Dr. Bashir Mahmud Ellias's Blog

Know Thyself

আইসিস ইসলামিক ষ্টে ট সম্পর্কে মহানবীর সাঃ ভবিষ্যৎবাণী

Leave a comment

মুসলমানদের খলিফা দরকার নাই, মুসলমানদের খেলাফত দরকার নাই
মূল -শায়খ হামযা ইউসুফ

অনুবাদ-ডাঃ বশীর মাহমুদ ইলিয়াস
ইসলাম রক্ষার জন্য খলিফা দরকার নাই, ইসলাম টিকিয়ে রাখার জন্য খেলাফত দরকার নাই । বোখারীর শরীফের হাদীস দেখুন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইল, যদি আমি এমন অবস্থার সম্মুখীন হই যখন মুসলমানদের কোন খলিফা বা ইমাম না থাকে এবং মুসলমানদের কোন সঠিক দলও না থাকে, তখন আমি কি করিব ? মহানবী (সাঃ) বলিলেন, নিজের মুক্তির জন্য চেষ্টা করিবে । প্রয়োজনে ঈমান রক্ষার জন্য দূরবর্তী জঙ্গলে বা পাহাড়ি উপত্যকায় আশ্রয় নিবে । কিন্তু নবী করীম (সাঃ) কখনও বলেন নাই যে, খুনাখুনি করিয়া রক্তপাত করিয়া হইলেও তোমাদেরকে খিলাফত কায়েম করিতে হইবে, খিলাফাহ কায়েম করা ফরজে কিফায়া ইত্যাদি ইত্যাদি । এখন যাহারা খেলাফত কায়েমের দাবী করিতেছে, নিজেকে খলিফা বলিয়া দাবী করিতেছে, এদের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই । মহানবীর (সাঃ) আদর্শ সম্পর্কে এদের কোন জ্ঞান নাই । মহানবী (সাঃ) তরুণ-যুবকদেরকে জিহাদে যাওয়ার পরিবর্তে পিতা-মাতার সেবাযত্ন করিতে আদেশ দিয়াছেন । অথচ এখনকার নির্বোধ তরুণরা পিতামাতার বিনা অনুমতিতে বাড়ি থেকে পালাইয়া গিয়া তথাকথিত জিহাদে যোগ দিতেছে । এসব বাদ দিয়ে হাসপাতাল তৈরী করুন, ডাক্তার হউন, মানুষের সেবা করুন । জঙ্গলে গিয়ে ওরাঙ ওটাঙের সেবা করুন । ইহারা বর্তমানে বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতি । বিশ্বাস করুন কেয়ামতের দিন তাহারা আপনার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে । আদিবাসীদের নিকট যান, তাদের সেবা করুন। খ্রীষ্টানরা তাদের সেবা করে খ্রীষ্টধর্মে দীক্ষিত করিতেছে । কখনও কখনও অগণিত মানুষের মতামতও ভুল হইতে পারে আবার মাত্র একজন মানুষের মতামতও সঠিক হইতে পারে । হযরত আবু বকর সিদ্দিকের (রাঃ) শাসন আমলে কিছু সংখ্যক মুসলমান যখন খলিফাকে যাকাত দিতে অস্বীকার করিল, তখন সকল মুসলমানই তাহাদের পক্ষ নিলেন । কিন্তু একা একমাত্র আবু বকর সিদ্দিক (সাঃ) তাদের বিরুদ্ধে রুখিয়া দাড়াঁইলেন । পরবর্তীতে দেখা গেলো, হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)-এর মতই সঠিক ছিল । মহানবী (সাঃ) বলিয়াছেন, একজন মুসলমানের অধিকার আছে সে যে-কোন ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দিতে পারে । কিন্তু (আইসিসের) এই লোকগুলোর নবীজির (সাঃ) সুন্নাহ সম্পর্কে কোন ধারনা নাই । একজন অমুসলিম হওয়া সত্ত্বেও রাসুলে পাকের (সাঃ) আদর্শ সম্পর্কে আমেরিকার সেই মহিলার আরো ভালো জ্ঞান আছে, যার ছেলেকে ইরাকে বন্দি করা হইয়াছে । সেই নারী ইউটিউবের মাধ্যমে বলিয়াছেন, আমি আপনাদের ধর্ম ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা করিয়াছি, তাহাতে বলা হইয়াছে একজনের অপরাধের জন্য অন্যজন শাস্তি ভোগ করিবে না । আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি যাহা করিয়াছে তাহার জন্য আমার ছেলে দায়ী নয় । আমি আপনাদের নবী মোহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে পড়াশোন করিয়াছি, তিনি মানুষের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করিতে ভালবাসিতেন । কাজেই আমি আমার ছেলের মুক্তি চাই, তাহাকে ফেরত চাই । আমি জানি তাহাদের হাতে মুসলমানদের যত ক্ষতি হইতেছে তাহা পৈশাচিক কিন্তু তাহার কেবল খ্রীষ্টানদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে । আমি ব্যাপারটি ভাল করেই উপলব্ধি করিয়া থাকি ।
