Dr. Bashir Mahmud Ellias's Blog

Know Thyself

কাগজের মুদ্রা ইসলা মী শরীয়াতে হারাম

1 Comment

কাগজের  মুদ্রার  ব্যবহার  ইসলামী  শরীয়াতে  হারাম

মাওলানা ইমরান নযর হোসেন

বাংলা ভাষায় রূপান্তর: আরিফুল আলম খান

আবু বকর ইবন আবি মরিয়ম হতে বর্ণিত যে তিনি আল্লাহর নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, “মানবজাতির উপর এমন সময় অবশ্যই আসছে যখন দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) ও দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা) ছাড়া ব্যবহার করার মত বা উপকারী আর কিছুই থাকবে না।”

[বর্তমান যুগে সারা পৃথিবীজুড়ে যে প্রতারণামূলক অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত রয়েছে, এই হাদিসে স্পষ্টভাবে তারই পতনের ভবিষ্যদ্‌বাণী রয়েছে।] – মুসনাদ, আহমাদ

এটা খুবই অদ্ভুত এবং আফসোসের ব্যাপার যে, এই শেষ যুগেও যখন শত্র্বরা মানবজাতিকে নিষ্পেষণমূলক অর্থনীতির কফিনে পুরে তাতে শেষ পেরেক ঠুকে দিচ্ছে, তখনও অনেক মুসলিম এই ইউরোপ-প্রণীত অর্থব্যবস্থার প্রতারণা সম্বন্ধে পুরোপুরি অজ্ঞ। এমনকি তাদের একজন এই লেখককে অর্থ সম্বন্ধে ‘হাস্যকর’ মন্তব্যের জন্য সমালোচনাও করেছেন।

বিষয়টা খুব কম মানুষই বুঝতে পেরেছে যে, ইউরোপ-প্রণীত অর্থব্যবস্থা ইসলামের শত্র্বদের সুবিধার জন্য এমন দুয়ার খুলে দিয়েছে যার মাধ্যমে তারা গোটা মানবজাতির সম্পদকে বৈধভাবে চুরি করে নিতে পারে। এটাও কেউ বুঝতে পারছে না যে, শত্র্বরা যে অর্থব্যবস্থার পরিকল্পনা করেছে তা পুরো পৃথিবীর উপর μমান!য়ে তাদের অর্থনৈতিক স্বৈরাচারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে। ইউরো-ইহুদি রাষ্ট্রসমূহ ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে বিশ্বব্যপী এক অশুভ মিশন পরিচালনার মাধ্যমে এরই মধ্যে লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে তাদের স্বল্প মজুরির দাসে বন্দি করে ফেলেছে, এবং তাদের অনেককে দারিদ্রের শেষ সীমায় ঠেলে দিয়েছে। আজ যখন কেউ পাকিস্তানি অথবা ইন্দোনেশিয়দেরকে তাদের নিজ নিজ দেশের অর্থনীতির করুণ অবস্থার জন্য দোষারোপ করেন, তখন সেটা সত্যিই খুব বেদনাদায়ক। কারণ তারা এই অবস্থা সৃষ্টির নেপথ্যে আসল নায়কদের চিনতে প্রতিনিয়ত ভুল করছেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি এবং এর সাথে সম্পর্কিত খবরগুলি বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম খুবই চতুরতার সাথে এড়িয়ে যাচ্ছে – এমনকি যারা ইসলামকে তাদের ‘রাষ্ট্রধর্ম’ বলে দাবি করে থাকে সেসব দেশের প্রচার মাধ্যমগুলিও। যেমনটা হয়েছিল ২০০৭ সালের ২৪ ও ২৫ জুলাই কুয়ালালামপুরের পুত্রা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘স্বর্ণমুদ্রা ভিত্তিক অর্থনীতির উপর আন্তর্জাতিক সম্মেলন’-এর ক্ষেত্রে। এই সম্মেলনের মূলপ্রবন্ধটি পেশ করেন মালয়েশিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রি ডঃ মাহাথির মোহাম্মদ । এই সম্মেলনে ডঃ মাহাথির মোহাম্মদের মূল বক্তব্যের পরই আমি “অন্তর্নিহিত মূল্যসম্পনড়ব মুদ্রার২ বিলুপ্তির কারণ” শিরোনামে একটি প্রবন্ধ পেশ করি।

এসব ব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমের নিশ্চুপ থাকার তুলনায় আরও দুঃখজনক ভূমিকা পালন করছেন আধুনিকতায় বিশ্বাসী ইসলামের অনেক জ্ঞানীব্যক্তিবর্গ। অনেক সাধারণ মুসলমানদের মতই তারা আধুনিক অর্থের প্রতারণামূলক বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে নিশ্চুপ রয়েছেন। এমনকি তারা যখন শেষপর্যন্ত আধুনিক অর্থ সম্পর্কে তাদের বিরাট ভুল বুঝতে পারেন, তখনও ‘অপরিশোধ্য কাগজি মুদ্রা’-ভিত্তিক অর্থব্যবস্থাকে প্রতারণামূলক বা হারাম বলার মত সাহস পান না।

এ ব্যাপারে মুসলিম দেশগুলির সরকারগুলিই সবচেয়ে দুঃখজনক ভূমিকা পালন করছেন। তারা মুদ্রার ভয়াবহ বাস্তবতাকে হয় বুঝতে পারেন না অথবা বুঝতেই চান না। আসলে, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এই সকল সরকারগুলির দরকার পৃথিবীর নিয়ন্ত্রক দেশগুলির (অর্থাৎ ইহুদি-খ্রিস্টান৫ গোষ্ঠীর) সমর্থন। আর তাই তারা অনেকটা ক্রীতদাসের মত সেসব নিয়ন্ত্রক দেশের আজ্ঞাবহ থেকে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করে।

মুসলিম দেশগুলির এই কর্বণ অবস্থার মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন মালয়েশিয়ার তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার সৃষ্ট অর্থব্যবস্থার মধ্যে যে প্রতারণা লুকিয়ে আছে তা তিনি যে শুধু বুঝতে পেরেছিলেন তাই নয়, বরং এর প্রতিকারে তিনি এমন এক কাজ করেছিলেন যা ইসলামের অনেক বড় বড় পন্ডিতরাও করতে সাহস পান নি। তিনি প্রতারণামূলক মার্কিন ডলারের পরিবর্তে স্বর্ণমুদ্রা-ভিত্তিক অর্থব্যবস্থায় ফিরে যেতে আহ্বান জানিয়েছিলেন, যেন মুসলমানেরা তাদের উপর চালানো অর্থনৈতিক বৈষম্য ও শোষণ হতে রক্ষা পেতে পারে।

