Dr. Bashir Mahmud Ellias's Blog

Know Thyself

হোমিওপ্যাথি সংক্রান ্ত প্রশ্ন এবং উত্ তর

Leave a comment

হোমিওপ্যাথি সংক্রান্ত প্রশ্ন এবং উত্তর

১. হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জন্য বাংলা ভাষায় রচিত সবচাইতে আধুনিক ও অনুসরণীয় কিছু বই কী কী ?

উত্তর : হোমিওপ্যাথি বিশেষজ্ঞ হইতে চাইলে আমাদেরকে অবশ্যই যেই বিজ্ঞানী (স্যামুয়েল হ্যানিম্যান) হোমিওপ্যাথি আবিষ্কার করেছেন এবং যে-সব বিজ্ঞানী (হেরিং, বার্নেট, কেন্ট, বনিংহুসেন, লিপি, বোরিক, ফ্যারিংটন, ন্যাশ, ক্লার্ক, বোগার, কুপার প্রভৃতি) হোমিওপ্যাথির উন্নয়ন এবং প্রসারে জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের লেখা বইগুলো পড়তে হবে (যত বেশী সম্ভব)। সম্ভব হলে বাংলা অনুবাদের পরিবর্তে ইংরেজিতে লেখা মূল বইগুলি পড়া উত্তম । পাশাপাশি দেশী-বিদেশী বিখ্যাত হোমিও ডাক্তারদের সারাজীবনের চিকিৎসার অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে লেখা বইগুলি পড়তে পারেন ।

২. সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী রচিত কয়েকটি মেটিরিয়া মেডিকার নাম কী কী ? বিশেষত নবীণ প্র্যাকটিশনারদের জন্য অনুকূল কিছু আধুনিক গ্রনে’র নাম জানতে চাই।

উত্তর : সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী রচিত মেটেরিয়া মেডিকাগুলির মধ্যে বোরিকের এবং ক্লার্কের মেটিরিয়া মেডিকা উল্লেখযোগ্য । তাছাড়া ইন্ডিয়ান ঔষধগুলির জন্য আলাদা কিছু মেটেরিয়া মেডিকা পাওয়া যায় ।

৩. কেন্ট এর রেপার্টরী যে ভালো এবিষয়ে কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়; তিনিও বেশ আগের সবচাইতে আধুনিক তথ্য-উপাত্ত সম্বলিত ২/১টি রেপার্টরির নাম জানতে চাই।

উত্তর : সবচেয়ে আধুনিক এবং মেগা সাইজের রেপার্টরী হলো ফ্রেডেরিক স্রোয়েন্সের সিনথেসিস ।

৪. হোমিও চিকিৎসার সবচাইতে জটিল কাজ মনে হয় ওষুধের শক্তি ও মাত্রা নির্ণয়; এমনকি ওষুধটি কোন পদ্ধতিতে এবং কোন সময়ে প্রয়োগ করলে কেমন ফল পাওয়া যাবে এ বিষয়ে জ্ঞান লাভ করাও বেশ কঠিন । এই সমস্ত বিষয়ে সহজ সরল ও অনুসরণযোগ্য সমাধান দেবে এরকম বইয়ের নাম জানতে চাই ।

উত্তর : ঔষধের শক্তিতে তেমন কিছু যায় আসে না । চিকিৎসায় আপনার সাফল্য নির্ভর করে ঔষধ নির্বাচনের নির্ভুলতার ওপর । কেন্ট সাধারণত উচ্চ শক্তি বেশী ব্যবহার করতেন আর বার্নেট সাধারণত নিম্ন শক্তি বেশী ব্যবহার করতেন । কাজেই এদের রোগীলিপি পড়ুন, এই ব্যাপারে অভিজ্ঞতা এসে যাবে ।

৫. ওষুধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে রোগির সব লক্ষণই কি মিলতে হবে ? ১০০% মেলে কই ? যা মেলে তাও আবার অন্য আর একটি ওষুধের সাথে মিলে যায় কখনোবা; কী করণীয় তাহলে ?

