Dr. Bashir Mahmud Ellias's Blog

Know Thyself

Psychiatric medicines with their precise indication

Leave a comment

Psychiatric medicines with their precise indication (সংক্ষিপ্ত ব্যবহার নির্দেশিকাসহ কিছু মানসিক রোগের ঔষধ)ঃ- আমরা শারীরিক বা মানসিকভাবে অসুস্থ হলে কোন চিকিৎসা পদ্ধতি অবলম্বন করে চিকিৎসা করলে সবচেয়ে দ্রুত, আরামের সাথে আর কম খরচে সম্পূর্ণরূপে স্থায়ীভাবে রোগমুক্ত হতে পারব, তা ঠিক করতে প্রায়ই ভুল করে থাকি। সোজা কথায় শারীরিক বা মানসিক যে-কোন ধরণের রোগেই আমরা আক্রান্ত হই না কেন, প্রথমেই আমাদের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা অবলম্বন করা উচিত। কেননা ঔষধের যাদুকরী শক্তি বলতে যা বোঝায়, তা কেবল হোমিওপ্যাথিক ঔষধেরই আছে। হোমিও চিকিৎসার ব্যর্থতার পরেই কেবল আমাদের সার্জারী বা অস্ত্রচিকিৎসার কথা স্মরণ করা উচিত। মানসিক রোগের চিকিৎসায়ও প্রথমেই আমাদের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা অবলম্বন করা উচিত।

কেননা মানুষের মনকে পরিবর্তন বা প্রভাবিত করার ক্ষমতা কেবল হোমিওপ্যাথিক ঔষধেরই আছে। এলোপ্যাথিক, ইউনানী, আয়ুর্বেদিক প্রভৃতি ঔষধের মানুষের মনের উপর কোন ক্রিয়া করার ক্ষমতা নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, অধিকাংশ মানুষ মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্য হোমিও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের কাছে না গিয়ে বরং মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞদের স্মরণাপন্ন হয়ে থাকেন। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমরা যাদেরকে জানি, তাদের সবাই এলোপ্যাথিক ডাক্তার। ওনারা খুবই মেধাবী, জ্ঞানী, গুণী, সুদীর্ঘ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইত্যাদি ইত্যাদি সবই সত্য। কিন্তু মানসিক রোগের চিকিৎসা করার মতো ঔষধ ওনাদের হাতে নাই। ফলে তাদের দৃষ্টান্ত অনেকটা “ঢাল নাই তলোয়ার নাই, নিধিরাম সরদার”-এর মতো। কেননা তাদের কোন ঔষধই মানুষের মনের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় নাই। ফলে মানসিক রোগীদেরকে তারা কেবল মাথা ঠান্ডা করার ঔষধ (Tranquillizer) অথবা ঘুমের ঔষধ (Hypnotic) দিয়ে যুগের পর যুগ চিকিৎসা চালিয়ে যান। আমাদের শরীরের একটি নিজস্ব শক্তিশালী রোগ নিরাময় ক্ষমতা আছে। এই কারণে অধিকাংশ ছোট-বড় শারীরিক রোগ বিনা চিকিৎসাতেই সেরে যায়। তেমনিভাবে অধিকাংশ মানসিক রোগও শরীরের নিজস্ব রোগ নিরাময় ক্ষমতার (immune system) বদৌলতে বিনা ঔষধেই সেরে যায়। মাঝখানে এসব ঘুমের ঔষধের (Sedative) সুনাম বেড়ে যায় ।

আকস্মিক মানসিক উত্তেজনা (anxiety) থেকে যে-সব মানসিক রোগ হয়, সে-সব রোগ কিছুদিন ঘুমের ঔষধ (sedative) খেলেই সেরে যেতে দেখা যায়। কিন্তু সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, যে-সব মানসিক রোগের মুল কারণ অনেক গভীরে প্রোথিত (miasmatic/ constitutional) ; সে-সব রোগ দীর্ঘদিন যাবত ঘুমের ঔষধ খাওয়ার ফলে ভালো তো হয়ই না, বরং নিশ্চিতভাবে আরোও খারাপের দিকে চলে যায়। বিভিন্ন স্বনামধন্য চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্টানের গবেষণায় অনেক পুর্বে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, এসব মাথা ঠান্ডা রাখার ঔষধ/ ঘুমের ঔষধ আমাদের মস্তিষ্কের নিজেকে নিজে নিরাময় করার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে। এভাবে এসব ঘুমের ঔষধ আমাদের মস্তিষ্ককে স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দেয় এবং তখন মানসিক রোগটি আর আরোগ্যের কোন আশাই থাকে না। তাই বলা যায়, এসব জটিল মানসিক রোগীদেরকে যদি বছরের পর বছর ঘুমের ঔষধ খাওয়ানোর পরিবর্তে বিনা ঔষধেও ফেলে রাখা হতো, তাহলেও দেখা যেতো শরীরের নিজস্ব রোগ নিরাময় ক্ষমতার বদৌলতেই এদের অধিকাংশই এক সময় রোগমুক্ত হয়ে যেতো। মানসিক রোগীদের চিকিৎসার নামে আমাদের মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা জেনেশুনেই এভাবে তাদের সর্বনাশ করে থাকেন।

