Dr. Bashir Mahmud Ellias's Blog

Know Thyself

ইসলামের দৃষ্টিতে ই য়াজুজ মাজুজ এবং ই মাম মাহদী ঈসা আঃ এর আগমন

Leave a comment

ইসলামের দৃষ্টিতে ইয়াজুজ মাজুজ এবং ইমাম মাহদী / ঈসা আঃ এর আগমন
শায়খ ইমরান নজর হোসেন
আমি রাশিয়ার নেতৃত্বে উত্তরাঞ্চলের জোটকে পবিত্র কুর’আনে বর্ণিত “মাজুজ” বলে চিহ্নিত করেছি। বর্তমানে রাশিয়ার চারপাশে ন্যাটো বলয়ের ক্রমবিস্তার এটাই প্রমান করে যে, ইহুদী-খ্রিষ্টান যায়োনিষ্টরা, যারা এখন লন্ডন, ওয়াশিংটন ও জেরুজালেম থেকে সারা পৃথিবীর উপর শাসন করছে, উত্তর দিক থেকে আসতে পারা এই বিশাল আক্রমণ সম্পর্কে সমপূর্ণরূপে অবগত আছে। তা সত্ত্বেও, তারা সমগ্র মানবজাতিকে এই বুঝিয়ে ধোকা দিচ্ছে যে, মুসলিম মিশর, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন ও অন্যান্য আরব অঞ্চলের জনপ্রিয় গণজাগরণ ইসরাঈলের জন্য সম্ভাব্য সকল হুমকির মধ্যে সবচেয়ে বড় – এই চালাকি তাদের জন্য বয়ে আনবে সেই তথাকথিত আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধের পর্যাপ্ত বৈধতা।
পবিত্র কুর’আন সতর্ক করে দিয়েছে যে, শত্রুপক্ষ পরিকল্পনা করে, তার বিপরীতে মহান আল্লাহ্ তাঁর নিজস্ব পরিকল্পনা করেন, এবং আল্লাহ্র পরিকল্পনাই জয়লাভ করে। মহান আল্লাহ্ তাঁর কি পরিকল্পনা তা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন: একদিন তিনি ইয়াজুজ ও মাজুজকে একে অন্যের বিরম্নদ্ধে এক প্রচ- মহাযুদ্ধে লিপ্ত করবেন।
وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يَمُوجُ فِي بَعْضٍ وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَجَمَعْنَاهُمْ جَمْعًا
অর্থাৎ “আমি সেদিন তাদের এক দলকে আরেক দলের উপর তরঙ্গের আকারে (প্রচন্ডগতিতে) ছেড়ে দেব এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে (অর্থাৎ প্রতারক রাষ্ট্র ইসরাঈলের ধ্বংসের ঘোষণা দেয়া হবে)। অতঃপর আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করে আনব (অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তার আদেশে তাদের চূড়ান্ত ধ্বংসের জন্য)।” – (সূরা আল-কাহাফ, ১৮:৯৯)। [লেখকের
ভাষ্য ব্রাকেটের মধ্যে দেয়া হয়েছে]।
ইয়াজুজ-মাজুজদের পারমাণবিক মহাযুদ্ধ, যাতে অধিকাংশ মানবজাতি ধ্বংস হয়ে যাবে, ইহুদী-খৃষ্টানদের eschatology-তে অর্থাৎ পরকালতত্ত্বে Battle of Armageddon (শুভ ও অশুভ শক্তির শেষ যুদ্ধ) হিসাবে ভবিষ্যদ্বাণী করা রয়েছে। পারমাণবিক বিস্ফোরণে সৃষ্ট mushroom বা মেঘরাশী যা পৃথিবীকে ঢেকে ফেলবে, সম্ভবত সেই “দুখান” (ধোয়া) যার বর্ণনা শেষ সময়ের একটি চিহ্ন হিসাবে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) দিয়েছেন। (এ সমপর্কে আমার ওয়েবসাইটে দেখুন “Ten Major Signs of the Last day – Has One just occurred?”) সেই লেখায় চিহ্নিত করা হয়েছে ধূর্ত প্রতারক ইসরাঈল-রাষ্ট্র ও তার সমর্থকদেরকে, যাদের পরিকল্পনাকে সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনা দ্বারা প্রতিরোধ করা হবে। বর্তমান নাটকীয় আরব বিদ্রোহের বিপরীতে ইসরাঈলের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে, সেটা বুঝার জন্য (এই লেখার মাধ্যমে) আমরা সেই context বা প্রসংগকেই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।
