ রাসুলুল্লাহ (দঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, “ইয়া রাসুলুল্লাহ ! সৎ কাজের আদেশ দান এবং অসৎ কাজের নিষেধকরণ মানুষের মধ্য থেকে কখন ওঠে যাবে”? রাসুলুল্লাহ (দঃ) বললেন, “ যখন তোমাদের অভিজাতদের মধ্যে অলসতা দেখা দেবে, তাদের মধ্যে তোষামোদের স্বভাব ফুটে ওঠবে। আর তোমাদের মধ্যে নির্লজ্জতার বিকাশ ঘটবে এবং ইতরশ্রেণীর লোকদের হাতে শাসন ক্ষমতা ও নীচদের হাতে ইলমে ফিকাহর (আইনশাস্ত্র) চর্চা চলে আসবে। (আল হাদীস)
ডাঃ বশীর মাহমুদ ইলিয়াস
লেখক, ডিজাইন স্পেশালিষ্ট, ইসলামী গবেষক, হোমিও কনসালটেন্ট
চেম্বার ঃ জাগরণী হোমিও হল
৪৭/৪ টয়েনবী সার্কুলার রোড (৩য় তলা),
(ইত্তেফাক মোড়ের পশ্চিমে এবং ষ্টুডিও ২৭-এর সাথে)
মতিঝিল, ঢাকা।
ফোন ঃ +৮৮০-০১৯১৬০৩৮৫২৭
E-mail : DrBashirmahmudellias@yahoo.com
Website : http://bashirmahmudellias.blogspot.com

—————————————————————————————————————————–
☼ আমার উম্মতের মধ্যে এমন একদল লোক আছে, যারা আল্লাহর কোন নিদর্শন দেখে প্রকাশ্যে হাসে কিন্তু গোপনে কাঁদতে থাকে । এদের দেহ এ জগতে, কিন্তু আত্মা রয়েছে অন্য জগতে। তাদের প্রাণ ইহলোকে কিন্তু জ্ঞান-বুদ্ধি পরলোকে । তারা গাম্ভীরয্য বিজায় রেখে চলে এবং উসিলা অবলম্বনে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করে। (আল হাদিস)
☼ যদি কেউ তার জন্য নির্ধারিত জীবিকা থেকে দূরে থাকার জন্য পলায়নও করে, তবু রিযিক তার পেছনে পেছনে ছুটবে। মানুষ মৃত্যুর হাত থেকে যেমন পালিয়ে বাঁচতে পারে না, তেমনি রিজিকের হাত থেকেও পালিয়ে বাঁচা সম্ভব নয় । (আল হাদিস)
☼ আমার উম্মতের দুজন লোক নামায পড়তে দাড়ায়, তারা একইভাবে রুকু-সিজদা করে কিন্তু উভয়ের নামাযে আকাশ-পাতাল ব্যবধান হয়ে যায় । (আল হাদিস)
☼ পৃথিবীতে এমন একটি সময় আসবে যখন মানুষ অনাচার ও অপকর্মে লিপ্ত হতে দ্বিধা করবে না বরং পাপাচারের জন্য বীরত্ব প্রকাশ ও গৌরববোধ করবে। তখন তোমরা কেয়ামত আসন্ন মনে করবে। – আল হাদীস (মুসলিম শরীফ)
☼ আমার উম্মতের কিছু লোক ভাগ্যকে অস্বীকার করবে। আল্লাহ তাদের কিছুকে মাটিতে প্রোথিত করবেন আর কিছুকে বাদরে রূপান্তরিত করে দেবেন । (আল হাদীস)
☼ যে ব্যক্তি আমার উম্মতের ওপর জোরপূর্বক ক্ষমতাশীন হয় এবং আল্লাহ যাদের সম্মানিত করেছেন তাদের অপমান করে আর আল্লাহ যাদের অপদস্ত করেছেন তাদের সম্মানিত করে, সে অভিশপ্ত। -আল হাদীস

☼ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টিমুলক কোন কাজের শপথ করে, তার সে শপথ পালন করা উচিত। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টিমুলক কোন কাজের শপথ করে, তার সেটি পালন করা উচিত নয় । (- আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ))
☼ যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ে, নিশ্চয় সে শিরক করে। যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে রোজা রাখে, সেও শিরক করে এবং যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানো উদ্দেশ্যে দান-খয়রাত করে, সেও শিরক করে। — আল হাদীস (মুসনাদে আহমদ)
☼ একদিন আমি (উম্মে সালামা) ও মায়মূনা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (দঃ)-এর দরবারে উপস্থিত ছিলাম । এমন সময় (অন্ধ সাহাবী) আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (দঃ)-এর নিকট আগমণ করলেন । তখন রাসুলুল্লাহ (দঃ) আমাদেরকে বললেন, তোমরা পর্দার আড়ালে চলে যাও । আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (দঃ) ! উনি কি অন্ধ নন ? তিনি তো আর আমাদেরকে দেখবেন না । রাসুলুল্লাহ (দঃ) বললেন, তোমরা কি তাকে দেখবে না । – আল হাদীস
☼ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক ধনী মুসলমানদের ধন-সম্পদ হতে এমন পরিমাণ দিয়ে দেওয়াকে ফরজ করেছেন, যা তাদের দরিদ্র-নিঃস্ব প্রতিবেশীদের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট হতে পারে। বস্তুতঃ দরিদ্র-নিঃস্বরা যে ক্ষুধার্ত ও বস্ত্রহীন থেকে কষ্ট পায়, তার মূলে ধনী লোকদের আচরণ ছাড়া অন্য কোন কারণই থাকতে পারে না । নিশ্চয় জেনে রাখবে আল্লাহ্ পাক এসব লোকদের খুব শক্ত হিসাব নেবেন এবং তাদেরকে তীব্র পীড়াদায়ক শাস্তি দিবেন । (আল হাদিস)
☼ হিংসা মানুষের সওয়াবগুলোকে এমনভাবে ধ্বংস করে ফেলে, যেমনভাবে আগুন লাকড়িকে ছাইয়ে পরিণত করে। – আল হাদীস (আবু দাউদ শরীফ ‍ঃ)
☼ আমার পরে এমন একদল শাসক আসবে (নিষ্টুরতার ভয়ে) যাদের অন্যায় কথার প্রতিবাদ করিতে কেহই সাহস পাইবে না । এসব শাসকরা এমনভাবে জাহান্নামে প্রবেশ করবে, যেমন করে বানরের পাল একের পিছনে এক সারিবদ্ধ ভাবে ধাবিত হয় । (আল হাদিস)
☼ আবু হোরায়রা, দুনীতিগ্রস্ত সমাজে একদিন ইনসাফ প্রতিষ্টা করা আল্লাহ্ তায়ালার কাছে ষাট বছরের ইবাদত অপেক্ষা উত্তম । (আল হাদিস)
☼ যে ঘরে কুকুর রয়েছে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না । (আল হাদীস)
☼ দশ দিরহামের কমে মোহরানা হতে পারে না । – আল হাদীস
☼ কেয়ামতের দিন কোনো কোনো মানুষের সওয়াবের পরিমাণ হবে পাহাড় সমতুল্য। তা দেখে সেই ব্যক্তি অবাক হয়ে বলবে, এত সওয়াব আমি কোথা হইতে পেলাম । তখন তাকে বলা হইবে যে, তোমার সন্তানেরা তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছে, সেই কারণেই তোমার এত নেকী হয়েছে। – আল হাদীস
☼ অহঙ্কারীকে আল্লাহ নীচু করে দেন এবং বিনয়ীকে আল্লাহ উঁচু করে দেন । – আল হাদীস
☼ আমি উত্তম চরিত্রকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য প্রেরিত হয়েছি। (আল হাদীস)
☼ যে ব্যক্তি ক্বদরের রাত পাওয়ার পর তাতে ইবাদত-বন্দেগী করবে, মহান আল্লাহ তার প্রতি জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন । – আল হাদীস
☼ যখন ঈমানদার ব্যক্তিকে কবরে রাখা হয় তখন তার নিকট মনে হবে যে সূর্য ডুবিতেছে। তার দেহে রুহ প্রবেশ করানোর পর তিনি চোখ মেলে উঠে বসবেন এবং ফেরেশতাদের বলবেন, আমাকে ছেড়ে দাও; আমি নামাজ পড়ব। – আল হাদীস
☼ এই উম্মতের প্রথম কল্যাণ এবং পূণ্যময় গুণ হলো ইয়াকীন (বিশ্বাস) এবং যুহদ (সংসার বিমুখতা) আর প্রথম মহাসংকট ও ধ্বংসাত্মক দোষ হলো কৃপণতা ও দীর্ঘায়ু লাভের বাসনা । – আল হাদীস (বায়হাকী শরীফ ‍ঃ)
☼ হে আদম সন্তান, কথা সরল ভাবে বলিও । কেননা ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলা শয়তানের কাজ। কোন কোন বক্তৃতায় যাদুকরী প্রভাব থাকে । (আল হাদিস)
☼ নিদ্রা তো মৃত্যুর সহোদর ভাই আর জান্নাতবাসীগণ মরবে না । – আল হাদীস (বায়হাকী শরীফ ‍ঃ)
☼ যে ব্যক্তি মদীনার সাতটি আজওয়া খেজুর খালি পেটে খাবে, যাদু-মন্ত্র তার ওপর কোনো ক্রিয়া করবে না । -(- আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ))
☼ যে শিক্ষার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য থাকে, তার দ্বারা দুনিয়াবী সুখ-সমৃদ্ধি অর্জনের চেষ্টা করলে আখেরাতে বেহেশতের গন্ধও পাবে না । (আল হাদীস)
☼ জ্ঞানার্জনের জন্য দরকার হলে সুদূর চীন দেশে যাও । – আল হাদীস (বায়হাকী শরীফ ‍ঃ)
☼ যে ব্যক্তি কোন জ্ঞানী ব্যক্তির একদিন সেবা করল, সে যেন অন্য লোকের সত্তর বৎসর সেবা করল। (আল হাদিস)
☼ যে ঈমানদার ব্যক্তি মানুষের সহিত মেলামেশা করে এবং তাদের দেওয়া কষ্ট সহ্য করে, সে ঐ ব্যক্তি হইতে উত্তম, যে মানুষের সহিত মেলামেশাও করে না, তাদের দেওয়া কষ্টও সহ্য করে না । (আল হাদিস)
☼ প্রবৃত্তি (অর্থাৎ মনের ইচ্ছা) হলো আল্লাহর নিকট সর্বাধিক ঘৃণিত অনুসরণীয়, যাকে দুনিয়াতে উপাসনা করা হয় । (আল হাদিস)
☼ হে মানব জাতি! তোমরা মানুষকে পানাহার করাও, আত্মীয়দের সাথে সুসমপর্ক বজায় রাখ, প্রত্যেক মুসলমানকে সালাম দাও এবং রাতের সেই মুহূর্তে নামায পড় যখন সবাই ঘুমে বেঁহুশ হয়ে থাকে । এভাবে তোমরা নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। (আল হাদিস)
☼ শেষ জামানায় দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধার আধিক্য দেখা দিবে। যে সেই যুগটি পাইবে, সে যেন ক্ষুধার্তদের প্রতি অবিচার (হৃদয়হীন আচরণ) না করে। (আল হাদীস)
☼ (আল্লাহ বলেন) মহত্ত্ব আমার পায়জামা এবং শ্রেষ্টত্ব আমার চাদরস্বরূপ। যে আমার এদুটো জিনিসে ভাগ বসাতে চায়, তাকে আমি লন্ডভন্ড করে দেই । (আবু দাউদ , ইবনে মাজাহ)
☼ যে ব্যক্তি স্বভাবের নম্রতা হইতে বঞ্চিত হয়েছে, সে কল্যাণ হইতে বঞ্চিত হয়েছে। (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি দ্বীনি / ইসলামী জ্ঞান অর্জন করে, তার সর্ব প্রকার চিন্তা-ভাবনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তাকে অকল্পনীয় স্থান থেকে জীবিকা সরবরাহ করা হবে। (খতীব)
☼ যারা শিশুদের কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হন । (আল হাদীস)
☼ ঈমানদার ব্যক্তি কখনও বিদ্বেষপরায়ণ বা পরশ্রীকাতর হতে পারে না । (আল হাদীস)
☼ ইসলামকে পূনর্জীবিত করার লক্ষে জ্ঞানার্জনেরত অবস্থায় যারা মৃত্যুবরণ করে, বেহেশতে নবীদের সাথে তাদের মাত্র একটি স্তরের ব্যবধান থাকবে। (দারেমী)
☼ সমস্ত সৃষ্টির চাইতে যিনি আমার নিকট অধিক প্রিয় ও সম্মানিত এবং যার পবিত্র নাম আসমান, জমীন, চন্দ্র , সূর্য সৃষ্টি করার বিশ লক্ষ বছর পূর্বে আরশে মোয়াল্লায় আমার নামের পাশে লিখে রেখেছি, তিনি বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম । তিনি ও তার উম্মতগণ জান্নাতে প্রবেশ না করা পযর্ন্ত অন্যদের জান্নাতে প্রবেশ হারাম । – আল হাদীস
☼ (হযরত আনাস (রাঃ) বলেন) আমি সুদীর্ঘ দশ বৎসর রাসুলুল্লাহ (দঃ) এর খেদমত করেছি। এই সুদীর্ঘ সময়ের মধ্যে তিনি কখনও বলেননি যে, অমুক কাজটি এভাবে করলে কেন কিংবা অমুক কাজটি করলে না কেন । (আল হাদীস)
☼ সেই ব্যক্তি সুখী যে নিজের দোষ দেখে অন্যের দোষ অনুসন্ধান বন্ধ করে দেয় । উপার্জিত অর্থ হালাল পথে খরচ করে, জ্ঞানীদের সাথে চলাফেরা করে এবং পাপীদের থেকে দূরে সরে থাকে । (আল হাদীস)
☼ সব আলেমের কাছে বসো না বরং এমন আলেমের সান্নিধ্যে বসো, যে পাঁচ বিষয়ের দিক থেকে অন্য পাঁচটি বিষয়ের দিকে আহ্বান করে ; যেমন (১) সন্দেহের দিক থেকে দৃঢ় বিশ্বাসের দিকে, (২) লোক দেখানোর দিক থেকে আন্তরিকতার দিকে , (৩) দুনিয়ার প্রতি মোহ থেকে দুনিয়া বিমুখতার দিকে , (৪) অহমিকার দিক থেকে বিনয়ের দিকে , (৫) শত্রুতার দিক থেকে মিত্রতার দিকে । (আল হাদিস)
☼ কোনো বান্দা যখন আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করে, তখন আল্লাহ তাকে একটি সওয়াব দান করেন, তার একটি গুনাহ মাফ করে দেন এবং তাকে একটি সম্মান বৃদ্ধি প্রদান করেন । – (ইবনে মাজাহ শরীফ)
☼ হে লোক সকল ! তোমরা গোপন শিরক থেকে বেঁচে থাক। মানুষ যখন নামাজে দন্ডায়মান হয় তখন অন্যের চোখে ভাল দেখানোর উদ্দেশ্যে খুব সুন্দর করে নামাজ পড়ে আর এটাই হলো গোপন শিরক। -(ইবনে খোজায়মাহ)
☼ তুমি তোমার ঘরের সবাইকে নামায পড়তে বল, আল্লাহ তোমাকে কল্পনাতীত স্থান থেকে জীবিকা দান করবেন । (আল হাদীস)
☼ মানুষ বলে ‘আমার ধন, আমার সম্পদ’ অথচ তোমার অংশ তো ততটুকুই যতটুকু তুমি খেয়ে শেষ করে ফেল অথবা পরিধান করে পুরনো করে ফেল অথবা দান করে পরপারে পাঠিয়ে দাও । এতদ্ব্যতিত যা কিছু আছে তা তোমার হাত থেকে চলে যাবে অন্যের কব্জায় । – আল হাদীস (তিরমিযী)
☼ তোমরা বিয়ের প্রচারণা করবে, বিবাহকার্য মসজিদে সম্পন্ন করবে। – (মেশকাত শরীফ)
☼ বেহেশতে কারও সন্তানের আকাঙখা হলে গর্ভধারণ, প্রসব ও সন্তানের দৈহিক বৃদ্ধি, সবই এক মুহূর্তের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যাবে। (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় একশ’ বার করে “সোবহান্নাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী” পাঠ করে, তার গোনাহ্ মাফ করা হবে যদিও তা সমুদ্রের ঢেউ অপেক্ষাও বেশী হয় । -(আল হাদিস)
☼ যারা আল্লাহ ব্যতিত অন্য কিছুর নামে কসম করে তারা অবশ্যই আল্লাহর সাথে শরীক করে। – আল হাদীস (তিরমিযী শরীফ)
☼ গুনাহ নেই এমন কোন লোক নেই । কিন্তু যাহার জ্ঞানবুদ্ধি প্রখর এবং বিশ্বাস স্বভাবগত, গুণাহ তার কোন ক্ষতি করতে পারে না । কেননা সে গুণাহ করা মাত্র তার মধ্যে অনুশোচনা আসে, ফলে সে তওবা করে গুনাহর ক্ষতিপুরণ করে নেয় । তাতে তার সওয়াব অবশিষ্ট থাকে বলে সে বেহেশতী হয় । (আল হাদিস)