আমাদের জানতে ইচ্ছে করে, এজন্য তারা কোন বিবেকের পীড়া অনুভব করেন কিনা ? হয়ত (হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে) অজ্ঞতার কারণে তাও তারা অনুভব করেন না ; হয়ত তারা ভাবেন আমরা আমাদের বিদ্যা-বুদ্ধি-অভিজ্ঞতা দিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি ! এমনকি এলোপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথাকথিত এই চরম উন্নতির (!) যুগেও এলোপ্যাথিক মানসিকরোগ বিশেষজ্ঞরা মানসিক রোগীদের ওপর নানানভাবে অত্যাচার-নিরযাতন করে থাকেন ; যেমন- মানসিক রোগের চিকিৎসার নামে মস্তিষ্কের সামনের দিকের নার্ভ (neurotransmitters) কেটে দেওয়া (frontal lobotomies), বিদ্যুতের শক দেওয়া (etectroshock therapy), নারীদের যৌন উন্মত্ততার (nymphomaniacs) চিকিৎসার জন্য ডিম্বাশয় (ovary) কেটে ফেলে দেওয়া (ovarectomies) ইত্যাদি ইত্যাদি । তাই বলা যায়, এখনকার দিনে মনোরোগ চিকিৎসা বিজ্ঞান যে স্ট্যান্ডার্ডে এসে পৌঁছেছে, আজ থেকে দুইশ বছর পূর্বেও হ্যানিম্যানের স্ট্যান্ডার্ড ইহার চাইতে অনেক ভালো ছিল এবং মানসিক রোগীরা এখনকার মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের নিকট থেকে যতটুকু সদয় ব্যবহার পেয়ে থাকেন, দুইশ বছর পূর্বেই হ্যানিম্যান তাঁর অনুসারী হোমিও ডাক্তারদেরকে ইহার চাইতেও অধিক সদয় ব্যবহারের শিক্ষা দিয়ে গেছেন । হ্যানিম্যান প্রমাণ করে গেছেন যে, শারীরিক কোন রোগের কুচিকিৎসাই হলো অধিকাংশ মানসিক রোগের মূল কারণ। মানসিক রোগের চিকিৎসাতে হোমিও ঔষধ সাধারণত উচ্চ শক্তিতে খাওয়ানো নিয়ম। তবে সংগ্রহে না থাকলে নিম্নশক্তিতেও খাওয়াতে পারেন। সাধারণত এক-দুই-তিন মাত্রা ঔষধ খাওয়ানোর পরেও যদি কোন পরিবর্তন না হয়, তবে বুঝতে হবে ঔষধ নিবার্চন ভুল হয়েছে। নতুন করে চিন্তা করে অন্য ঔষধ প্রয়োগ করুন।

(ক) মজার মজার বিষয় কল্পনায় দেখে বা শোনে, ভীষণ ক্রুদ্ধ, হিংস্র চাহনি, রক্তচক্ষু, আঘাত করা বা কামড়ানোর প্রবনতা, কল্পনায় দৈত্য-দানব, ভূ-প্রেত, পোকা-মাকড় ইত্যাদি দেখা, আলোকভীতি, ভীতিকর স্বপ্নের জন্য ঘুমাতে না পারা, মস্তিষ্কের রক্তসঞ্চয় (অর্থাৎ নাক-মুখ-চোখ গরম বা লাল হয়ে থাকা) ইত্যাদি লক্ষণযুক্ত মানসিক রোগে বেলেডোনা (Belladonna) ঔষধটি অব্যর্থ ঔষধ।

(খ) প্রচণ্ড উন্মত্ততা, প্রলাপ, বকবকানি, অন্ধকারভীতি, পানিভীতি, মাথায় রক্তসঞ্চয়, নিঃসঙ্গতায় ভয়, পলায়ণপর ভাব, প্রচণ্ড ভীতিভাব ইত্যাদি লক্ষণে স্ট্র্যামোনিয়াম (Stramonium) ঔষধটি কাযর্করী।

