Dr. Bashir Mahmud Ellias's Blog

Know Thyself

কেয়ামতের আলামত শায় খ ইমরান নযর হোসেন

Leave a comment

অচেতন মানবজাতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

আল্লাহর নবী (সাঃ) বলেছেন, “যখন জেরুজালেমের উত্থান হবে এবং মদীনার পতন হবে, তখন আসবে মহাযুদ্ধ । ইহা হবে এমন যুদ্ধ যাতে শতকরা ৯৯ জন মৃত্যুবরণ করবে” । মহানবী (সাঃ) জেরুজালেমের উত্থান বলিতে ইসরাঈলের উত্থান অর্থাৎ ইহুদীদের উত্থানকে বুঝিয়েছেন এবং মদীনার পতন বলিতে মুসলমানদের পতনকে বুঝিয়েছেন । বর্তমানে সমগ্র পৃথিবীর রাজনীতি, অর্থনীতি এমনকি ধর্মীয় বিষয়াদি ইহুদীরা নিয়ন্ত্রণ করে । অন্যদিকে এখনকার দুনিয়ার রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কোন ব্যাপারেই মুসলমানদের কোন কর্তৃত্ব নাই । সুতরাং রাসুলূল্লাহ (সাঃ) এর ভবিষ্যতবাণীকৃত সেই ভয়ঙ্কর যুদ্ধ এখন যে-কোন মুহূর্তেই শুরু হয়ে যাবে । আর তা হবে পারমাণবিক যুদ্ধ । কেননা এটম বোমা ছাড়া প্রচলিত অন্য কোন অস্ত্রের আঘাতে শতকরা ৯৯ জন মানুষের মৃত্যু হয় না । সেই যুদ্ধে পৃথিবীতে বিদ্যমান একটি এটম বোমাও অবশিষ্ট থাকবে না, সবগুলো ফাটানো হবে । ফলে পৃথিবীর বিরাট একটি অংশ মানুষের বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে যাবে (সম্ভবত উত্তর আমেরিকা এবং পশ্চিম ইউরোপ) । সম্প্রতি আল্লাহ আমাকে স্বপ্নেযোগে যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাতে মনে হয় আমাদের হাতে আর মাত্র এক বছর সময় আছে । দ্রুত সমাগত এই ভয়ংকর বিপদের খবর নেওয়ার সময় নাই মানবজাতির । তারা এখন ম্যাকডোনালসে বসে ক্যান্টাকি ফ্রাই খাওয়া নিয়ে মহাব্যস্ত । তারপরও আলেমদের কাজ মানুষকে সাবধান করা সেটা করে যাচ্ছি ।

মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

দাজ্জালের হুকুমে বৃষ্টি বর্ষিত হইবে

সামরিক প্রযু্ক্তি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আমেরিকা এমন এক প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে যা বলতে গেলে এটম বোমার চাইতেও শত্রু নিধনে বেশী কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে । ইহার নাম হার্প (HAARP-High Frequency Active Auroral Research Program) । অবশ্য এই প্রযুক্তি বর্তমানে রাশিয়া এবং চীনও আয়ত্ত করেছে এবং ব্যবহার করতেছে । ইহার মাধ্যমে হাজার হাজার মাইল দূরবর্তী এলাকার আবহাওয়াও নিয়ন্ত্রণ করতে পারা যায় । খরা-বন্যা-টর্নেডো-ভূমিকম্প ইত্যাদি সৃষ্টির মাধ্যমে শত্রুকে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করা যায় । কোটি কোটি মানুষের মধ্যে নির্দিষ্ট এক বা একাধিক রোগ ছড়িয়ে দেওয়া যায়, যেমন-মৃগী, ক্যানসার ইত্যাদি । কাজেই এখন থেকে আমেরিকায় বা আমেরিকাপন্থী কোন দেশে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হইলে তাকে রাশিয়ার কারসাজি বলে ধরে নিতে পারেন । আবার বিপরীতটা হলে আমেরিকার কারসাজি হিসাবে মনে করতে পারেন । অবশ্য রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কৌশলগত কারণে সাম্রাজ্যবাদীরা নিজ দেশে অথবা বন্ধুপ্রতিম দেশেও অঘটন ঘটাতে দ্বিধা করে না । আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, মহানবী (সাঃ) আবহাওয়া দাজ্জালের নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন । আর দাজ্জাল বলতে নবী করীম (সাঃ) কখনও

ব্যক্তি বুঝিয়েছেন আবার কখনও প্রযুক্তি বা সভ্যতা বুঝিয়েছেন ।

মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

ব্যাংকের কিস্তি দেওয়া অবস্থায় মৃত্যু হইলে চিরস্থায়ী জাহান্নাম

যাহারা ব্যাংক থেকে সুদে ঋণ নিয়া বাড়ি-গাড়ি-কলকারখানা তৈরী করিয়াছেন, তাহাদেরকে প্রথমে বাড়ি-গাড়ি-কলকারখানা বিক্রি করিয়া ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করিতে হইবে । তাহার পরে তওবাহ করিলে আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করিয়া দিবেন । যাহারা প্রতি মাসে ব্যাংকের সুদের কিস্তি পরিশোধ করিতেছেন আবার তওবাও করিতেছেন, আল্লাহ তাহাদের তাওবাহ কবুল করিবেন না । এই অবস্থায় আপনার মৃত্যু হইলে আপনি সুদ লেনদেনকারী হিসাবেই গণ্য হইবেন এবং কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী আপনার পরিণতি হইবে চিরস্থায়ী জাহান্নাম ।

মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

সন্তানদের জন্য জাহান্নামী হইবেন না

পবিত্র কোরআনের সুরা কাহফ একটি আখেরী জামানা সংক্রান্ত সুরা । এই ছুরাতে আল্লাহ একটি ঘটনা বর্ণনা করিয়াছেন, হযরত খিজির (আঃ) একটি কিশোর ছেলেকে লাঠির আঘাতে হত্যা করেন এবং তাহার পিতামাতার জন্য একটি সুসন্তানের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করেন । কেননা তিনি জানিতে পারিয়াছিলেন যে, ছেলেটি বড় হওয়ার পরে কাফের হইয়া যাইবে এবং তাহার ঈমানদার পিতামাতাকে হয়রানী করিবে । এই ঘটনা দ্বারা আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এই শিক্ষা দিতেছেন যে, আখেরী জামানায় দাজ্জাল আমাদের অনেকের সন্তানকে কাফের-বেঈমান বানাইয়া ফেলিবে । মনে করুন, আমাদের কাহারো সন্তানকে দাজ্জাল সমকামী বানাইয়া ফেলিয়াছে । সেক্ষেত্রে আমাদের উচিত তাহাকে আল্লাহর পথে ফিরাইয়া আনিবার জন্য সামান্য কিছু চেষ্টা তদবির করা । ব্যর্থ হইলে দ্রুত সন্তানকে ত্যাগ করিয়া তাহার নিকট হইতে দূরে চলিয়া যাইতে হইবে এবং পাশাপাশি আল্লাহর নিকট পুণরায় সুসন্তানের জন্য প্রার্থনা করিতে হইবে । যদি সন্তানের মায়ায় পড়িয়া সন্তানের পেছনে লাগিয়া থাকেন, তবে আপনার নিজেরই বেঈমান হওয়ার সম্ভাবনা আছে ।

মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

দাজ্জালের রুটির পাহাড়

আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলিয়াছেন, দাজ্জাল তাহার হাতে রুটির পাহাড় নিয়া আগমণ করিবে এবং লোকেরা রুটির জন্য তাহার পেছনে পেছনে ছুটিবে । এখানেই আমাদের চিন্তাভাবনা পদ্ধতির সমস্যা । সালাফীরা আমার ভাই, আমি তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবার জন্য আসি নাই । ইহা হইল জ্ঞান । এখানে আমাদেরকে অবশ্যই যুক্তিবাদী হইতে হইবে । আমরা তাহাদেরকে বলিতে চাই, আপনারা যদি আপনাদের পদ্ধতি নিয়া পড়িয়া থাকেন, আপনারা যদি মনে করেন যে, আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুল (সাঃ) ছাড়া আর কাহারো কোরআন-হাদীস ব্যাখ্যা করিবার অধিকার নাই আর তাহারা যদি ব্যাখ্যা করিয়া না যান, তাহলে আমাদেরকে এক নাম্বারে অপেক্ষা করিতে হইবে একটি “পাহাড়” এর জন্য এবং দ্বিতীয়ত সেই পাহাড়টি হইতে হইবে “রুটির” । তাছাড়া সেই রুটিগুলি ভালো আটার হইবে নাকি পোঁকা ধরা পচাঁ আটার হইবে তাহাও ভাবনার বিষয় । আমার শ্রোতাগণ ইতিমধ্যেই হাসিয়া দিয়াছেন, তাহারা বিষয়টির প্রকৃত রহস্য বুঝিতে পারিয়াছেন নিশ্চয় । ইহা কি আসলেই আমরা যে হালুয়া-রুটি খাই সেই রুটি ? নাহ ! আমরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করি না । আমরা মনে করি, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যখন “রুটির পাহাড়” বলিয়াছেন, তাহা দ্বারা তিনি রুটি স্তুপাকারে সাজিয়ে পাহাড়ের মতো উঁচু করাকে বুঝান নাই । আমরা বিষয়টিকে দেখি ভিন্ন দৃষ্টিতে । আমরা মনে করি নবী করিম (সাঃ) রুটির পাহাড় দিয়ে বুঝিয়েছেন বিশাল বিপুল ধন-সম্পদের ভান্ডার । রুটি দিয়া এখানে বুঝানো হইয়াছে বস্তুগত ধন-সম্পদ । আপনি যদি আমাদের সাথে ভিন্ন মত পোষণ করেন সেটা আপনার সমস্যা । কারণ আমরা ক্রমেই সম্মুখপানে ধাবিত হইতেছি । সালাফী আলেমদের জন্য ইহাই আমাদের উপদেশ । আমরা ক্রমাগত সামনের দিকে অগ্রসর হইতেছি, মাশায়াল্লাহ গত কয়েক মাসে আমরা অনেক দূর অগ্রসর হইয়াছি । আলহামদুলিল্লাহ ! আমরা যতটা উন্নতি করিয়াছি সেজন্য প্রশংসা পাইতেছি । সুতরাং দাজ্জাল অনেক ধন-সম্পদ সঞ্চয় করিবে, বিপুল ধন-সম্পদের মালিক হইবে । যাহারা তাহার ধন-সম্পদের লোভে তাহার পেছনে ছুটিবে আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুলের (সাঃ) প্রতি তাহাদের আনুগত্য ভুলিয়া, আপনিও ধন-সম্পদের মাধ্যমে তাহাদের কিনিতে পারিবেন । দাজ্জাল কি কি কলাকৌশলে এই বিপুল সম্পদের মালিক হইবে এবং পৃথিবী শাসন করিবার তাহার মিশন বাস্তবায়ন করিবে, কেননা ধন-সম্পদই হইল শক্তি ক্ষমতা । কাজেই আমার যদি সম্পদ থাকে, আমি সকলকে শাসন করিব । তাছাড়া যাদের সম্পদ নাই, তাহাদেরকে সহজেই দাসত্বের বন্দনে আবদ্ধ করা যায় ।