আমরা আরও দেখাব যে, বর্তমান অর্থব্যবস্থা ইউরোপীয় খ্রিস্টানরা প্রচলন করেছিল একটি বিশেষ উদ্দেশ্যলাভের জন্য, আর তা হলো ‘অর্ন্তনিহিত মূল্যসম্পন্ন মুদ্রা’-কে হটিয়ে দিয়ে তার স্থলে ‘অন্তর্নিহিত মূল্যহীন মুদ্রা’-র প্রচলন করা। কারণ এই প্রক্রিয়াতেই আজকের প্রচলিত মুদ্রার মানের অবমূল্যায়ন ঘটানো সম্ভব। যখন এই অবমূল্যায়ন ঘটে তখন ঐ মুদ্রা ব্যবহারকারী জনগোষ্ঠীর সম্পদ বৈধভাবে হাতিয়ে নেয়া সম্ভব হয়, উপরন্তু তারা সুদের বিনিময়ে যে ঋণ নিয়েছিল, তাও পরিশোধ করা তাদের পক্ষে উত্তরোত্তর কঠিন হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে এসব দেশ এমনভাবে ফাঁদে পড়ে যায় যে তারা আর কখনই এ ঋণ শোধ করতে পারে না, এবং এভাবে তারা ঐসকল দেশের দয়ার উপর নির্ভর করতে বাধ্য হয় যারা তাদের উপর বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। ঐসব দেশের এই সন্দেহজনক ঋণদানের মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের উপর আরও গভীরভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।

যেসব দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটে, মুদ্রাব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী দেশগুলির কাছে ঐসব দেশের জমি, শ্রম, পণ্য আর বিভিন্ন সেবার মূল্য ক্রমেই কমতে থাকে। আর এভাবেই দেখা যায় পৃথিবীর একটা অংশ বিলাসিতার সাথে বসবাস করতে পারছে, আর পৃথিবীর বাকি অংশের মানুষ নিয়ত মূল্য হারাতে থাকা মুদ্রাব্যবস্থা নিয়ে দিন যাপন করছে। প্রতিনিয়ত তাদের ঘাম আর শ্রমের বিনিময়ে তারা এমন সব লুটেরাদের দাসে পরিণত হচ্ছে যারা চিরস্থায়ীভাবে ধনী, অর্থাৎ জীবনযাত্রায় চিরস্থায়ীভাবে জাহাজের প্রথম শ্রেণীর টিকেটের অধিকারী। বিশেষভাবে চিহ্নিত ঐসব দেশে যখন দারিদ্র চরমভাবে বৃদ্ধি পায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই দুর্নীতিও বৃদ্ধি পায়। সম্মানিত পাঠক, এখন সামান্য পরিমাণ বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে একটি প্রশ্নের উত্তর বের করে নিন: কেন বিশ্বজুড়ে মুসলিম দেশগুলি অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে দুর্নীতিতে আক্রান্ত, যেখানে পাশ্চাত্য দেশগুলি (যারা প্রতারণামূলক মুদ্রাব্যবস্থার মাধ্যমে অন্যদের শ্রমে অর্জিত সম্পদ লুটে নিচ্ছে) অনুরূপ কোন দুর্নীতি ছাড়াই সুখে-শান্তিতে বাস করছে ?

তারপর যেসব দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ণ ঘটেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আই-এম-এফ) সেসব দেশকে ব্যাপকহারে বেসরকারীকরণে বাধ্য করে, যেন লুটেরারা খুব সহজেই ঐসব দেশগুলির তেল ও গ্যাসক্ষেত্র, বিদ্যূত ও টেলিফোন কোম্পানিগুলিকে কিনে (বা আয়ত্তে নিয়ে) নিতে পারে। আর যখন এসব ক্ষেত্রগুলি তাদের হাতে চলে যায়, তখন তা যায় তাদের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক অনেক কম মূল্যে। ভেনিজুয়েলার সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। সেসময় ইসলামের পন্ডিত ব্যক্তিরা ছিলেন এ ব্যাপারে একদম নিরব।

শত্রুরা শুধুমাত্র যে তাদের অনৈতিক ও শোষণমূলক মুদ্রাব্যবস্থার দ্বারা অন্যদের শ্রম চুরি করে তাই নয়, বরং তাদের পরিকল্পনা হচ্ছে বাকি সকলকে অর্থনৈতিক দাসে পরিণত করা যেন তারা পুরো পৃথিবীর উপর একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এই স্বৈরাচারই একসময় ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলকে পৃথিবীর নিয়ন্তা রাষ্ট্রে পরিণত করবে, এবং এতে ইসরায়েলের শাসনকর্তা পুরো পৃথিবীর সামনে এক মিথ্যা দাবি করবে যে সে-ই সত্যিকার মসীহ। আসলে সে হবে ভন্ড মসীহ বা দাজ্জাল। আমরা এই ঘটনার এতটাই কাছে যে এই লেখক দাবি করেন যে, যেসব ছেলেমেয়েরা এখন স্কুলে পড়াশুনা করে তারাই একসময় তাকে দেখতে পারবে।অপরিশোধ্য কাগজি মুদ্রার উপর প্রতিষ্ঠিত বর্তমান মুদ্রাব্যবস্থার পিছনে এক সুচতুর পরিকল্পনা রয়েছে। যারা এটা ধরতে পারবেন না, তারা এর দ্বারা সৃষ্ট বিপদগুলির বির্বদ্ধেও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হবেন। তারপরও এই লেখক তাদের এই পরিকল্পনার কথা, এর পরিণাম এবং স্বর্ণমুদ্রাকে মুদ্রারূপে পুনঃপ্রচলনের প্রয়োজনীয়তা, বহু বিজ্ঞ সহকর্মী ও বুদ্ধিজীবিকে বুঝাতে চেষ্টা করে অনেকটা হতাশ হয়েছেন।

আধুনিক অনেক উদারপন্থী (সেক্যুলার) মুসলিম দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে অর্থনীতি এবং রাজনীতির ব্যাপারে ধর্মের হস্তক্ষেপ করার কিছুই নেই। এরকম মুসলিমরা মহানবী (সালৱালৱাহু আলায়হি ওয়া সালৱাম)-এর জীবনের নিন্মোক্ত ঘটনাটি ব্যাখ্যা করতে পারবেন না (এমনকি অনুধাবনও করতে পারবেন না):-

“আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাঃ) বলেছেন, একদিন বিলাল (রাঃ) মহানবী (সাঃ)-এর কাছে কিছু ভাল খেজুর নিয়ে আসলেন, তখন নবীজি (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন যে, তিনি এটা কোত্থেকে পেয়েছেন। বিলাল (রাঃ) উত্তরে বললেন: “আমার কাছে কিছু নিম্নমানের খেজুর ছিল, আমি সেরকম দুইটির বিনিময়ে এরকম (ভালো) একটি করে নিয়েছি। মহানবী (সাঃ) প্রতিক্রিয়ায় বললেন, “আহ্‌, এটাই মূলত সুদ, এটাই মূলত রিবা। এটা করো না, যদি তোমার কিনতে ইচ্ছা হয়, তাহলে তোমার খেজুরগুলি প্রথমে আলাদাভাবে বিক্রয় করবে, এরপর তার বিনিময়ে যা পাবে তা দিয়ে (ভালো খেজুর) কিনবে।” – বুখারী, মুসলিম

