Dr. Bashir Mahmud Ellias's Blog

Know Thyself

এক চোখে কোরআন পড়ল ে হবে না !!!

Leave a comment

এক চোখে কোরআন পড়লে হবে না !!!

quran++7656.jpg
কোরআনে যেমন নিরপরাধ মানুষ হত্যা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে ; তেমনি আবার খিজির (আঃ)-এর আপাতদৃষ্টিতে একটি নিরপরাধ শিশু হত্যার ঘটনাকে প্রশংসার সাথে উল্লেখ করা হয়েছে । অধিকাংশ আলেমদের মতে, খিজির (আঃ) ছিলেন একজন আল্লাহ্‌র ওলী । তিনি আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে ভবিষ্যতের জ্ঞান / গায়েবী ইলম লাভ করেছিলেন । এভাবে তিনি জানতে পারেন যে, শিশুটি বড় হয়ে কাফের হবে এবং তার ঈমানদার পিতামাতাকেও কাফের বানাতে পারে । ফলে তিনি শিশুটিকে হত্যা করলেন এবং তার পিতামাতার জন্য একটি ঈমানদার সুসন্তানের দোয়া করলেন । সম্ভবত নাসাঈ শরীফে একটি হাদীস দেখেছিলাম যে, একবার সাহাবীরা একটি চোরকে ধরে এনে রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট তার শাস্তি কি হবে জানতে চাইলেন । রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, তাকে হত্যা কর । অথচ কোরআনে পরিষ্কার বলা আছে, চোরের শাস্তি হাত কেটে দেওয়া । দেখুন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কোরআনের বিরুদ্ধে আমল করার জন্য সাহাবীদেরকে বললেন । সাহাবীরা ভাবলেন, হুজুর (সাঃ) ধ্যানের জগতে ডুবে আছেন ; এই কারণে চুরি-ডাকাতি না খুনের মামলা ঠিকমতো না বুঝেই রায় দিতেছেন । কাজেই তারা চোরকে নিয়ে চলে গেলেন । কিছুক্ষণ পর আবার এসে চোরের মামলাটি উত্থাপন করলেন এবং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) পূর্বের মতোই হত্যা করার হুকুম দিলেন । সাহাবায়ে কেরাম আবার চলে গেলেন এবং কিছুক্ষণ পর আবার এসে চোরের শাস্তি জানতে চাইলেন । রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আগের মতোই তাকে হত্যা করতে বললেন । এবার সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ ! সে তো চুরি করেছে । খুন করে নাই । তখন নবী করীম (সাঃ) বললেন, আচ্ছা, তার হাত কেটে দাও । কিছুদিন পর এই লোক আবার চুরি করে ধরা পরল এবং তার অন্য হাতও কেটে দেওয়া হলো ।

পরবর্তীতে সে চুরি করে আরো দুই বার ধরা পরল এবং একে একে তার দুই পা ও কেটে দেওয়া হলো । সর্বশেষে হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর খিলাফত আমলে সে আবারো চুরি করে ধরা পরলে হযরত আবু বকর (রাঃ) তাকে হত্যা করার হুকুম দিয়ে আফসোস করে বলছিলেন যে, তাকে যে এক সময় হত্যা করতে হবে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তা আগেই জানতেন । এজন্যই তিনি এই চোর বেটাকে হত্যা করার হুকুম দিয়েছিলেন । সুতরাং বলা যায়, আম্বিয়াগণ এবং আওলিয়াগণ কাউকে আপাতদৃষ্টিতে শরীয়তবিরোধী কোন কাজ করার হুকুম দিলেও সেটি আমল করলে কোন পাপ হবে না । কেননা তাঁরা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে অনেক বিষয়ে গায়েবী এলেম / ভবিষ্যতের জ্ঞান লাভ করে থাকেন । আম্বিয়াদেরকে চেনা সহজ । কেননা তাঁরা মোজেজা দেখান, আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে কিতাব পেয়ে থাকেন ইত্যাদি ইত্যাদি । কিন্তু আওলিয়াদের চেনা একটু কঠিন । কেননা তাঁরা তাদের কেরামত / অলৌকিক ক্ষমতা সাধারণত গোপন করে রাখেন । আওলিয়াদের চেনার সবচেয়ে সহজ পথ হলো, তাঁরা সাধারণভাবে ফরজ-ওয়াজিব তো আছেই এমনকি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর ছোট ছোট সুন্নতের ওপর আমল করতেও ছাড়েন না । এমন লোক যদি হঠাৎ আপনাকে শরীয়তবিরোধী কোন কাজ করতে বলে, তবে আপনি ধরে নিতে পারেন যে, তিনি আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে গায়েবী এলেম পেয়েই বলছেন । সেটি আপনি করলেও গোনাহ হবে না আবার যদি না করেন তবেও গোনাহ হবে না । রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর হুকুম মান্য করা ফরজ এবং অমান্য করা কুফরী । তা সত্যেও নবী করীম (সাঃ) কিন্তু সাহাবায়ে কেরামদেরকে বলেন নাই যে, চোরকে হত্যা করার আমার হুকুমটি তোমরা মান্য করলে না কেন ? আসলে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে অনেক ভবিষ্যত জ্ঞান / গায়েবী এলেম লাভ করা সত্ত্বেও সমাজে বিতর্কের সৃষ্টি হবে এই ভয়ে নবী-রাসুলগণ এবং আওলিয়াগণ সাধারণত সেগুলো প্রকাশ করেন না ।

Author: bashirmahmudellias

I am an Author, Design specialist, Islamic researcher, Homeopathic consultant.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s