☼ কাফেরদেরকে পদব্রজে হাঁকিয়ে হাশরের ময়দানে একত্রিত করা হবে আর ঈমানদারদেরকে উৎকৃষ্ট উটের পিঠে চড়িয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির করা হবে। রোজ কেয়ামতে আল্লাহ পাক ফেরেশতাদের নির্দেশ দিবেন, “হে ফেরেশতাগণ ! আমার প্রিয় বান্দাদেরকে পায়ে হাঁটিয়ে আমার নিকট উপস্থিত করো না, বরং উৎকৃষ্ট উটের পিঠে চড়িয়ে তাদেরকে আমার নিকট হাজির করো। কেননা পৃথিবীতে আরোহণ করা তাদের সহজাত স্বভাব ছিল। সর্বপ্রথম পিতার ঔরসে, অতঃপর মাতৃজঠরে অনততপক্ষে ছয়মাস তারা আরোহণ করেছে। জন্মের পর স্তন্যপানের সময় দু’বছর মায়ের কোলে ও পিতার কাঁধে চড়ে কাটিয়েছে। তারপর পৃথিবীতে জলে-স’লে নৌকা, গাধা, ঘোড়া ও খচচরে চড়ে ভ্রমণ করেছে। তাছাড়া মৃত্যুর পরও স্বীয় ভ্রাতার কাঁধে চড়ে কবরে পৌঁছেছিল। অতএব হাশরের মাঠেও তাদেরকে পায়ে হাঁটিয়ে চালিও না । কেননা তারা হাঁটতে অভ্যস্থ ছিল না । এই কাজে তাদের জন্যে উট অথবা কোরবাণীর পশুর ব্যবস্থা কর। – (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি ফরজ নামায ব্যতিত দিবা-রাত্রের মধ্যে অতিরিক্ত বার রাকাত নামায আদায় করবে, তার জন্য বেহেশতে একটি গৃহ নির্মিত হবে। – আল হাদীস – আল হাদীস (মুসলিম শরীফ)
☼ মেরাজের রাত্রে আমি এমন লোকদের নিকট দিয়ে যাচিছলাম, যাদের ঠোঁট আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হচিছল । আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তোমরা কারা ? তারা বলল, আমরা অন্যদের সৎকাজ করতে বলতাম, অথচ নিজেরা তা করতাম না । অন্যদের অসৎ কাজ করতে নিষেধ করতাম কিন্তু নিজেরা তাতে লিপ্ত হতাম । (আল হাদিস)
☼ হে লোক সকল ! আমি তোমাদের জন্য দু’টি জিনিস রেখে যাচিছ, যতদিন তোমরা এই দুটোকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে ততদিন তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না, আর তা হলো আল্লাহর কোরআন এবং আমার সুন্নাহ। (আল হাদীস)
☼ আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল সেটাই যা নিয়মিত আদায় করা হয়, যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়ে থাকে । (আল হাদিস)
☼ এমন গুনাহ থেকেও বিরত থাকতে সচেষ্ট হও যাকে ছোট ও নগণ্য মনে করা হয়ে থাকে । কেননা, ইহার জন্যও আল্লাহর তরফ থেকে পাকড়াও করা হবে। (নাসায়ী , ইবনে মাজাহ)
☼ বেহেশতে আল্লাহ এমন সব নেয়ামত রেখেছেন যা কোন চক্ষু দেখেনি, কোন কান শ্রবণ করেনি এবং মস্তিষ্ক তা কল্পনাও করেনি। তন্মধ্যে একটি নেয়ামত হলো আল্লাহর দর্শন লাভ। (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করে, যদিও তা একটি ক্ষুদ্র পাখির বাসার মত হয়, আল্লাহ বেহেশতে একটি মহল তৈরী করবেন । (আল হাদিস)
☼ শয়তান কখনও কখনও জ্ঞানের মাধ্যমেই তোমাদের ওপর আধিপত্য বিসতার করবে। জিজ্ঞাসা করা হলো, ইয়া রাসুলুল্লাহ (দঃ) ! তা কেমন করে ? তিনি বললেন, শয়তান বলবে, জ্ঞান অর্জন করো এবং জ্ঞানার্জন সমাপ্ত না হওয়া পযর্ন্ত আমল করো না । ফলে মানুষ এলেম নিয়ে ব্যস্ত থাকবে কিন্তু আমলে বাহানা করবে। শেষ পযর্ন্ত আমলশূণ্য অবস্থায়ই তার মৃত্যু এসে যাবে। (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি মৃত্যুর সময়ে পবিত্র অনতঃকরণে (আল্লাহ ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই) বলবে সে জান্নাতে যাবে। – আল হাদীস
☼ তোমরা সেই মৎস আহার কর যা সাগর থেকে নিক্ষিপ্ত হয় কিংবা সাগরের পানি নেমে গেলে ধরা পড়ে। আর সেই মৎস আহার করোনা যা সাগরের পানিতে মরে ভেসে ওঠে। (আল হাদিস)
☼ মৃত্যুর ফেরেশতা যখন আল্লাহর কোনো প্রিয় বান্দার নিকট আসেন তখন প্রথমে তাকে সালাম করেন এবং বলেন—হে আল্লাহর বন্ধু ! তোমাকে সালাম । সেই ঘর থেকে বেরিয়ে এসো যাকে তুমি ধ্বংস করেছ এবং সেই ঘরের দিকে চল যাকে তুমি যত্নের সাথে গড়েছ । – আল হাদীস
☼ কেয়ামতের দিন মানুষ তিনটি দলে বিভক্ত হবে। একদল উদরপূর্তি এবং পোষাক পরিহিত অবস্থায় বাহনে আরোহণ করে হাশরের ময়দানে আসবে। দ্বিতীয় দল আসবে পায়ে হেঁটে এবং তৃতীয় দলকে উপুড় অবস্থায় পা ধরে টেনে-হিঁচড়ে ময়দানে আনা হবে। (আল হাদিস)
☼ ফজরের দু’রাকাত সুন্নাত নামায দুনিয়া ও তার মধ্যকার যা কিছূ আছে, তা হতে উত্তম । – – আল হাদীস (মুসলিম শরীফ)
☼ মদীনা মানুষের পঙ্কিলতাকে দূর করে দেয় যেভাবে কামারের ফাপর দূর করে লোহার মরিচাকে । -(- আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ))
☼ একজনের অপরাধের জন্য অন্যকে শাস্তি দেওয়া যায় না । এখন থেকে পিতার অপরাধের জন্য পুত্রকে আর পুত্রের অপরাধের জন্য পিতাকে দায়ী করা যাবে না । (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি স্বেচছায় নামায ছেড়ে দিল সে কাফের হয়ে গেল। (আল হাদিস)
☼ সর্বনিকৃষ্ট আলেম হলো সে যে শাসকদের কাছে আসা-যাওয়া করে আর সর্বোৎকৃষ্ট শাসক সে যে আলেমদের নিকট আসা-যাওয়া করে । (আল হাদিস)
☼ মকবুল হজ্জের পুরস্কার জান্নাত ভিন্ন কিছুই নয় । – আল হাদীস
☼ তুমি তোমার নিজ বিবেক থেকে ফতোয়া গ্রহন কর যদিও মানুষ তোমাকে ফতোয়া দিক না কেন ? (আল হাদিস)
☼ মানুষ কখনও কখনও কোন ভাল কথা বলে যাতে আল্লাহ তা’আলা খুবই সন্তুষ্ট হন । অথচ সে হাল্কা বিষয় মনে করেই কথাটি বলে এবং জানতেও পারে না যে, ইহার সওয়াব এত সুদূর প্রসারী যে আল্লাহ তা’আলা তার জন্য কেয়ামত পযর্ন্ত স্থায়ী সন্তুষ্টি লিখে দেন । তেমনিভাবে আল্লাহর অসন্তুষ্টিমুলক কথাও অনেক সময় মানুষ হালকা মনে করে বলে থাকে । অথচ সে ধারণাও করতে পারে না যে, ইহার পরিণাম এত ভয়ঙ্কর হতে পারে যে আল্লাহ তা’আলা কেয়ামত পযর্ন্ত স্থায়ী অসন্তুষ্টি লিখে দেন । (মুুসনাদে আহমদ)
☼ একজন নিন্মশ্রেনীর জান্নাতবাসীকেও আশি হাজার খাদেম এবং বাহাত্তর জন সত্রী দেওয়া হবে। তার জন্যে গম্বুজ আকৃতির ছাউনি স্থাপন করা হবে যা মনি-মুক্তা হীরা ও ইয়াকুত দ্বারা নির্মিত। সেই ছাউনির প্রশস’তা হবে জাবিয়া হতে শান্আর মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান । জান্নাতবাসীদের মস্তকে এমন মুকুট পরানো হবে যার সামান্য একটা মুক্তা দুনিয়ার পূর্ব প্রানত হতে পশ্চিম প্রানত পযর্ন্ত আলোকিত করে ফেলবে। – আল হাদীস
☼ তোমরা খ্রীস্টান এবং ইহুদীদেরকে সালাম দিও কিন্তু আমারা উম্মতের ইহুদীদেরকে সালাম দিও না । সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, “ইয়া রাসুলুল্লাহ ! আপনার উম্মতের ইহুদী কারা ?’’ জবাবে নবী করীম (দঃ) বললেন, “যারা আজান শুনেও জামায়াতে উপস্থিত হলো না, তারা আমার উম্মতের ইহুদী। যে ব্যক্তি জামায়াত ত্যাগকারীকে সামান্য খাদ্য দিয়ে সাহায্য করল, সে যেন নবীদের হত্যাকান্ডে সহায়তা করল। সে মৃত্যুবরণ করলে তাকে গোসল , জানাযা এবং মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করো না । এমনকি জামায়াত বর্জনকারী একাই যদি সমস্ত উম্মতের সমতুল্য নামায পড়ে, সকল আসমানী কিতাব পাঠ করে, সারা বছর রোজা রাখে এবং সমস্ত উম্মতের সমতুল্য দান-খয়রাত করে, তবু সে জান্নাতের গন্ধ থেকেও বঞ্চিত হবে। আল্লাহ পাক জীবিত কিংবা মৃত কোন অবস্থায়ই তার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না । – আল হাদীস
☼ যে ব্যক্তি ক্বদরের রাত্রে চার রাকাত নামায আদায় করবে এবং তার প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহার পর একুশ বার সুরা ইখলাস পাঠ করবে, আল্লাহ তাকে সদ্য ভূমিষ্ট শিশুর ন্যায় নিষপাপ করে দেবেন । – আল হাদীস
☼ যে ব্যক্তি রোজাদার অবস্থায় মারা যাবে আল্লাহ তাকে ঐ দিন থেকে কেয়ামত পযর্ন্ত রোজার সওয়াব দান করবেন । – আল হাদীস
☼ একদা নবী করীম (দঃ) ভাষণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে মিম্বরে ওঠে দেখতে পেলেন যে, হাসান ও হোসাইন (রাঃ) ছুটাছুটি করছেন এবং ক্ষণে ক্ষণে আছাড় খেয়ে পড়ে যাচেছন । তিনি ভাষণ দেওয়া স’গিত রেখে মিম্বর থেকে নেমে শিশু দু’টির দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাদেরকে দু’হাতে উঠিয়ে নিলেন । তারপর মিম্বরে আরোহণ করে বললেন – হে লোক সকল, তোমাদের ধন-সমপদ এক পরীক্ষার বস্তু, আল্লাহর এ বাণী অতীব সত্য। আল্লাহর কসম , আমি আমার এই দুই নাতিকে দৌড়াদৌড়ি আর আছাড় খেয়ে পড়ে যেতে দেখে নিজেকে সংবরণ করতে পারলাম না, তাই দৌড়ে গিয়ে এদের তুলে আনলাম । – আল হাদীস – আল হাদীস (মুসলিম শরীফ)
☼ যে ব্যক্তি বিনা দাওয়াতে ভোজ অনুষ্টানে যোগ দেয়, সে চোররূপে প্রবেশ করে এবং ডাকাতরূপে প্রত্যাবর্তন করে। -(আবু দাউদ শরীফ)
☼ পরনিন্দা ব্যভিচার অপেক্ষাও মারাত্মক গোনাহ। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কিভাবে হতে পারে ? রাসুলুল্লাহ (দঃ) বললেন, ব্যভিচার করার পর তওবা করলে তার গোনাহ মাফ হয়ে যায় অথচ গীবত করার পর যার গীবত করা হয়েছে, সে মাফ না করা পযর্ন্ত তার গোনাহ মাফ হয় না । (আল হাদিস)
☼ মৃত্যু বিনা মূল্যে পাওয়া বস্তু আর পাপাচার হলো বিপদ। দরিদ্রতা হলো শানিত আর ধনী হওয়া হলো শাস্তি। জ্ঞান হলো উপহার এবং মূর্খতা হলো অন্ধকার। অত্যাচার লজ্জাদানকারী আর ইবাদত চোখের প্রশানিত। আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তি আর অত্যধিক হাসি হলো শরীরের জন্য পীড়া। পাপের অনুশোচনাকারী হলো ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে পাপই করেনি। – আল হাদীস
☼ যদি কোন মুসলমানের মৃত্যু হয় এবং তার জানাযায় এমন চল্লিশ জন লোক অংশ নেয় যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করে না, তবে আল্লাহ পাক মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে তাদের সুপারিশ কবুল করেন । (আল হাদিস)
☼ একজন বয়োজেষ্ট-প্রবীন লোক তার সমপ্রদায়ের মধ্যে এমন, স্বয়ং নবী তার উম্মতের জন্য যেমন । (আল হাদিস)
☼ রাসুলুল্লাহ (দঃ) এর সাথে আমরা কথা বলতাম এবং তিনি আমাদের সাথে কথা বলতেন, কিন্তু নামাযের সময় উপস্থিত হলে তিনি যেন আমাদেরকে চিনতেন না এবং আমরাও তাঁকে চিন্তাম না । (আল হাদিস)
☼ মুসলমান অবস্থায় যার চুল সাদা হয়েছে, কেয়ামতের দিন সেই চুল তার জন্য নূর হবে। (আল হাদিস)
☼ যে কেউ জুমআর দিনে আশিবার দরূদ শরীফ পাঠ করবে, আল্লাহ তার আশি বছরের গুলাহ মাফ করে দেবেন । (আল হাদিস)
☼ বিবেকহীন মানুষ অজ্ঞতার কারণে স্বভাবগত পাপাচারীর চেয়েও বেশী পাপ করে ফেলে। বিবেক মানুষকে সৎপথ প্রদর্শন করে এবং বিনাশ হওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখে। কারো বিবেক পূর্ণ না হওয়া পযর্ন্ত তার ঈমান পূর্ণ হয় না এবং দ্বীন যথার্থ হয় না । প্রত্যেক জিনিসেরই একটি ভিত্তি থাকে, ঈমানদারের ভিত্তি হলো তার বিবেক। (আল হাদিস)
☼ কোনো বান্দা যদি কখনও কোন গুনাহ্ করে ফেলে, তবে সে যেন সাথে সাথে অজু করে দু’রাকাত নফল নামায আদায় করে এবং তওবা করে; এতে হয়ত আল্লাহ পাক তার গুনাহ্ মাফ করে দেবেন । — আল হাদীস (তিরমিযী)
☼ খবরদার ! কোন পরপুরুষই যেন কোন পরনারীর সহিত একাকী অবস্থান না করে। কারণ, যখনই কোন পুরুষ কোন মহিলার সাথে নির্জনে একত্রিত হয়, তখনই শয়তান হয় তাদের তৃতীয়জন এবং তাদের পিছূ নেয় । (আল হাদিস)
☼ পরিচছন্ন্তা ঈমানের অর্ধেক। (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি তার অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী কর্ম করে আল্লাহ তখন তাকে সে সব জ্ঞানও শিখিয়ে দেন যা সে শেখেনি। (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি জোহরের ফরজ নামাযের পূর্বে চার রাকাত নামায আদায় করবে তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে যায় । — আল হাদীস (আবু দাউদ শরীফ ‍ঃ)
☼ যে ব্যক্তি অজু করে এবং উত্তমরূপে অজু করে, তারপর দুনিয়াবী কোন চিন্তা মনে সহান না দিয়ে দুই রাকাত নামায আদায় করে, সে এমন ভাবে পাপমুক্ত হয়ে যায় মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হওয়ার সময় যেমন পবিত্র ছিল। (আল হাদিস)
☼ শেষ জমানায় কিছূ লোক কবুতরের পুচেছর ন্যায় কালো চুলের কলপ ব্যবহার করবে, তারা বেহেশতের গন্ধও পাবে না । (আল হাদিস)
☼ আমার উম্মতের শেষ যুগে এমন একজন খলীফা হবে যে দুহাত ভরে ভরে দান করবে এবং কোন হিসেব করবে না ।- আল হাদীস – আল হাদীস (মুসলিম শরীফ)
☼ একদা এক ব্যক্তি হযরত রাসুলে করীম (দঃ)-এর নিকট কেয়ামত কবে হবে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, “যখন আমানত নষ্ট হয়ে যাবে।’’ লোকটি পুণরায় জিজ্ঞাসা করল, “আমানত কিরূপে নষ্ট হবে ?’’ তিনি বললেন, “অযোগ্য লোকের হাতে শাসন ক্ষমতা ন্যস্ত করা হবে।’’ -(- আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ))
☼ তুমি যদি এত বেশী পরিমাণে পাপ করে থাক যে তা সতুপীকৃত করা হলে আকাশের সমতুল্য উঁচু হয়ে যাবে, তারপরও অনুতাপ-অনুশোচনার সহিত ‘তওবা’ কর, তোমার তওবা কবুলই হবে, প্রত্যাখ্যাত হবে না । (আল হাদিস)
☼ তোমাদের মধ্যে যাকে পাপের কারণে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, তাকে কয়েক হুকবা জাহান্নামে অবস্থানের পূর্বে বের করা হবে না । এক হুকবা আশি বছরের কিছু বেশী এবং এক বছর তোমাদের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী ৩৬০ দিনের হবে (আর প্রতিটি দিন হবে এক হাজার বছরের সমান)। (আল হাদিস)