(গ) মানসিক অসুস্থতার সাথে অশ্লীল কথা, অশ্লীল গান বা অঙ্গভঙ্গি, গায়ের কাপড় ফেলে দেয়া বা যৌনাঙ্গ প্রদর্শন করা, একা থাকতে ভয়, অন্যরা তাকে কামড়াবে বা বিষপ্রয়োগে হত্যার ভয়, কিছু দিলে নিতে অস্বীকার করা, সবাই তার বিরুদ্ধে চক্রান- করতেছে, পানিভীতি ইত্যাদি লক্ষণে হায়োসাইয়েমাস (Hyoscyamus niger) ঔষধটি অব্যর্থ।

(ঘ) শারীরিক বা মানসিক ব্যাধির সাথে যদি সবাইকে সন্দেহ করার প্রবনতা, স্মরণশক্তি হ্রাস পায়, হিংসুটে ভাব, অযথা অভিসমপাত এবং মিথ্যা কসম খাওয়া, হাঁটার সময় মনে হয় কেউ তাকে অনুসরণ করছে, এখনই ভয়ঙ্কর কিছু একটা ঘটবে এমন ভয়, অশরীরি কে যেনো তাকে আদেশ করছে এবং অন্যজন তাকে নিষেধ করছে, নিজের বা অন্যের উপর আস’ার অভাব ইত্যাদি লক্ষণে এনাকার্ডিয়াম (Anacardium oriental) যাদুর ন্যায় কাজ করে।

(ঙ) কোন মানসিক রোগী যদি ধমীর্য় কথাবার্তা বেশী বলে (অর্থাৎ ইনশাল্লাহ, মাশায়াল্লাহ, সোবহানাল্লাহ, আল্লাহ, রাসুল, নামায, রোজা, বেহেশত, দোযখ ইত্যাদি), তবে তার রোগের নাম যা-ই হোক না কেন, তাকে উচ্চ শক্তিতে একমাত্রা ল্যাকেসিস (Lachesis) ঔষধটি খাইয়ে দিন। সে মুহূর্তে মধ্যে সুস্থ হয়ে যাবে। ল্যাকেসিস ঔষধটির আরেকটি প্রধান লক্ষণ হলো ইহার রোগীরা হিংসুটে হয়ে থাকে ; অর্থাৎ রোগীর কথা-বার্তায় যদি অন্যদের প্রতি হিংসা প্রকাশ পায়, তবে তাকে ল্যাকেসিস খাওয়াতে হবে।

(চ) প্রেমে ব্যর্থতা, আপনজনের মৃত্যু, বিরহ, তালাক, চাকুতিতে বা ব্যবসায়ে লোকসান, ভীষণ মানসিক আঘাত ইত্যাদির কারণে কোন রোগ হলে প্রথমে ইগ্নেশিয়া (Ignatia amara) খাওয়াতে হবে। ইগ্নেশিয়া খাওয়ার পরেও যদি একশ ভাগ রোগমুক্তি না হয়, তবে অসমাপ্ত নিরাময় শেষ করার জন্য নেট্রাম মিউর (Natrum muriaticum) খাওয়া জরুরি।

(ছ) ঝগড়া-ঝাটি, অপমান, ধর্ষন, তালাক, শিক্ষকের পিটুনি ইত্যাদির পরে কোন শারীরিক বা মানসিক রোগ হলে Staphisagria খান, আপনার শরীর-মন স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

(জ) শিশুদের মাত্রাতিরিক্ত দুষ্টুমির জন্য Medorrhinum (পেট নীচে দিয়ে ঘুমায় এবং কমলা খেতে বেশী পছন্দ করে) খাওয়ান। যারা ঘরের ভেতর স্বৈরাচারী কিন্তু বাইরে অতিশয় ভদ্রলোক তাদের জন্য Lycopodium (শক্তি ১০,০০০) ঔষধটি খুবই ফলদায়ক।

(ঝ) কথায় কথায় ভাঙচুর বা ধ্বংসাত্মক আচরণে অভ্যস’, অল্পতেই ভীষণ ক্ষেপে যায়, কুকুরকে ভয় পায়, ভ্রমণ পছন্দ লক্ষণে Bacillinum (শক্তি ১০০০) মাসে একমাত্রা করে তিন মাস খান এবং দরকার হলে পরবর্তীতে শক্তি বৃদ্ধি করে খান।