আমরা এখানে জানতে পারলাম যে মহানবী (সাঃ) খেজুরের পরিবর্তে খেজুরের অসম বিনিময়কে (যেমন দুইটি সাধারণ খেজুরের পরিবর্তে একটি ভাল খেজুর নেয়াকে) নিষেধ করেছেন। তিনি এরূপ বিনিময়ের মধ্যে সুদের মূল উপাদান আছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অপরদিকে উটের পরিবর্তে উটের অসম বিনিময়কে বৈধতা দেয়ার নজির আছে: “মালিক হতে, অতঃপর নাফি হতে প্রাপ্ত, যে ইয়াহইয়া (রাঃ) আমাকে বলেছেন, আবদুলৱাহ ইবন উমর (রাঃ) চারটি উটের পরিবর্তে আরোহণ-যোগ্য একটি মাদি উট কিনলেন (অর্থাৎ বিনিময় করলেন) এবং আর-রাবাদা নামক স্থানে বিক্রয়কারীর নিকট ঐগুলিকে (চারটি উটকে) সম্পূর্ণরূপে দেবার অংগীকার করলেন।” – মুওয়াত্তা, ইমাম মালিক

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, কেন খেজুরের পরিবর্তে খেজুরের অসম বিনিময়কে নিষিদ্ধ করা হলো, কিন্তু উটের পরিবর্তে উটের অসম বিনিময়কে নিষিদ্ধ করা হলো না ? সুদ সম্বন্ধে মহানবী (সাঃ)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে এই প্রশ্নের উত্তর আছে, যা ইসলামে অর্থের সংজ্ঞাকে ব্যাখ্যা করে: “আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাঃ) হতে বর্ণিত যে আল্লাহর্‌ নবী (সাঃ) বলেছেনঃ “সোনার বিনিময়ে সোনা, রূপার বিনিময়ে রূপা, গমের বিনিময়ে গম, বার্লির বিনিময়ে বার্লি, খিজুরের বিনিময়ে খেজুর এবং লবনের বিনিময়ে লবন। সমান সমান বিনিময়ের ক্ষেত্রে মূল্য পরিশোধ অবশ্যই অকুস্থলে হতে হবে, এরপর যদি কেউ বেশি দেয় কিংবা বেশি দাবি করে, সে সুদে জড়িয়ে পড়বে এবং যে দেবে আর যে নেবে উভয়েই অপরাধী হবে।” – সহীহ মুসলিম

উপরোক্ত হাদিসে মহানবী (সাঃ) পরিষ্কারভাবে তিনটি বিষয় প্রতিষ্ঠা করেছেন: প্রমত, ইসলামে ‘অর্থ’ মানে কোন মূল্যবান ধাতুর মুদ্রা যেমন সোনা বা রূপা, অথবা অন্যান্য পণ্য যেমন গম, বার্লি, খেজুর, লবণ বা নিত্য ব্যবহার্য ভোগ্যপণ্য বস্তু যেগুলির একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে ।

তাই, যখন মদীনার বাজারে সোনা এবং রূপার অভাব দেখা দেয়, তখন খেজুরের মত দ্রব্যসামগ্রী যেগুলির প্রচুর সরবরাহ ছিল এবং যেগুলির নির্দিষ্ট মেয়াদ ছিল, সেগুলি অর্থ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এগুলির সূত্র ধরে আমরা এখন উপরোক্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে পারি।

উটের পরিবর্তে উটের অসম বিনিময় এজন্য বৈধ ছিল যে এরকম প্রাণী কখনও মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার হয় না। খেজুরের পরিবর্তে খেজুরের অসম বিনিময়কে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এজন্য যে খেজুর মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। খেজুরের এরূপ অসম বিনিময়কে যদি বৈধতা দেয়া হতো তাহলে কুসীদজীবিদের অর্থাৎ  সুদখোরদের  জন্য সুদের বিনিময়ে অর্থ ধার দেয়ার দুয়ার খুলে যেত ।আজকের যুগে যদি মুদ্রা হিসেবে খেজুর ব্যবহারের সেই নীতি প্রয়োগ করা হয়, তাহলে উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে যদি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার অভাব হয় তাহলে ‘চাল’-কে সেখানকার মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। অপরদিকে কিউবা দ্বীপে ‘চিনি’-কে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।মেয়াদ বলতে যে কটা দিন দোকানের shelf বা তাকে রাখলে নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যাদি (খেজুর, গম, লবণ ইত্যাদি) খাবার উপযোগী থাকে, এটাকে shelf-life বলা হয়।

ইসলামের কিছু কিছু পন্ডিত যুক্তি দেখাতে পারেন যে মানুষ যে কোন কিছুই ব্যবহার করতে পারে, এমনকি বালুকণাকেও মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করার অধিকার তার আছে। তাই কাগজ ছাপিয়ে তার একটা মূল্য নির্ধারণ করে মুদ্রা বানাতে বাধা কোথায়? এর উত্তরে আমরা বলতে চাই, হাদিস অনুযায়ী সমুদ্রতীরে পড়ে থাকা বালুকা বা শামুক এইগুলি মুদ্রা হিসেবে ইসলামে ব্যবহারের উপযোগী না, কারণ এগুলি কোন মূল্যবান ধাতু নয় এবং এগুলিকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয় না।দ্বিতীয়ত, যখন সোনা, রূপা, গম, বার্লি, খেজুর এবং লবন (চাল, চিনি ইত্যাদি) মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হতো, তখন মুদ্রার মূল্য তাদের ‘ভিতরে’ ছিল, ‘বাহিরে’ নয়। তাই এই হাদিসটি ইসলামে মুদ্রা হিসেবে শুধুমাত্র সেসব বস্তুকে সমর্থন করে যাদের ভিতরে নিজস্ব মূল্য (intrinsic value) রয়েছে।তৃতীয়ত, মুদ্রা সবসময় আল্লাহর সৃষ্ট জিনিসগুলির অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা মহান আল্লাহ কতৃক সৃষ্ট এবং আল্লাহ নিজেই এর মান (বা উপযোগিতা) নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি আল-রাজ্জাক অর্থাৎ ধন-সম্পদের সৃষ্টিকর্তা হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে আমরা সুন্নাহ-ভিত্তিক মুদ্রার ভিতরে তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখছি:

১. এটা হবে কোন মূল্যবান ধাতু বা উপরোক্ত অন্য কোন দ্রব্য;

২. এর নিজস্ব মান থাকতে হবে; এবং

৩. এটা আল্লাহর সৃষ্ট জিনিসের মধ্যে হতে হবে যার মূল্যমান স্বয়ং আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যিনি সকল ধন-সম্পদের মালিক।