উত্তর : না, ঔষধ নির্বাচনে প্রধান প্রধান লক্ষণ এবং অদ্ভূত লক্ষণের উপর অধিকাংশ সময় নির্ভর করতে হয় । সাধারণত ঔষধের প্রধান প্রধান কিছু লক্ষণ মিলে গেলে বাকিগুলো এমনিতেই মিলে যায় আর বাকীগুলি না মিললেও কোন অসুবিধা নাই । রোগী অতীতে কি কি ঔষধ খেয়েছেন/ ভ্যাকসিন নিয়েছেন, কি কি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সেগুলো তার স্বাস্থ্যকে কিভাবে-কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, ইত্যাদি নিয়ে সাধারণত অন্যান্যপন্থী ডাক্তাররা মাথা ঘামান না। পক্ষান্তরে একজন হোমিও ডাক্তার রোগীর মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পযর্ন্ত, তার অতীত থেকে বর্তমান পযর্ন্ত, শরীরের বাহ্যিক রূপ থেকে মনের অন্দর মহল পযর্ন্ত সকল বিষয় বিবেচনা-পযার্লোচনা করে হাজার হাজার হোমিও ঔষধ থেকে রোগীর জন্য সবচেয়ে মানানসই ঔষধ খুঁজে বের করে প্রয়োগ করেন। আর এই কারণেই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় সবচেয়ে সহজে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মূল করা যায়। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিমূর্ল করতে প্রথমে সেই ব্যক্তি জন্মগতভাবে (Genetics) যে-সব দোষত্রুটি নিয়ে জন্মেছেন, সেগুলোর সংশোধন করতে হয়। তারপর বিষাক্ত এলোপ্যাথিক বা কবিরাজি ঔষধ খেয়ে শরীরের যে-সব ক্ষতি করেছেন, শরীর থেকে সে-সব বিষ দূর করতে হয়। তারপর টিকার (vaccine) মাধ্যমে শরীরে যতটা প্রলয়কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তার ক্ষতিপূরণ করতে হয়। তারপর অপারেশন / একসিডেন্ট ইত্যাদির মাধ্যমে শরীরের যতটা ক্ষতি হয়েছে, সেগুলোর সংস্কার করতে হয়। আপনজনের মৃত্যু, প্রেমে ব্যথর্তা, বন্ধুর বিশ্বাসঘাতকতা, চাকুরি / ব্যবসায়ের পতন ইত্যাদি দুবির্পাকে সৃষ্ট মানসিক বেদনা থেকে শরীরের যেটুকু ক্ষতি হয়েছে, তাহা মেরামত করতে হয়।

৬. এক ড্রাম গ্লোবিউলে কফোটা ওষুধ দেয় উচিৎ তা নিয়েও চিকিৎসকদের মধ্যে মতভেদ দেখি। মতভেদ দেখি একড্রাম পানীয় ওষুধ তৈরির বেলাতেও। এমনকি কতটুকু করে খওয়াতে হবে, কবার খাওয়াতে হবে, কখন খাওয়াতে হবে, কোন কোন খাবার থেকে রোগিকে বিরত রাখতে হবে, এসব নিয়েও একমত হতে পারেন না অনেকেই… আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের তাহলে কী করা উচিৎ ?

উত্তর : এসব ব্যাপারে অর্গাননে হ্যানিম্যান কি বলেছেন, তাই আমাদেরকে মেনে চলতে হবে । তবে হ্যানিম্যানের কথাকে কোন বিজ্ঞানী কিভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তাও বিবেচনার বিষয় । সে যাক, হ্যানিম্যানের থিওরীকে দুইজন বিপরীতমুখী বিজ্ঞানী দুইভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং প্রয়োগ করেছেন । তারা হলেন কেন্ট এবং বার্নেট । আপনি এই দুইজনের বই বেশী বেশী পড়ুন, তাহলে বিষয়টি আপনার কাছে আর জটিল মনে হবে না । মোটকথা হোমিওপ্যাথির থিওরীগুলিতে অনেক কোমলতা আছে ; এদেরকে পাথরের মতো শক্ত মনে করবেন না ।

Author: bashirmahmudellias

I am an Author, Design specialist, Islamic researcher, Homeopathic consultant.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s