উত্তর দিক থেকে আসা মাজুজদের আক্রমণের ফলে ইসরাঈলের ভাগ্য কি হবে, তা আমরা ইতোমধ্যেই জেনেছি। তারপরও পাঠকদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী। তিনি বলেছেন: মুসলমানরা ইহুদীদের সাথে যুদ্ধ করবে এবং তাদের পরাজিত করবে। অর্থাৎ, মাজুজদের হাতে ইসরাঈলের সামরিক শক্তি বিধ্বস্ত হবার পর, মুসলমানরাও তাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে, এবং তাদেরকে পরাজিত করবে। নবী (সঃ)-এর বর্ণনা অনুযায়ী এটা সকলের কাছেই পরিস্কার যে, ওই সময় ইহুদীরা পলায়নরত অবস্থায় থাকবে এবং তারা প্রাণ রক্ষার জন্য গাছ ও পাথরের পিছনে লুকাবার চেষ্টা করবে।
হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন: “ততদিন পর্যন্ত শেষ সময় অর্থাৎ কেয়ামত আসবে না যতদিন পর্যন্ত না মুসলমানরা ইহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। ইহুদীরা পাথর অথবা গাছের পিছনে লুকিয়ে থাকবে। তখন পাথর অথবা গাছ বলবে: হে মুসলিম, অথবা হে আল্লাহ্র বান্দা, আমার পিছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে রয়েছে, আসো, তাকে হত্যা কর। কিন্তু গ্বারক্বাদ বৃক্ষ তা বলবে না, কারণ এটা ইহুদীদের বৃক্ষ।” (সহীহ মুসলিম, কিতাব আল-ফিতান ওয়া আশরাত আস-সা‘আ, খ- ৪১, হাদিস নং ৬৯৮৫)।
পাঠকের এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত না যে, এখানে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) সকল ইহুদীদের কথা বলেছেন। বরং এখানে তিনি শুধু সেই সকল ইহুদীদের কথাই বলেছেন, যারা উৎপীড়নের সাথে জড়িত। তাদেরকে সেই উৎপীড়নের শাস্তি অবশ্যই পেতে হবে।
পৃথিবীতে অনেক ইহুদী রয়েছেন যারা ইসরাঈলের অবিচার ও শোষনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও জনসম্মুখে একে অভিযুক্ত করার পাশাপাশি শোষন ও অবিচার থেকে মুক্তির সংগ্রামকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন ও সহানুভূতি প্রদর্শন করছেন। এই সকল ইহুদীবর্গ এবং আরও যারা শোষনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন, তারাই হচ্ছেন সেই সকল আরব মুসলমানদের সম্ভাব্য মৈত্রী, যে আরবদের বিদ্রোহের মাধ্যমে মিশরের হোসনি মোবারক ও তিউনিসিয়ার বেন আলীকে সফলভাবে ক্ষমতাচ্যূত করা সম্ভব হয়েছে। শোষনের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর এই সাহসিকতার জন্য আমরা তাদের সালাম জানাই। এখনো প্রচুর মুসলিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন, ইউরোপ, অষ্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, এমনকি আমার স্বদেশ ক্যারিবিয়ান দ্বীপ ট্রিনিডাডে রয়েছেন, যাদের উচিত সাহসিকতা ও চারিত্রিক বলিষ্ঠতার সাথে শোষকসমাজ ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর এই উদাহরণকে অনুসরণ করা।
সেই যুদ্ধ শুরু হবার আগে মধ্যকালীন অবস্থাঃ
এটা খুবই সম্ভব যে, আরব-ইসরাঈল মহাযুদ্ধ শুরু হবার এখনও দেরী আছে, অর্থাৎ আমাদেরকে এখনও বেশ কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে এটা নিশ্চিত যে, বর্তমান বিদ্রোহ যে সকল নতুন সুযোগ তৈরী করে দিয়েছে, ভন্ড নবী দাজ্জাল এই মধ্যকালীন সময়ে সেগুলিকে কাজে লাগিয়ে আরব জীবনে ইসলামের যতটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, তাও ধ্বংস করার জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করে যাবে। এটা সহজেই অনুমেয় যে, এই নতুন স্বাধীনতা, দ্রুত একটি ধর্মহীন স্বাধীনতায় পরিণত হতে পারে, যেখানে অবৈধ বলে কিছুই থাকবে না, অর্থাৎ সব কিছুই অনুমতিযোগ্য হয়ে যাবে। এই অবস্থায় শুধুই যে “মহিলারা পোশাক পরেও নগ্ন” থাকবেন তাই নয়, বরং “দিন, দিনের সাথে মিলিত হবে” এবং “রাত, রাতের সাথে মিলিত হবে”। এর ফলস্বরূপ, বিশ্বায়নের নতুন জোয়ারে স্রষ্টাবিবর্জিত বিশ্বসমাজে আরব শহরগুলিও সম্পূর্নভাবে মিশে যাবে।