তাহারা যখন ব্রিটনওডে মিটিংয়ে বসিলেন ১৯৪৪ সালে সেখানে তাহারা আন্তর্জাতিক মুদ্রানীতি তৈরী করে । তাহারা যাহা করিয়াছে তাহা হইল সোনাকে মুদ্রা হিসাবে ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষনা করা । তাহারা দিনার এবং দিরহামকে অর্থাৎ স্বর্নমুদ্রা এবং রৌপ্যমুদ্রাকে আমাদের ভাষায় হারাম ঘোষনা করে, ইহাই করিয়াছিল যাযনবাদীরা । কিন্তু দিনার এবং দিরহামকে আল্লাহ তায়ালা হালাল ঘোষনা করেন । দিনারের কথা কোরআনে আছে দিরহামের কথা কোরানে আছে । আপনি যদি কিছুকে হারাম করেন আল্লাহ যাহাকে হালাল করিয়াছেন ইহা কি কোন পাপ ? আপনি যদি কিছুকে হালাল করেন আল্লাহ যাহাকে হারাম করিয়াছেন ইহা কি কোন পাপ ? মাথা নাড়িতেছেন কেন ? মুখে বলেন । তাহারা আপনাকে গ্রেফতার করিতে পারিবে না । হ্যাঁ, ইহা একটি পাপ । পবিত্র কোরআনের কোন সুরাতে ইহা আছে ? হ্যাঁ, সুরা তাওবাহতে । “তাহারা তাহাদের পাদরী এবং রাবাঈদেরকে তাহাদের উপাস্য হিসাবে গ্রহন করিয়াছে । তাহারা ঈসা ইবনে মারিয়াম (আঃ)-কেও তাহাদের প্রভূ হিসাবে গ্রহন করিয়াছে । অথচ তাহাদেরকে ইহা ছাড়া অন্য কোন নির্দেশ দেওয়া হয় নাই যে, তাহারা কেবল এক আল্লাহর উপাসনা করিবে যিনি প্রসংশিত এবং যাহার কোন শরীক নাই”। এই আয়াত নাজিল হওয়ার পরে একজন সাহাবী আসিয়া বলিলেন, হে আল্লাহর রাসুল ! ইহুদী খ্রীষ্টানরা তো তাহাদের পাদরী এবং রাবাঈদের ইবাদত করে না । সুতরাং আল্লাহ কিভাবে ইহা বলিলেন ? ইহা ছিল তাহার প্রশ্ন । সুতরাং রাসুলে পাক (সাঃ) উত্তরে বলিলেন, “পাদরী এবং রাবাঈরা কি তাহা হালাল করে নাই আল্লাহ যাহাকে হারাম করিয়াছেন ? সুতরাং ইহাই হইল তাহাদের শিরক । ইহুদী এবং খ্রীষ্টানরা কি তাহা মানিয়া নেয় নাই ? সুতরাং ইহা হইল তাহাদের শিরক” । কাজেই আল্লাহ যাহাকে হালাল করিয়াছেন আপনি যদি তাহাকে হারাম করেন তবে ইহা শিরক । আর আল্লাহ তায়ালা যাহাকে হারাম করিয়াছেন আপনি যদি তাহাকে হালাল করেন তবে ইহাও শিরক ।

সুতরাং ১৯৪৪ সালে তাহারা যাহা করিয়াছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা নীতির মূল ভিত্তি তৈরী করিয়াছে তাহা পুরোপুরি শিরকের উপর প্রতিষ্টিত । কিন্তু আজ পর্যন্ত আমাদের মুফতী সাহেবগন তাহা উপলব্ধি করিতে পারেন না । আমি জানি না আমাকে আর কত কি করিতে হইবে । আমি এই ব্যাপারে বক্তৃতা দিতেছি তখন থেকে যখন আপনাদের অনেকের জন্মও হয় নাই । আজ পর্যন্ত মুফতিগণ তাহা স্বীকার করেন না এবং দাঁড়াইয়া বলেন না যে, ইহা শিরক । কেন ? একদিন তাহাদেরকে অবশ্যই এজন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করিতে হইবে ।

মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

নারীদের সংখ্যা হইবে পুরুষদের পঞ্চাশ গুণ বেশী

মহানবী (সা:) কেয়ামতের যে-সব আলামতের কথা বলিয়া গিয়াছেন তাহার একটি হইল, পুরুষদের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমিয়া যাইবে, এমনকি পঞ্চাশজন নারীর রক্ষণাবেক্ষন করিতে হইবে মাত্র একজন পুরুষকে । হ্যাঁ, পুরুষদের সংখ্যা ইতিমধ্যেই আশংকাজনকভাবে কমিতে শুরু করিয়াছে । কিছুদিন পূর্বে আমি মালয়েশিয়ার রাজধানীর বাইরের একটি ইউনির্ভাসিটিতে লেকচার দিতে গিয়েছিলাম। আমার শ্রোতাদের মধ্যে দেখলাম ছাত্রদের চাইতে ছাত্রীদের সংখ্যা তিনগুণ বেশী । দাজ্জাল মোবাইল নেটওয়ার্ক, ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক আবিষ্কার করিয়াছে পুরুষদের সংখ্যা হ্রাস করিবার জন্য । ডাক্তারদের মতে, মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক থেকে যে রেডিয়েশান ছড়ায়, তাহা পুরুষদের শুক্রাণুর ক্ষতি করিয়া থাকে । ফলে এখনকার পুরুষরা ধীরে ধীরে পুত্র সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম হইয়া পড়িতেছে । তাহারা অধিক সংখ্যায় কন্যা সন্তান জন্ম দিতেছে । আসন্ন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে যত এটম বোমার বিস্ফোরণ ঘটিবে, কেউ কেউ বলেন মোবাইল নেটওয়ার্কের কারণে তাহাদের রেডিয়েশান বহুদূর পর্যন্ত ছড়াইয়া পড়িবে । এমনটা কেন ঘটিবে তাহা পদার্থ বিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞরা ভাল বলিতে পারিবেন । আমি পদার্থ বিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ নই । কাজেই আসন্ন মালহামায় / তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে একদিকে পুরুষরা বিপুল সংখ্যায় মৃত্যুবরণ করিবে, আবার অন্যদিকে জীবিত পুরুষরা পারমাণবিক রেডিয়েশানের শিকার হওয়ার কারণে পুত্র সন্তান জন্ম দিতে একেবারেই অক্ষম হইয়া পড়িবে । তাহারা কেবল কন্যা সন্তান জন্ম দিতে থাকিবে । মহানবী (সা:) বলিয়াছেন, একজন পুরুষকে পঞ্চাশ জন নারীকে দেখভাল করিতে হইবে । তিনি বলেন নাই যে, একজন পুরুষকে পঞ্চাশ জন নারীকে বিবাহ করিতে হইবে । বিবাহ সর্বোচ্চ চারটি পর্যন্তই হালাল, চারের অধিক হারাম । সে সময় একজন পুরুষ দেখিতে পাইবে যে, তাহার মাতা বিধবা হইয়া গিয়াছে, তাহার বোন বিধবা হইয়া গিয়াছে, তাহার কন্যা বিধবা হইয়া গিয়াছে অথবা তাহার বোনের / কন্যার জন্য স্বামী পাওয়া যাইতেছে না । সে আরো দেখিতে পাইবে তাহার একাধিক খালা-ফুফু-মামী-চাচী-ভাগ্নি-ভাতিজী-কন্যা-নাতণী-শ্যালিকা-খালাতো বোন-মামাতো বোন-ফুফাতো বোনা-চাচাতো বোন ইত্যাদি সকলেই বিধবা হইয়া গিয়াছে । সুতরাং তাহাকে একাই সকলের দেখাশুনা রক্ষণাবেক্ষন অভিবাবকত্ব করিতে হইবে । সুতরাং আমি মনে করি, নারীদের সংখ্যা পঞ্চাশ গুণ বৃদ্ধি পাইবে- বিশ্বনবীর (সা:) এই ভবিষ্যতবাণী বাস্তবায়িত হইতে আর বেশী দিন বাকী নাই ।

