Dr. Bashir Mahmud Ellias's Blog

Know Thyself

ইমাম আল-মাহদীর আগমন কি আসন্ন

Leave a comment

ইমাম আল-মাহদীর আগমন কি আসন্ন ?

মূল: শায়খ ইমরান নযর হোসেন
অনুবাদ : মোঃ শিহাবুদ্দিন সাদী
মুসলমানদের অনেকেই স্বনামধন্য মুসলিম চিন্তাবিদ ইবনে খালদুন ও ডঃ মুহাম্মদ ইকবালের মতামত দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ইমাম আল-মাহদির আগমনে বিশ্বাস করেন না। সেকারণে এই লেখকের এবিষয়ে চিন্তাভাবনাকে মেকি ভেবে অনেকেই অবজ্ঞাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি হলো, ইমাম আল-মাহদির আগমনের বিষয়টিকে গভীরভাবে অনুধাবন করাকে যারা গুর্বত্ব দিচ্ছেন, তারা পৃথিবীর অত্যাচার ও মিথ্যাভাষণের বির্বদ্ধে যুদ্ধ না করে হাত গুটিয়ে বসে আছেন কেন? তাদের এদাবি শুধু যে মিথ্যা তাই নয়, বরং পাপে পরিপূর্ণ। এবিষয়ে আরও প্রণিধানযোগ্য যে, হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর উম্মতের মধ্যে কেউ কেউ সত্য স্বপড়ব ও অন্তর্দৃষ্টি দ্বারা আশীর্বাদপুষ্ট হবেন, যা তাঁদের কাছে শেষ সময়ে ইমাম আল-মাহদির আগমনের তথ্য বহন
করবে। পাঠকরা অবশ্যই জানেন যে, এই প্রাপ্ত তথ্য বস’নিষ্ঠভাবে বিচারযোগ্য নয়, এবং এই তথ্যকে সত্য বলে বিশ্বাস করার বাধ্য-বাধকতাও নেই। সেকারণে, পৃথিবীর রহস্যময় ঘটনাবলীর উন্মোচনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই লেখক কখনো এধরনের তথ্য ব্যবহার করার উদ্যোগ নেন নি, বিশেষ করে পবিত্রভূমি জের্বজালেমের শেষ অধ্যায় অনুধাবন করার ক্ষেত্রে। বরং তিনি শেষ সময়ের উপর পবিত্র কুর’আন ও হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর পবিত্র হাদিসে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই ঘটনাবলীর মূল অর্থ উপলব্ধি করার জন্য অনবরত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।যখন এই লেখক পৃথিবী থেকে চলে যাবেন, তখনও তার ছাত্ররা তার এই প্রচেষ্টাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে ইনশাআলৱাহ, এ ব্যাপারে তিনি আস’াশীল। যুক্তিভিত্তিক গবেষণা (এবং অন্তর্জ্ঞানলব্ধ প্রজ্ঞা)-র উপর ভিত্তি করে যে কোন ধারণা অবশ্যই আলৱাহর বাণীর তুলনায় ত্র্বটিপূর্ণ (কারণ আলৱাহই সবচেয়ে ভালো জানেন)। যারা লেখকের এই রচনা কিংবা অন্যান্য রচনা ও বক্তৃতায় প্রকাশিত মতামতের সাথে একমত নন, তাদের এটা গ্রহণ না করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সেকারণে, যতৰণ তারা নিজের পরিচয় এবং সুনির্দিষ্ট মতামত না জানিয়ে এই লেখকের দৃষ্টিকোণকে পরিত্যাজ্য মনে করছেন, ততৰণ তাদের সমালোচনার জবাব দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। লেখক বিশ্বাস করেন যে, তার এই লেখা ও অন্যান্য লেখার উপর যুক্তি ও পারসপরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে আলোচনা থেকে শুধু সেই সকল অংশগ্রহণকারীরা লাভবান হবেন ইনশাআলৱাহ্‌, যাদের বৃহৎ অর্থে বুঝার ইচ্ছা ও অন্তর্দৃষ্টি রয়েছে।
ইমাম আল-মাহদির আগমন, বর্তমান মুসলিম বিশ্বের শিয়া ও সুনড়বী উভয়ের জন্যই এখন সত্যিকার অর্থেই একটি জর্বরী ও গুর্বত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। অপর দিকে, কাদিয়ানীদের ভন্ড নবী, মির্জা গোলাম আহমদ আল-কাজ্জাবের ভুল পথে চালিত অনুসারীদের এই আলোচনা অত্যন্ত মনোযোগের সাথে অনুসরণ করা উচিত; তাহলে ইনশাআলৱাহ্‌ তারা মির্জার, ইমাম আল-মাহদি ও প্রতিশ্র্বত মসিহ হওয়ার মিথ্যা দাবীকে শনাক্ত করতে পারবেন। এখানে এটা বলে রাখা উচিত যে, এখন থেকে যে কোন সময়ে সমগ্র আরব অঞ্চল, পাকিস্তান ও ইরানের উপর ইঙ্গ-আমেরিকান-ইসরায়েলি সামরিক আμমণের সম্ভাবনা রয়েছে। অতএব, এই অবস’ায় ইমাম আল-মাহদির আগমনের এই বিষয়টি আরও বেশী গুর্বত্বপূর্ণ। তবে আমাদের আরও
সাবধান থাকতে হবে, কারণ প্রতিশ্র্বত ইমাম হবার মিথ্যা দাবি নিয়ে আরও অনেকের আগমন ঘটতে পারে। আমরা পূর্ববর্তী এক লেখায় সাবধান করে দিয়েছি যে, ইরানের উপর ইসরায়েলের আক্রমণ প্রায় নিশ্চিতভাবেই শিয়াদের দাবী করা প্রতিশ্র্বত ইমামের আগমন ঘটাতে পারে। অপর দিকে যখন আরবদেশ অথবা পাকিস্তানের উপর আক্রমণ হবে, তখন সুন্নীদের পক্ষ হতেও এমন দাবী উঠতে পারে।
এই রচনাটি লেখা হয়েছে আর্জেন্টিনার বুয়েনস এয়ারেসে, যেখানে আমি দৰিণ আফ্রকিার কেপটাউনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক রিট্রিটে যোগদান করার উদ্দেশ্যে যাবার পথে যাত্রাবিরতিতে ছিলাম। এই লেখায় আমি চেষ্টা করেছি শেষ সময়ের প্রেক্ষিতে ইমাম আল-মাহদির আগমনের বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করতে এবং তাঁর আগমনের সময়কাল সমপর্কে একটি ধারণা দিতে। পবিত্র কুর’আন ও হাদীসসমূহ হতে “শেষ সময়” সংক্রান্ত তথ্যাদি সাবলীলভাবে সাজিয়ে বুঝার যে পদ্ধতি আমরা অবলম্বন করেছি, তার মাধ্যমে আমরা বলতে পারি যে, কুমারী মরিয়ম-পুত্র হযরত ঈসা (তাঁদের দুজনের উপরই আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি হচ্ছে শেষ সময়ের চিহ্নগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় চিহ্ন (†`Lyb, An IslamicView of Gog and Magog in the Modern World)। সেই সাথে ইমাম আল-মাহদির আগমনের বিষয়টি অবশ্যই ঈসা (আঃ)-এর এই গুর্বত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