(ঞ) চরমমাত্রায় অসি’রতা, সর্বদা একটা না একটা কিছু করতেই হয়, নড়াচড়া ছাড়া থাকতে পারে না, এমনকি রোগীকে যদি দড়ি দিয়ে টাইট করে বেধেও রাখে তথাপি সে একটি আঙ্গুল হলেও নাড়াতে থাকবে, অপ্রয়োজনে চুরি করার স্বভাব ইত্যাদি লক্ষণে Tarentula hispanica ভালো।

(ট) অহংকারী, নিজেকে খুব বড় মনে করা, নিজেকে ব্যতীত সবকিছুকে তুচ্ছ মনে করা ইত্যাদি লক্ষণে Platina (শক্তি ২০০)।

(ঠ) অতিরিক্ত মানসিক উত্তেজনার জন্য Coffea cruda (শক্তি কিউ, ৩,৬,৩০,২০০) ।

(ড) ভয়ানক বদমেজাজের জন্য Nux vomica, Chamomilla কিংবা Kali iodatum (শক্তি ৩০,২০০) খান।

(ঢ) যারা নিজের চাইতে অন্যের দুঃখ-কষ্টে বেশী কাতর হয়ে পড়েন, তাদের জন্য Causticum (শক্তি ৩০,২০০) খাওয়ান।

(ণ) শীঘ্রই পাগল হয়ে যাব মনে হলে Calcarea carb অথবা Actea racemosa আপনার উদ্ধারকারী (শক্তি ৩০,২০০) খাওয়ান।

(ত) গাজা খাওয়ার পরে মনে যেমন স্ফূর্তির ভাব হয়, তেমন মানসিক অবস্থায় অথবা মানসিক হীনমন্যতার জন্য Cannabis indica (শক্তি কিউ, ৩,৬) খাওয়ান।

(থ) অত্যন্ত অস্থিরতা, অতীব মৃত্যুভয়, আমার রোগ কখনও ভালো হবে না, মৃত্যু নিশ্চিত ইত্যাদি লক্ষণে Arsenic album আপনাকে আরোগ্য করবে। (দ) শুঁচিবাইয়ের জন্য (অর্থাৎ যারা সারাক্ষণ ধোয়ামোছা নিয়ে ব্যস্ত) Thuja খান পক্ষান্তরে নোংরা বা অপরিচ্ছন্ন স্বভাবের জন্য Sulphur বিধেয়। ১০,০০০ শক্তি মাসে একবার করে দুইমাস খান। রাস্তাঘাটে অনেক পাগল দেখা যায়, যারা এতো নোংরাভাবে থাকে যে, মনে হবে একটি চলমান ডাস্টবিন। এদেরকে যদি একমাত্রা সালফার (Sulphur) খাওয়ানো যায়, তবে দেখা যাবে এদের পাগলামীও ভালো হয়ে গেছে এবং পরিস্কার-পরিচ্চন্ন থাকারও চেষ্টা করতেছে।

(ধ) নোংরামি, লুচ্চামি, হস-মৈথুন ইত্যাদি স্বভাব দূর করার জন্য Bufo rana (শক্তি ২০০) সপ্তায় একমাত্রা করে খান।

(ন) অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার জন্য Natrum mur আর অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার জন্য Argentum nitricum অব্যর্থ ঔষধ। শক্তি ২০০ চারদিন পরপর একমাত্রা করে দু’তিন মাস খাওয়ান। (প) মেয়েদের সমকামিতা (homosexuality) দূর করার জন্য প্লাটিনাম মেট (Platinum metallicum) অথবা পালসেটিলা (Pulsatilla pratensis) ঔষধগুলো লক্ষণ অনুযায়ী প্রযোজ্য এবং পুরুষদের সমকামিতা নিরাময়ের জন্য ল্যাকেসিস (Lachesis), সালফার (Sulphur) ঔষধগুলো লক্ষণ অনুযায়ী প্রয়োগ করুন।

(য) কোন শারীরিক বা মানসিক রোগী যদি আলপিনের মতো চৌকো বা সূচালো (fear of pointed things) জিনিসকে মাত্রাতিরিক্ত ভয় পায়, তবে তাকে Spigelia ঔষধটি খাওয়াতে হবে। অন্যদিকে কোন রোগী যদি সারাক্ষন আলপিন নিয়ে খেলা করতে থাকে, তবে তার ঔষধ হলো সিলিশিয়া (Silicea)।

Author: bashirmahmudellias

I am an Author, Design specialist, Islamic researcher, Homeopathic consultant.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s