মূল – মাওলানা ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

আর কতো ঘুমাবেন এবার জেগে ওঠুন
ইরানের ওপর ইজরাঈলী হামলা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র । আর এই ঘটনা হইতে পারমাণবিক যুদ্ধের (তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের) সূচনা হইবে । আর পারমাণবিক যুদ্ধের পরে (অর্থাৎ হাজার হাজার এটম বোমা নিক্ষিপ্ত হওয়ার পরে) আপনারা যেই পৃথিবীকে দেখিবেন, তাহা হইবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পৃথিবী ।
পারমাণবিক বিশ্বযুদ্ধের ব্যাখ্যা এবং প্রস্তুতি

বোখারী শরীফের একটি হাদীস আছে, যার বিশুদ্ধতা নিয়ে কেহ প্রশ্ন তোলেন নাই । “ফোরাত নদী তাহার সোনার পাহাড় বাহির করিয়া দিবে এবং লোকেরা তাহার জন্য যুদ্ধ করিবে । তাতে শতকরা ৯৯ জন নিহত হইবে । প্রত্যেকেই আশা করিবে যে, সে হয়ত বাঁচিয়া যাইবে (এবং সোনার পাহাড়ের মালিক হইবে) এবং মুসলমানরা অবশ্যই সেই সোনা স্পর্শ করিবে না”। আমি বলতে চাই যে, এই হাদীসটি আমি বিশ বছর পূর্বে পড়িয়াছি কিন্তু তাহার মানে বুঝি নাই যতক্ষন না আল্লাহ তায়ালা দয়া করিয়া আমাকে ইহার অর্থ বুঝিবার সুযোগ দিয়াছেন । পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোন যুদ্ধ হয় নাই যাতে শতকরা ৯৯ জন নিহত হইয়াছে । ইহা হইবে পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী যুদ্ধ যাহার সাথে অন্য কোন যুদ্ধের কোন তুলনাই হইতে পারে না । একমাত্র তখনই আপনি শতকরা ৯৯ জনকে হত্যা করিতে পারবেন যখন আপনি ব্যাপক বিধ্বংসী মারণাস্ত্র ব্যবহার করিবেন । আর এই যুগে ব্যাপক গণবিধ্বংসী অস্ত্র মানে এটম বোমা / পারমাণবিক বোমা । কাজেই এই যুদ্ধ হইবে পারমাণবিক যুদ্ধ । কাজেই মহানবী (সাঃ) পরমাণু যুদ্ধের ভবিষ্যতবাণী করিয়াছেন এবং তিনি ভবিষ্যতবাণী করিয়াছেন পারমাণবিক যুদ্ধ সংঘঠিত হবে সোনার পাহাড়ের দখল নিয়া । আর আপনি যদি সোনার পাহাড় সম্পর্কে জানিতে চান তবে আগামীকালের লেকচারে আবার আসিবেন ।

কাজেই আমাদের আখেরীজামানা বিদ্যায় পারমাণবিক যুদ্ধের কথা আছে, যেমনটা খ্রীষ্টানদের আছে এবং ইহুদীদের আছে । আখেরী জামানা সম্পর্কে মুসলমানদের আছে সবচাইতে ব্যাপক, নিখুঁত এবং গভীর জ্ঞান । ইহুদী এবং খ্রীষ্টানদের আখেরী যুগ সম্পর্কিত জ্ঞান যথেষ্ট আছে কিন্তু তা কখনও আমাদের সমতুল্য নয় । কিন্তু রহস্যজনক বিষয় হলো এই বিষয়ে আমাদের জ্ঞান সর্বাধিক হওয়া সত্ত্বেও এই বিদ্যাকে আমরা ব্যবহার করি না এবং আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলোতে এগুলো পড়ানো হয় না । ফলে আমাদের মধ্যে আখেরি জমানা বিদ্যায় সুদক্ষ আলেম খুঁজিয়া পাওয়া যায় না । কাজেই এই বিষয়ের গবেষনায় আমরা ইহুদী-খ্রীষ্টানদের তুলনায় অনেক পিছাইয়া পড়িয়াছি । রাসুলে পাক (সাঃ) একদা হাঁটিবার সময় দেখিলেন তাঁহার কতিপয় সাহাবী বসিয়া আলোচনা করিতেছে । তিনি জিজ্ঞাসা করিয়া জানিতে পারিলেন যে, তাহারা কেয়ামতের আলামত সম্পর্কে আলোচনা করিতেছিল । তখন তিনি বলিলেন, আপনারা সকলেই এই হাদিসটি জানেন, কেয়ামতের প্রধান লক্ষণ দশটি । আমি জানি ত্রিনিদাদের সকল মুসলিমই এই দশটি লক্ষণের কথা অবগত আছেন । তিনি বলিলেন, কেয়ামত অনুষ্টিত হইবে না যতক্ষন না দশটি লক্ষণ প্রকাশিত হইবে । এগুলোকে বলা হয় মহাপ্রলয়ের প্রধান দশ লক্ষণ । তবে এগুলো সময়ের ধারাক্রম অনুযায়ী বর্ণনা করা হয় নাই । (এক) আল মাসীহ আদ দাজ্জাল, ভন্ড মাসিহ যে সত্যিকারের মাসীহ ঈসা ইবনে মারিয়াম (আঃ) অভিনয় করিবেন । (দুই) ইয়াজুজ এবং মাজুজ, (তিন) ঈসা (আঃ)-এর আকাশ হইতে অবতরণ, (চার) দোখান অর্থাৎ ধোয়া । পবিত্র কোরআন বলিতেছে, একদিন আসমান ধোয়ায় ভরিয়া যাইবে । আমরা যখন কোন মতামত দেই ধোয়া কোথা থেকে আসিবে এবং কবে আসিবে, আপনারা তা গ্রহন করবেন না যতক্ষন না আপনাদের বিশ্বাস জন্মে যে ইহা সঠিক । আমার মতে, (এবং আল্লাহই ভালো জানেন) এই ধোয়া হবে এটম বোমার বিস্ফোরণে সৃষ্ট ব্যাঙের ছাতার মতো ধোয়া । আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলিয়াছেন, এমন একটি সময় আসবে যখন অনেক দিন পর্যন্ত সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাইবে না । খ্রীষ্টান এবং ইহুদীদের শেষযুগ বিদ্যাতেও একই কথা আছে । কাজেই অনেকদিন পর্যন্ত সূর্যের আলো থাকবে না । কেননা এটম বোমার ধোয়ায় আকাশ আচ্ছন্ন হয়ে পড়বে । (পাঁচ) দাব্বাতুল আরদ বা মাটির জন্তু , (ছয়) পশ্চিম দিক হইতে সূর্য উঠিবে, (সাত) পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তে একটি ভূমিকম্প / ভূমিধ্বস (সিংকহোল), এটি গতানুগতিক ভূমিকম্প হইবে না বরং এটি হবে এমন ভূমিকম্প যাহা ভূখন্ড খাইয়া ফেলিবে, (আট) পৃথিবীর পশ্চিম প্রান্তে আরেকটি ভূমিকম্প / ভূমিধ্বস, (নয়) আরব উপদ্বীপে একটি ভূমিকম্প / ভূমিধ্বস, (দশ) ইয়েমেন থেকে একটি আগুন বাহির হইবে যাহা মানুষকে বিচারের জায়গায় নিয়ে হাজির করবে, এটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশী আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হইয়াছে (অর্থাৎ ইয়েমেনে সৌদী হামলা) । এই দশটি আলামতের মধ্যে সবচেয়ে প্রধান আলামত হলো “আকাশ থেকে ঈসা (আঃ)-এর নামিয়া আসা” । ইহা সূর্যের মতো কেন্দ্রে অবস্থান করিতেছে এবং অন্য সকল আলামত ইহার চারদিকে তারকাদের ন্যায় ঘুরিতেছে ।

মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

ইয়েমেনে সৌদী হামলা থেকে সৌদী রাজতন্ত্রের পতনের সূচনা

আমার আজকের সংক্ষিপ্ত আলোচনা এই ত্রিভূজের উপর । তিন কোণ বিশিষ্ট এই এলাকাগুলির মধ্যে আছে ইয়েমেন, শাম (সিরিয়া-ফিলিস্তীন) এবং নজদ (রিয়াদ) । ত্রিভূজের এক কোণায় আছে সিরিয়া যার সম্পর্কে মহানবী (সাঃ) আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেন, “হে আল্লাহ ! আমাদের শামের (সিরিয়ার) উপর কল্যাণ দান করুন” । ত্রিভূজের অন্য কোণা হইল ইয়েমেন যার সম্পর্কে নবী করীম (সাঃ) দোয়া করেন, “হে আল্লাহ ! আমাদের ইয়েমেনের উপর কল্যাণ নাজিল করুন” । আখেরী জামানায় এই শাম এবং ইয়েমেন উভয়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রহিয়াছে । ‍উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, দামেষ্কের কথা । ইহা হইল সেই দামেষ্ক যাহাতে ইমাম মাহদী (আঃ) ‍উপস্থিত থাকিবেন । ইমাম মাহদী (আঃ) হইলেন আখেরী জামানার খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব । তিনি মসজিদে ইমামতী করিতে দাঁড়াবেন । মসজিদের বাহিরে থাকিবে দাজ্জাল সাথে পারসী চাদর পরিহিত সত্তর হাজার ইস্ফাহানী ইহুদী । দাজ্জাল হইল আখেরী জামানার আরেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি । শুধু তাই নয়, ইহা সেই দামেষ্ক যেখানে আকাশ হইতে হযরত ঈশা (আঃ) নামিয়া আসিবেন । আখেরী জামানার এই তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি একই সাথে এই শামে । বিশ্বনবী (সাঃ) বলিয়াছেন, দাজ্জালের ফিতনাহ (সন্ত্রাস) হইবে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচাইতে জঘন্য ফিতনা যাহা হযরত আদম (আঃ) হইতে কেয়ামত পর্যন্ত মানবজাতি প্রত্যক্ষ করিয়াছে । কাজেই আলেমদের দায়িত্ব হইল দাজ্জালের ফিতনাহ বিপর্যয় সম্পর্কে মুসলমানদের সতর্ক করা, শিক্ষা দেওয়া, ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা । মসজিদের মিম্বারে বসে দিনের পর দিন এই কাজ করিতে হইবে । কাজেই ত্রিভূজের এই কোণাটি সবচাইতে বেশী গুরুত্বপূর্ণ । এই কোণা সম্পর্কে রাসুলে পাক (সাঃ) বলিয়াছেন, “আমাদের প্রিয় শাম”। আরেক কোণা ইয়েমেন সম্পর্কেও হুজুরে পাক (সাঃ) বলিয়াছেন, “আমাদের প্রিয় ইয়েমেন” । এই ইয়েমেনও একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা । আখেরী জামানায় সংঘঠিত ঘটনাবলীতে ইয়েমেনের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রহিয়াছে । কেননা নুরনবী (সাঃ) বলিয়াছেন, “ইয়েমেন হইতে একটি আগুন বাহির হইবে যাহা মানুষদেরকে বিচারের জন্য একত্রিত করিবে’। যুক্তরাষ্ট্রের ষ্টেট ডিপার্টমেন্ট ব্যাপারটা আদৌ পছন্দ করিবে না কিন্তু তারপরও এই আগুনকে ঠেকাইতে পারিবে না । ইয়েমেন হইতে একটি আগুনের শিখা বাহির হইবে । ব্রিটেন এবং ফ্রান্স যাহা ইচ্ছা করিতে পারে কিন্তু সেই আগুনকে বন্ধ করিতে পারিবে না । ইয়েমেন হইতে একটি আগুন আত্মপ্রকাশ করিবে যাহা মানুষকে বিচারের স্থানে সমবেত করিবে । যাহারা বিশ্বাসঘাতক, যাহারা ইসলামের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করিয়াছে । যাহারা ইহুদী-খ্রীষ্টানদের জোটে যোগদান করেছে । যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলিয়াছেন, “সেই সকল ইহুদী এবং খ্রীষ্টানদের সাথে বন্ধুত্ব করিও না যাহারা নিজেরা নিজেদের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যাহারা তাহাদের সাথে বন্ধুত্ব করিবে, তাহারা তাহাদের মধ্যে গণ্য হইবে “ । তাহারা ইসলাম থেকে খারিজ হইয়া যাইবে, এই উম্মাহ হইতে বাহির হইয়া যাইবে । “ইয়েমেন হইতে একটি আগুন বাহির হইবে যাহা লোকদেরকে কেয়ামতের পূর্বে বিচারের জন্য একত্রিত করিবে” । ওহ ! কি চমৎকার ভাষা ! মাশাআল্লাহ !! কি চমৎকার শব্দ !! আমার খুবই পছন্দ হইয়াছে !! কাজেই ইয়েমেন হইতে একটি আগুন বাহির হইতেছে যাহা বিশ্বাসঘাতকদের উৎখাত করিয়া বিচারের সম্মুখীন করিবে । সুতরাং আখেরী জামানায় ত্রিভূজের দুই কোণা শাম এবং ইয়েমেন কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করিবে । কিন্তু ত্রিভূজের আরেকটি কোণার সম্পর্কে কি বলা হইয়াছে ? সাহাবায়ে কেরামগণ আবেদন করিলেন, “ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আমাদের নাজদের (জন্যও দোয়া করুন)” ? এখনকার মানুষ আর নাজদের সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করে না , তাহারা ভুলিয়া গিয়াছে। শব্দটি হারাইয়া গিয়াছে , যেভাবে (কুসন্তুতুনিয়া) কন্সট্যান্টিপুল শব্দটি হারাইয়া গিয়াছে । কেন নামটি পরিবর্তন করা হইল ? ইহা একটি সুগভীর চক্রান্ত । রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যেই নাম ব্যবহার করিয়াছেন, তাহা উম্মতের জন্য সুন্নাহস্বরূপ । তরুণ ধর্মহীন তুর্কীরা যখন কন্সষ্ট্যান্টিপুলের নাম পরিবর্তন করিয়া ইস্তানবুল রাখিয়াছিল, তাহার উদ্দেশ্য ছিল মানুষ যাহাতে নবীজির (সাঃ) দেওয়া নামটি ভুলিয়া যায় । কেননা আখেরী জামানায় মুসলমানরা কন্সষ্ট্যান্টিপুল বিজয় করিবে এবং কন্সষ্ট্যান্টিপুলের বিজয় সংঘঠিত হইবে মালহামার (মহাযুদ্ধ / ৩য় বিশ্বযুদ্ধ) পরে । আর মালহামা এখনও সংঘঠিত হয় নাই । আমরা এই হাদীসটি নিয়ে খুবই আনন্দিত ।

মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

দাজ্জালী সভ্যতার প্রতারনার থাবা

নিউ ইর্য়কে প্রবাসী ফিলিস্তীনী মুসলমানদের এক অনুষ্টানে আমাকে বক্তৃতার জন্য দাওয়াত দেওয়া হইয়াছিল । আমি বলিয়াছিলাম যে, একটু সুখে-শান্তিতে থাকিবার জন্য আপনারা মাতৃভূমি ফেলিয়া আমেরিকা আসিয়া বিরাট ভূল করিয়াছেন । তাহার চাইতে বরং ইসরাঈলীদের জুলুম অত্যাচার সহ্য করিয়াও যদি প্যালেস্টাইনে থাকিয়া যাইতেন, তবে তাহা অনেক ভালো হইত । দাজ্জালের সৃষ্ট আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতা আপনাদের ঈমান আমল স্ত্রী পুত্র কন্যা সকলই ছিনাইয়া নিবে । আগামী দশ বছর পরে যখন দেখিবেন আপনার স্ত্রী-পুত্র-কন্যারা মদ্যপান করিতেছে, বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড নিয়া ঘুরিতেছে, তখন বুঝিতে পারিবেন যে জন্মভূমি পরিত্যাগ করার সিদ্ধান্ত মারাত্মক ভূল ছিল । এখন যদি আপনি দেশে ফিরিয়া যাইতে চান, তবে আপনাকে একাই ফিরিয়া যাইতে হইবে । আপনার স্ত্রী-পুত্র-কন্যা কেহই আপনার সাথে দেশে ফিরিয়া যাইতে রাজী হইবে না । আমার এই কথা বলিবার পরে শ্রোতাদের মধ্যে হাসির শোরগোল পড়িয়া গেল । বক্তৃতা শেষে আমার পাশে বসা এক ফিলিস্তিনী ভাইকে শ্রোতাদের হাসির কারণ জিজ্ঞাসা করিলাম । তিনি বলিলেন, আপনি দশ বছর পরে যাহা হইবে বলিয়া অনুমান করিতেছেন তাহা প্রকৃতপক্ষে এখনই হইতেছে ।