আবারও কিছু ইসলামিক পন্ডিত মনে করিয়ে দিতে পারেন যে, সুন্নাহ দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত। এর প্রথমটি এসেছে মহানবী (সাঃ)-এর কাছ থেকে, কিন্তু তার ভিত্তি আল্লাহর নির্দেশের উপর প্রতিষ্ঠিত। আর দ্বিতীয়টি তাঁর মতামতের উপর প্রতিষ্ঠিত।মহানবী (সাঃ) নিজেই এই দ্বিতীয়টি সম্বন্ধে তার অনুসারীদের উপদেশ দিয়েছেন, “তোমরা নিজেদের জাগতিক ব্যাপার সম্বন্ধে নিজেরাই ভাল জ্ঞাত আছ।” এই উপদেশ এটাই নির্দেশ করে যে মুদ্রার ব্যাপারে উপরোক্ত সুন্নাহ অনুসরণ করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।এসব পন্ডিতরা দাবি করেন যে ‘মুদ্রা’ ঐ দ্বিতীয় ভাগে পড়ে। ফলশ্র্বতিতে তারা বলে, অপরিশোধ্য কাগজি মুদ্রার বর্তমান ব্যবস্থা মুসলিমদের গ্রহণ করা সম্পূর্ণরূপে বৈধ, যদিও এই ব্যবস্থায় ইহুদি-খ্রিস্টান শাসকগোষ্ঠি শুধু কাগজ ছাপিয়ে তাকে ‘মুদ্রা’ হিসাবে চালিয়ে দেয়, এরপর তার একটা কাল্পনিক মূল্য নির্ধারণ করে দেয়, এবং এই প্রক্রিয়ায় তাদের খুশিমত সম্পদের মালিক হয়ে যায়। তাদের এই মুদ্রা দিয়ে তারা পৃথিবীর যে কোন অংশে যে কোন কিছু কিনতে পারে। কিন্তু যখন মুসলিমরা তাদের (শূন্য হতে) সম্পদ বানানোর এই অনৈতিক কার্যকলাপকে গ্রহণ ও অনুসরণ করবে, তখন এক স্যুটকেস ভর্তি ইন্দোনেশিয়ান রুপি বা পাকিস্তানি রুপি নিয়ে তারা ম্যানহ্যাটনে এক কাপ কফিও কিনে খেতে পারবে না।

ইসলামের এই পন্ডিতেরা অপরিশোধ্য কাগজি মুদ্রার বর্তমান ব্যবস্থাকে কখনই হারাম বলেন নি, এবং এটাও প্রতীয়মান হয় যে তারা ভবিষ্যতেও বলবেন না।তারা, অবশ্যই সঠিক বিচার করতে ভুল করেছেন এবং তাদের এই ভয়াবহ ব্যর্থতার জন্য শেষ বিচারের দিনে প্রতিফল ভোগ করতে হবে (কারণ তারা অনেক মুসলিমকে বিপথে পরিচালিত করেছেন)। তারা মহান আল্লাহর সৃষ্ট মূল্যবান ধাতুকে মুদ্রা হিসেবে মেনে নেন নি, যার স্বাভাবিক মান স্বয়ং আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত এবং যার ভিত্তি দৃঢ়ভাবে কুরআনে প্রতিষ্ঠিত: “আহলে কিতাবের (তওরাতের) অনুসারিদের মধ্যে এমনও মানুষ রয়েছে, যদি তাদের কাছে কোনো ইসরায়েলি ‘কিন্তার’ (প্রচুর ধন-সম্পদ যেমন স্বর্ণমুদ্রার স্তুপ) পরিমাণ আমানত রাখে, তাহলেও তা তারা যথারীতি পরিশোধ করবে। আর তাদের মধ্যে অনেকে এমনও রয়েছে, যাদের কাছে যদি কোনো অ-ইসরায়েলি একটি দিনারও (স্বর্ণমুদ্রা) গচ্ছিত রাখে তাও ফেরত দেবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত এর মালিক সেটা ফেরত পাবার জন্য নাছোড়বান্দা না হয়ে যায়। এর কারণ তারা যুক্তি দেখায় যে ‘উম্মীদের (অইসরাইলি) অধিকার বিনষ্ট করতে আমাদের কোন পাপ নেই’। কিন্তু তারা আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে, এবং তারা ভালোভাবেই জানে (যে এটা মিথ্যা)।” – কুরআন, আলে-ইমরান, ৩:৭৫

এছাড়াও সুরা ইউসুফে তিনি দিরহামের উল্লেখ করেছেন: “এবং ওরা কম মূল্যে কিছু দিরহামের (রূপার মুদ্রার) বিনিময়ে তাকে বিক্রি

করে দিল এবং তারা তাকে খুবই অপ্রয়োজনীয় মনে করেছিল।”- কুরআন, ইউসুফ, ১২:২০ কুরআনে এই দুটি আয়াতে মহান আল্লাহ মুদ্রা বলতে ‘স্বর্ণ’ ও ‘রৌপ্য’ মুদ্রার উল্লেখ করেছেন। দিনার ছিল অর্ন্তনিহিত মূল্যসম্পন্ন সোনার মুদ্রা। আর দিরহাম ছিল রূপার মুদ্রা, বলা বাহুল্য সেটারও অন্তর্নিহিত মূল্য ছিল। উভয়েই আল্লাহর সৃষ্টি এবং তাদের মূল্যমান স্বয়ং আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত, যিনি সকল ধন-সম্পদের মালিক।

কুরআনে আরও আয়াত আছে যেখানে সোনা এবং রূপাকে সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যে সম্পদকে স্বর্ণমুদ্রা দিনার ও রৌপ্যমুদ্রা দিরহামরূপে ব্যবহার করা যায়।“মানবকুলকে মোহগ্রস্থ করেছে নারী, সন্তান-সন্ততি, রাশি রাশি স্বর্ণ-রৌপ্য (দিনার ও দিরহামের স্তুপ), জাত-অশ্ব, গবাদি পশু এবং ফলনশীল ক্ষেত-খামারের মত আকর্ষণীয় বস্তুসামগ্রী। এসবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্য বস্তু। তবে আল্লাহর নিকটই হলো উত্তম আশ্রয়।” – কুরআন, আলে-ইমরান, ৩:১৪

“যদি (মুক্তিপণ হিসেবে) সারা পৃথিবী পরিমাণ স্বর্ণও তার পরিবর্তে দেয়া হয়, তবুও যারা কাফের এবং কাফের হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের তওবা কবুল হবে না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। তাদের কোনই সাহায্যকারি নেই।”- কুরআন, আলে-ইমরান, ৩:৯১