☼ যে সকল মহিলা কবর জিয়ারত করতে যাবে, বাতি জ্বালাবে বা সেজদা করবে, তাদের উপর রাসুলুল্লাহ (দঃ) অভিসমপাত করেছেন । – আল হাদীস (আবু দাউদ শরীফ ‍ঃ)
☼ যে ব্যক্তি জুমআর দিনে বা রাত্রিতে সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তাকে তার পড়ার স্থান থেকে পবিত্র মক্কা পযর্ন্ত নুর দান করা হয় এবং ঐ জুমআ থেকে পরের জুমআ পযর্ন্ত দিনগুলো এবং আরও তিন দিনের গুনাহ মাফ করা হয় । সত্তর হাজার ফেরেশতা পরদিন সকাল পযর্ন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে । এছাড়া সে শরীরের যে কোন ব্যথা, ফোঁড়া, বাত ও কুষ্ট রোগ এবং দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকে । (আল হাদিস)
☼ কোন মুসলমান রোগাক্রানত হলে আল্লাহ তা’আলা সংশ্লিষ্ট ফেরেশতাকে নির্দেশ দেন, সুস্থ অবস্থায় সে যেসব সৎকর্ম করত, সেগুলো তার আমল নামায় লিপিবদ্ধ করতে থাকো। – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ তোমাদের দুটি স্বভাবের ব্যাপারে আমি যত ভয় করি আর কোন বিষয়ে এমন ভয় করি না –(১) মনের খায়েস মিটানোর পিছনে ব্যস্ত থাকা, (২) দীর্ঘকাল বাঁচার দুরাশা করা। (আল হাদিস)
☼ (নাপাক শরীরে) অজু ছাড়া ঘুমিয়ে পড়া আমি পছন্দ করি না । কেননা আমার ভয় হয় যদি ঘুমের মধ্যে মৃত্যু এসে যায়, তবে আর তার কাছে জীবরাঈল (আঃ) আসবেন না । – আল হাদীস
☼ যে ব্যক্তি এমন কোন মালের উপর দাবী উত্থাপন করে যা আসলে তার নয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয় । তার উচিত জাহান্নামে নিজের ঠিকানা খুঁজে নেওয়া। – আল হাদীস (মুসলিম শরীফ)
☼ নামায মোমিনের জন্য মেরাজ স্বরূপ। – আল হাদীস
☼ তোমরা জুলুম-অত্যাচার থেকে দূরে থাক, কেননা জুলুম কেয়ামতের দিন অন্ধকারে রূপানতরিত হবে। – আল হাদীস – আল হাদীস (তিবরানী)
☼ কসম সেই প্রভূর যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয় রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশক (মৃগনাভী, কস’রী) থেকেও উত্তম । (আল্লাহ বলেন) রোজাদার তার জৈবিক চাহিদা এবং পানাহার কেবল আমার জন্যই বর্জন করে, কাজেই রোজা আমারই জন্য এবং আমি নিজ হাতে তার পুরস্কার প্রদান করবো। (আল হাদিস)
☼ আমার উম্মতের সত্তর হাজার লোক বিনা হিসাবে বেহেশতে যাবে। তাদের অন্যতম গুণ হল, তারা সর্বদা আল্লাহর উপর ভরসা করবে। (বোখারী শরীফ , মুসলিম শরীফ)
☼ যে ব্যক্তি (সেজদা থেকে) ইমামের আগে মাথা উত্তোলন করে, সে কি ভয় করে না যে আল্লাহ তার মাথাকে গাধার মাথায় রূপানতরিত করে দিতে পারেন । (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি হজ্জ (ফরজ হওয়া সত্ত্বেও) পালন না করে মৃত্যু বরণ করে, সে চাই ইহুদী হয়ে মরুক নয়ত খ্রীস্টান হয়ে মরুক। (আল হাদিস)
☼ তোমরা বিবাহ কর কিন্তু তালাক দিও না । কেননা, তালাকের কারণে আল্লাহর আরশ কেঁেপ ওঠে। (আল হাদিস)
☼ কোন মুসলমানকে যদি কেহ এমন গোনাহর জন্য লজ্জা দেয় যা থেকে সে তওবা করেছে, তবে তাকে সেই গোনাহে লিপ্ত করে ইহকাল ও পরকালে লাঞ্ছিত করার দ্বায়িত্ব আল্লাহপাক নিজে গ্রহণ করেন । (আল হাদিস)
☼ যদি নাক বোচাঁ কোনো কৃষ্ণাঙ্গ দাসকেও যোগ্যতার কারণে তোমাদের শাসক নিযুক্ত করা হয়, তথাপি তোমরা তার আনুগত্য করবে। (আল হাদিস)
☼ আল্লাহ পাক জান্নাতীদের লক্ষ্য করে বলবেন ঃ- হে জান্নাতীগণ ! তখন তারা জবাব দিবে ঃ হে প্রভু ! আমরা উপস্থিত এবং আপনার আনুগত্যের জন্য প্রস’ত। যাবতীয় কল্যাণ আপনারই হাতে। অতঃপর আল্লাহ বলবেন ঃ তোমরা কি সন্তুষ্ট ? তারা জবাব দিবে ঃ হে আমাদের প্রতিপালক ! এখনও সন্তুষ্ট না হওয়ার কি আছে ? আপনি তো আমাদের এত প্রচুর দিয়েছেন যা আর কোন সৃষ্টি পায়নি। আল্লাহ বলবেন, আমি তোমাদেরকে সবচেয়ে উত্তম নেয়ামত দিতেছি। আমি তোমাদেরকে আমার সন্তুষ্টি দিচিছ ; এখন থেকে আর কখনও তোমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হইব না । (বোখারী শরীফ , মুসলিম শরীফ)
☼ যে ব্যক্তি সফরে বের হওয়ার পূর্বে দু’রাকাত নফল নামায পড়ে গৃহে রেখে যায়, তার চাইতে উত্তম পুঁজি দ্বিতীয়টি নেই । – আল হাদীস
☼ যতক্ষণ পযর্ন্ত না দশটি আলামত প্রকাশ পাবে ততক্ষণ পযর্ন্ত কেয়ামত সংঘটিত হবে না । সেগুলি হলো (১) ধূঁয়া প্রকাশ পাবে যাতে পূর্ব হতে পশ্চিম পযর্ন্ত অন্ধকারে ঢেকে যাবে। (২) দাজ্জালের আবির্ভাব হবে (৩) দাব্বাতুল আরদ্ নামক চতুষপদ প্রাণীর আবির্ভাব হবে – যার হাতে হযরত মুসা (আঃ)-এর লাঠি এবং হযরত সোলায়মান (আঃ)-এর আংটি থাকবে। তার দেহের দৈর্ঘ্য হবে ষাট হাত লম্বা। ঈমানদার ব্যক্তিদেরকে সে লাঠির দ্বারা আঘাত করে চেহারায় ‘ঈমানদার’ এবং কাফেরদের চেহারায় আংটির মোহর মেরে ‘কাফের’ শব্দটি লিখে দিবে। (৪) সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে (৫) হযরত ঈসা (আঃ) পূণরায় পৃথিবীতে আগমণ করবেন (৬) ইয়াজুজ-মাজুজের দল বের হবে (৭) পৃথিবীর পূর্ব দিকে একটি ভূমিকমপ হবে (৮) পৃথিবীর পশ্চিম দিকে একটি ভূমিকমপ হবে (৯) আরব উপদ্বীপে আরেকটি ভূমিকমপ হবে এবং (১০) প্রচন্ড ঝড় আসবে যা মানুষকে উড়িয়ে নিয়ে সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে। – আল হাদীস – আল হাদীস (মুসলিম শরীফ)
☼ নফল ইবাদতের মধ্যে কোরআন তেলাওয়াত সর্বোত্তম । – আল হাদীস
☼ যারা মানুষের প্রতি অভিসমপাত করে তারা শহীদদের অনতর্ভূক্ত হবে না । (আল হাদিস)
☼ তোমাদের কেউ যখন নামাযে ইমামতি করে, সে যেন কেরাত সংক্ষিপ্ত করে, কেননা জামাতের মধ্যে অসুস্থ , বৃদ্ধ এবং কর্মব্যস্ত লোকগণ থাকে । (আল হাদিস)
☼ (হে আয়শা !) সর্বদা বেহেশতের দরজায় কড়া নাড়তে থাক। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, তা কিভাবে ইয়া রাসুলুল্লাহ ! তিনি বললেন, ক্ষুধার মাধ্যমে। (আল হাদিস)
☼ যে লোক আছরের ফরজের পূর্বে চার রাকাত সুন্নাত নামায আদায় করবে, তার জন্যে জান্নাতে একটি মহল নির্মিত হয়ে থাকে । – আল হাদীস
☼ নাময ত কেবল নিরাশ্রয়তা, অসহায়তা ও কাকুতি-মিনতি ছাড়া অন্য কিছুই নয় । মানুষ তার নামাযের ঠিক ততটুকুই পাবে, যতটুকু সে বুঝে। (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তির সর্বশেষ বাক্য “আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নাই’’ হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। — আল হাদীস (আবু দাউদ শরীফ ‍ঃ)
☼ একজন যুবতী মেয়ে রাসুলুল্লাহ (দঃ)-এর দরবারে এসে উপস্থিত হয়ে নালিশ করল যে, আমার পিতা আমাকে জোরপূর্বক এক ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছে যেই ছেলেকে আমি পছন্দ করি না । একথা শুনে রাসুলুল্লাহ (দঃ) বললেন ঃ তুমি ইচেছ করলে এই বিয়ে বহাল রাখতে পারো আবার ভেঙ্গেও দিতে পারো। -(আবু দাউদ শরীফ)
☼ অনেক রোজাদার আছে এমন রোজার দ্বারা যাদের ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্ট ছাড়া আর কোন লাভ হয় না । (আল হাদিস)
☼ জামাতে নামায পড়া একাকী নামাযের তুলনায় সাতাইশ গুণ বেশী সওয়াবের। -(আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাযের পর আয়াতুল করসী পাঠ করবে, তার এবং জান্নাতের মধ্যে একমাত্র পর্দা হলো মৃত্যু। – আল হাদীস
☼ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজ্জ করল, হজ্জ পালনকালীন সময়ে কামাচার ও পাপাচার থেকে বিরত থাকল, সে নবজাত শিশুর ন্যায় নিষপাপ হয়ে ফিরবে। – আল হাদীস
☼ হে মুসলমানগণ ! জুমু’আর দিনকে আল্লাহ্ পাক তোমাদের জন্য ঈদের দিন ধার্য করেছেন । অতএব এদিন তোমরা গোশল করবে, অবশ্যই মেসওয়াক করবে এবং সম্ভব হলে সুগন্ধি ব্যবহার করবে। -(আল হাদিস)
☼ অহঙ্কারী, স্বৈরাচারীদের কেয়ামতের দিন ক্ষুদ্র পিপঁড়ার আকৃতিতে উঠানো হবে এবং লোকেরা তাদেরকে পায়ের তলায় পিষ্ট করবে। চারিদিক থেকে তাদের ওপর কেবল অপমান আর লাঞ্ছনাই আসতে থাকবে। -তিরমিজী
☼ হে ওমর ! তোমার তখনকার অবস্থা সম্পর্কে তুমি কি মনে কর, যখন তুমি মৃত্যুবরণ করবে এবং তোমার আত্মীয়-স্বজন তোমার জন্য চার হাত লম্বা ও আড়াই হাত প্রস’ কবর খনন করে তোমাকে গোসল করিয়ে কাফন পরিয়ে সেই কবরের মধ্যে রেখে তোমার উপর মাটিচাপা দিয়ে প্রত্যেকে যার যার বাড়ি ফিরে আসবে এবং তৎক্ষণাৎ তোমার কবরে মুনকার-নকীর নামক ভয়ঙ্কর চেহারার দুই ফেরেশতা এসে হাজির হবে। তাদের আওয়াজ হবে সহস্র বজ্রসম ভয়ঙ্কর, চক্ষুদ্বয় বিজলীর ন্যায় ভয়ানক উজ্জ্বল। তাদের ঘনকৃষ্ণ ও রুক্ষ কেশরাশি হবে মৃত্তিকা পযর্ন্ত বিক্ষিপ্ত, লম্বা লম্বা সুতীক্ষ্ম দনতপাটির দ্বারা কবরের মাটি লন্ডভন্ড করতে করতে এসে তোমাকে হাতের ওপর নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে নানাবিধ প্রশ্ন করতে থাকবে। হযরত ওমর (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (দঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন ঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ (দঃ) ! আমার বুদ্ধিশুদ্ধি কি তখন ঠিক থাকবে ? তিনি বললেন ঃ হ্যাঁ, তোমার বুদ্ধি ঠিক থাকবে। হযরত ওমর (রাঃ) বললেন ঃ তাহলে আমার ভয়ের কিছূ নাই । আমি তাদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে দিব। (আল হাদিস)
☼ তোমাদের কারও পক্ষেই আল্লাহর সম্পর্কে সুধারণা পোষণ ব্যতিত মৃত্যুবরণ করা উচিত নয় । (আল্লাহ বলেন) আমি আমার বান্দার সাথে তেমন ব্যবহার করি আমার সম্পর্কে সে যেমন ধারণা রাখে। (আল হাদিস)
☼ ঈমানদার ব্যক্তির মৃত্যুর পর জমীন চল্লিশ দিন পযর্ন্ত ক্রন্দন করে থাকে । – আল হাদীস
☼ তোমাদের মধ্যে কেউ হজ্জ করতে বাধাগ্রস’ হলে সে কাবা শরীফের তাওয়াফ ও সাফা মারওয়া সাঈ করবে। অতঃপর সবকিছু থেকে মুক্ত হয়ে পরের বছর হজ্জ করবে। সে কোরবানী করবে কিংবা কোরবানীর পশু না পেলে রোজা রাখবে। – আল হাদীস
☼ জুমু’আর নামাযের জন্য পায়ে হেটে গেলে প্রতি পদক্ষেপে এক বছর নফল রোজার সওয়াব পাওয়া যায় । — আল হাদীস (তিরমিযী শরীফ)
☼ যে ব্যক্তি সন্দেহজনক কাজ থেকে বিরত থাকে, সে তার ধর্মকে রক্ষা করে। আর যে ব্যক্তি সন্দেহজনক কাজে লিপ্ত হয়, পরিণামে সে হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ে। (আল হাদিস)
☼ কোন ব্যক্তি কেবলমাত্র তার পূণ্যের জোরে বেহেশতে যেতে পারবে না যদি না আল্লাহর অনুগ্রহ হয় । সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন ঃ আপনিও কি ? রাসুলু্‌ল্লাহ (দঃ) বললেন ঃ হ্যাঁ , আমিও । (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি ফজরের নামায আদায়ের পর সূর্যোদয় পযর্ন্ত আল্লাহর জিকিরে মশগুল থেকে সূর্যোদয়ের পর দু’রাকাত (এশরাকের) নামায আদায় করবে, সে ব্যক্তি একটি হজ্জ ও ওমরার সওয়াব লাভ করবে। -(তিবরানী শরীফ)
☼ যে মুসলমান আমার ইনেতকালের পরে আমার রওজা জিয়ারত করবে সে তদ্রুপই বরকত পাইবে যদ্রুপ আমার জীবিত অবস্থায় আমার সাথে সাক্ষাত করিলে পাইত। (আল হাদিস)
☼ কোন ব্যক্তি সে পযর্ন্ত মৃত্যুবরণ করবে না, যে পযর্ন্ত না তার ভাগ্যে লিখিত শেষ খাদ্যকণাটুকু আহার না করে । (আল হাদিস)
☼ যে হজ্জ করল অথচ আমার রওজা মোবারক জিয়ারত করল না সে আমার সাথে বেয়াদবী করল। – আল হাদীস
☼ যে ব্যক্তি শবে-কদরের রাতে ইবাদতে দন্ডায়মান থাকে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায় । যে ব্যক্তি শবে-কদরের কল্যাণ ও বরকত থেকে বঞ্চিত থাকে, সে প্রকৃতই বঞ্চিত ও হতভাগ্য। (বোখারী শরীফ , মুসলিম শরীফ)
☼ আমি তোমাদের বেলায় সবচেয়ে ভয় করি ছোট শিরককে । ছোট শিরক হলো রিয়া অর্থাৎ লোক দেখানো ইবাদত। শেষবিচারের দিন যখন আল্লাহ পাক মানুষকে তাদের সৎকর্মের পুরস্কার দিবেন তখন তিনি লোক দেখানো ইবাদতকারীদের বলবেন, তোমরা সেই লোকদের নিকট যাও দুনিয়াতে যাদের দেখানোর জন্যে ইবাদত করতে এবং দেখো তাদের কাছ থেকে কোনো পুরস্কার পাওয়া যায় কিনা । — আল হাদীস (মুসনাদে আহমদ)
☼ তোমরা মৃত্যু সম্পর্কে যেমন জান পশু-পাখিরা যদি তদ্রুপ জানতে পারত, তবে মানুষেরা কখনও মোটাতাজা পশু-পাখির মাংস ভক্ষণ করতে পারতে না । (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি জুমু’আর দিনে সুরা কাহ্ফ পাঠ করবে, কেয়ামতের দিন তার জন্য আরশের নীচে আসমান সমান উঁচু একটি নূর প্রকাশ পাবে যদ্বারা হাশরের ময়দানে তার সকল অন্ধকার দূর হয়ে যাবে এবং গত জুমু’আ থেকে এ জুমু’আ পযর্ন্ত তার যত গুনাহ সব মাফ হয়ে যাবে। -(আল হাদিস)
☼ গোপনে দান-খয়রাত আল্লাহর ক্রোধকে নিবারণ করে। বান্দা গোপনে কোন কাজ করলে আল্লাহ তা গুপ্ত খাতায় লিখে রাখেন । পরে বান্দা যদি তা প্রকাশ করে, তবে আল্লাহ তাকে গোপন খাতা থেকে মুছে প্রকাশ্য খাতায় লিখেন । তারপর বান্দা যদি তার সে কাজের কথা আরও প্রকাশ করে, আল্লাহ তার নাম প্রকাশ্য খাতা থেকে মুছে রিয়ার (লোকদেখানো) খাতায় লিখে দেন । (আল হাদিস)