মূল – মাওলানা ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

ইয়াজুজ-মাজুজের আক্রমণ শুরু হইয়াছে

আজ বিশ বছর যাবত আমি বলিতেছে যে, ইয়াজুজ-মাজুজের আক্রমণ শুরু হইয়া গিয়াছে এবং বর্তমানে সারাবিশ্বে ইয়াজুজ-মাজুজের শাসন চলিতেছে । কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ট আলেম সম্প্রদায় আমার মতামতকে প্রত্যাখ্যান করিয়াছে । তাহারা বলেন, নাহ, ইয়াজুজ-মাজুজ এখনও মুক্তি পায় নাই । কিভাবে বুঝলেন ইয়াজুজ-মাজুজকে ছাড়িয়া দেওয়া হয় নাই ? কারণ হাদীসে বলা হইয়াছে, ঈসা (আঃ) ফিরিয়া আসিবার পরে ইয়াজুজ-মাজুজকে মুক্তি দেওয়া হইবে । মাত্র একটা হাদীসের জন্য মাত্র এ-ক-টা হাদীসের জন্য আপনারা ইয়াজুজ-মাজুজ সংক্রান্ত কোরআনের সকল আয়াত অস্বীকার করিলেন ? কোরআনকে অপমান করিবার জন্য আপনাদেরকে একদিন ভয়াবহ মূল্য দিতে হইবে কিন্তু তখন আর করিবার কিছু থাকিবে না । ঈসা (আঃ) সংক্রান্ত এই হাদীসের অর্থও তো আপনারা ভূল বুঝিয়াছেন । ইয়াজুজ-মাজুজকে বুঝতে হইলে আপনাদেরকে কোরআনের নিকট আসিতে হইবে । এখনও কি আপনারা বিরিয়ানী খাইবেন আর ঘুমাইয়া থাকিবেন ? কোরআনে আল্লাহ বলিতেছেন, “ইয়াজুজ-মাজুজ সমগ্র পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করিবে” । বর্তমানে তো সারা দুনিয়ায় বিপর্যয় ছড়াইয়া পড়িয়াছে । রাজনীতিতে বিপর্যয় সৃষ্টি হইয়াছে, অর্থনীতিতে বিপর্যয় সৃষ্টি হইয়াছে, ধর্মীয় ক্ষেত্রে বিপর্যয় সৃষ্টি হইয়াছে, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিপর্যয় সৃষ্টি হইয়াছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিপর্যয় সৃষ্টি হইয়াছে, শিক্ষাদীক্ষার ক্ষেত্রে বিপর্যয় সৃষ্টি হইয়াছে, কৃষিকাজে বিপর্যয় সৃষ্টি হইয়াছে, পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিপর্যয় সৃষ্টি হইয়াছে, আবহাওয়ার ক্ষেত্রে বিপর্যয় সৃষ্টি হইয়াছে, নারী-পুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিপর্যয় সৃষ্টি হইয়াছে । রাসুলে করীম (সাঃ) বলিয়াছেন, “ইয়াজুজ-মাজুজ সকল পানি পান করিয়া নিঃশেষ করিয়া ফেলিবে”। ইহাতো একটি রূপক বর্ণনা । ইহার অর্থ হইল ইয়াজুজ-মাজুজ পানি মাত্রাতিরিক্ত বেশী খরচ করিবে, অপচয় করিয়া ঘাটতি ফেলিয়া দিবে । পৃথিবীর সকল নদীগুলি কি ধীরে ধীরে শুকাইয়া যাইতেছে না ? এমনকি ইয়াজুজ-মাজুজ পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি (global warming) করিয়া পানির মূল ভাণ্ডার মেরু অঞ্চলের সমস্ত বরফকে গলাইয়া দিতেছে । উদ্দেশ্য একটাই, পৃথিবীর কোথাও যেন পান করিবার মতো বিশুদ্ধ পানি না থাকে । তখন আপনাকে পানির জন্য ইজরাইলকে সিজদা দিতে হইবে নতুবা পানির অভাবে মরিতে হইবে । দাজ্জালের মহাপরিকল্পনার কথা নবী করিম (সাঃ) ফাঁস করিয়া দিয়া গিয়াছেন । সেই হাদীসটির কথা আপনারা সবাই জানেন । বিশ্বনবী (সাঃ) বলিয়াছেন, “এক বছর বৃষ্টিপাত এক-তৃতীয়াংশ কম হইবে, ফলে খাদ্য-শস্য এক-তৃতীয়াংশ কম উৎপাদিত হইবে । দ্বিতীয় বছর বৃষ্টিপাত দুই-তৃতীয়াংশ কম হইবে, ফলে খাদ্য-শস্য দুই-তৃতীয়াংশ কম উৎপন্ন হইবে । তৃতীয় বৎসর কোন বৃষ্টিপাত হইবে না, ফলে সেই বছর কোন ফসল উৎপাদিত হইবে না ।” আমি মনে করি, এই ঘটনা ঘটিবে মালহামার (মহাযুদ্ধ, ৩য় বিশ্বযুদ্ধ) পরে । পারমানবিক রেডিয়েশান থেকে পৃথিবীর জলবায়ুর মারাত্মক সর্বনাশ হওয়ার কারণে এই অবস্থা হইবে । এজন্য তাহারা পারমাণবিক বিশ্বযুদ্ধের উষ্কানী দিতেছে । আমরা যদি তখন বাঁচিয়া থাকি তবে খাবার-পানির জন্য হয় ইসরাইলের নিকট মাথা নত করিতে হইবে নতুবা খাবার-পানির অভাবে মৃত্যুবরণ করিতে হইবে । আল্লাহ আমাদের সমস্যার সমাধান করিবেন না । কারণ আমরা বেশী বেশী অপচয় করিবার মাধ্যমে আল্লাহর অমূল্য নেয়ামতকে (খাবার-পানি) অর্মার্জনীয়ভাবে তাচ্ছিল্য করিয়াছি । অন্য সকল ক্ষেত্র বাদ দিয়া কেবল অজুর কথাই যদি বলি, দেখা যাইবে ইহাতে মহানবী (সাঃ)-এর তুলনায় আমরা অন্তত বিশ হইতে পঞ্চাশগুণ পানি বেশী খরচ করিতেছি । আপনারা যদি জানিতে পারিতেন যে, মহান আল্লাহর এই অমূল্য নেয়ামত পানিকে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কতোটা হিসাব করিয়া খরচ করিতেন, তবে আপনাদের হৃদয় কাঁপিয়া উঠিত এবং চক্ষু হইতে অঝোরে অশ্রু প্রবাহিত হইত ।

মূল – মাওলানা ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

খুব শীঘ্রই হজ্জ বন্ধ হইয়া যাইবে

প্রশ্ন ঃ- হাদীসে বলা হইয়াছে কেয়ামতের পূর্বে হজ্জ বন্ধ হইয়া যাইবে । আপনি কি বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করিয়া বলিবেন ?

উত্তর ঃ- আপনি কি আমাকে এক ঘণ্টা সময় দিতে পারিবেন ? ইয়াজুজ এবং মাজুজ ইংরেজিতে যাদেরকে বলা হয় গগ এবং ম্যাগগ । এদের সম্পর্কে মুসলিম শরীফের একটি হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে, যা কিনা হাদীসে কুদসী । যাহার অর্থ হইল হাদীসের ভাষ্যটি স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার । আল্লাহ ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কে বলেন, আমি এমন কিছু বান্দাকে সৃষ্টিকে করিয়াছি, তাহারা এমন শক্তিশালী যে আমি ছাড়া অন্য কেউ তাহাদেরকে কেহ ধ্বংস করিতে পারিবে না । এই অদ্ভূত রকমের আক্ষরিক অর্থে অপরাজেয় মহাশক্তিশালী প্রাণীরা কিন্তু অন্য কোন বিচিত্র জীব নয়, বরং তাহারা মানুষ । রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলিয়াছেন, তাহারা মানবজাতির অন্তর্ভূক্ত , আদমের সন্তান । কিন্তু পবিত্র কোরআন বলিতেছে যে, তাহারা তাহাদের শক্তিকে ব্যবহার করিবে জুলুম অত্যাচারের কাজে । যেখানে জুলকারনাইন তাঁহার শক্তিকে ব্যবহার করিতেন জালেম অত্যাচারীদের শায়েস্তা করার কাজে । ইয়াজুজ-মাজুজ ফাসাদ সৃষ্টি করে । ফাসাদ অর্থ হইল দূষিত করা, বিকৃত করা এবং ধ্বংস করা । পবিত্র কোরআন আমাদেরকে বলে বিভিন্ন ধরনের ফাসাদের কথা । উদাহরণস্বরূপ আমরা বলিতে পারি কৃষিকাজের কথা, খাবার-দাবার । জেনেটিক্যালি মোডিফাইড ফুড আমাদেরকে পুষ্টি দিতে পারে কিন্তু তাহা কখনও ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হইতে পারে না । কারণ খাদ্যের ভেতরে আল্লাহ যেই জেনেটিক কম্পোজিশান দিয়াছেন তাহাকে পরিবর্তন করিয়া দেওয়া হইয়াছে । কাজেই আমাদের ইমিউন সিষ্টেম (রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা) কোথায় পাইবে তাহার খাদ্য-পুষ্টি । সুতরাং আমাদের ইমিউন সিষ্টেমের খাদ্য-পুষ্টির জন্য আমাদেরকে ফার্মেসীতে দৌড়াতে হইবে যেখানে আল্লাহ সেগুলো খাবারের ভিতরেই দিয়া রাখিয়াছিলেন । খাবারের উপর এই অবৈধ হস্তক্ষেপের ফলে সেগুলো এখন আর ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করা সম্ভব হইবে না । ইহাই একটি ফাসাদ । কাজেই আমরা যখন সুপারমার্কেট ফুড খাই, আমি গ্রামের খাবারের কথা বলছি না, তাহার ফলস্রুতিতে আমাদের ইমিউন সিষ্টেম দিন দিনই দুর্বল হইয়া পড়িতেছে । সুতরাং ডাক্তাররা আমাদেরকে যে-সব এন্টিবায়োটিক দিতেছে, সেগুলির শক্তি ক্রমেই বৃদ্ধি করিতে হইতেছে । কম পাওয়ারের এন্টিবায়োটিকে এখন আর রোগ নিরাময় হইতেছে না । কাজেই খাদ্যের এই বিকৃতি এবং ধ্বংস সাধন ইয়াজুজ-মাজুজের অপকর্ম । যে-সব লোকের সাথে জুলকারনাইনের সাক্ষাত হইয়াছিল, তাহারা জুলকারনাইনের নিকট ইয়াজুজ-মাজুজের জুলুম-অত্যাচারের ব্যাপারে অভিযোগ করিয়াছিল এবং তাহাদেরকে রক্ষার জন্য একটি দেয়াল নির্মাণের আবেদন করিয়াছিল । জুলকারনাইন লোহার ইট দিয়ে একটি উচুঁ দেওয়াল তৈরী করিয়াছিলেন এবং তাহার উপর গলিত তামা ঢালিয়া দিয়াছিলেন । আমরা সঠিকভাবে জানি ইয়াজুজ-মাজুজের দেওয়াল কখন এবং কোথায় নির্মাণ করা হইয়াছিল, সঠিক ভৌগোলিক অবস্থান । ইয়াজুজ-মাজুজের ওপর লিখিত আমার বইয়ে এই ব্যাপারে বিস্তারিত বিশ্লেষণ দেওয়া আছে । সুতরাং ইয়াজুজ-মাজুজ বসবাস করিত সেই দেয়ালের পেছনে । আমরা ইহাও জানি দেয়ালটি কখন ভাঙ্গিয়া ফেলা হইয়াছিল, আমি হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়াছি, “আজকে ইয়াজুজ-মাজুজের দেওয়ালে একটি ছিদ্র হইয়াছে”। সুতরাং যখন ইয়াজুজ-মাজুজকে মুক্তি দেওয়া হইবে, মানবজাতি দেখিতে পাইবে একটি অপরাজেয় শক্তি পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করিতেছে, সেই শক্তি হইবে একটি অপশক্তি, শয়তানী শক্তি । আপনি যখন সুরা আম্বিয়া পাঠ করিবেন, তাহাতে আমরা দ্বিতীয়বার ইয়াজুজ-মাজুজের বর্ণনা পাই । এই ছুরাতে আল্লাহ তায়ালা একটি শহরের কথা বলিয়াছেন যাহাকে তিনি ধ্বংস করিয়াছেন এবং শহরের অধিবাসীদেরকে তিনি বহিষ্কার করিয়াছেন এবং সেখানে তাহাদের পুণরায় ফিরিয়া আসিবার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করিয়াছেন । এই শহরে তাহারা পর্যটক হিসাবে আসিতে পারিবে কিন্তু কখনও নিজেদের আবাসভূমির দাবী নিয়া আসিতে পারিবে না ঃ- যতক্ষণ না দুইটি ঘটনা ঘটে (১) ইয়াজুজ-মাজুজকে ছাড়িয়া দেওয়া হয় এবং (২) ইয়াজুজ-মাজুজ পৃথিবীর চারদিকে ছড়াইয়া পড়ে, তারপর তাহারা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ নিয়া নেয়, ইয়াজুজ-মাজুজের বিশ্ব ব্যবস্থা চালু হয় । সেই সময়ে সেই শহরের অধিবাসীরা পুণরায় ফিরিয়া আসিবে, সেই শহরের প্রতি তাহাদের পূর্বপুরুষের আবাসভূমির দাবী নিয়া । সেটি কোন শহর ? আমার উত্তর হইল জেরুজালেম । আমার উত্তরের পক্ষে আমি যে-সব যুক্তি দেখিয়েছি সেগুলো দেখতে পাবেন পবিত্র কোরআনে জেরুজালেম নামক আমার বইটিতে । কাজেই যখন দেখিবেন যে, ইহুদীরা পবিত্রভূমি জেরুজালেমে ফিরিয়া আসিয়াছে তাহাদের আবাসভূমির দাবী নিয়া, মনে করিবেন ইয়াজুজ-মাজুজই তাহাদেরকে এখানে ফিরাইয়া নিয়া আসিয়াছে । সবশেষে আমি আরেকটি হাদীসের উল্লেখ করতে চাই । হাদীসটি বোখারী শরীফে আছে । “ইয়াজুজ-মাজুজের মুক্তির পরেও মানুষ আল্লাহর ঘরে (অর্থাৎ কাবা শরীফে) হজ্জ এবং ওমরাহ পালন করিতে থাকিবে”। তারপর হাদীসে আরও বলা হইয়াছে, “কেয়ামত অনুষ্টিত হইবে না যে পর্যন্ত না হজ্জ বন্ধ হইয়া যাইবে অর্থাৎ পরিত্যক্ত হইবে” । ইসরাঈল যদি ইরানে হামলা করে তবে হজ্জের বিদায় ঘন্টা বাজিয়া যাইবে । ইজরাইল যখন ইরানে আক্রমণ করিবে তখন হজ্জ বন্ধ হইয়া যাইবে । হজ্জ বন্ধ হইয়া যাওয়ার পরেও আপনি কিভাবে দাবী করিবেন যে ইয়াজুজ-মাজুজ মুক্তি পায় নাই ? লম্বা উত্তরের জন্য দুঃখিত । আর কাহারো কোন প্রশ্ন আছে ?