“হে ঈমানদারগণ! অনেক (ইহুদি) ধর্মযাজক ও (খ্রিস্টান) সন্যাসীরা সাধারণ লোকদের মালামাল অন্যায়ভাবে ভোগ করে চলেছে এবং আল্লাহর পথ থেকে (তাদেরকে) নিবৃত রাখছে। আর যারা স্বর্ণ ও রূপা জমিয়ে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না [এটা অবশ্যই মুদ্রা হিসেবে সোনা ও রূপা ব্যবহার সম্পর্কেই বলা হয়েছে], তাদেরকে (হে মুহাম্মদ) কঠোর আযাবের সংবাদ শুনিয়ে দিন।”- কুরআন, তওবা, ৯:৩৪ “যদি সব মানুষের এক মতাবলম্বী হয়ে যাওয়ার (অর্থাৎ অবিশ্বাসী তথা পার্থিব জীবন কামনাকারী হয়ে যাওয়ার) আশংকা না থাকতো, তবে যারা দয়াময় আল্লাহকে অস্বীকার করে আমি তাদের গৃহের জন্য রূপার ছাদ ও সিঁড়ি তৈরি করে দিতাম, যার উপর তারা চড়ত। এবং তাদের গৃহের জন্য (রূপার) দরজা করে দিতাম এবং (রূপার) পালংক দিতাম, যাতে তারা হেলান দিয়ে বসত। এবং যুখর্বফও (স্বর্ণ) দিতাম; কিন্তু এসবই পার্থিব জীবনের ভোগসামগ্রী মাত্র আর আপনার পালনকর্তার কাছে পরকাল তাদের জন্যই যারা ভয় করে।”- কুরআন, যুখর্বফ, ৪৩:৩৩-৩৫

যদি তোমরা এক স্ত্রীর পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করতে ইচ্ছা কর এবং তাদের একজনকে ‘কিন্তার’ (সোনা ও রূপার মোহর, বা প্রচুর ধন-সম্পদ) প্রদান করে থাক, তবুও তা থেকে কিছুই ফেরত নিও না। তোমরা কি তা অন্যায়ভাবে ও প্রকাশ্য গুণাহর মাধ্যমে গ্রহণ করবে? – কুরআন, নিসা, ৪:২০

কুরআন আরও প্রকাশ করে যে, সোনা ও রূপা মূল্যবান পদার্থরূপে পরকালেও তাদের মর্যাদা বহন করবে। অন্যভাবে বলা যায়, পার্থিব জীবনে মূল্য বহনের পাশাপাশি সোনা ও রূপা পারলৌকিক বাস্তবতাতেও তাদের মূল্য ধরে রাখবে।“তাদের আবরণ হবে মসৃণ সবুজ রেশমি কাপড় যাতে স্বর্ণের কার্বকাজ থাকবে। এবং তারা রূপার কাঁকন পরে থাকবে। পালনকর্তা তাদেরকে ‘শরাবান-তহুরা’ (পবিত্র পানীয়) পান করাবেন।” (এই আয়াত ও এর পরের আয়াতগুলি এটাই নির্দেশ করে যে সোনা ও রূপা পরবর্তী জীবনেও দামি বস্তু হিসেবে পরিগণিত হবে) – কুরআন, আল-ইনসান, ৭৬:২১

“তাদের কাছে পরিবেশন করা হবে সোনার থালা ও পানপাত্র এবং তথায় রয়েছে মনে যা চায় এবং নয়ন যাতে তৃপ্ত হয়। তোমরা তথায় চিরকাল অবস্থান করবে।”- কুরআন, যুখর্বফ, ৪৩:৭১

“তাকে কেন সোনার কাঁকন প্রদান করা হলো না, অথবা কেন তার সাথে ফেরেশতারা দল বেঁধে এলো না?” [এখানে সোনাকে মূল্যবান বলে গণ্য করা হয়েছে, যা ঊর্ধ্বলোক থেকে প্রদান (bestowed from above) করা হয়।] – কুরআন, যুখর্বফ, ৪৩:৫৩

“তারা প্রবেশ করবে চিরস্থায়ী বাগানে (জান্নাতে)। সেখানে তারা অলংকৃত হবে স্বর্ণনির্মিত, মোতি খচিত কংকন দ্বারা। সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।” – কুরআন, আল-ফাতির, ৩৫:৩৩

“নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে দাখিল করবেন উদ্যানসমূহে, যার তলদেশ দিয়ে নদী বয়ে যাবে। তাদেরকে সেখানে স্বর্ণ-কংকন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং তথায় তাদের পোশাক হবে রেশমের।” – কুরআন, আল-হজ্জ, ২২:২৩

“তাদেরই জন্য আছে চিরস্থায়ী বাগান (জান্নাত) যার নিচে নদী প্রবাহিত থাকবে; তাদেরকে তথায় স্বর্ণ-কংকনে অলংকৃত করা হবে এবং তারা মসৃণ সিল্ক ও বুটিদার সবুজ কাপড় পরবে। তারা সেখানে উঁচু সিংহাসনে সমাসীন হবে। কত চমৎকার প্রতিদান এবং কত উত্তম আশ্রয়!”- কুরআন, আল-কাহফ, ১৮:৩১

“আপনার সোনার তৈরি গৃহ থাকুক অথবা আপনি আকাশে আরোহণ করুন, আমরা আপনার (আকাশে) আরোহণকে কখনই বিশ্বাস করব না, যতক্ষণ আপনি আমাদের প্রতি একটি গ্রন্থ অবতীর্ণ না করবেন, যা আমরা পাঠ করব। বলুন (হে নবী): আমার পালনকর্তা পবিত্র ও মহান, আমি একজন মানুষ, একজন রাসূল বৈ আর কী?” – কুরআন, আল-ইসরা, ১৭:৯৩

আসলেই, স্বর্ণমুদ্রার (দিনারের) শেষ বিচারের দিনেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নির্ধারণ করা আছে। একটি সুদীর্ঘ হাদিসে অন্তরের বিশুদ্ধতার পরিমাপ একটি দিনারের সাথে করার উল্লেখ আছে, এবং সেটাই হবে দোযখের আগুন হতে মানবকুলকে উদ্ধার করার পরিমাপ। নিচে দীর্ঘ হাদিসটির এ সম্পর্কিত অংশটুকু দেয়া হলো।

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত: কেয়ামত সংঘটিত হলে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিবে: “যে যাকে উপাসনা করত তাকে অনুসরণ করুক (অর্থাৎ তার সাথে আসুক)। . . . ”

তারপর তাদেরকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দেয়া হবে; এবং সেই ব্যক্তিদেরকে বিশাল সংখ্যায় বাহির করে আনা হবে যাদের পায়ের অর্ধেক বা হাঁটু পর্যন্ত আগুনে নিমজ্জিত ছিল। তারা (ফেরেশতারা) বলবে: “হে আমাদের প্রভু, তুমি যাদেরকে বাহির করে আনার হুকুম দিয়েছিলে, তাদের কেউ আর জাহানড়বামে নেই।” তিনি (আল্লাহ) তারপর বলবেন: “যাও, যাদের অন্তরে এক দিনার পরিমাণ শুভ পাও তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বাহির করে আন।”