☼ কেয়ামতের পূর্বে মানুষ যে সব বিপদের সম্মুখীন হবে, তার মধ্যে দাজ্জালের আবির্ভাব সবচেয়ে বড়। – – আল হাদীস (মুসলিম শরীফ)
☼ মোমেন বান্দার মৃত্যুর পর কবরস্থান নিজেকে সেই মোমেনের জন্য সজ্জিত করে এবং কবরস্থানের প্রতিটি অংশই চায় যে তার মধ্যে সেই বান্দাকে দাফন করা হউক। -আল হাদীস
☼ দুনিয়া ত্যাগের অর্থ এই নয় যে তোমরা হালালকৃত বস্তুকে নিজেদের জন্য হারাম করে নেবে অথবা নিজেদের ধন-সমপদ অনর্থক উড়িয়ে দেবে। বরং দুনিয়া ত্যাগের অর্থ হলো, তোমাদের নিকট যা আছে তার তুলনায় আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তার ওপর তোমরা বেশী ভরসা করবে। – আল হাদীস (তিরমিযী)
☼ অকস্মাৎ তোমার দ্বারা কোন গুনাহর কাজ অনুষ্টিত হয়ে গেলে সাথে সাথে একটি পূণ্যের কাজ করে ফেল, ফলে এই পূর্ণ্যকর্মটি পূর্ববর্তী গুনাহর কাজটিকে মুছে ফেলবে। (আল হাদিস)
☼ প্রত্যেক জুমআর দিন মহান আল্লাহ তাঁর ছয় লক্ষ বান্দাকে দোযখ থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন । যে ব্যক্তি জুমআর দিন মৃত্যুবরণ করে আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদা দান করেন এবং তাকে কবরের আযাব থেকে বাঁচিয়ে রাখেন । (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি লজ্জা-শরমের বাঁধন ছুড়ে ফেলেছে, তার গীবত হবে না । (আল হাদিস)
☼ একটি খেজুরের অর্ধাংশ দিয়ে হলেও জাহান্নাম থেকে বাঁচ, আর যদি তাও না থাকে (ভিক্ষুকের সাথে) মিষ্টি কথা বলে স্বীয় নিরাপত্তা রক্ষা কর। যে মুসলমান ব্যক্তি তার হালাল উপার্জন থেকে দান-খয়রাত করেন, আল্লাহ তাঁর ডান হাত দিয়ে তা গ্রহন করেন । অতঃপর তাকে লালন-পালন করেন যেমনভাবে তোমরা উটের বাচচা লালন-পালন কর। ফলে এক সময় সেই দানের সওয়াব ওহুদ পাহাড়ের সমতুল্য বিরাট হয়ে দাড়ায় । -(আল হাদিস)
☼ কোন ব্যভিচার ব্যতিত সত্রীদের তালাক দিও না । কেননা, যে সব নরনারী (বিয়ে করে) কেবল মজা লুটার জন্য, আল্লাহ তাদের পছন্দ করেন না । (আল হাদিস)
☼ যখন সারা দুনিয়া অন্যায়-অত্যাচার ও অশানিততে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে, তখন আমার বংশধরদের মধ্যে এক ব্যক্তি আবির্ভুত হবে যার নাম আমার নামে এবং যার পিতার নামও আমার পিতার নামে হবে। সারা পৃথিবীর ওপর সাত বৎসর তাঁর কর্তৃত্ব থাকবে। এসময় তার সুশাসনের ফলে অনাচারে ভরা পৃথিবীতে পুণরায় সুবিচার ও শানিত প্রতিষ্টিত হবে। – (আবু দাউদ শরীফ)
☼ নেক আমলের দ্বারা ছোট গোনাহ্‌সমূহ মাফ হয়ে যায় । -(আল হাদিস)
☼ কৃত পাপের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হওয়ার নামই হলো তওবা। পশ্চিম দিক হইতে সূর্য ওঠার পূর্বে যে ব্যক্তি তার কৃত পাপের জন্য আল্লাহর নিকট তওবা করবে তার তওবা কবুল হবে। আমি দিনে-রাতে একশত বার তওবা করে থাকি। (আল হাদিস)
☼ আল্লাহর নিকট কল্যাণ ও বরকত লাভের নিমিত্তে প্রার্থনা না করা দুর্ভাগ্যের লক্ষণ। – আল হাদীস
☼ পাঁচটি প্রশ্নের জবাব না দেওয়া পযর্ন্ত হাশরের মাঠে কেউ এক পা-ও সম্মুখে অগ্রসর হতে পারবে না (১) জীবনের দিনগুলো সে কি কাজে ব্যয় করেছে (২) সে তার যৌবন কি কাজে ব্যয় করেছে (৩) সে তার ধন-সমপদ কোন পন্থায় উপার্জন করেছে (৪) সে তার উপার্জিত অর্থ কোন পথে ব্যয় করেছে (৫) অর্জিত এলেম অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছে। – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ পাঁচ ওয়াক্তের নামায কারো ঘরের সামনে দিয়ে প্রবাহিত নির্মল পানির স্রোতস্বিনীর ন্যায় যার স্বচছ পানিতে উক্ত গৃহবাসী দৈনিক পাঁচ বার গোসল করে থাকে । দৈনিক পাঁচ বার গোসল করার পরে কারো শরীরে ময়লা থাকতে পারে কি ? পরিস্কার পানি যেমন শরীরের ময়লা দূর করে, তেমনি পাঁচ ওয়াক্তের নামাযও যাবতীয় পাপকে দূর করে থাকে । (আল হাদিস)
☼ সন্তান জন্মের পর পিতার ওপর তিনটি দ্বায়িত্ব অর্পিত হয় ঃ- (১) সন্তানের ভাল নাম রাখা , (২) সন্তানকে সুশিক্ষা দান করা এবং (৩) প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর তার বিবাহ দেওয়া। অন্যথায় সে কোনো গুনাহের কাজে লিপ্ত হলে পিতাকে অভিযুক্ত করা হবে। — আল হাদীস (বায়হাকী শরীফ ‍ঃ)
☼ দুনিয়াতে শিশুকালে বা বৃদ্ধ বয়সে যে সব জান্নাতি লোক মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে ত্রিশ বৎসরের যুবক হয়ে এবং তার বয়সের পরিমাণ কখনও বাড়বে না । জাহান্নামবাসীরাও অনুরূপ হবে। – আল হাদীস
☼ কবরের মধ্যে কাফেরদের শাস্তি দেওয়ার জন্য দুই জন বিকটাকার ফেরেশতা নিযুক্ত থাকবেন । তারা উভয়ে অন্ধ এবং বধির। তাদের উভয়ের হাতে বিরাটাকারের একটি করে দুরমুজ থাকবে। সেই দুরমুজের অগ্রভাগ উটকে পানি পান করানোর প্রকাণ্ড বালতির মুখের ন্যায় হবে। সেই ফেরেশতাদ্বয় উক্ত দুরমুজ দিয়া কাফের ব্যক্তিকে তাহার কবরের মধ্যে কিয়ামত পযর্ন্ত পিটাতে থাকবে। তাদের চক্ষু নাই বিধায় তারা কাফের ব্যক্তির দুরবস্থা দেখতে পাবে না । ফলে তাদের মনে তার প্রতি কোন দয়ারও উদ্রেক হবে না । তাদের কর্ণও নাই যে তারা কাফের ব্যক্তির মর্মবিদারী চিৎকার শ্রবণে তাদের মনে দয়ার উদয় হবে। কাজেই কেয়ামত পযর্ন্ত তাঁরা কেবল দুরমুজ দিয়া পিটাতেই থাকবেন । (আল হাদিস)
☼ মানুষের উপর এমন একটা সময় আসবে যখন তার ধর্মের ওপর প্রতিষ্টিত থাকাটা হাতে জ্বলন্ত কয়লা হাতে ধরে রাখার মতো কঠিন হবে। — আল হাদীস (তিরমিযী শরীফ)
☼ বিবাহ করা আমার সুন্নত। যে বিনা কারণে আমার সুন্নত ত্যাগ করবে, সে আমার উম্মত নয় । – আল হাদীস
☼ আল্লাহ পাক বলেন ঃ আমি মঙ্গল ও অমঙ্গল সৃষ্টি করেছি। সেই ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান যাকে আমি ভাল কাজের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং ভাল কাজ করাকে তার জন্য সহজসাধ্য করে দিয়েছি। আর সেই ব্যক্তি হতভাগ্য যাকে আমি মন্দ কাজের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং মন্দ কাজ করাকে তার পক্ষে সহজসাধ্য করে দিয়েছি। কিন্তু যে ব্যক্তি এই কূটতর্কে লিপ্ত আছে যে, আল্লাহ কেন এমন কাজ করলেন এবং কেমন করে এরূপ কাজ করলেন, তার পরিণামের জন্য আফসোস ! (আল হাদিস)
☼ আল্লাহ পাক কাবা গৃহকে বিশেষভাবে সম্মানিত ও গৌরবান্বিত করেছেন । যদি কোন মানুষ দুর্ভাগ্যবশতঃ কাবা গৃহকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলে এবং ইহার প্রতিটি প্রস্তর খন্ডকে অগ্নিতে নিক্ষেপ করে তবে তার যে পাপ হবে, আল্লাহর কোন একজন ওলীকে ঘৃণা ও তাচিছল্যের চোখে দেখলে তদপেক্ষা অনেক গুরুতর পাপ হবে। একজন লোক জিজ্ঞাসা করল ঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ ! আল্লাহ তা’আলার ওলী কারা ? হুজুর (দঃ) বললেন ঃ সকল সত্যিকারের মুসলমানই আল্লাহর ওলী। (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি আমাকে দেখেছে জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করবে না । – আল হাদীস (তিরমিযী)
☼ দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ এবং গুপ্ত ধন-ভান্ডার আমাকে নিতে বলা হয়েছিল কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছি যে, হে প্রভু ! আমি একদিন অনাহারে থাকব এবং একদিন পানাহার করব। যেদিন পানাহার করব সেদিন তোমার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব আর যেদিন উপবাস থাকব সেদিন তোমার নিকট প্রার্থনা জানাব। (আল হাদিস)
☼ শয়তান মানুষের শিরায় শিরায় চলাচল করে। তোমরা ক্ষুধা তৃষ্ণার মাধ্যমে তার চলাচলের পথকে সঙ্কীর্ণ করে দাও । মানুষের অন্তরে যদি শয়তানের আনাগোনা না থাকত, তবে মানুষ উর্দ্ধজগত দেখার মত দৃষ্টি শক্তি সম্পন্ন হয়ে যেত। (আল হাদিস)
☼ খাঁটি আলেমগণ যদি আল্লাহর ওলী না হন, তবে অন্য কেহই আউলিয়া হইতে পারে না । – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ তোমরা এই উম্মতকে সুসংবাদ দাও যে, পৃথিবীতে তারা উন্নতি ও সমৃদ্ধির শীর্ষশিখরে আরোহন করবে এবং পৃথিবীর শাসন ক্ষমতা লাভ করবে। সুতরাং তাদের মধ্যে যারা দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে পরকালের আমল করবে, আখেরাতে তাদের নসীবে কিছুই জুটবে না । -(হাকেম , বায়হাকী শরীফ ‍ঃ)
☼ জ্বর-জ্বালা জাহান্নামের উত্তাপের আঁচস্বরূপ। যে মুসলমান দুনিয়াতে জ্বরের তাপ ভোগ করেছে তাহাকে দোযখের উত্তাপ ভোগ করতে হবে না । (আল হাদিস)
☼ কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম মানুষকে তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। বলা হবে ঃ আমি কি তোমাকে সুস্বাস’্য প্রদান করিনি, আমি কি তোমাকে ঠান্ডা পানি পান করতে দেইনি ? – আল হাদীস (তিরমিযী)
☼ জেনে রাখ, তিনটি জায়গা এমন হবে যেখানে কেউ কারো কথা মনে রাখবে না । একটি হলো মীজানের পাল্লার কাছে যতক্ষণ সে নিশ্চিত না হবে যে তার আমলের পাল্লা ভারী হয়েছে না হাল্কা। দ্বিতীয়টি হলো আমলনামা পাওয়ার দফতর যে পযর্ন্ত না সে নিশ্চিত হবে উহা তাকে ডান হাতে দেওয়া হয়েছে না বাম হাতে ? তৃতীয়টি হলো পুলসিরাত যখন উহাকে জাহান্নামের উপর স্থাপন করা হবে। -(আবু দাউদ শরীফ)
☼ তোমাদের ভৃত্যরা তোমাদের ভাই । আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন । সুতরাং যার ভাই তার অধীন হয় সে যেন তাকে তাই খাওয়ায়, যা সে নিজে খায়, তাই পরিধান করায় যা সে নিজে পরিধান করে এবং তাকে যেন এমন কাজ করতে না দেয়, যা করা তার জন্য খুবই কঠিন । যদি এমন কাজের ভার দিতেই হয়, তবে সে নিজেও যেন তাকে সাহায্য করে। (মুসলিম , আবু দাউদ)
☼ তোমরা তোমাদের সহধর্মিনীদের প্রতি হিতাকাঙখী হও । – আল হাদীস – আল হাদীস (মুসলিম শরীফ)
☼ হে লোকসকল ! (পরকালের কঠিন শাস্তি সম্পর্কে) আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে, তবে অতিমাত্রায় ক্রন্দন করতে এবং অল্পই হাস্য-রস করার অবকাশ পাইতে। নির্জন প্রান্তরে গিয়ে বুক চাপড়াইয়া গলা ফাটিয়ে রোদন করতে। (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি নিজের খেয়াল-খুশি অনুযায়ী কাজ করে আবার আল্লাহ তা’আলার রহমতেরও আশা করে, সে একেবারেই বেআক্কেল। (আল হাদিস)
☼ জাহান্নামের একজন মাত্র ফেরেশতার শরীরে পৃথিবীর সমস্ত জ্বিন ও মানুষের সমান শক্তি রয়েছে। -(দুররে মনসুর)
☼ পাঁচটি গুনাহের পাঁচ রকম শাস্তি ঃ (১) যে জাতি ওয়াদা ভঙ্গ করে, আল্লাহ তাদের ওপর শত্রুকে জয়ী করে করে দেন (২) যে জাতি আল্লাহর আইন ত্যাগ করে মানুষের আইনে বিচার করে, তাদের মধ্যে দারিদ্র ও অভাব-অনটন বৃদ্ধি লাভ করে (৩) যে জাতির মধ্যে অশ্লীলতা ও ব্যভিচার বৃদ্ধি পায়, তাদের ওপর প্লেগ ও অন্যান্য মহামারী চাপিয়ে দেওয়া হয় (৪) যারা ওজনে কম দেয়, তাদেরকে দুভিক্ষের শাস্তি দেওয়া হয় এবং (৫) যারা যাকাত দেয় না, তাদেরকে বৃষ্টি থেকে বঞ্চিত রাখা হয় । (কুরতুবী)
☼ যখন কেয়ামত আসবে আমার উম্মতের একটি দলকে আল্লাহ পাক পাখিদের ন্যায় পাখা ও পালক দান করবেন যাতে ভর দিয়া তারা বেহেশতে ইতস্তত উড়ে বেড়াবে। তা দেখে ফেরেশতারা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন ঃ তোমাদের পাপ-পূণ্যের হিসাব হয়েছে কি ? দাঁড়িপাল্লায় তোমাদের আমলের ওজন করা হয়েছে কি ? তোমরা পুলসেরাত পার হয়ে এসেছ কি না ? উত্তরে তারা বলবে ঃ আমরা এই সকল বিষয়ের কোন কিছূই দেখিতেও পাই নাই । তখন ফেরেশতাগণ পুণরায় তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন ঃ তোমরা কোন শ্রেণীর লোক ? তারা জবাব দিবে ঃ আমরা হযরত মোহাম্মদ (দঃ)-এর উম্মত। ফেরেশতারা জিজ্ঞাসা করবেন ঃ তোমরা কি কি নেক কাজের দরুন এমন সৌভাগ্য ও মর্যাদা লাভ করেছ ? তাঁরা বলবে ঃ আমাদের ভেতর দুটি অভ্যাস ছিল—(১) আল্লাহর ভয়ে ও লজ্জায় আমরা নির্জন স্থানেও কোন পাপ কাজ করতাম না । (২) আল্লাহ তা’আলা অতি সামান্য অন্ন-বস্ত্র যাকিছূ আমাদের দান করতেন আমরা তাতেই সন্তুষ্ট ও তৃপ্ত থাকতাম । একথা শুনে ফেরেশতারা বলবেন ঃ তবে কেন এমন হবে না ? এমন সৌভাগ্য ও মযার্দা তোমাদেরই প্রাপ্য। (আল হাদিস)
☼ এমন একটা দুঃসময় আসবে যখন শাম ও ইরাকের লোকদের চারদিক থেকে অবরোধ করা হবে। একই ধরনের অবরোধ সিরিয়াবাসীদের উপরও আরোপ করা হবে। জিজ্ঞেস করা হলো, এই অবরোধ কাদের পক্ষ থেকে আরোপিত হবে ? বললেন- আহলে রোমের (খ্রীস্টানদের) পক্ষ থেকে । অতঃপর আমার উম্মতের মধ্যে একজন খলীফার আবির্ভাব ঘটবে। তাঁর নেতৃত্বে উম্মতের মধ্যে পুনর্জাগরণের সৃষ্টি হবে। সুখ-সমৃদ্ধিতে তারা পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠবে। শেষ জমানায় ইসলাম তার প্রাথমিক অবস্থায় ফিরে যাবে। ঈমানদার লোকদের আশ্রয়স’ল মদীনায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে। (মুসতাদরাক)