আমাদেরকে মনে রাখিতে হইবে যে, মুসলমানরা যখন মুসলমানদের ক্ষতি করে তখন কেবল নিজেদেরই ক্ষতি করিল । কিন্তু মুসলমানরা যখন অন্যায়ভাবে অমুসলিমদের ক্ষতি করে তাতে কিন্তু ইসলামেরই ক্ষতি (বদনাম) করা হয় । আমাদের ধর্মে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হইল আমরা মহানবীর (সাঃ) সম্মান মর্যাদাকে সর্বদা রক্ষা করিয়া চলিব । আমার মতে ইসরাইলী ইহুদীরা ফিলিস্তীনি মুসলমানদের সাথে যেই ব্যবহার করিয়াছে তাহা পৈশাচিক এবং নিন্দনীয় । কিন্তু একই ব্যবহার যদি ফিলিস্তীনি মুসলমানেরা ইসরাইলী ইহুদীদের প্রতি করে, তবে তাহা আরো বেশী পৈশাচিক । কেননা ইহা ইসলামের (সুনামের) ক্ষতি করিয়া থাকে । আইসিসের লোকেরা যখন নিরীহ সাধারণ মানুষের উপর আক্রমণ করে, তখন মানবজাতি মনে করিবে আমাদের নবীজির (সাঃ) প্রচারিত ধর্ম (ইসলাম) একটি নিষ্টুর ধর্ম । উনবিংশ শতাব্দির একজন মনীষি আমির আবদুল কাদের জাযায়েলী (রহঃ) বলিয়াছেন, যখন অজ্ঞ লোকেরা মনে করিবে যে ইসলাম হইল কঠোরতা, বর্বরতা, সীমালংঘন, বাড়াবাড়ি, অসংযমের ধর্ম ; তখন বুঝিতে হইবে যে এই সত্য ধর্মের সত্যিকারের অনুসারীর সংখ্যা খুবই কমিয়া গিয়াছে । আইসিসের লোকগুলি হইতেছে খারেজী কিন্তু মিডিয়া তাদের প্রচার করিতেছে সুন্নী হিসাবে । বলিতেছে যে, সুন্নীরা শিয়াদের হত্যা করিতেছে । হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) এর নিকট আসিয়া এক ব্যক্তি বলিলেন, আল্লাহ কোরআনে বলিয়াছেন লড়াই কর আল্লাহর পথে যতক্ষন না দুনিয়া থেকে ফেতনা-ফাসাদ দূর হয়ে যায় ।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বলিলেন, তোমার মাতা তোমার জন্য বিলাপ করুক ! তুমি কি জানো ফিতনাহ কি জিনিস ? আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এবং সাহাবায়ে কেরাম জিহাদ করিয়াছেন মুশরিকদের বিরুদ্ধে । কেননা তাহাদের শিরকের মধ্যে থাকাই হইল সবচেয়ে বড় ফিতনাহ । (কেননা মুশরিকরা মানুষকে ইসলাম গ্রহন করিতে বাধা দিত।) আর তোমাদের লড়াই আল্লাহর পথে নয় বরং ক্ষমতা দখলের জন্য । বোখারী শরীফের হাদিস, যখন দুইজন মুসলমান হাতিয়ার নিয়ে লড়াই শুরু করে, তাদের জীবিত এবং মৃত দুইজনই জাহান্নামে যাইবে । সহীহ মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী ফিতনার সময়ে নিহত ব্যক্তিদের শহীদ বলা যাইবে না । বোখারীর হাদীস মতে, মহানবী (সাঃ) বলিয়াছেন, দুষমনদের মুখোমুখি হওয়ার আকাঙখা করিও না । রাসুলে পাক (সাঃ) বলিয়াছেন, শীঘ্রই সমুদ্রের টেউয়ের মতো ফিতনাহ ফাসাদ আছড়াইয়া পড়িবে একটার পর আরেকটা । যখন খালিদ ইবনে ওলীদ (রাঃ) যুদ্ধবন্দীদের হত্যা করিলেন, এই খবর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট পৌঁছিলে তিনি আকাশের দিকে হাত উঠিয়ে বলিলেন, হে আল্লাহ ! খালিদ যাহা করিয়াছে তাহার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই । আইসিস বা ইসলামিক ষ্টেটের লোকদের ধর্মপরায়নতা দেখিয়া বিভ্রান্ত হইবেন না । কেননা বিভ্রান্ত বিপথগামী পথভ্রষ্ট এই খারেজিদের সম্পর্কে নবীজি (সাঃ) বলিয়া গিয়াছেন যে, তাহাদের নামায দেখিলে তোমরা (সাহাবায়ে কেরাম) নিজেদের নামাযকে তুচ্ছ মনে করিবে । তাহারা কোরআন তেলাওয়াত করিবে কিন্তু তাহা তাহাদের গলার নীচে নামিবে না অর্থাৎ কুরআনের অর্থ তাহারা উপলব্ধি করিতে পারিবে না । এই বিভ্রান্ত যুবকরা আমার উম্মাতকে টুকরা টুকরা করিয়া ফেলিবে । তাহারা মুসলমানদের হত্যা করিবে পক্ষান্তরে কাফের মোশরেকদের ছাড়িয়া দিবে।

Author: bashirmahmudellias

I am an Author, Design specialist, Islamic researcher, Homeopathic consultant.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s