যুক্তির খাতিরে বলা যায় যে, সর্বজ্ঞানী সৃষ্টিকর্তা, যার সৃষ্টি নিখুত, তিনি, দাজ্জালকে মসিহ হিসাবে তার ভন্ডামি পরিপূর্ণ করার আগেই সত্য মসিহ ঈসা (আঃ)-কে পৃথিবীতে পাঠাবেন, তা হতে পারে না । আর দাজ্জালের মসিহ বলে পরিচয় দেয়ার অপচেষ্টা ততদিন পর্যন্ত সমপূর্ণ হবে না যতদিন সে নিজেকে জনসম্মুখে সত্য মসিহ বলে দাবি না করছে । উপরন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত না সে, একজন ইহুদির বেশে পবিত্রভূমি জের্বজালেম থেকে সারা পৃথিবীতে এবং বিশেষত আরব মুসলমানদের উপর (যা চারিদিক থেকে পবিত্রভূমিকে ঘিরে রয়েছে) তার রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করছে (অবশ্যই সেটা করার সামর্থ তার রয়েছে)। অর্থাৎ, যতক্ষণ পর্যন্ত এই সকল প্রমাণসহ সে নিজেকে উপস্থাপন না করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোন বিজ্ঞ ইহুদিই তাকে আন্তরিকভাবে প্রতিশ্র্বত মসিহ বলে মেনে নেবে না বলেই আমার বিশ্বাস। আমার এই মতামতের কারণ হলো, ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থেই এক মসিহের আগমনের কথা বলা হয়েছে, যে দাঊদ (আঃ)-এর সিংহাসনে বসে সারা পৃথিবীতে এক চিরন্তন রাজত্ব কায়েম করবে।
আমি Jerusalem in the Qur’an এবং আমার অন্যান্য লেখায় বলেছি যে, দাজ্জালের “এক দিন এক মাসের মত” এখন শেষের পথে, এবং “এক দিন এক সপ্তাহের মত” এখন শুরু হতে যাচ্ছে । এই বিষয়ে আমরা “বিশেষ বিশ্লেষণ পদ্ধতির” মাধ্যমে আরও বলতে পারি যে, “এক দিন এক মাসের মত” থেকে “এক দিন এক সপ্তাহের মত” পর্যায়ে প্রবেশ করতে একটি বড় যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী, যার পরিণতিতে লক্ষ লক্ষ জীবনের অবসান ঘটতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখতে পাই যে ঠিক একই ঘটনা ঘটেছিল যখন দাজ্জাল “এক দিন এক বছরের মত” থেকে “এক দিন এক মাসের মত” পর্যায়ে প্রবেশ করেছিল। এবং দুঃখজনক হলেও মনে হচ্ছে যে এই যুদ্ধ শীঘ্রই শুরু হবে । এইরূপ ফলাফল দেখা দিলে, যারা এই লেখককে সঠিক পথে আছেন (অথবা অন্তত ভুল পথে নেই) বলে মনে করছেন, তারা দ্বিধাবিভক্তও হবেন না কিংবা হতোদ্যমও হবেন না ।যে প্রশ্ন নিয়ে আজকের এই লেখা, তার উত্তর দেবার জন্য তারা অবশ্যই নিম্নোক্ত বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় আনবেন ─ (ক) ইসরায়েল এখনো তাদের ইউরো-জূইশ স্টেটকে ঘিরে থাকা আরব-মুসলিম বিশ্বের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি; (খ) তাওরাতে (মিথ্যাভাবে) বর্ণিত সীমানা অনুযায়ী ইসরায়েল এখনো তার “পবিত্র ভূমি”-র সীমানাকে বিস্তৃত করতে পারে নি; (গ) সমগ্র পৃথিবীর শাসনকারী দেশ হিসেবে ইসরায়েল এখনো ইউ-এস-এ-এর স্থান নিতে পারে নি; এবং (ঘ) কোন ইহুদি এখনো নিজেকে প্রতিশ্র্বত মসিহ বলে দাবি করে নি।