☼ তোমরা নিজেদের কোরবানীর পশুকে মোটাতাজা করো, কেননা সেটি পুলসেরাতে তোমাদের বাহন হবে। -(আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি ফজরের নামাযের পর কথাবার্তা না বলে আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকবে এবং সূর্যোদয়ের পর দু’রাকাত ইশরাকের নামায আদায় করবে তার সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে যদিও তা সমুদ্রের ফেনা সমতুল্য হয়ে থাকে । — আল হাদীস (মুসনাদে আহমদ)
☼ একজন অপরজনকে উঠিয়ে তার জায়গায় বসবে না । বরং তোমরা চেপে চেপে বসে পরে আগতদের জন্য জায়গা করে দাও । (বোখারী শরীফ , মুসলিম শরীফ)
☼ তোমরা সবাই আদমের সন্তান আর আদমকে বানানো হয়েছে মাটি দ্বারা। – আল হাদীস
☼ সৃষ্টি জগতের সকল মানুষই আল্লাহর পরিজন স্বরূপ। তাই আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তি সর্বাধিক প্রিয় যে তাঁর পরিজনদের নিকট অধিক প্রিয় । – আল হাদীস
☼ ফেরেশতারা মেঘমালা পযর্ন্ত অবতরণ করে এবং সেখানে তারা আল্লাহর নির্দেশসমূহ বাস্তবায়ন করা সম্পর্কে পরস্পর আলোচনা করে। শয়তানরা এখান থেকে গোপনে এগুলো শুনে অতীন্দ্রিয়বাদীদের কাছে পৌছে দেয় এবং তাতে নিজেদের পক্ষ থেকে কাঁড়িকাঁড়ি মিথ্যা ঢুকিয়ে দেয় । – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ সন্তান-সনততি হলো মানুষের কৃপণতা এবং কাপুরুষতার কারণ। (আল হাদিস)
☼ আমি ততক্ষণ পযর্ন্ত সন্তুষ্ট হব না যতক্ষণ পযর্ন্ত আমার উম্মতের একটি লোকও জাহান্নামে থাকবে। আল্লাহ তা’আলা আমার উম্মত সম্পর্কে আমার সুপারিশ গ্রহন করবেন এবং শেষ পযর্ন্ত জিজ্ঞাসা করবেন, হে মোহাম্মদ ! এখন কি আপনি সন্তুষ্ট হয়েছেন ? আমি বলব, হে প্রভু ! আমি সন্তুষ্ট। -(আল হাদিস)
☼ মৃত্যুর পরও সওয়াবের মধ্যে যা কিছু ঈমানদার ব্যক্তি লাভ করে থাকে তার মধ্যে রয়েছে এমন জ্ঞান যা সে বিতরণ করে গেছে অথবা পূণ্যবান সন্তান বা এমন কোরআন যা সে উত্তরাধিকার হিসাবে রেখে গেছে অথবা তার নির্মিত মসজিদ, মুসাফিরখানা, ঝর্ণা, পুকুর কিংবা দীর্ঘস্থায়ী দান । -(আল হাদিস)
☼ আমলের দাঁড়ি-পাল্লায় সচচরিত্রের সমতুল্য ওজন অন্য কোন আমলের হবে না । আল্লাহ তা’আলা গালাগালকারী মন্দভাষী ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না । (আল হাদিস)
☼ সেই উম্মত কিভাবে ধ্বংস হতে পারে যার শুরুতে স্বয়ং আমি আর শেষে হলেন ঈসা (আঃ)। -(কানজুল উম্মাল)
☼ যে ব্যক্তির হাতে একজন মানুষও মুসলমান হইবে, সে অবশ্যই বেহেশতী হইবে। (তাবরানী)
☼ তোমরা মৃতদের তিরস্কার গালমন্দ করো না ; কেননা তারা নিজেদের কর্মফলে পৌঁছে গেছে। -(- আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ))
☼ তোমাদের পূর্বেই আমি হাউজে কাওসারের নিকট পৌছে যাব। যে ব্যক্তি আমার নিকট পৌছবে সে-ই এর পানি পান করবে। যে একবার পান করবে সে আর কখনও তৃষ্ণার্ত হবে না । আমার কাছে এমন কতগুলি লোক আসবে যাদেরকে আমি চিনতে পারব এবং তারাও আমাকে চিনতে পারবে। তারপর আমার এবং তাদের মাঝে পর্দা পড়ে যাব। তখন আমি বলব, এরা তো আমার উম্মত। তখন আমাকে বলা হবে, আপনি জানেন না আপনার অবর্তমানে তারা কত কি নূতন মতবাদ আবিস্কার করেছিল। এতদ্ শ্রবণে আমি বলব, আমার অবর্তমানে যারা আমার ধর্মকে পরিবর্তন করেছে, তারা দূর হোক। – আল হাদীস – আল হাদীস (মুসলিম শরীফ)
☼ আল্লাহ তা’আলা মোটা (আরামপ্রিয়) আলেমকে পছন্দ করেন না । (আল হাদিস)
☼ হযরত আদম (আঃ)-এর দেহে যখন প্রাণ সঞ্চার করা হল, তখন তিনি আরশের দিকে তাকিয়ে দেখলেন তাতে লেখা রয়েছে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহা্‌ম্মাদুর রাসুলু্‌লাহু। – আল হাদীস
☼ কেয়ামতের দিন আমার শাফায়াত লাভের ব্যাপারে সেই ব্যক্তিই হবে সর্বাপেক্ষা ভাগ্যবান যে আনতরিক নিষ্টা সহকারে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে। -(- আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ))
☼ আল্লাহ পাক বায়তুল্লাহ শরীফের উপর প্রতিদিন একশ বিশটি রহমত নাজিল করেন যার মধ্যে ষাটটি কেবল তওয়াফকারীদের ওপর, চল্লিশটি তথায় নামায আদায়কারীদের ওপর এবং অবশিষ্ট বিশটি কাবা শরীফ দর্শনরতদের ওপর। – আল হাদীস
☼ যে ব্যক্তি অন্যকে একটি বাক্য শিক্ষা দিল, সে যেন তার প্রভূ হইয়া গেল। (আল হাদিস)
☼ শারীরিক সুস্থতা এবং আর্থিক সচছলতা এমন দুটি মহামুল্যবান নেয়ামত যে, অধিকাংশ মানুষই এগুলো পেলে তার সদব্যবহার না করে বরং ক্ষতিগ্রস’ হয়ে থাকে । (আল হাদিস)
☼ (আল্লাহ বলেন) আমার করুণা আমার ক্রোধের চাইতে বেশী। -(আল হাদিস)
☼ কুকুরের পাঁচটি স্বভাব প্রত্যেক মোমেন বান্দার মধ্যে থাকা দরকার। যেমন- (১) কুকুর সর্বদা ক্ষুধার্ত থাকে, সুতরাং সৎলোকদেরও তেমন থাকা উচিত। (২) কুকুরের কোন নির্দিষ্ট বাসস্থান নেই, অতএব সৎলোকদেরও থাকা সমীচিন নয় । (৩) কুকুর সারারাত জেগে থেকে প্রভুর গৃহ পাহাড়া দেয়, তদ্রুপ সৎলোকদেরও সারারাত জেগে আল্লাহ ইবাদত করা উচিত। (৪) কুকুর ওয়ারিশদের জন্যে কিছু রেখে যায় না, তেমনি সৎলোকদেরও রাখা উচিত নয় । (৫) কুকুর শত-সহস্র তাড়া খেয়েও প্রভুর দুয়ার ছাড়ে না, তেমনি শত বিপদাপদেও আল্লাহর নাম স্মরণ রাখা উচিত। – (আল হাদীস)
☼ তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম যে তার সত্রীদের সাথে আনন্দময় জীবনযাপন করে। কেননা আমি আমার সত্রীদের সাথে আনন্দময় জীবনযাপন করে থাকি। – আল হাদীস
☼ যে বংশের একটি ছেলে কোরআনে হাফেজ হবে, তাহার সুপারিশে তার বংশের এমন দশজন লোক জান্নাতে যাবে যাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত ছিল। (আল হাদিস)
☼ একা একা নামায পড়ার চাইতে জামাতে নামায পড়িলে সাতাইশ গুণ বেশী সওয়াব পায়া যায় । (বোখারী শরীফ , মুসলিম শরীফ)
☼ যার ধন-দৌলত চুরি হয় নাই এবং শরীরে রোগ হয় নাই তার মঙ্গল নাই । (আল হাদিস)
☼ খারাপ জিনিসের প্রতি তাকানো শয়তানের একটি বিষাক্ত তীর সদৃশ। যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে একাজ থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ কৃপায় সে অনতরে ঈমানের অলৌকিক স্বাদ অনুভব করবে। (আল হাদিস)
☼ কেয়ামতের দিন পুলসিরাতের ওপর মোমিনদের পরিচিতি হবে। — আল হাদীস (তিরমিযী শরীফ)
☼ প্রত্যেক ব্যক্তি সকালে ওঠে আয়ুর পূঁজিকে ব্যবসায় নিয়োজিত করে। অতঃপর কেউ তাকে লোকসান মুক্ত রাখতে সক্ষম হয় আর কেউ একে ধ্বংস করে দেয় । (আল হাদিস)
☼ কোনো জান্নাতবাসী যখন সন্তান কামনা করবে ; তখন গর্ভ, প্রসব এবং তার ইচছানুযায়ী সন্তানের বয়স মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যাবে। তবে কেহ এরূপ আকাঙখা করবে না । — আল হাদীস (তিরমিযী শরীফ)
☼ জাহান্নামের আগুনের তুলনায় দুনিয়ায় তোমাদের ব্যবহারের আগুন সত্তর ভাগের এক ভাগ তেজসমপন্ন । দুনিয়ার আগুন জাহান্নামের আগুন থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে থাকে । -(আল হাদিস)
☼ (কেয়ামতের লক্ষণ হলো) জ্ঞানচর্চা উঠে যাবে, মূর্খতা বৃদ্ধি পাব, ব্যভিচারের প্রসার হবে, মদ্যপান বেড়ে যাবে । পুরুষের সংখ্যা হ্রাস পাবে এবং নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে ; এমনকি পঞ্চাশ জন নারীর ভরণ-পোষণ একজন পুরুষের উপর বর্তাবে। (বোখারী শরীফ , মুসলিম শরীফ)
☼ এক ব্যক্তি রাসুলে মাকবুল (দঃ)-কে বললেন ঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ ! আমি আপনাকে ভালবাসি। তিনি বললেন ঃ তবে অভাব-অনটনের পীড়ন সহ্য করতে প্রস’ত থাক। সে ব্যক্তি আবার বলল ঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ ! আমি আল্লাহ তা’আলাকেও ভালবাসি। তিনি বললেন ঃ তবে বিপদাপদ ও দুঃখ-কষ্ট সহ্য করবার জন্য প্রন্তুত হও । (আল হাদিস)
☼ হে আদম সন্তান ! তোমরা যদি দিনের প্রথম ভাগে চার রাকাত নামায আদায় কর, তবে আমি সমস্ত দিনের জন্য তোমাদের নিরাপত্তার দ্বায়িত্ব গ্রহন করে থাকি। — আল হাদীস (মুসনাদে আহমদ)
☼ যে ব্যক্তির নিকট কারও কোন পাওনা থাকে, তার উচিত দুনিয়াতেই তা পরিশোধ করা অথবা মাফ চেয়ে দাবী মুক্ত হওয়া। কেননা কেয়ামতের দিন দিনার-দিরহাম কিছূই থাকবে না । কারও কোন ঋণ থাকলে তা সে ব্যক্তি পূণ্য দিয়ে শোধ করা হবে। যাবতীয় পূণ্য শেষ হয়ে গেলে পাওনাদারের পাপ মাত্রা মত তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। – আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ)
☼ যে জিনিসকে ইচছা তুমি ভালবাসতে পারো কিন্তু মনে রাখিও শেষ পযর্ন্ত তাকে তোমার নিকট থেকে কেড়ে নেওয়া হবে। (আল হাদিস)
☼ অনুমান থেকে বিরত থাক। কেননা অনুমান হলো নির্জলা মিথ্যা স্বরূপ। (আল হাদিস)
☼ জাহান্নামে (পাপী মানুষ ও জ্বিনকে) অনবরত নিক্ষেপ করা হতে থাকবে। তারপরও জাহান্নাম বলতে থাকবে -আরও আছে কি ? এভাবে সে ততক্ষণ পযর্ন্ত বলতে থাকবে যতক্ষণ না মহান আল্লাহ তার পবিত্র পা তাতে না রাখবেন । তখন জাহান্নামের এক অংশ অপর অংশের দিকে চেপে যাবে এবং বলতে থাকবে – “তোমার মর্যাদা ও মেহেরবানীর কসম ! যথেষ্ট হয়েছে ! যথেষ্ট হয়েছে !” অপরদিকে জান্নাতেও লোকদের প্রবেশের পরও অনেক জায়গা খালি থেকে যাবে। এমনকি সে সব জায়গা ভরাটের জন্যে আল্লাহ্ পাক নতুন জীব সৃষ্টি করে তাতে অবস্থান করতে দিবেন । – আল হাদীস – আল হাদীস (মুসলিম শরীফ)
☼ যে ব্যক্তি রাত্রে বেশী বেশী নামায পড়ে, দিনের বেলায় তার চেহারা উজ্জ্বল দীপ্তিময় হয়ে থাকে । – আল হাদীস (ইবনে মাজাহ শরীফ ‍ঃ)
☼ প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে কিছু লোক অগ্নিপূজক থাকে । আমার উম্মতের অগ্নিপূজারী হলো তারা যারা ভাগ্যলিপি মানে না । এরা অসুস্থ হলে তাদের খোঁজখবর নিবে না এবং অক্কা পেলে দাফন-কাফনে অংশ নিবে না । (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমদ)
☼ এই উম্মত সে পযর্ন্ত ধ্বংস হবে না যে পযর্ন্ত না তাদের পরবর্তীরা পূর্ববতীদের অভিশাপ ও ধিক্কার না দিবেন । (আল হাদিস)
☼ তাঁদের (বুযুর্গ লোকদের) সাথে যারা উঠাবসা করে, তারা হতভাগ্য হতে পারে না এবং তাদের সঙ্গে যারা প্রীতির সমপর্ক রাখে, তারা কখনও বঞ্চিত হতে পারে না । (বোখারী শরীফ , মুসলিম শরীফ)
☼ জাহান্নামী কাফেরদের এক বাহু হতে অপর বাহুর দূরত্ব হবে দ্রুতগামী ঘোড়ার তিন দিনের পথ এবং তাদের সামনের দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের ন্যায় বিরাট এবং তাদের চামড়া হবে তিন দিনের পথের সমান পুরুত্ব বিশিষ্ট। – আল হাদীস – আল হাদীস (মুসলিম শরীফ)
☼ বদনজর মানুষকে কবরে এবং উটকে ডেকচির মধ্যে নিক্ষেপ করে। (আল হাদিস)
☼ আল্লাহর ভয়ে যখন মানুষের শরীর শিহরিত হয় এবং মনও ভীত হয়, তখন তার দেহ হইতে তার পাপগুলি এমন ভাবে ঝরে পরে যেমনভাবে বৃক্ষ হতে শুষ্কপত্র খসে পড়ে থাকে । (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি খাঁটি নিয়তে এবং ঈমানদারীর সঙ্গে সওয়াবের উদ্দেশ্যে এতেকাফ করিবে, তাহার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (দায়লামী)
☼ কোরবানীর পশুর গায়ে যত পশম থাকে প্রত্যেক পশমের পরিবর্তে একটি সওয়াব লেখা হয় । (আল হাদিস)
☼ মুমিন বান্দার জন্য তাহার দরজায় আগত সাহায্য প্রার্থী আল্লাহর প্রেরিত উপহার স্বরূপ। (আল হাদিস)
☼ মুসলমানের উপর যে সব দুঃখ-কষ্ট আপতিত হয় তাতে তার গোনাহ মাফ হয়ে থাকে । এমনকি পায়ে একটি কাঁটা বিঁধিলেও তদ্বারা তার একটি পাপ খন্ডন হয়ে যায় । পারিবারিক দুঃখ ও দুঃশ্চিন্তা এবং আর্থিক অনটনের যাতনা ভোগ ছাড়া গুনাহ মাফ হয় না । কতকগুলি পাপ এমন আছে যা দুঃখ-কষ্ট ভোগ করা ব্যতিত অন্য কোন কিছুতে তাহার বিমোচন হয় না । -(আল হাদিস)
☼ অহঙ্কারী ও অত্যাচারীরা প্রতি ঘন্টায় নিরানব্বই রকমের নতুন শাস্তি ভোগ করতে থাকবে এবং প্রতিদিন তাদের মুখের চামড়া হাজার বার বদল করা হবে। – (আল হাদিস)
☼ ধৈর্য ঈমানের অর্ধেক। আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদেরকে যে সকল বস্তু দান করেছেন, তার মধ্যে ধর্মবিশ্বাস এবং ধৈর্য অতি অল্পই দান করেছেন । যাদেরকে এই দুটি অমুল্য বস্তু দান করা হয়েছে তাদেরকে বলে দাও যে, রোজা, নামায অল্প মাত্রায় করিলেও তাদের ভয় নাই । অতএব তোমরা ধৈর্য ধারণ কর। দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী পক্ষান্তরে আল্লাহর নিকট থেকে ধৈর্যের বিনিময়ে যে পুরস্কার লাভ করবে তা চিরস্থায়ী। (আল হাদিস)
☼ আল্লাহর ভয়ে যে ব্যক্তি রোদন করে জাহান্নামের আগুনে তাকে জ্বালান হবে না যে পযর্ন্ত না স্তন হতে নির্গত দুগ্ধ পুনরায় স্তনে প্রবেশ করে। (আল হাদিস)