এখানে অবশ্য আরেকটি সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, তা হলো: ইসলামিক রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবে বৈকি, কিন্তু তারা সূদ বা রিবা-ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কোনো ফলপ্রসু মোকাবিলা করতে সমর্থ হবে না, এবং সেই কারণে গরীব জনগণের দুঃখ-দুর্দশার অবসান ঘটাতে ব্যর্থ হবে, এবং সকলের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে। আর একটি সমস্যার কথা বলাই বাহুল্য। আর তা হলো, ইসলামিক খিলাফত কায়েমের সকল প্রচেষ্টাও কঠিন বাধার মুখে পর্যুদস্ত হবে।
মুসলমানরা এই সময় কি করতে পারে?
মুসলমানদের প্রধান করণীয় হলো, তারা যেন নিষ্পেষণ থেকে মুক্তি অর্জনের ন্যায়সঙ্গত প্রচেষ্টাকে কখনই থামিয়ে না দেয়। এই মানসিকতা ধরে রাখার জন্য সৎ সাহচর্য বজায় রাখতে হবে। পবিত্র কুর’আনের সুরা আল-কাহাফে উপদেশ দেয়া হয়েছে, যেন তারা অবশ্যই সবসময় মহান আল্লাহ্র সত্য বান্দাদের খোজ করে এবং তাদের সাহচর্য বজায় রাখে।
وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُم بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَن ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا
“তুমি নিজকে ধৈর্য সহকারে উহাদেরই সংসপর্শে রাখিবে যাহারা সকাল ও সন্ধ্যায় উহাদের প্রতিপালককে আহ্বান করে তাঁহার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে, এবং তুমি পার্থিব জীবনের শোভা কামনা করিয়া উহাদিগ হইতে তোমার দৃষ্টি ফিরাইয়া লইয়ো না। তুমি তাহার আনুগত্য করিও না, যাহার চিত্তকে আমি আমার স্মরণে অমনোযোগী করিয়া দিয়াছি, যে তাহার খেয়াল খুশির অনুসরণ করে ও যাহার কার্যকলাপ সীমা অতিক্রম করে।” (আল-কুর’আন, সূরা আল-কাহাফ, ১৮:২৮)।
সুরা আল-কাহাফ আমাদেরকে স্রষ্টাবিবর্জিত সমাজ বর্জন করারও উপদেশ দেয়। আর তা অর্জন করার সম্ভবত সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে, আধুনিক নগর জীবনকে বর্জন করে ছোট ছোট মুসলিম গ্রামে বসবাস করা। এ সকল গ্রামের হাটবাজারে স্বর্ণ-মুদ্রা বা দিনারের, ও রৌপ্য-মুদ্রা বা দিরহামের প্রচলন শুরু করা যেতে পারে।
তদুপরি, দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবার জন্য আমাদের উচিত প্রত্যেক জুম্মার দিন নিয়মিতভাবে “সূরা আল-কাহাফ” তেলাওয়াৎ করা, এবং সুন্নতসম্মত দোয়াসমূহ পাঠ করা।
সম্মানীত পাঠকবৃন্দ আপনাদেরকে আজ শুনাব মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পথ ভ্রষ্টদের কি ভাবে দুনিয়া এবং আখেরাতে শাস্তি প্রদান করেন তার গল্প।

ইহুদীরা হচ্ছে আল্লাহর অভিশাপ প্রাপ্ত৤ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক বলেন

Author: bashirmahmudellias

I am an Author, Design specialist, Islamic researcher, Homeopathic consultant.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s