অতএব, খুব সহজেই বুঝা যায় যে, ঠিক এখনই ইমাম আল-মাহদির আগমন ঘটতে পারে না । যদি তা হয়, তাহলে সেটা হবে আমাদের বিশ্লেষণ-পদ্ধতির সাথে সংগতিহীন, যে পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা শেষ সময়ের সকল তথ্যকে যুক্তিসঙ্গত ভাবে সাজাবার চেষ্টা করেছি। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি (অবশ্য আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন) হচ্ছে, ইমাম আল-মাহদি তখনই আবির্ভূত হবেন যখন দাজ্জালের “একদিন এক সপ্তাহের মত” শেষ হবে, এবং সে মানুষরূপে আমাদের সময়ের গন্ডির মধ্যে প্রবেশ করবে। এর কারণ হচ্ছে: ইমাম আল-বুখারীর সহীহ হাদীসগ্রন্থের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, ইমাম আল-মাহদির আগমন এবং হযরত ঈসা (আঃ)-এর পৃথিবীতে ফিরে আসা, এই ঘটনা দুটি সমসাময়িক।“তোমরা ঐ সময় কোন অবস্থায় থাকবে যখন মরিয়ম-পুত্র তোমাদের মাঝে অবতরণ করবেন, এবং তোমাদের ইমাম তোমাদেরই একজন (অর্থাৎ মুসলিম) হবেন।”─ সহীহ বুখারী