মূল – মাওলানা ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

Piligramage will stop লেকচারের অনুবাদ

এক বছরের মধ্যে ৩য় বিশ্বযুদ্ধ / মালহামা/ আরমাগেডন

ইতিপূর্বে আমি মনে করিতাম মহানবী (সাঃ)-এর ঘোষিত মালহামা (মহাযুদ্ধ / আরমাগেডন / তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ) সংঘঠিত হইতে এখনও পাঁচ / দশ বছর বাকী আছে । কিন্তু সম্প্রতি ইরান সফরের সময় আমি দুইটি স্বপ্ন দেখিয়াছি (সেপ্টেম্বর / ২০১৪), একটার পর আরেকটা, যাহাতে আমি দেখিয়াছি পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হইয়া গিয়াছে এবং আকাশের দিকে পারমানবিক ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ করা হইয়াছে । একই ঘটনা ঘটিয়াছিল নাইন ইলাভেনের পূর্বে যখন আমি নিউ ইয়র্কের লঙ আইল্যান্ডে বসবাস করিতাম । আমি স্বপ্নে দেখিয়াছিলাম নাইন ইলেভেন সংঘঠিত হইয়াছে, ম্যানহাটনের উচুঁ বিল্ডিংয়ে আগুন দেওয়া হইয়াছে এবং সেখান থেকে একটার পর একটা বিল্ডিংয়ে আগুন ছড়াইতে ছড়াইতে সারা পৃথিবীতে আগুনের শিখা ছড়াইয়া পড়িয়াছে । লং আইল্যান্ডের দার আল কোরআন মসজিদের জু’মুআর খোতবায় আমি আমার স্বপ্নের বিষয়টি উল্লেখ করিয়াছিলাম । আমার এই স্বপ্ন দেখিবার দুই বছর পরে নাইন ইলাভেন সংঘঠিত হয় । এই স্বপ্নটি দেখিবার সাথে সাথেই আমার সেই নাইন ইলাভেনের স্বপ্নের কথা মনে পড়িল । মহানবী (সাঃ) বলিয়াছেন যে, আখেরী জমানায় ঈমানদারদের স্বপ্ন কদাচিৎ মিথ্যা প্রমাণিত হইবে । কাজেই নাইন এলেভেনের স্বপ্নের ইশারা অনুযায়ী বলা যায় যে, আমাদের হাতে মাত্র অল্প সময় বাকী আছে, গত সেপ্টেম্বর হইতে হিসাব করিয়া দুই বছর, যখন মহাযুদ্ধ শুরু হইবে, যাহাতে বড় বড় শহরগুলির অধিকাংশ মানুষ নিহত হইবে (বিশেষত উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপ মহাদেশের) । পক্ষান্তরে যেসব শহরের মানুষ এটম বোমার আঘাত হইতে বাঁচিয়া যাইবে, তাহারাও অরাজকতা, গৃহযুদ্ধ, মহামারী এবং অনাহারে কুকুর-বিড়ালের মতো ঝাঁকে ঝাঁকে মৃত্যুবরণ করিবে । মালহামার পরে বড় বড় শহরগুলিতে জাহান্নামের সকল দরজা খুলিয়া দেওয়া হইবে । কেননা এসব মেগাসিটিতে কোটি কোটি মানুষ বসবাস করে অথচ এদের খাবার-পানি আসে গ্রাম থেকে । যুদ্ধের পরে যেহেতু খাবার-পানি সরবরাহ ব্যবস্থা অচল হইয়া পড়িবে, তখন শহরবাসীগণ জীবন বাঁচাতে ছিনতাই-ডাকাতি-লুটতরাজ শুরু করিবে । তাহারা সভ্যতা-ভদ্রতা কিংবা জাহান্নামের শাস্তির কথা বেমালুম ভুলিয়া যাইবে । কুকুর কুকুরকে খায় বলিয়া একটি কথা প্রচলিত আছে, তখনকার মেগাসিটিতে বসবাসকারীদের অবস্থা হইবে অনেকটা এই রকম । শহরবাসীদের কেউ যদি জানিতে পারে যে, আপনার গৃহে একটু খাবার বা পানি আছে, তবে হাজার হাজার লোক ঝাপাইয়া পড়িবে এবং দরজা ভাঙিয়া তাহা ছিনাইয়া নিবে । এই ব্যাপারে আপনারা পবিত্র কোরআনের সুরা ইসরার এই আয়াতটি পাঠ করিয়া দেখিতে পারেন, “এমন কোন শহর নগর নাই, যাহাকে আমরা (অবাধ্যতার কারণে) কেয়ামত দিবসের পূর্বে ধ্বংস করিব না অথবা যাহাকে কঠোর শাস্তি দিব না। ইহা তো কিতাবে লিপিবদ্ধ হইয়া গিয়াছে (১৭:৫৮)” । খ্রীষ্টান ধর্মজাযকগণ বলেন (আকাশে ছড়ানো ব্যাঙের ছাতার মতো এটম বোমার ধোয়ার কারণে পৃথিবীতে সূর্যের আলো আসিতে না পারিবার কারণে) পৃথিবী অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকিবে তিন দিন । পক্ষান্তরে মহানবী (সাঃ) বলিয়াছেন, চল্লিশ দিন (মানে অনেক দিন) পৃথিবী অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকিবে । এই সময় পৃথিবীর তাপমাত্রা নামিয়া যাইবে হিমাঙ্কের নীচে এবং শীতে মারা যাইবে কোটি কোটি মানুষ । বিশ্বনবী (সাঃ) বলিয়াছেন, “এক বছর বৃষ্টিপাত এক-তৃতীয়াংশ কম হইবে, ফলে খাদ্য-শস্য এক-তৃতীয়াংশ কম উৎপাদিত হইবে । দ্বিতীয় বছর বৃষ্টিপাত দুই-তৃতীয়াংশ কম হইবে, ফলে খাদ্য-শস্য দুই-তৃতীয়াংশ কম উৎপন্ন হইবে । তৃতীয় বৎসর কোন বৃষ্টিপাত হইবে না, ফলে সেই বছর কোন ফসল উৎপাদিত হইবে না ।” আমি মনে করি, এই ঘটনা ঘটিবে মালহামার (মহাযুদ্ধ, ৩য় বিশ্বযুদ্ধ) পরে । পারমানবিক রেডিয়েশান থেকে পৃথিবীর জলবায়ুর মারাত্মক সর্বনাশ হওয়ার কারণে এই অবস্থা হইবে । আমি আমার স্বপ্নের কথা সাধারণত প্রকাশ করি না কিন্তু এই স্বপ্নটি আপনাদের কল্যাণে আসিবে ধারনা করিয়া প্রকাশ করিলাম । ইহার ফলে আমি যেমন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মহাদুর্যোগ মোকাবেলার ব্যাপারে নিজেকে প্রস্তুত করিতে যথেষ্ট সময় পাইতেছি, আপনারাও তাহা করিবার সুযোগ পাবেন । নবী করীম (সাঃ)-এর ভবিষ্যৎবাণীকৃত মালহামা (মহাযুদ্ধ) এমন ভয়ঙ্কর যুদ্ধ হইবে যে, তাহার তুলনায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে মনে হবে চীনাবাদামের মতো । শেষ নবীর (সাঃ) আরেকটি ভবিষ্যতবাণী হইল, মালহামার পরে একটি পাখিও যদি আকাশে উড়ে তাহা ভূপাতিত হইবে । ইহাতে আমরা ধরিয়া নিতে পারি যে, মালহামার (তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের) পরে পৃথিবীতে মিসাইল, জঙ্গী বিমান, সেটেলাইট ইত্যাদি উড়ন্ত কিছুর অস্তিত্ব থাকিবে না । তারপর থেকে যুদ্ধ হইবে স্থলপথে এবং জলপথে ঘোড়া এবং নৌকা দিয়ে । আজ থেকে দশ বিশ বছর পরে যখন মালহামা (মহাযুদ্ধ) শেষ হইবে, পৃথিবীর এখনকার মানুষদের মাত্র ক্ষুদ্র একটি ভগ্নাংশ তখন বাঁচিয়া থাকিবে । আমার মনে হয় এখন পৃথিবীর জনসংখ্যা যদি আটশ কোটি হয়, মালহামার পরে পৃথিবীর জনসংখ্যা হইবে পঞ্চাশ কোটি । আপনি যদি মুসলিম হন অথবা মুসলমানদের বন্ধু হন (যেমন খ্রীষ্টানরা), তবে যত দ্রুত সম্ভব শহর থেকে দূরবর্তী কোন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে চলিয়া যান, যেখানে আপনার স্ত্রী এবং সন্তানদের জন্য খাবার-পানির ব্যবস্থা আছে । অন্যথায় আপনার স্ত্রী এবং সন্তানদের মৃত্যুর জন্য আপনি দায়ী থাকিবেন ।