তারা আবার বিশাল সংখ্যায় মানুষকে বাহির করে আনবে। তারপর তারা বলবে: “হে আমাদের প্রভু, তুমি যাদেরকে বাহির করে আনার হুকুম দিয়েছিলে, তাদের কাউকে আমরা ছেড়ে আসি নি।” তারপর তিনি বলবেন: “যাও, যাদের অন্তরে অর্ধেক দিনার পরিমাণ শুভ পাও তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বাহির করে আন।” তারা আবার বিশাল সংখ্যায় মানুষকে বাহির করে আনবে। তারপর তারা বলবে: “হে আমাদের প্রভু, তুমি যাদেরকে বাহির করে আনার হুকুম দিয়েছিলে, তাদের কাউকে আমরা ছেড়ে আসি নি।” তারপর তিনি বলবেন: “যাও, যাদের অন্তরে এক কণা পরিমাণ শুভ পাও তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বাহির করে আন।” তারা আবার বিশাল সংখ্যায় মানুষকে বাহির করে আনবে। তারপর তারা বলবে: “হে আমাদের প্রভু, যাদের অন্তরে কোন রকম শুভ আছে, তাদের কাউকে আমরা ছেড়ে আসি নি।”- সহীহ, মুসলিম

কুরআন ও হাদিসের উপরোক্ত বাণীগুলি এটাই প্রমাণ করে যে, সোনা এবং রূপা মহান আল্লাহ কর্তৃক যথেষ্ট মূল্য সহকারে সৃষ্ট হয়েছে, এবং এই জাগতিক পৃথিবীতে এদের অন্তর্নিহিত মূল্য বজায় থাকার পর পরবর্তী জগতেও সেই মূল্য থাকবে।

আয়াতগুলি আরও নির্দেশ করে যে, মহান আল্লাহ, বিজ্ঞতার সাথে সোনা ও রূপাকে অন্যান্য জিনিসের সাথে অর্থ হিসেবে ব্যবহারের জন্য সৃষ্টি করেছেন। এই পরিষ্কার সত্যটিকে যারা চ্যালেঞ্জ করেন, শেষ বিচারের দিন তাদেরকে তাদের এরূপ মনোভাবের কারণ আল্লাহর সামনে ব্যাখ্যা করতে হবে ।স্বীয়-মানসম্পনড়ব মুদ্রা আজ বিশ্ব-অর্থব্যবস্থা হতে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পবিত্র কুরআনে যে ‘মুদ্রা’-র ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত, যার মূল্য পরবর্তী জগতেও বহাল থাকবে, সেই রকম ‘মুদ্রা’-কে প্রত্যাখ্যান করার জন্য সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে দায়ী থাকতে হবে।কুরআনে উলেৱখিত সেই পবিত্র মুদ্রাব্যবস্থাকে অবজ্ঞা করে তার স্থলে সম্পূর্ণ প্রতারণামূলক ধর্মনিরপেক্ষ বা সেক্যুলার মুদ্রাব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য মুসলমানদেরকে এরই মধ্যে ভয়াবহ মূল্য দিতে হচ্ছে।

আমাদের এই বইয়ের লক্ষ্য হলো কিভাবে এবং কেন সুন্নাহ-ভিত্তিক মুদ্রার বিলুপ্তি ঘটলো (বা ঘটানো হলো) তার সংক্ষেপে ব্যাখ্যা দেয়া। আমরা আশা করব যারা এই বইটি পড়বেন, বুঝতে পারবেন, এবং এতে তুলে ধরা যুক্তির সাথে একমত হবেন, তারা যেন মহানবী (সাঃ)-এর নিন্মোক্ত আদেশ অনুযায়ী তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) বলেন: আমি আল্লাহর নবীকে বলতে শুনেছি: “তোমাদের মধ্যে যদি কেউ কোন খারাপ কাজ দেখে, তাহলে সে যেন আপন হাত দ্বারা তার পরিবর্তন করে; আর যদি সে তা না করতে পারে, তাহলে যেন তা তার জিহবা দিয়ে করে (অর্থাৎ প্রতিবাদ করে); আর সে যদি তাও না করতে পারে, তাহলে সে যেন তা তার অন্তর দিয়ে করে (অর্থাৎ সেই কাজকে ঘৃণা করে); এবং এটা ঈমানের মধ্যে দুর্বলতম (অবস্থা)।”- সহীহ, মুসলিম

আজ পৃথিবীজুড়ে এক বিশাল পরিকল্পনার বাস্তবায়ন চলছে, যা বর্তমান অর্থব্যবস্থার সাথে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও ধর্মের এক সূক্ষ্ম যোগসূত্র বজায় রেখে চলেছে। এক্ষণে আমরা এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করছি।প্রতিটি ইহুদি শিশু জানে ও বিশ্বাস করে যে, মহান আল্লাহ ইসরাইলিদেরকে এক ঐশ্বরিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে এমন একজন মানুষ দ্বারা ইতিহাসের পরিসমাপ্তি ঘটবে যিনি হবেন নবী ও মসীহ, তিনি জের্বজালেমে দাঊদ (আঃ)-এর সিংহাসন হতে চিরস্থায়ীভাবে পুরো পৃথিবীকে শাসন করবেন। ইহুদিরা বিশ্বাস করে যে সেখান থেকে যখন ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটবে তখন পৃথিবীতে ইহুদি-বিশ্ব-ব্যবস্থা থাকবে এবং জেরুজালেম হবে পৃথিবীর শাসনকেন্দ্র, ঠিক যেমনটি ছিল সুলায়মান (আঃ)-এর সময়ে।তারা বিশ্বাস করে যে, ইহুদি বিশ্ব-ব্যবস্থা, তাদের বিশ্বাসের সত্যতাকেই প্রমাণিত করবে আর সাথে সাথে অন্যান্য যে কোন দাবিকে (যেখানে ইহুদি বিশ্ব-ব্যবস্থাকে অস্বীকার করা হয়েছে) সেই বিশ্ব-ব্যবস্থা মিথ্যা প্রমাণিত করবে।লক্ষ্যণীয় বিষয় এই যে, মুসলমান ও খ্রিস্টানরাও ইহুদিদের মতই একই বিশ্বাস পোষণ করে যে, পৃথিবীর ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটবে একজন মসীহ-র দ্বারা যিনি পবিত্র জেরুজালেম থেকে ন্যায়ের সাথে পৃথিবীকে শাসন করবে। তবে ইহুদিদের সাথে পার্থক্য এই যে, মুসলমান ও খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করে যে, ঐশ্বরিক প্রতিশ্রুতিমতে মসীহ হবেন ঈসা (আঃ), যিনি কুমারী মেরি (বিবি মরিয়ম)-এর পুত্র। তারা উভয়েই বিশ্বাস করে, তাঁকে যখন শুলিবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল তখন তাকে ঊর্ধ্ব লোকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছিল, এবং ঐশ্বরিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যখন সময় আসবে তখনই তিনি জেরুজালেম থেকে পৃথিবীকে শাসনের জন্য নেমে আসবেন।কুরআনও তার এই প্রত্যাবর্তনের ঘটনাকে ব্যাখ্যা করে। কুরআন বলে যিশুকে শুলিবিদ্ধ করা হয় নি, বরং মহান আল্লাহ এমন ব্যবস্থা করেছিলেন যেন তা তাঁর শত্রুদের চোখে এরকমই মনে হয়েছিল:“তারা (গর্বভরে) বলল যে: ‘আমরা মরিয়মের পুত্র, আল্লাহর রাসূল ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি’। কিন্তু তারা তাকে হত্যা করে নি, তাকে শুলিবিদ্ধ করে নি, কিন্তু তাদের কাছে যেন তেমন মনে হয় (যে তারা তাকে হত্যা করেছে) তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, আর যারা এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে, তাদের মন কোন (নিশ্চিত) জ্ঞান ছাড়াই সন্দেহে ভরা, কেবল অনুমানের উপর নির্ভরশীল, এটা নিশ্চিত যে তারা তাকে হত্যা করেনি। না, আল্লাহ তাকে তাঁর নিজের কাছে উঠিয়ে নিলেন; আর আল্লাহ তাঁর ক্ষমতায় মহান, বিজ্ঞ।”- কুরআন, নিসা, ৪:১৫৭-১৫৮