অনেকে ভাবতে পারেন যে, ইমাম আল-মাহদির আগমন ও হযরত ঈসা (আঃ)-এর প্রত্যাবর্তনের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ বছরের পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন । আমরা মনে করি যে, ইসরায়েল রাষ্ট্র ও ইয়াজুজ-মাজুজের বিশ্বব্যবস্থা যা ইউরো-জূইশ স্টেটকে সমর্থন করছে, মক্কায় ইমাম আল-মাহদির আবির্ভাবের সাথে সাথেই তাঁকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে প্রবল বেগে ঝাঁপিয়ে পড়বে। যদি এটা সত্যি হয়, তাহলে আশা করা যায়, যখনই ইমাম আল-মাহদি পবিত্র কা’বা শরীফে আত্মপ্রকাশ করবেন এবং নিজেকে প্রতিশ্র্বত ইমাম বলে ঘোষণা দেবেন, তখনই ঘটনাবলী দ্র্বত পরিবর্তিত হয়ে এমন দিকে মোড় নিবে যার ফলস্বরূপ, বিশ্বক্ষমতার কতৃর্ত্ব যাদের হাতে থাকবে, তাদের সাথে তাঁর সংঘর্ষের সূত্রপাত হবে। এই সংঘর্ষের সূত্র ধরেই, ইমাম আল-মাহদির সাথে দাজ্জালের ব্যক্তিগত সংঘর্ষও শুরু হবে, যা সহীহ মুসলিমের হাদীসে বলা হয়েছে ।এবং এর পরই ঈসা (আঃ) আকাশ থেকে “দুজন ফেরেশতার কাঁধে তাঁর হাত রেখে” অবতরণ করবেন । তাই আমাদের জোর ধারণা, ইমাম আল-মাহদি এবং হযরত ঈসা (আঃ)-এর আগমনের মাঝামাঝি সময়টি খুবই সংক্ষিপ্ত হবে।যেহেতু আমরা এও দাবি করি যে, দাজ্জাল তার কর্মকান্ড সমপূর্ণ করে জনসম্মুখে নিজেকে মসিহ বলে দাবি না করা পর্যন্ত হযরত ঈসা (আঃ) ফিরে আসবেন না, তাই সারা পৃথিবীকে ─ (ক) ইমাম আল-মাহদির আগমন; (খ) অন্যান্য ঘটনাবলীর দ্র্বত পরমপরায় ঈসা (আঃ)-এর ফিরে আসা; (গ) দাজ্জালের ধ্বংস হওয়া; (ঘ) ইয়াজুজ-মাজুজের ধ্বংস হওয়া; এবং (ঙ) জেরুজালেমে আবার খিলাফত প্রতিষ্ঠা হবার জন্য আরো ২০-৩০ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। এবং আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন। ইমাম আল-মাহদির আগমন পর্যন্ত যে সময় রয়েছে, সে সময় (তা যত দীর্ঘই হোক না কেন) আমাদের পাঠকেরা সতর্ক থাকার জন্য অবশ্যই লড়াই চালিয়ে যাবে, যেন তারা, ভুয়া ইমামদের দ্বারা (যাদের আগমন খুব শীঘ্রই ঘটতে পারে) ভুল পথে চালিত না হয় । বিশেষ করে তাদের দ্বারা যেন প্রতারিত না হয় যারা তথাকথিত “বিশ্বস্ততার সাথে” ভুল পথের অনুসারি মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর পথ অনুসরণ করেছে । সেই সাথে বলতে হয়, যদি ইতোমধ্যেই ইসরায়েলি মোসাদ বা সি-আই-এ অনুরূপ আর এক ভুয়া ইমামের জন্য কোনো “উপযুক্ত” প্রার্থী তৈরী করে রেখেছে, তবে তাতে অবাক হবার কিছুই নেই।

Author: bashirmahmudellias

I am an Author, Design specialist, Islamic researcher, Homeopathic consultant.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s