মূল – শায়খ ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

Imran Hosein predicts nuclear WW3_ Armageddon_ Al Malhama in 2 years লেকচারের অনুবাদ

আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানী ইত্যাদি যে-সব দেশ সমকামিতাকে (একই লিঙে বিবাহ) রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিয়াছে, এই দেশগুলিকে আল্লাহ খুব শীঘ্রই ধ্বংস করিয়া দিবেন । অতীতেও যে-সব জাতির মধ্যে সমকামিতার প্রচলন হইয়াছিল, আল্লাহ তাহাদেরকে ভয়াবহ শাস্তি দিয়া ধ্বংস করিয়াছেন । আমাদেরকে মনে রাখিতে হইবে যে, আল্লাহর আইনে কোন পরিবর্তন হয় না । কাজেই মুসলমানদের উচিত যত দ্রুত সম্ভব এই দেশগুলো ত্যাগ করিয়া অন্যত্র চলিয়া যাওয়া ।

মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – ডাঃ বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

আরব মুসলমানদের ধ্বংস অতি নিকটবর্তী

যায়োনিষ্টরা (অর্থাৎ ইসরাঈলের সমর্থকরা) প্রথমে ইরাক-সিরিয়া এবং লিবিয়াকে ধ্বংস করিয়াছে । তারপরে তাহারা ধ্বংস করিবে ইরান এবং মিশরকে । আর সর্বশেষে তাহারা ধ্বংস করিবে সৌদি আরবকে । এই ক্ষেত্রে যায়োনিষ্টদের প্রধান অস্ত্র হইবে আরবদেরকে শিয়া-সুন্নী দুই দলে বিভক্ত করিয়া নিজেদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে দেওয়া । এই কাজে তাহারা ইতিমধ্যেই বেশ সাফল্য লাভ করিয়াছে । ইরাক, সিরিয়া এবং ইয়েমেনে শিয়া-সুন্নী গৃহযুদ্ধ শুরু হইয়া গিয়াছে ।

মূল – শাইখ ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

পশ্চিম দিক হইতে সূর্য উদিত হইবে

আল্লাহর রাসুল (সাঃ) কেয়ামতের প্রধান প্রধান যেই দশটি আলামতের কথা বর্ণনা করিয়াছেন তাদের মধ্যে একটি হইল “সূর্য পশ্চিম দিক হইতে উদিত হইবে”। তবে আমার মতে কেয়ামতের অন্যান্য অনেক আলামতের ন্যায় ইহাও একটি রূপক বর্ণনা । কেননা পবিত্র কোরআনের এক জায়গায় বলা হয়েছে “সূর্য পূর্ব দিক হইতে উদিত হয় ইহাই আমার আইন” এবং অন্য জায়গায় বলা হয়েছে “আল্লাহর আইনে কোন পরিবর্তন নাই” । সুতরাং আমি মনে করি বাস্তবিকভাবে সূর্য পশ্চিম দিক হইতে উঠিবে না বরং জ্ঞান-বিজ্ঞান-অর্থনীতি-সামরিক শক্তি মোটকথা সভ্যতার সূর্য পশ্চিম দিক হইতে উদিত হইবে । অর্থাৎ পূর্বে প্রাচ্য ছিল সভ্যতার সূচিকাগার তারপর পাশ্চাত্য হইবে সভ্যতার সূচিকাগার । পূর্বে দামেষ্ক, বাগদাদ এবং কন্সট্যান্টিপল ছিল সুপারপাওয়ার, তারপর লন্ডন এবং ওয়াশিংটন হয়েছে সুপারপাওয়ার । যারা মনে করেন সূর্য সত্যিকার অর্থেই পশ্চিম দিক হইতে উঠিবে এবং তাহার স্বপক্ষে পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ডের পরিবর্তন, পৃথিবীর জিওলজিক্যাল বিভিন্ন তথ্য-উপাত্য উপস্থাপন করেন, তারা তা করতে পারেন । আপনার বিশ্বাস বা নিজস্ব ধ্যানধারনার আমি বিরোধী নই । তবে আমি মনে করি নবী করিম (সাঃ) বিষয়টি আক্ষরিক অর্থে নয় বরং রূপক অর্থে বর্ণনা করিয়াছেন । আপনার যদি কোন নির্দিষ্ট মতবাদ পোষন করার অধিকার থাকে তবে আমারও সেই স্বাধীনতা আছে ।

মূল – শাইখ ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

দাজ্জাল বর্তমানে রাজনীতি, অর্থনীতি প্রভৃতির মতো ধর্মীয় ক্ষেত্রেও এতো বেশী প্রতারণার জাল বিছিয়ে যে, আপনার মনে হবে আপনি জান্নাতের পথে জীবন অতিবাহিত করেছেন অথচ বাস্তবে আপনার জীবন কেটেছে জাহান্নামের পথে । কাজেই খুবই সাবধান । কাজেই দাজ্জালের ফেতনাহ থেকে বাঁচার জন্য সর্বদা একজন ভালো আলেমের পরামর্শ মতো চলুন । আর ভালো আলেম তাকেই বলা যায়, যিনি কেবল এলেমই অর্জন করেন নাই, সাথে সাথে সেই অনুযায়ী আমল করিয়া উর্ধ্বজগতের সাথে নিজের সম্পর্ক সৃষ্টি করেছেন । ফলে তিনি আল্লাহ তায়ালার নিকট থেকে (স্বপ্নের / অনুপ্রেরনার মাধ্যমে) সর্বদা পথনির্দেশনা লাভ করিয়া থাকেন ।

মূল – শাইখ ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

দাজ্জাল গণতন্ত্র আবিষ্কার করিয়াছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নারীদের হাতে তুলিয়া দেওয়ার জন্য । কেননা গণতন্ত্রের নীতি হইল এক মাথা এক ভোট । আর সকল যুগে সকল সমাজেই নারীদের সংখ্যা সাধারণত পুরুষদের চাইতে বেশী থাকে । কাজেই গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্টা করা গেলে খুব সহজেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নারীদের হাতে তুলিয়া দেওয়া যায় । এখন কথা হইল দাজ্জাল নারীদের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা তুলিয়া দিতে চায় কেন ? ইহার কারণ হইল আবহমান কাল ধরিয়া ধর্ম এবং সমাজ চাহিয়াছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থাকিবে পুরুষদের হাতে । আর দাজ্জালের কাজ হইল তাহাকে উল্টাইয়া দেওয়া । দাজ্জাল প্রমাণ করিতে চায় যে, আবহমান কাল ধরিয়া ধর্ম এবং সমাজ যাহা চাহিয়াছে, তাহা ভুল ।

মূল – শাইখ ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

মহাবিশ্বের সকল বস্তুর শ্রষ্টা একমাত্র আল্লাহ । সুতরাং এই সকল বস্তুর মূল্য নির্ধারণের অধিকার একমাত্র তাঁহারই আছে । আল্লাহ তায়ালা সোনা এবং রূপাকে সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু ঘোষণা করিয়াছেন । আপনি এক টুকরা কাগজে কিছু রঙ মাখিলেন এবং একটি নাম্বার দিলেন । তারপর ইহাকে ঘোষণা করিলেন এক হাজার টাকা (ডলার / রিয়াল) হিসাবে । ইহার চাইতে বড় প্রতারণা এবং খোদাদ্রোহীতা (শিরক) আর কি হইতে পারে ?