☼ (১) যখন সরকারী কোষাগারকে ক্ষমতাসীনরা ব্যক্তিগত সমপত্তি মনে করবে (২) আমানতের মালকে লুটের মাল মনে করা হবে (৩) যাকাত দেওয়াকে জরিমানা মনে করা হবে (৪) ধর্মের জন্যে নয় বরং প্রার্থিব স্বার্থে জ্ঞান অর্জন করা হবে (৫) পুরুষেরা সত্রীর কথা মতো চলবে (৬) সন্তান তার মাতার অবাধ্যতা করবে (৭) বন্ধু-বান্ধবদেরকে অতি আপন মনে করা হবে (৮) সন্তান পিতৃসেবার প্রতি উদাসীন থাকবে (৯) মসজিদসমূহে দুনিয়াবী কথা ও হট্টগোল শুরু হবে (১০) পাপিষ্ট লোকেরা সমাজের নেতা হয়ে বসবে (১১) নিম্নশ্রেণীর লোকদের হাতে সমাজের কর্তৃত্ব চলে যাবে (১২) কোনো ব্যক্তিকে তার অত্যাচারের ভয়ে লোকেরা সম্মান করবে (১৩) গায়িকা এবং বাদ্য-যনেত্রর ব্যাপক প্রচলন ঘটবে (১৪) মদ্যপান ব্যাপক আকারে শুরু হবে (১৫) এই উম্মতের পরবর্তী লোকেরা পূর্ববর্তীদেরকে মন্দ বলবে এবং অভিসমপাত করবে ; তখন তোমরা অগ্নিঝড়, তুফান, ভূমিকমপ, ভূমিধ্বস, চেহারা বিকৃতি, প্রস্তর বর্ষণ প্রভৃতি গজবের অপেক্ষায় থাকবে। তসবিহ ছড়ার সূতা কেটে দিলে দানাগুলি যেমন একটির পর একটি পড়তে থাকে, বিপদাপদও তেমনি ঘনঘন আসতে থাকবে। — আল হাদীস (তিরমিযী শরীফ)
☼ আমার উম্মতে মধ্যকার দরিদ্র লোকেরা (ধনীদের চাইতে) পাঁচশত বৎসর পূর্বে বেহেশতে প্রবেশ করবে। (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, দুনিয়ার সব কিছূই তাকে ভয় করে থাকে । আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে না, জগতের সব কিছুই তাকে ভয় দেখায় । (আল হাদিস)
☼ জাহান্নামের মধ্যে সাতটি দরজা রয়েছে। তার একটি ঐ সব লোকদের প্রবেশের জন্য যারা অন্যায়ভাবে আমার উম্মতের বিরুদ্ধে অস্র ধারণ করেছে। – আল হাদীস (মেশকাত শরীফ)
☼ নিজের ভাইয়ের বিপদ-আপদে আনন্দ প্রকাশ করো না ; কেননা সেক্ষেত্রে আল্লাহ্ তাকে দয়া করবেন আর তোমাকে বিপদে ফেলবেন । -(তিরমিজী শরীফ)
☼ প্রতিটি ধর্মেরই একটি বৈশিষ্ট্য আছে- ইসলামের বৈশিষ্ট্য হলো লজ্জা। – আল হাদীস
☼ (আল্লাহ বলেন) হে জিবরাঈল ! আমি যার চোখ থেকে দৃষ্টিশক্তি কেড়ে লই, তার বিনিময়ে তাকে আমি মহাপুরুস্কারে ভুষিত করব। (আল হাদিস)
☼ তোমরা আল্লাহর নিকট কল্যাণ ও সুস্থতা কামনা করিও, বিপদ-আপদের কামনাও করিও না । (আল হাদিস)
☼ আল্লাহর মহত্ত্বে বিশ্বাসের ইহাও একটি লক্ষণ যে, রোগ-ব্যাধিতে আক্রানত হলে তাঁর বিরুদ্ধে তুমি কোন অভিযোগ করবে না আর বিপদে পড়লে ধৈর্যের সাথে তাহা গোপন রাখবে। (আল হাদিস)
☼ আমি আমার পূণ্যবান বান্দাদের জন্যে এমন জিনিস তৈরী করে রেখেছি যা কোনো চক্ষু কখনও দেখেনি, কোন কর্ণ শোনেনি এবং কোন অনতঃকরণ কখনও কল্পনাও করেনি। — আল হাদীস (বায়হাকী শরীফ ‍ঃ)
☼ যে ব্যক্তি রমজান মাসের শেষের দিকে ইনেতকাল করবে সে জান্নাতী হবে এবং যে ব্যক্তি জিলহজ্জ মাসের নয় তারিখে দিনের শেষ ভাগে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতী হবে আর যে ব্যক্তি দান-খয়রাত করে মারা যাবে সে জান্নাতী হবে। – আল হাদীস
☼ আল্লাহর ধ্যান-চিন্তা বিমুখ অকর্মা যুবককে আল্লাহ তা’আলা নিজের শত্রু রূপে গণ্য করে থাকেন । (আল হাদিস)
☼ কোন ব্যক্তি প্রভাতে শয্যা ত্যাগের সময় যদি সুস্থ শরীর, চিত্ত নির্ভয় এবং সেদিনের খাদ্যের সংস্থান থাকে, তবে সারা পৃথিবী যেন তার দখলে আছে মনে করতে হবে। (আল হাদিস)
☼ দুইজন মুসলমান তরবারি নিয়ে লড়াইয়ে লিপ্ত হইলে হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি দুইজনই জাহান্নামী হইবে। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন ঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ ! নিহত ব্যক্তি কেন জাহান্নামী হবে ? হুজুর (দঃ) বললেন ঃ যেহেতু সে ব্যক্তিও তার প্রতিদ্বন্দীকে হত্যা করতে নিয়ত করেছিল, পারলে সেও তাকে হত্যা করত। (আল হাদিস)
☼ তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত কর যেন তুমি তাঁকে দেখতেছ ; যদি তা না পারো তবে অনতত এটুকু মনে রাখবে যে আল্লাহ তোমাকে দেখতেছেন । (আল হাদিস)
☼ যে সৎকর্ম নিষ্টার সাথে করা হয় না এবং যা একমাত্র আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে করা হয় না, তা আল্লাহর নিকট গৃহীত হয় না । -(আবু দাউদ শরীফ)
☼ যখন মানুষ ধন-দৌলত সঞ্চয়ে মনোনিবেশ করবে, বড় বড় দালান-কোটা নির্মাণে অত্যুৎসাহী থাকবে, দরিদ্র মানুষকে দেখলে শত্রুর ন্যায় মনে করবে, তখন আল্লাহ তা’আলা জনসমাজে চার কিসিমের বিপদ প্রেরণ করিবেন–(১) দুর্ভিক্ষ (২) শাসক শ্রেণীর অত্যাচার (৩) বিচারকদের পক্ষপাতমূলক আচরণ (৪) কাফের এবং শত্রুদের প্যাঁদানি। (আল হাদিস)
☼ সৎকুলজাত স্থানে বীজ বপন কর। নোংরা ভাগাড়ে উৎপন্ন সবুজ ও সতেজ বৃক্ষ পরিত্যাগ কর। একজন জিজ্ঞাসা করল ঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ ! ভাগাড়ে উৎপন্ন সবুজ বৃক্ষ কি জিনিস ? উত্তরে তিনি বললেন ঃ নিম্ন বংশজাত সুন্দরী রমণী। (আল হাদিস)
☼ তোমরা যেমন খাদ্য ও পানীয় দ্রব্য সঙ্গে নিয়া নিজেদের রুগ্ন আত্মীয়-স্বজনের সেবা করিতে যাও, দয়াময় আল্লাহ তা’আলাও তেমনি বিপদ-আপদ সঙ্গে নিয়া নিজের বন্ধু-প্রিয়জনদের প্রতি সহানুভুতি প্রকাশ করিতে আসেন । (আল হাদিস)
☼ আমার প্রিয় দুটি পেশা আছে যে ব্যক্তি উক্ত পেশাদ্বয়কে ভালবাসে সে যেন আমাকেই ভালবাসে। সেই পেশা দুটো হলো দারিদ্র এবং জিহাদ। (আল হাদিস)
☼ জাহান্নাম চারটি বৃহৎ প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে। তার প্রতিটি প্রাচীর চল্লিশ বৎসর দূরত্বের সমান পুরুত্ব বিশিষ্ট। -(তারগীব)
☼ জান্নাতে এমন একটি বিরাট বৃক্ষ রয়েছে যার ছায়ায় কোনো অশ্বারোহী একশত বৎসর দৌড়েও তার শেষ প্রানেত পৌছতে পারবে না । জান্নাতে একটি চাবুক রাখা পরিমাণ জায়গা গোটা দুনিয়া ও তার মধ্যেকার সমস্ত কিছু অপেক্ষা উত্তম । — আল হাদীস (বায়হাকী শরীফ ‍ঃ)
☼ বাহ্যিক কোনো কারণ, জালেম শাসক কিংবা অসুস্থতা হজ্জ আদায়ের ক্ষেত্রে বাঁধা না হওয়া সত্ত্বেও যদি কেউ হজ্জ আদায় না করে মারা যায়, তবে সে ইহুদী হয়ে মরুক কিংবা খ্রীস্টান হয়ে মরুক। – আল হাদীস
☼ মহান আল্লাহ যার অমঙ্গল কামনা করেন তাহার ধন-দৌলত পানি ও মাটির মধ্যে বিনাশ করে দেন (গৃহ নির্মাণ)। (আল হাদিস)
☼ আমাকে বেহেশত দেখানো হয়েছিল, দেখলাম বেহেশতবাসীদের অধিকাংশই দরিদ্র শ্রেনীর লোক। জাহান্নামও আমাকে দেখানো হয়েছিল, সেখানে দেখলাম অধিকাংশ জাহান্নামীই ধনী শ্রেনীর লোক। আমি বেহেশতে মহিলাদের সংখ্যা খুবই অল্প দেখে জিজ্ঞাসা করলাম, মহিলারা কোথায় ? উত্তর আসল ঃ দুটি রঙ্গিন পদার্থ (স্বর্ণ এবং জাফরান) তাদেরকে বেহেশত থেকে বঞ্চিত রেখেছে। (আল হাদিস)
☼ আমি উত্তম চরিত্রকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্যে প্রেরিত হয়েছি। – আল হাদীস
☼ কাজ করিতে থাক। যে কাজের জন্য যাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, সেই কাজ তার জন্য সহজসাধ্য করে দেওয়া হয়েছে। (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে না পেরে স্বীয় পরিধেয় কাপড় ছিঁড়েছে কিংবা বুক চাপড়াচেছ, সে যেন তীর-বর্শা নিয়ে আল্লাহ পাকের ইচছার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে। – আল হাদীস
☼ রাসুলুল্লাহ (দঃ)-এর সাথে সাক্ষাতের জন্য একবার এক বেদুঈন এসে হাজির হলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন ঃ তুমি তোমার বাহন উষ্ট্রটিকে কি করেছে ? বেদুঈন জবাব দিল ঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করে উহাকে ছেড়ে দিয়ে এসেছি। মহানবী (দঃ) বললেন ঃ প্রথমে উহাকে বাঁধ এবং তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা কর। (আল হাদিস)
☼ সেই শরীর জান্নাতে যাবে না যা হারাম খাবারে পরিপুষ্টি লাভ করেছে। (আল হাদিস)
☼ মানুষ উত্তম যাকিছু লাভ করেছে, তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো সুন্দর স্বভাব। (আল হাদিস)
☼ দুনিয়ার কাজ এমনভাবে কর যেন তুমি চিরকালই বেঁচে থাকবে আর পরকালের কাজ এমনভাবে কর যেন আগামীকালই তোমার মৃত্যু হবে। (আল হাদিস)
☼ নিশ্চয় জান্নাতে হুর ও নারীদের সমাবেশ অনুষ্টিত হবে। উক্ত সম্মেলনে তারা এমন মন মাতানো সুরে এবং মধুর কন্ঠে গান গাইবে যা আল্লাহর সৃষ্ঠি জগতের কোন প্রাণীই শ্রবণ করেনি। তারা বলতে থাকবে- আমরা অননতকালের জন্য সৃষ্টি হয়েছি। আমাদের কোনো ধ্বংস নাই বরং অননতকাল পযর্ন্ত আমরা আপন প্রভুর উপর এবং নিজ নিজ স্বামীর উপর সন্তুষ্ট থাকব। অসন্তুষ্টি কোনো দিনই আমাদেরকে স্পর্শ করবে না । চিরসুখী হউক সেই সব ভাগ্যবান পুরুষরা যারা আমাদের জন্য এবং আমরাও যাদের জন্য সৃষ্ঠি হয়েছি। — আল হাদীস (তিরমিযী শরীফ)
☼ মানুষের শরীরে যতগুলো জোড়া আছে, তার প্রতিটির জন্য সদকাহ রয়েছে। ‘সুবহান আল্লাহ’ বলা একটি সদকাহ ; ‘আল হামদুল্লিাহ’ বলা একটি সদকাহ আর ‘আল্লাহু আকবর’ বলাও একটি সদকাহ। সৎকাজের উপদেশ দেওয়া আর অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টাও একটি সদকাহ। আর যদি কোনো লোক চাশতের দুই রাকাত নামায আদায় করে, তবে তার সকল অঙ্গপ্রতঙ্গের সদকাহ আদায় হয়ে যায় । – আল হাদীস – আল হাদীস (মুসলিম শরীফ)
☼ যার কাঁধ ধন-সম্পদের ভারে অবনত, তার পক্ষে বেহেশতের সিঁড়ি ডিঙানো কষ্টসাধ্য হবে। (আল হাদিস)
☼ মৃত্যু হলো অননত যাত্রার প্রথম ষ্টেশন স্বরূপ। (আল হাদিস)
☼ আল্লাহর সৃষ্টজীবের প্রতি যে দয়া করে না, আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না । (আল হাদিস)
☼ তোমরা তোমাদের সন্তানদের যত্ন নেবে এবং তাদের শিষ্টাচার শিক্ষা দেবে। – (- আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ))
☼ তোমরা গরীবদের সহিত বন্ধুত্ব কর এবং সামর্থ অনুযায়ী তাদের উপকার কর। পরকালের পথে তারা তোমাদের বড় পূঁজি এবং প্রধান অবলম্বন । সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন ঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ ! তারা আমাদের জন্য কিভাবে ধন হইল ? রাসুলে করীম (দঃ) বললেন ঃ কেয়ামতের দিন গরীবদেরকে নির্দেশ দেওয়া হবে যে, পৃথিবীতে যারা তোমাদেরকে এক লোকমা খাবার, এক ঢোক পানি কিংবা এক খন্ড বসত্র দান করেছে, আজ তোমরা তাদেরকে হাত ধরে টেনে বেহেশতে নিয়ে যাও । (আল হাদিস)
☼ কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহ থেকে বহু দূরে, মানব সমাজে ঘৃণিত এবং জাহান্নামের নিকটবর্তী। (আল হাদিস)
☼ যখন তোমার ভাল কাজ তোমাকে আনন্দ দেবে এবং মন্দ কাজ তোমাকে পীড়া দেবে তখনই বুঝবে যে তুমি প্রকৃত মু’মিন । (আল হাদিস)
☼ পৃথিবীর সব কিছুই সমপদ আর এর মধ্যে শ্রেষ্ট সমপদ হলো সতী-সাধ্বী সত্রীলোক। (আল হাদিস)
☼ হজ্জের মাসসমুহ হচেছ শাওয়াল, জিলক্বদ এবং জিলহজ্জের প্রথম দশ দিন । – (- আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ))
☼ পৃথিবীতে বাস করবে ভিনদেশী মুসাফিরের ন্যায় আর নিজেকে গণ্য করবে মৃত্যু পথযাত্রী রূপে। (আল হাদিস)
☼ তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় যার চরিত্র সর্বাপেক্ষা উত্তম । (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি মানুষের নিকট কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ নয় । (আল হাদিস)
☼ যারা দুনিয়া থেকে চলে গেছে তাদের নিন্দা করো না । যে পরনিন্দা শ্রবণ করে সেও নিন্দুকের সমতুল্য। (আল হাদিস)
☼ জ্ঞানীগণ নবীদের উত্তরাধিকারী। অবশ্য নবীগণ পরিত্যক্ত সমপত্তি হিসাবে কোন স্বর্ন-রৌপ্য রেখে যান নি বরং রেখে গেছেন জ্ঞান । সুতরাং যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করে সেই সৌভাগ্যবান । (আল হাদিস)
☼ কোরআনে পাঁচটি বিষয় অনতর্ভূক্ত রয়েছে ঃ হালাল, হারাম, সুস্পষ্ট নির্দেশসমূহ, রহস্যময় বিষয়সমূহ এবং দৃষ্টানতসমূহ। হালাল বিষয়সমূহকে হালাল বলে জানবে এবং হারাম বিষয়সমূহকে হারাম রূপে মানবে। নির্দেশসমূহ পালন করবে, রহস্যসমূহে বিশ্বাস রাখবে এবং দৃষ্টানত থেকে উপদেশ গ্রহন করে স্তর্কতা অবলম্বন করবে। (আল হাদিস)
☼ তোমাদের প্রত্যেকেই একজন অভিভাবক এবং তোমাদেরকে তোমাদের অধীনস’দের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে । শাসককে তার অধীনস’দের সম্পর্কে এবং প্রত্যেক পুরুষ তার সত্রী-পুত্র-কন্যাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। সত্রী তার স্বামী এবং সন্তানদের রক্ষক এবং কেয়ামতের দিন এ সম্পর্কে তাকে আল্লাহর নিকট জওয়াবদিহি করতে হবে। (আল হাদিস)
☼ ঘুষ গ্রহনকারী এবং ঘুষ প্রদানকারী উভয়ের প্রতি আল্লাহর অভিসমপাত। (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি মাহে রমযানের একটি রোজা ত্যাগ করল, সে যদি সারা জীবনও রোজা রাখে তবু তার ক্ষতিপূরণ হবে না । (তিরমিযী , আবু দাউদ)
☼ আল্লাহর সৃষ্টিজগতের বিষয়ে এক ঘন্টা চিন্তা-গবেষণা করা সত্তর বছর ইবাদতের চেয়ে উত্তম । (আল হাদিস)