খ্রিস্টানরা কুরআনের এই ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং যিশুকে শুলিবিদ্ধ করা হয়েছে এ বিশ্বাস ধরে রেখেছে।ইহুদিরা, অপরদিকে ঈসা (আঃ)-কে মসীহ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একজন মসীহ-এর জন্য অপেক্ষা করে আছে যিনি ইহুদিদের জন্য পবিত্র-ভূমিকে (জেরুজালেম) মুক্ত করে দেবেন; যিনি তাদেরকে গোটা পৃথিবী থেকে ফেরত নিয়ে আসবেন যেন তারা জেরুজালেমকে নিজেদের অধিকারে নিয়ে নিতে পারে; এবং যিনি পবিত্র-ভূমিতে পবিত্র রাষ্ট্র ইসরাইলের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন (যা নবী দাঊদ (আঃ) ও

সুলায়মান (আঃ) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন), এবং সবশেষে ইসরায়েলকে পৃথিবীর নিয়ন্তা-রাষ্ট্রে পরিণত করবেন। সেই মসীহ তারপর ইহুদি-বিশ্ব-ব্যবস্থার দ্বারা জেরুজালেম হতে পৃথিবীকে শাসন করবেন এবং ইহুদিদের স্বর্ণালি যুগকে ফিরিয়ে আনবেন।সময় বয়ে যাওয়ার সাথে বিশ্বজুড়ে বেশ কিছু ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হচ্ছে যা ইহুদিদের দাবির সত্যতার দিকে ইঙ্গিত করে বলে মনে হতে পারে। আমরা জানি পবিত্র-ভূমি মুক্ত হয়েছিল ১৯১৭ সালে। তারপর পৃথিবীবাসী প্রত্যক্ষ করেছে, কিভাবে ইহুদিরা পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ হতে মুক্ত-ভূমিকে নিজেদের বলে দাবি করার জন্য সেখানে ফিরে এসেছে, যেখান থেকে প্রায় ২০০০ বছর আগে এক ঐশ্বরিক আদেশে তারা বিতাড়িত হয়েছিল। এরপর ১৯৪৮ সালে বর্তমান (দখলদার) ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়, এবং সেই ইসরাইল ক্রমান্বয়ে পৃথিবীর মহাশক্তিধর (Super-Power) রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, এটাই ইহুদিদের দাবিকে প্রতিষ্ঠা করে। এই পুরো সময় জুড়েই ইহুদি-খ্রিস্টান মিত্রশক্তি (যারা আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতার রূপকার), এক নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে মসৃণভাবে এগিয়ে গিয়েছে। এসকল ঘটনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে পৃথিবীর নিয়ন্তা-রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের অভিষেক এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এরই সাথে ইসরায়েলের একজন শাসক জেরুজালেম-কেন্দ্রিক বিশ্ব-ব্যবস্থার প্রধান হবেন এবং তারপরই তিনি (ইহুদিদের) সেই প্রতিক্ষিত দাবিটি করবেন যে তিনিই সেই মসীহ, যার আগমনের জন্য ইহুদিরা শতাব্দির পর শতাব্দি অপেক্ষা করেছিল।ইহুদিরা সত্য মসীহ [ঈসা (আঃ)]-কে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই মহানবী (সাঃ) জানিয়েছেন যে আল্লাহ, (যিনি যেকোন ঘটনা ঘটার পূর্বেই তার জ্ঞান রাখেন) তাদের এই প্রত্যাখ্যানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এক নকল বা ভন্ড মসীহ তৈরি করেছেন।

মহানবী (সাঃ) আরও বলেছেন, মহান আল্লাহ ভন্ড মসীহ দাজ্জালকে এমন সময়ে পৃথিবীতে ছেড়ে দেবেন যখন দাজ্জাল ও আমাদের সময়ের মাত্রা ভিনড়ব হবে, এরপর যখন দাজ্জাল আমাদের সময়ের মাত্রায় প্রবেশ করবে, তখনই সে একজন মানুষ হিসেবে আমাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবে। এর আগে পুরো সময় জুড়েই দাজ্জাল বা ভন্ড মসীহ-এর চেষ্টা থাকবে একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা যার মাধ্যমে এক সময় সে জেরুজালেম হতে পুরো পৃথিবীকে শাসন করতে পারবে।মহানবী (সাঃ)-এর জীবনে এমন ঘটনা আছে যা নির্দেশ করে যে, তিনি মদিনায় হিজরত করার পর, যখন সেখানকার ইহুদিরা তাঁকে সত্য নবী হিসাবে ও কুরআনকে মহান আল্লাহর বাণী হিসাবে মানতে অস্বীকার করল, তার পরপরই ভন্ড মসীহকে পৃথিবীতে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। ‘পবিত্র কুরআনে জেরুজালেম’ বইটিতে এর বিস্তারিত বর্ণনা ও ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।মহানবী (সাঃ) আরও বলেছেন যে জেরুজালেম হতে পৃথিবীকে শাসনের লক্ষ্য সফল করতে দাজ্জালের সবচেয়ে মারাত্মক অস্ত্রটি হবে মানুষের অন্তর্নিহিত আধ্যাত্মিক শক্তিকে অন্ধ করে ফেলা যেন তারা তার ধূর্ত কৌশলকে ধরতে না পারে, এবং তার প্রতারণার খপ্পরে পড়ে।১৭ মহানবী (সাঃ) জানিয়েছেন, সমগ্র মানবজাতির উপর তার স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য দাজ্জাল যে বিরাট কৌশল অবলম্বন করবে তার অস্ত্র হবে ‘রিবা’। যারা তাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করবে তাদেরকে সে সুদের মাধ্যমে দারিদ্রের ফাঁদে বন্দি করে ফেলবে, আর যারা তাকে গ্রহণ ও সমর্থন করবে তাদেরকে সে সম্পদ দ্বারা শক্তিশালী করবে। সম্পদশালী এই ধনী গোষ্ঠি তখন দাজ্জালের দোসর ও অনুচর হিসেবে ঐ বিশাল গরিব জনগোষ্ঠীকে দাসে পরিণত করবে আর ভন্ড মসীহ-এর পক্ষে তাদেরকে শাসন ও শোষণ করবে।