☼ যারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার দ্বারা পেটভর্তি করে তারা জঘন্য লোক। মানুষের জন্য ততটুকু খাবারই যথেষ্ট যা তাকে সবল ও কর্মক্ষম রাখে। (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি রোজা রেখেও মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ ত্যাগ করতে পারেনি, তার উপবাসে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই । – আল হাদীস
☼ একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানের সাথে এমন ভাবে সমপর্কিত যেমন কোন দেওয়ালের একটি ইট অপর ইটের সাথে সমপর্কিত। (আল হাদিস)
☼ মাগরিবের নামাযের পর বিশ রাকাত নফল নামায আদায়কারীর জন্যে বেহেশতে অট্টালিকা নির্মাণ করা হবে। — আল হাদীস (তিরমিযী শরীফ)
☼ যাতে সন্দেহের উদয় হয় তা বর্জন করিও এবং যাতে তোমাকে বিবেকের চোখরাঙানি সইতে না হয় তাই করিও । (আল হাদিস)
☼ নবী করীম (দঃ)-এর পুত্র হযরত ইব্রাহীম (রাঃ) যখন মৃত্যুবরণ করলেন, তখন তাঁর চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রু ঝরছিল। তা দেখে হযরত আবদুর রহমান (রাঃ) বললেন, হুজুর আপনি তো আমাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করেছিলেন ! জবাবে তিনি বললেন, “আমি মাত্র দুটি পাপের আওয়াজ ও দুটি নির্বোধের কাজ করতে নিষেধ করেছি। তা হলো বিলাপের ও গানের সুরে ক্রন্দন করা, পোশাক পরিচছদ ছিন্ন করা আর মাথায় করাঘাত করা কিন্তু অশ্রু বিসর্জনে কোন দোষ নাই । আল্লাহ্ পাক রহমত স্বরূপ দয়ালুদের হৃদয়ে সেটি প্রদান করেছেন ।” অতঃপর তিনি বললেন, “হে ইব্রাহীম ! তোমার বিচেছদে আমার হৃদয় ব্যথিত এবং চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েছে।” – (আল হাদীস)
☼ উত্তম চিন্তা ইবাদতের অংশ। চিন্তা-ভাবনা করে কাজ করা আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তাড়াহুড়ো করে কাজ করা শয়তানের পক্ষ থেকে । (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি আখেরাতের দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি লাভ করতে চায়, সে যেন দরিদ্র ঋণগ্রস’ ব্যক্তিকে টাকার জন্য পীড়াপীড়ি না করে বরং দীর্ঘকাল অপেক্ষা করে কিংবা আংশিক অথবা সমপূর্ণ পাওনা মাফ করে দেয় । (আল হাদিস)
☼ সত্রীদের উপর অত্যাচারের ব্যাপারে আল্লাহর শাস্তিকে ভয় কর। নিশ্চয় তোমরা আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তাদেরকে গ্রহন করেছ এবং তাঁরই পবিত্র বাক্যে তাদের সহিত তোমাদের দামপত্য সমপর্ক প্রতিষ্টিত হয়েছে। নিশ্চয় জেনে রেখো, সত্রীদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার আছে ; তোমাদের ওপরও তাদের তেমন অধিকার রয়েছে। (আল হাদিস)
☼ তোমার কাংখিত বিষয় লাভের জন্য নিজেকে কখনও ছোট করো না ; কেননা আল্লাহর ইচছা মোতাবেকই সবকিছু ঘটে থাকে । -(আল হাদিস)
☼ পানিতে ডুবনত ব্যক্তি যেমন সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ভীষণভাবে, তেমনি মৃত ব্যক্তিও সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে তীব্রভাবে। পিতা মাতা ভাই সন্তান কিংবা সত্রীর দোয়ার জন্য সে অধীর অপেক্ষায় থাকে । উক্ত দোয়া গিয়ে পৌছলে সে সমগ্র পৃথিবী ও তার সমপদরাজী লাভ করার চাইতেও বেশী তৃপ্তি পেয়ে থাকে । নিঃসন্দেহে পৃথিবী বাসীদের দোয়ার বরকতে আল্লাহপাক কবর বাসীদের জন্য পাহাড় পরিমাণ সওয়াব দান করে থাকেন । নিঃসন্দেহে মৃতদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা হলো জীবিতদের পক্ষ থেকে মৃতদের জন্যুুুু উপহার স্বরূপ। – আল হাদীস (মেশকাত শরীফ)
☼ যে জমি কারো নয় তার মালিক সেই ব্যক্তি যে স্বীয় পরিশ্রমে তাকে আবাদযোগ্য করে তোলে। (আল হাদিস)
☼ তোমার জীবন একটি বিরাট গ্রন্তু স্বরূপ যার প্রতিটি বর্ণ থেকে গুপ্ত তথ্যসমূহ প্রকাশ পাচেছ । (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে খাদ্র-দ্রব্য চল্লিশ দিন পযর্ন্ত গুদামজাত করে রাখে সে আল্লাহর দুশমন । পরবর্তীতে সে যদি সমস্ত খাদ্য-শস্য দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়েও দেয় তথাপি তার পাপ মোচন হবে না । (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি শিশুদের স্নেহ এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয় । (আল হাদিস)
☼ কুবার মসজিদে নামায পড়ায় ওমরা তুল্য সওয়াব মিলে। – আল হাদীস
☼ কুসংসর্গে থাকা অপেক্ষা নিঃসঙ্গ থাকা ভাল এবং নিঃসঙ্গ থাকা অপেক্ষা সৎসঙ্গে থাকা ভাল। কুকথা বলার চেয়ে নীরব থাকাই ভাল এবং নীরব থাকার চাইতে জ্ঞানীদের সাথে কথা বলা ভাল। (আল হাদিস)
☼ আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের উপর প্রতিষ্টিত থাকবে। তারা সর্বদা তাদের শত্রুর উপর বিজয়ী হবে। অবশেষে আল্লাহর নির্দেশ এসে যাবে এবং ঈসা ইবনে মরিয়ম (আঃ) অবতরণ করবেন । — আল হাদীস (মুসনাদে আহমদ)
☼ যে রমণী সামান্য কারণে তালাক চায়, বেহেশতের গন্ধও সে পাবে না । (আল হাদিস)
☼ ঋণ হলো পৃথিবীতে আল্লাহর শাস্তি স্বরূপ- যখন তিনি কাউকে অপমান করতে চান তখন তার কাধে ঋণের বোঝা চেপে দেন । (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি মাগরিব নামাযের পর ছয় রাকাত নামায আদায় করে এবং নামাযের মধ্যে কোনো কথা না বলে, তবে সে বার বছর ইবাদতের সমতুল্য সওয়াব লাভ করবে। -(ইবনে মাজাহ শরীফ)
☼ জাহা্‌ন্নামে ভেতর উটের ঘাড়ের ন্যায় দেখতে এক জাতের সাপ রয়েছে যা এত বিষাক্ত যে কাউকে একবার দংশন করলে চল্লিশ বৎসর যাবত তার বিষক্রিয়া থাকবে। আর দেখতে খচচরের মতো এক শ্রেণীর বিচছু আছে, যার দংশনেও চল্লিশ বৎসর পযর্ন্ত বিষক্রিয়া চলতে থাকবে। -(আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি সংযমী, মিতাচারী সে যেই হোক না কেন এবং যে স্থানেই থাকুক না কেন, সে আমার সর্বাপেক্ষা নিকটবর্তী। (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি পেটভরে আহার করে আর তারই প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত কাটায় সে প্রকৃত ঈমানদার নয় । -(আল হাদিস)
☼ প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি অত্যাচারীকে ক্ষমা করে দেয়, সে আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয় । (আল হাদিস)
☼ খোরমার ন্যায় মস্তিষ্ক বিশিষ্ট কোন নিগ্রো দাসও যদি তোমাদের শাসক নিযুক্ত হয় তথাপি তোমরা তার আনুগত্য করবে এবং তাকে মেনে চলবে। সে যে পযর্ন্ত অবৈধ কাজ করতে না বলে, সে পযর্ন্ত তার হুকুম মান্য করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরজ। (আল হাদিস)
☼ রাসুলুল্লাহ (দঃ) সুদের দাতা, গ্রহীতা, লেখক এবং সাক্ষী সকলকে অভিসমপাত দিয়ে বলেছেন ঃ তারা সবাই সমান পাপী। (মিশকাত শরীফ)
☼ দয়া হলো ঈমানের চিহ্ন । যার মধ্যে দয়া নেই তার ঈমানও নাই । (আল হাদিস)
☼ যার নিকট একদিনের খোরাকি আছে তার জন্য ভিক্ষা করা হারাম । যে ব্যক্তি নিজের জন্য ভিক্ষাবৃত্তির দ্বার খুলেছে আল্লাহ তার জন্য অভাব-অনটনের দ্বার খুলবেন । (আল হাদিস)
☼ পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি আর পিতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি। (আল হাদিস)
☼ কোন ব্যক্তি যখন মৃত্যুবরণ করল, তার কেয়ামত তখনই সংঘঠিত হয়ে গেল। (আল হাদিস)
☼ যে নিজেকে চিনতে পেরেছে সে আল্লাহকে চিনতে পেরেছে। (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি কথা, কাজ ও চিন্তায় সৎ নয় সে প্রকৃত পক্ষে সত্যনিষ্ট নয় । (আল হাদিস)
☼ প্রভাতে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে জাগ্রত হওয়ার চেয়ে রাতে ক্ষুধার্ত অবস্থায় নিদ্রা যাওয়া অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ। (আল হাদিস)
☼ আল্লাহ নিজে পবিত্র, পবিত্র ব্যতিত তিনি কিছু গ্রহন করেন না । – আল হাদীস
☼ যার হাত ও জিহ্বা থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে সেই প্রকৃত মুসলমান । (আল হাদিস)
☼ নিজেকে জয়ের চেষ্টাই হলো সর্বশ্রেষ্ট জিহাদ। (আল হাদিস)
☼ দারিদ্রের পীড়ন থেকে নিজেকে রক্ষা করে চলবে। কেননা ভয়াবহ দারিদ্র মানুষকে কুফরীর দিকে নিয়ে যায় । (আল হাদিস)
☼ অনতর দিয়ে সত্যকে উপলব্ধি করা, মুখ দিয়ে তা প্রকাশ করা এবং অঙ্গ-প্রতঙ্গের মাধ্যমে তদনুযায়ী কাজ করার নামই ঈমান । (আল হাদিস)
☼ নিশ্চয় কবর হলো আখেরাতের মঞ্জিলসমূহের মধ্যে প্রথম মঞ্জিল। যদি এই মঞ্জিলে নাজাত পাওয়া যায় তবে পরের মঞ্জিলসমূহ সহজে পাড়ি দেওয়া যাবে। – (আল হাদিস)
☼ দোলনা হইতে কবর পযর্ন্ত জ্ঞান অর্জন কর। জ্ঞানচর্চায় যিনি নিজেকে উৎসর্গ করেন তার মৃত্যু নেই । জ্ঞানীকে সম্মান করলে আমাকেই সম্মান করা হয় । (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি নিজের সমালোচনা করতে জানে সেই সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান । (আল হাদিস)
☼ ধন-সমপদ থাকলেই ধনী হওয়া যায় না বরং সেই প্রকৃত ধনী যার হৃদয় বড়। (আল হাদিস)
☼ (জ্ঞানীদের) সদুপদেশ ভিন্ন কোন কঠিন কাজে লিপ্ত হয়ো না । তোমার জন্য নিষপ্রয়োজন এমন কাজে কখনো ঝাঁপিয়ে পড়ো না । (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি কখনও বিপদাপন্ন হয়নি সে প্রকৃত ধীরসি’র হতে পারে না যেরূপ বহুদর্শিতা এবং অভিজ্ঞতা ছাড়া কেহ সুচিকিৎসক হতে পারে না । (আল হাদিস)
☼ পিতার প্রতি পুত্রের যেরূপ কর্তব্য বড় ভাইয়ের প্রতি ছোট ভাইয়ের কর্তব্যও তদ্রুপ। (আল হাদিস)
☼ তোমরা রোজা রাখিও তাহলে সুস্বাস’্য লাভ করবে। (আল হাদিস)
☼ রোজাদার অবস্থায় তোমাদের কেউ যেন অশ্লীল কাজে এবং ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত না হয় । কেউ যদি তাকে গালি দেয় কিংবা বিবাদে লিপ্ত হয় তবে সে যেন বলে, আমি রোজাদার। – আল হাদীস
☼ যে ব্যক্তি সালাম দিতে অনীহা বোধ করে, সে কৃপণদের অনতর্ভূক্ত। যে ব্যক্তি প্রথমে সালাম দেয় সে অহঙ্কার থেকে মুক্ত। (আল হাদিস)
☼ যে মহিলা অল্পতে সন্তুষ্ট থাকে, সে মহিলাদের মধ্যে সর্বোত্তম । (আল হাদিস)
☼ কোনো ব্যক্তি যখন তার হালাল অর্থ নিয়ে হজ্জে বের হয়, বাহনে চড়ে, উচচস্বরে তালবিয়া পড়ে আল্লাহর দরবাবে হাজিরা দেয় । ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’-হাজির প্রভু তোমার দরবারে হাজির, তখন আল্লাহ পাক তার জবাবে বলেন ঃ ‘লাব্বাইক ওয়া সা’দায়িক’-আমিও হাজির, তোমার পক্ষে আছি, তুমি সৌভাগ্যের অধিকারী। কেননা তোমার যাতায়াত খরচ, তোমার বাহন সবকিছু হালাল উপায়ে অর্জিত। পক্ষান্তরে যে হারাম অর্থ নিয়ে হজ্জে বের হয়, তার লাব্বাইক উচচারণের জবাবে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন ঃ ‘লাব্বাইক ওয়া লা সা’দায়িক’-আমি তোমার জন্যে হাজির নই, তোমার পক্ষেও নই, তোমার সৌভাগ্যও নেই । কেননা তোমার হজ্জে ব্যয়িত অর্থ হালাল পন্থায় উপার্জিত নয় । – – আল হাদীস – আল হাদীস (তিবরানী)
☼ মাত্রাতিরিক্ত ইবাদতের চেয়ে মাত্রাতিরিক্ত জ্ঞানই শ্রেয় । (আল হাদিস)
☼ উপহাস করো না, তাতে সম্মান নষ্ট হবে। মিথ্যা বলো না, তাতে ঈমানের জ্যোতি নষ্ট হবে। নিরাশ হয়ো না, অন্যথায় সত্যের উপর প্রতিষ্টিত থাকতে পারবে না । অলসতা করো না, তাতে কর্তব্যে ত্রুটি আসবে। (আল হাদিস)
☼ মূর্খের ইবাদত অপেক্ষা জ্ঞানীর নিদ্রা উত্তম । (আল হাদিস)
☼ দুর্ভাগ্য আরবদের জন্য যে, এক বিরাট বিপর্যয় তাদের সন্নিকটবর্তী। সেই ব্যক্তিই সফলকাম হবে, যে নিজের হাত গুটিয়ে রাখবে। – – আল হাদীস (আবু দাউদ শরীফ ‍ঃ)
☼ ভাল ব্যবহারের বদলে ভাল ব্যবহার- ইহার নাম উত্তম আচরণ নয় । বরং মন্দ ব্যবহারের বদলে ভাল ব্যবহার- ইহার নামই উত্তম আচরণ। (আল হাদিস)
☼ নিশ্চয়ই এই পার্থিব জীবন অতীব চিত্তাকর্ষক আর মনোরম এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদেরকে এখানে তাঁর প্রতিনিধিত্বের দ্বায়িত্ব দিয়েছেন । অতঃপর তিনি দেখছেন, তোমরা কিরূপ কর্ম কর। – – আল হাদীস (মুসলিম শরীফ)
☼ কেয়ামত হবে না যে পযর্ন্ত না তোমরা পশমের জুতা পরিধানকারী এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে এবং যতক্ষণ না তোমরা তুর্কীদের সাথে যুদ্ধ করবে যাদের চক্ষু ছোট, মুখ লাল, নাক চেপ্টা ; তাদের মুখমন্ডলের পরতে পরতে ভাঁজ, চামড়ার ঢালের ন্যায় । – (মেশকাত শরীফ)
☼ এক সময় আমার উম্মতের কিছু লোক এক নীচু ভূমিতে অবতরণ করবে। উক্ত স্থানটিকে তারা ‘বসরা’ নামে অভিহিত করবে এবং স্থানটি দজলা নামক এক নদীর নিকট। নদীর উপর একটি সেতু হবে। উক্ত স্থানে অধিবাসীর সংখ্যা হবে বিপুল। শেষ পযর্ন্ত তা মুসলিম নগরসমূহের মধ্যে একটি অন্যতম নগরীতে পরিণত হবে। অতঃপর শেষ জমানায় চওড়া মুখমন্ডল, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চক্ষুবিশিষ্ট কানতুরার বংশধরগণ উক্ত শহরবাসীদের বিরুদ্ধে আসবে এবং তারা উক্ত নদীর পার্শ্বে আসতানা গাড়বে। তাদের দেখে শহরবাসী তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে। একভাগ গবাদিপশুর পেছনে মাঠে-ময়দানে আশ্রয় নিবে। ফলে তারা সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে। আরেক ভাগ কানতুরার বংশধরদের নিকট আশ্রয় চাইবে, তারাও ধ্বংস হবে। অবশিষ্ট আরেক ভাগ নিজেদের সন্তান-সনততি ও পরিবার-পরিজনকে পেছনে রেখে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, তাদের সবাই শহীদ রূপে গণ্য হবে। – আল হাদীস (মেশকাত শরীফ)
☼ তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে তার সত্রীর নিকট উত্তম । (আল হাদিস)
☼ যে জ্ঞান অর্জন করে তার মৃত্যু নেই । (আল হাদিস)
☼ যখন তোমাদের কন্যারা নিঃস্ব হয়ে তোমাদের নিকট ফিরে আসে, তখন তাদের জন্য তোমরা যা ব্যয় করবে তাই তোমাদের সর্বোৎকৃষ্ট দান স্বরূপ। (আল হাদিস)
☼ পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার পূর্বে এমন একটি সময় আসবে যখন লোকেরা কবরের পার্শ্ব দিয়ে যাওয়ার কালে তার ওপর লুটিয়ে পড়ে আফসোস করবে, “হায় ! এ কবরে যিনি শায়িত আছেন, তার স’লে যদি আমি থাকতাম, তবে কতই না ভাল হত !’’ – আল হাদীস (মুসলিম শরীফ ‍ঃ)
☼ পুণ্যবান সত্রী হলো মানুষের সর্বাপেক্ষা মুল্যবান সমপদ। (আল হাদিস)
☼ সত্য সকলের নিকট অপ্রিয় হলেও তা প্রচার কর। (আল হাদিস)
☼ পরিচছন্ন্তা ঈমানের অঙ্গ। (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি অন্যায় ভাবে চড়ুই পাখির ন্যায় ছোট্র প্রাণীকেও হত্যা করবে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সেই হত্যা সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন । (আল হাদিস)
☼ অদূর ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ দুর্বিপাক দেখা দিবে, যা গোটা আরবভূমিকে গ্রাস করে ফেলবে। এতে যারা নিহত হবে তারা জাহান্নামী। সেই গোলযোগের সময় মুখের ভাষা হবে তরবারির আঘাতের চাইতে বেশী ক্ষতিকর। -(ইবনে মাজাহ শরীফ)
☼ যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয় । (আল হাদিস)
☼ আল্লাহ রমযানের সিয়াম পালনকে ফরজ এবং রাতে তারাবিহ্ পড়াকে সুন্নাত সাব্যস’ করেছেন । কেউ আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য রমযানে একটি নফল আমল করলে অন্যমাসে একটি ফরজ আদায়ের সমান সওয়াব লাভ করবে এবং রমযানে একটি ফরজ আদায় করলে অন্য সময়ে সত্তরটি ফরজ আদায়ের সমান সওয়াব লাভ করবে। বস্তুত রমযান হলো ধৈর্যের মাস এবং এই ধৈর্যের পুরস্কার হলো জান্নাত। আর এই মাস হলো মানুষের প্রতি সমবেনা ও সহানুভুতি প্রকাশের মাস। – (আল হাদীস)
☼ তিন ব্যক্তির দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়ে থাকে ঃ পিতার দোয়া, মুসাফিরের দোয়া এবং অত্যাচারিতের দোয়া । (আল হাদিস)
☼ রোগীর সেবা-শশ্রুষাকারী নিজ গৃহে না ফেরা পযর্ন্ত জান্নাতের পথে চলতে থাকে । (আল হাদিস)
☼ পুরনো কাপড় পরিধান করা এবং আধাপেট পানাহার করা পয়গম্বর সুলভ স্বভাবের অনতর্ভূক্ত। (আল হাদিস)
☼ নবী করীম (দঃ) কবর পাকা করতে, তাতে সৌধ নির্মাণ করতে এবং তার সামনে বসে ধ্যান করতে নিষেধ করেছেন । (আল হাদিস)
☼ গৃহকর্তার অসুবিধা সৃষ্টি করে অতিথির পক্ষে বেশীদিন অবস্থান করা সমীচিন নয় । (আল হাদিস)
☼ কারো পক্ষে মিথ্যাবাদী গণ্য হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে (যাচাই না করে) তাই বলে বেড়ায় । (আল হাদিস)
☼ পিতামাতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উত্তম পন্থা হলো মৃত্যুর পর তাদের বন্ধুদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করা । (আল হাদিস)
☼ পিতামাতাকে গালি দেওয়া কবিরা গুণাহ। (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি নিজের বা অন্যের জন্য পরিশ্রম করতে অনিচছুক, সে আল্লাহর পুরস্কার থেকে বঞ্চিত। (আল হাদিস)
☼ মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেশত। (আল হাদিস)
☼ যত ইচছা খেতে ও পড়তে পারো যদি না তোমাকে অপব্যয় ও অহঙ্কার স্পর্শ করে। (আল হাদিস)
☼ যখন কেউ অনুপসি’ত কারো জন্য দোয়া করে তা দ্রুত কবুল করা হয়ে থাকে । (আল হাদিস)
☼ জুলুম-অত্যাচার কেয়ামতের দিন ঘোর অন্ধকারের রূপ লাভ করবে। (আল হাদিস)
☼ কারো ওপর অত্যাচার হলে সে যদি ধৈর্য ধারন করে, আল্লাহ তার সম্মান বৃদ্ধি করে দেন । (আল হাদিস)
☼ না চেয়েও যদি কিছু পাওয়া যায় তবে তা গ্রহন করো এবং প্রতিদান দিতে চেষ্টা করো। (আল হাদিস)
☼ আল্লাহর নিকট সর্বাধিক ঘৃণিত ঐ ব্যক্তি যে বিরোধ অব্যাহত রাখতে একগুঁয়েমি করে। (আল হাদিস)
☼ একদা রাসুলুল্লাহ (দঃ) এই আয়াত পাঠ করলেন যে, “ হে মানব জাতি ! তোমাদের প্রভুকে ভয় কর, নিশ্চয় কিয়ামতের প্রকমপন হবে অতীব ভয়ানক।’’ তারপর তিনি সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করলেন, “এই অবস্থা কখন হবে বলতে পার ?’’ সাহাবীগণ বললেন, “আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলই ভাল জানেন ।’’ তিনি বললেন, “এই অবস্থা সেদিন হবে যেদিন আল্লাহ পাক আদমকে ডেকে বলবেন- ‘হে আদম উঠ এবং তোমার গোনাহ্‌গার সন্তানদেরকে দোযখে প্রেরণ কর।’’ তখন আদম (আঃ) জিজ্ঞাসা করবেন, “হে আল্লাহ ! প্রতি হাজারে কতজনকে প্রেরণ করব ?’’ আল্লাহ বলবেন, “প্রতি হাজারে একজনকে বেহেশতের জন্য রেখে অবশিষ্ট নয়শ নিরানব্বই জনকে দোযখে প্রেরণ করো।’’ এই কথা সাহাবীদের নিকট খুবই কঠিন মনে হলো এবং তারা ভয়ে কাঁদতে লাগলেন । তারপর নবী করীম (দঃ) আল্লাহর নিকট দোয়া করে সাহাবীদেরকে বলবেন, ‘‘আমি আশা করি অবশ্যই তোমাদের এক-চতুর্থাংশ বেহেশতী হবে।’’ রাসুলুল্লাহ (দঃ) পুণরায় বললেন, “ আমি আশা করি তোমাদের অর্ধেক নিশ্চয় বেহেশ্‌তী হবে।’’ এতদ্ শ্রবণে সাহাবীগণ সন্তুষ্ট হলেন । মহানবী (দঃ) আরও বললেন, “সুসংবাদ গ্রহন করো যে, তোমরা অন্যান্য উম্মতের তুলনায় একপাল উটের ভেতর একটি বকরী তুল্য হবে এবং তোমরা হাজারের মধ্যে একজন হবে।’’ – (আল হাদিস)
☼ যে ব্যক্তি আমার মসজিদে একাধারে চল্লিশ ওয়াক্ত নামায আদায় করবে তার জন্য দুইটি মুক্তি রয়েছে ঃ- একটি জাহান্নাম থেকে মুক্তি আর অন্যটি মুনাফেকী থেকে মুক্তি। – আল হাদীস (মুসনাদে আহমদ)
☼ যদি জাহান্নামীদের মধ্য হইতে কোনো ব্যক্তিকে পৃথিবীতে পাঠানো হয় তবে তার ভীতিপ্রদ চেহারা এবং দুর্গন্ধে পৃথিবীর সব জীবজন্তু মারা যেত। – আল হাদীস
☼ তোমরা বিজ্ঞান শিক্ষা কর ; যার কাছ থেকেই পাও আর যেখান থেকেই পাও । এতে তোমাদের কোন দোষ নেই । (আল হাদিস)
☼ নিশ্চয় নামাযের মধ্যে রোগনাশক শক্তি রয়েছে। -(আল হাদিস)
☼ দনত মাজন মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের প্রতিষেধক। (আল হাদিস)
☼ নিশ্চয় প্রত্যেক জিনিসের ক্ষেত্রেই যাকাত রয়েছে। আর শরীরের যাকাত হলো রোজা। (আল হাদিস)
☼ রোজা রাখ ; তাহলে সুস্থ থাকতে পারবে। (আল হাদিস)
☼ অতিরিক্ত ভোজন দূর্ভাগ্যসূচক। (আল হাদিস)
☼ আল্লাহর পথে নিহত শহীদগণ মৃত্যুর কষ্ট ঠিক সেরূপ অনুভব করে পিঁপড়ার কামড়ের কষ্ট তোমরা যেরূপ অনুভব করে থাক। – (আল হাদিস)
☼ [জনৈক ভুঁড়িওয়ালা ব্যক্তিকে দেখে মহানবী (দঃ) বললেন] যা কিছু তুমি উদরে ভর্তি করেছো তা অন্যত্র ব্যয় করলে উত্তম হতো। (আল হাদিস)
☼ তোমরা এমনভাবে পানাহার করবে যাতে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য দ্বারা, এক-তৃতীয়াংশ পানি দ্বারা আর এক-তৃতীয়াংশ বায়ু দ্বারা পূর্ণ থাকে । (আল হাদিস)
☼ কখনও মদ্যপান করো না ; কেননা উহা সমস্ত কুকর্মের চাবিকাঠি স্বরূপ। (আল হাদিস)
☼ আমার উম্মতের মধ্যে যারা মিহি আটা ভক্ষন করে তারা নিকৃষ্ট। (আল হাদিস)
☼ রোজা হলো ঢাল স্বরূপ। অতএব রোজা অবস্থায় যেন অশ্লীল ও মূর্খতাসুলভ কাজ থেকে বিরত থাকে । ঐ সত্তার কসম যার কব্জায় আমার প্রাণ, অবশ্যই রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকের সুগন্ধের চাইতেও উৎকৃষ্ট। -(- আল হাদীস (বোখারী শরীফ ‍ঃ))
☼ যে ব্যক্তি গোঁফ ছেটে রাখে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয় । -(নাসাঈ শরীফ)
☼ যে মাংস খন্ড হারাম খাবারে পরিপুষ্ট হয়েছে, তা জান্নাতে যাবে না । – আল হাদীস (মুসনাদে আহমদ)

তাড়াহুড়ায় কোন কল্যাণ নেই

এক ব্যক্তি মৃত্যুমুখে পতিত হয় । মৃত্যুর সময় সে একটি শিশু সন-ান এবং একটি ক্রীতদাস রেখে যায় । ক্রীতদাসকে সে তার পুত্রের ব্যাপারে উপদেশ দিয়ে যায় (যেন সে তাকে উত্তমরূপে লালনপালন করে)। ক্রীতদাসটি এব্যাপারে কোন ত্রুটি করে নাই । এমনকি বালকটি যখন যুবক হইল ক্রীতদাসটি তখন তাকে বিয়েও করিয়ে দিল। এবার সে ক্রীতদাসটিকে বলল ঃ আমার জ্ঞানার্জনে যাওয়ার ব্যবস্থা কর, আমি জ্ঞানার্জন করব। তার কথামতো ক্রীতদাসটি তার জ্ঞানান্বেষণে যাত্রার আয়োজন করল। সে একজন জ্ঞানীর নিকট গিয়ে উপস্থিত হলো এবং তাঁর কাছে জ্ঞানদানের আবেদন জানাল। জ্ঞানী ব্যক্তি তাকে বললেন ঃ যখন তোমার বিদায়ের সময় হবে, তখন আমাকে বলিও, আমি তোমাকে জ্ঞানের কথা শিক্ষা দিব। প্রকৃতই যখন তার বিদায়ের সময় হলো, তখন সে জ্ঞানীকে বলল ঃ আমি এখন প্রস্থান করব, আপনি আমাকে জ্ঞানের কথা শিক্ষা দিন । জ্ঞানী বললেন ঃ আল্লাহ্‌কে ভয় করবে, ধৈর্যধারণ করবে এবং কোন ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করবে না । (ইহাতে যাবতীয় কল্যাণ নিহিত আছে।) অতঃপর সে যখন ফিরে এলো, তখন উহা তার স্মরণে রইল। কেননা, কথা তো মাত্র তিনটিই ছিল। তারপর সে যখন তার পরিবারের নিকট এলো এবং বাহন থেকে অবতরণ করল, তখন দেখতে পেল যে, একটি নারী ও একটি পুরুষ অল্প দূরত্বে শুয়ে আছে এবং সে নারীটি তারই স্ত্রী ! সে মনে মনে বলল ঃ এহেন দৃশ্য দেখার পর আর কিসের অপেক্ষা ! সে তার বাহনের নিকট ফিরে গেল এবং তরবারি ধরিতে গিয়েই স্মরণ হলো, আল্লাহ্‌কে ভয় করবে, ধৈর্যধারণ করবে এবং কোন ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করবে না । আবার যখন তার শিয়রে গিয়ে উপস্থিত হলো, তখন পুণরায় বলল ঃ এমন দৃৃশ্য দেখার পর আর অপেক্ষা কিসের ! পুণরায় সে সওয়ারীর নিকট গেল এবং তলোয়ার ধরতে যেতেই উহা মনে পড়ে গেল। পুণরায় সে তার শিয়রে গিয়ে উপস্থিত হলো। তখন সেই ঘুমন- ব্যক্তিটি জেগে ওঠল এবং তাকে দেখতে পেয়ে সাথে সাথে জড়িয়ে ধরল, আলিঙ্গন করল এবং চুম্বন করল। সে ব্যক্তিটি তখন তাকে জিজ্ঞেস করল, আমাদের কাছ থেকে যাওয়ার পর আপনি কী জ্ঞান অর্জন করলেন ? সে বলল ঃ আল্লাহ্র কসম, তোমাদের নিকট থেকে যাওয়ার পর আমি প্রভূত কল্যাণ লাভ করেছি। আজ রাতে আমি তিনবার তরবারি এবং তোমার মধ্যে যাতায়াত করেছি এবং যে জ্ঞান আমি অর্জন করেছি, উহাই তোমাকে হত্যা করা হইতে আমাকে বিরত রাখিয়াছে। -আল হাদীস (আল আদাবুল মুফরাদ)

ডাঃ বশীর মাহমুদ ইলিয়াস
গ্রন্থকার, ডিজাইন স্পেশালিষ্ট, ইসলাম গবেষক, হোমিও কনসালটেন্ট
চেম্বার ‍ঃ জাগরণী হোমিও হল
৪৭/৪ টয়েনবী সার্কুলার রোড (নীচতলা)
(ইত্তেফাক মোড়ের পশ্চিমে এবং স্টুডিও 27 এর সাথে)
টিকাটুলী, ঢাকা।
ফোন ঃ +৮৮০-০১৯১৬০৩৮৫২৭
E-mail : Bashirmahmudellias@hotmail.com
Website : http://bashirmahmudellias.blogspot.com
Website : https://bashirmahmudellias.wordpress.com

ক্যানসারের চিকিৎসায় ভয়ঙ্কর বিপদ
http://bashirmahmudellias.blogspot.com/2009/10/cancer-and-its-perilous-treatment_31.html
মানসিক রোগীদের চরম দুর্ভাগ্য
http://bashirmahmudellias.blogspot.com/2009/10/mental-patients-their-tradgedy.html
হৃদরোগের সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা আছে হোমিওপ্যাথিতে
http://bashirmahmudellias.blogspot.com/2010/02/cardiac-diseases-their-easy-cure.html
কিডনী রোগের প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসা
http://bashirmahmudellias.blogspot.com/2009/10/kidney-diseases-their-real-cause-and.html
শিশুদের টিকা থেকে সাবধান
http://bashirmahmudellias.blogspot.com/2008/10/beware-of-childhood-vaccine.html
হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ছাড়া ডায়াবেটিস নিমূর্ল হয় না
http://bashirmahmudellias.blogspot.com/2009/09/diabetes-and-some-hard-talks.html
হেপাটাইটিস একটি ফালতু রোগ
http://bashirmahmudellias.blogspot.com/2008/11/hepatitis-is-not-incurable-disease.html
প্যাথলজিক্যাল টেস্ট মারাত্মক ক্ষতিকর
http://bashirmahmudellias.blogspot.com/2010/04/pathological-tests-are-seriously.html
ফ্রি হোমিওপ্যাথিক ই-কনসালটেশান
Free homeopathic e-consultation
http://bashirmahmudellias.blogspot.com/2009/11/free-homeopathic-e-consultation.html

Author: bashirmahmudellias

I am an Author, Design specialist, Islamic researcher, Homeopathic consultant.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s