কাগজের মুদ্রা (টাকা-রুপি-ডলার-রিয়াল) ইসলামী শরীয়াতে হারাম । কারণ কাগজের মুদ্রার একটা অভ্যাস হইল সময়ের সাথে তার মূল্যপতন বা মূল্যহ্রাস পাইতে থাকে । তার ফলে কিছুদিন পর যখন তার মূল্যহ্রাস পাবে তখন আপনি বঞ্চিত / প্রতারিত হবেন । আর এই কারণেই এই প্রতারণামূলক কাগজের মুদ্রা সারা দুনিয়ায় চালু করা হয়েছিল । তখন কোথায় ছিলেন খ্রিষ্টান মনিষীগণ ? তখন কোথায় ছিলেন ইহুদী মনিষীগণ ? তখন কোথায় ছিলেন হিন্দু মনিষীগণ ? তখন কোথায় ছিলেন বৌদ্ধ মনিষীগণ ? এবং সর্বোপরি তখন কোথায় ছিলেন মুসলিম মনিষীগণ ? পবিত্র কোরআন দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) কে মুদ্রা হিসাবে স্বীকার করে । দীনার শব্দটি কোরআনে আছে । পবিত্র কোরআনে রৌপ্যমুদ্রা হিসাবে দিরহাম এর কথা বলা আছে । মহানবী (সাঃ) মুদ্রা হিসাবে একেবারে পরিষ্কারভাবে স্বর্ণমুদ্রা (দীনার) এবং রৌপ্যমুদ্রাকে (রৌপ্যমুদ্রা) সংজ্ঞায়িত করিয়া গিয়াছেন । এখন কথা হলো, আল্লাহ যাকে হালাল করেছেন, কেউ যদি তাকে হারাম করে, তবে তা কোন ছোটখাট অপরাধ নয় । বরং ইহা অবশ্যই একটা শিরক্‌ । শিরক হইল একমাত্র অপরাধ যা আল্লাহ কখনও ক্ষমা করবেন না । আর আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থায় স্বর্ণকে মুদ্রা হিসাবে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা একটা শির্ক । কিন্তু ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত মুসলিম আলেমগণ বিষয়টির প্রতি লক্ষ্যই করেন নাই । সবচেয়ে আশ্চর্য্যের বিষয় হইল ১৯৪৪-৪৫ সালে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল প্রতিষ্টার পূর্ববর্তী ৭০ বছরে সমস্যাটি অনুধাবন করতেই ইসলামিক স্কলারগণ লজ্জাজনকভাবে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছেন । আমি যদি বলি এই কাগজের মুদ্রা হইল দাজ্জালের মুদ্রা তবে কি আমাকে জেলে ঢুকাবেন ? নাকি বলবেন আমি নেশার ঘোরে আছি ? নাকি গুয়ান্তানামো পাঠাবেন ? ধিক্কার জানাই সেই সমাজের প্রতি যেখানে একজন ইসলামিক পন্ডিতের সত্য বলার স্বাধীনতা নাই । আমি দুইটা ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থার উপর পড়াশোনা করেছি । আমার জীবনের কুড়িটি বছর সুদ ভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থার উপর গবেষণা করেছি । তারপর আমি বলতেছি যে এই কাগজের মুদ্রা একটা ধোকাবাজি, প্রতারনা, হারাম । ইহা একটি শোষণের হাতিয়ার । গরীব জনগণের সম্পদ এবং ঘাম (শ্রম) চুরি করার লাইসেন্স এবং মানবজাতিকে দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি করার হাতিয়ার । আজকের ইন্দোনেশিয়া যেখানে মর্মান্তিকভাবে গরীব একটি দেশ তারও একটি বড় কারণ এই কাগজের মুদ্রা । আজকের সিংঙ্গাপুর যেখানে একটি নোংরা সম্পদশালী দেশ, তারও কারণ এই কাগজের মুদ্রা । আমি নোংরা-দুর্গন্ধযুক্ত সম্পদশালী বলেছি, কারণ কখনও কখনও ধন-সম্পদ থেকে দুর্গন্ধ আসে । এমন কি ইরানের আলেমরা পর্যন্ত কাগজের মুদ্রা যে হারাম তা বুঝতে পারেন না । কাগজের মুদ্রাকে ব্যবহার করা হয় মুসলমানদের গলা কাটার কাজে । আপনাকে কোরআন-হাদীসের আলোতে এই দুনিয়াকে যাচাই / পরীক্ষা করে বুঝার চেষ্টা করতে হবে, এখানে কি হইতেছে । কাগজের মুদ্রা যে দাজ্জালের একটি কারসাজি ইহা খুব অল্প লোকই বুঝতে পারে । কিন্তু কেন ?? এর উত্তর হলো আধ্যাত্মিক অন্ধত্ব । পবিত্র কোরআনের সুরা তাগাবুনে আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা আমাকে ভয় কর যতটা ভয় করা তোমাদের পক্ষে সম্ভব” । কাজেই আমাদের উচিত এই প্রতারণামূলক হারাম কাগজের মুদ্রাকে ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকা, যতটা আমাদের পক্ষে সম্ভব । আমার মতে, সাধারণত দূরবর্তী গ্রামগুলোতে এটা সম্ভব । (যেমন – একজন দুধ বিক্রি করে কাপড় ক্রয় করিবে এবং অন্যজন কাপড় বিক্রি করে দুধ ক্রয় করিবে । ফলে তারা দুধ এবং কাপড় অদল-বদল করে নিতে পারেন ।)

Author: bashirmahmudellias

I am an Author, Design specialist, Islamic researcher, Homeopathic consultant.

One thought on “কাগজের মুদ্রা ইসলা মী শরীয়াতে হারাম

  1. বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
    আস-সালামু ‘আলাইকুম,

    ডাক্তার সাহেব,

    আপনার লেখা ‘কাগজের মুদ্রা ইসলামী শরীয়াতে হারাম’ লেখাটি পড়লাম। অনুগ্রহপূর্বক –
    ক) এর ক্ষতিকর দিকগুলো আরো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।
    খ) কেন কাগজী মুদ্রা বিনিময় যোগ্য মুদ্রা নয় – এর ব্যাখ্যা সহজ করুন?
    গ) ইসলাম কিভাবে এই কাগজী মুদ্রাকে প্রত্যাখ্যান করে বা ধোঁকা গণ্য করে বিষয়টি সুস্পষ্ট করুন।

    আল্লাহ আপনাকে উক্ত বিষয়গুলোর জবাবগুলো সহজ ও সরলভাবে উপস্থাপনের তাওফিক্ব দান করুন। আমী-ন!!

    কামাল আহমাদ

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s