মূল – শাইখ ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

ইমাম মাহদী (আঃ)-এর আগমন সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) যাহা বলিয়াছেন, সে-সব বিশ্লেষন করিয়া যদি কেউ ভবিষ্যৎবাণী করে তাহাকে আমি খারাপ মনে করি না । আমি মনে করি আগামী বিশ হইতে পঁচিশ বছরের মধ্যে তাহার আত্মপ্রকাশের প্রবল সম্ভাবনা আছে । আমি এভাবে সরাসরি বলিবার কারণ কেউ যেন হাস্যকরভাবে ঘোষণা না করে যে, ইমাম মাহদীর (আঃ) আসিতে এখনও পাঁচশ বছর বাকী আছে ।

মূল – শাইখ ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

প্রশ্ন ঃ আপনি তো মনে করেন পারমাণবিক অস্ত্রধারী আমেরিকা এবং রাশিয়ার সেনাবাহিনীই ইয়াজুজ মাজুজ এবং তাদের পারমাণবিক ক্ষেপনাস্ত্রগুলিই ইয়াজুজ মাজুজের তীর । এখন কথা হইল আমেরিকা এবং রাশিয়া কখনো যুদ্ধ লাগিলে তাহারা একে অপরের দিকে তীর নিক্ষেপ করিবে । কিন্তু হাদীসে তো বলা হইয়াছে ইয়াজুজ মাজুজ আকাশের দিকেও তীর নিক্ষেপ করিবে । আপনার কাছে ইহার কি ব্যাখ্যা আছে ?
উত্তর ঃ প্রকৃতপক্ষে এখনকার দিনে যুদ্ধকৌশলের অধিকাংশই নিয়ন্ত্রিত হইয়া থাকে মহাশূণ্যে স্থাপিত মহাকাশযান বা স্প্যাস সেটেলাইট থেকে । কাজেই আসন্ন সেই মহাযুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার জন্য আমেরিকা এবং রাশিয়া প্রথমেই আকাশে স্থাপিত প্রতিপক্ষের সেটেলাইটগুলোকে ধ্বংস করিবার জন্য ক্ষেপনাস্ত্র (তীর) নিক্ষেপ করিবে । (ইতিমধ্যেই চীন ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে মহাশূণ্যযান ধ্বংস করিবার পরীক্ষা চালাইয়া সফলতা লাভ করিয়াছে ।)

মূল – শাইখ ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

আপনার ধর্ম ইসলাম নয়

আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলিয়াছেন, “আখেরী জামানায় ঈমানদারের জন্য ইসলামের উপর প্রতিষ্টিত থাকা ততটাই কষ্টকর হইবে, জ্বলন্ত কয়লা হাতে ধরিয়া রাখা যতটা কষ্টকর হয়”। কাজেই এই যুগে কোরআন-সুন্নাহ মতে জীবন-যাপন করাটা যদি আপনার নিকট ততটা কষ্টকর মনে না হয়, বরং বেশ সহজ এবং আরামদায়ক মনে হয়, তবে বুঝিতে হইবে যে আপনার ধর্ম ইসলাম নয় বরং সেটা অন্য কোন ধর্ম ।

মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

ইমাম হোসাইন (রাঃ) ছিলেন মানবজাতির একজন সিংহ ।

ইমাম হোসাইন (রাঃ) ছিলেন মানবজাতির একজন সিংহ । অসীম সাহস এবং অতুলনীয় আন্তরিকতা নিয়া তিনি রুখিয়া দাঁড়াইলেন সত্য ধর্মের বিকৃতির বিরুদ্ধে । তিনি প্রতিরোধে রুখিয়া দাঁড়াইলেন সকল জুলুম এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে । তাঁহারই পরিবারের একজন (ইমাম মাহদী) আসিতেছেন তাঁহার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করিবার জন্য । অনিবার্যভাবেই ইসলাম বিকৃতকারী এবং জালেমদের সেনাবাহিনী কারবালায় তাহাকে ঘেরাও করিয়া ফেলিল । তিনি হতাশ হন নাই, তিনি আত্মসমর্পন করেন নাই । তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই করিয়া গিয়াছেন এবং তাঁহার সঙ্গীসাথীগণও শেষ পর্যন্ত লড়াই করিয়া গিয়াছেন এবং তাঁহারা সকলেই শাহাদাত বরণ করেন । আমি মনে করি এই সমাবেশে যাহারা আছেন তাহারা আমার সাথে একমত হইবেন এবং অন্যান্য দেশ থেকে যাহারা এই অনুষ্টান দেখিতেছেন তাহারাও একমত হইবেন যে, বিশ্বনবী (সাঃ) তাঁহার নাতির জন্য অবশ্যই গর্বিত হইবেন । মুসলমানদের জননী সাইয়্যেদা খাদিজা (রাঃ) নিশ্চয় গর্বিত হইবেন তাহারা নাতির জন্য । শেরে খোদা হযরত আলী হায়দার (রাঃ) অবশ্যই গর্ব অনুভব করিবেন তাঁহার পুত্রের জন্য, ইহার বেশী আপনি আর কি আশা করিতে পারেন ? মহানবীর (সাঃ) কন্যা এবং ইমাম হোসাইনের (রাঃ) মাতা সাইয়্যেদা ফাতেমা জাহরা (রাঃ) নিশ্চয় গর্বিত হইবেন তাঁহার পুত্রের জন্য । এবং এই মুসলিম উম্মাহ গত চৌদ্দশত বছর যাবত ইমাম হোসাইনের (রাঃ) জন্য গর্ব অনুভব করিয়া আসিতেছে, যখন তিনি ইসলামের বিকৃতি এবং মুসলমানদের উপর জুলুমের বিরুদ্ধে রুখিয়া দাঁড়াইয়াছিলেন । কিন্তু কারবালার ময়দানের কিছু কাজ অসমাপ্ত রহিয়া গিয়াছে । যাহারা মুসলিম জাহানে প্রতিষ্টা করিয়াছিল রাজতন্ত্র, পারিবারিক শাসন এবং তথাকথিত ক্রা-উ-ন প্রিন্স ! কাজেই যখন ইমাম মাহদী (আঃ) আত্মপ্রকাশ করিবেন তখন তিনি সেই কাজ সমাপ্ত করিবেন যাহা সাইয়্যেদেনা ইমাম হোসাইন (রাঃ) কারবালায় অসমাপ্ত রাখিয়া গিয়াছিলেন । তুর্কী সুলতানদের রাজতন্ত্র এবং পারিবারিক শাসন, সৌদী আরবের রাজতন্ত্র এবং পারিবারিক শাসন, কাতারের রাজতন্ত্র এবং পারিবারিক শাসন, দুবাইয়ের রাজতন্ত্র এবং পারিবারিক শাসন, জর্ডানের রাজতন্ত্র এবং পারিবারিক শাসন ইত্যাদিকে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করিবেন । কাজেই মুসলিম উম্মাহ গর্বিত যে ইমাম হোসাইনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে একটি আন্দোলনের বিদ্রোহের সূচনা হইয়াছিল । আর তাহা হইল, যেই মস্তক আল্লাহর সামনে নত হয়, তাহা কোন জালেমের সামনে নত হইবে না ।

মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

La révolution de l’Imam Hussein লেকচারের অনুবাদ

আলেমগণ হইবে সবচাইতে নিকৃষ্ট মানব

বিশ্বনবী (সাঃ) বলিয়াছেন, আমার ওপর রাগ করিবেন না কারণ এই কথা ইমরান হোসেন বলে নাই, মহানবী (সাঃ) বলিয়াছেন যে, “মানুষের উপর এমন একটি সময় আসিবে যখন ইসলামের নাম ছাড়া আর কিছুই থাকিবে না । কোরআনের লেখাগুলি ছাড়া (বাস্তবজীবনে) আর কিছুই অবশিষ্ট থাকিবে না । মসজিদগুলি হইবে আলিশান অট্টালিকা কিন্তু তাহা হইতে কেউ সুপথের সন্ধ্যান লাভ করিবে না । সেই (অন্ধকার) যুগের আলেমগণ হইবে আকাশের নীচে সবচাইতে নিকৃষ্ট মানব । তাহারা হইবে (মানুষের) পথভ্রষ্টতার ফিতনার মূলকেন্দ্র ।” আমি বর্তমানে হতাশার বয়সে উপনীত হইয়াছি । এই কারণে আমি এখন আহবান জানাইতেছি, আপনি যদি আমার সাথে একমত না হন যখন আমি বলি যে কাগজের মুদ্রা প্রতারনামূলক হারাম শিরক । আপনি যদি আমার সাথে একমত না হন যখন আমি বলি তথাকথিত ইসলামী ব্যাংকিং হইল পেছনের দরজার সুদের ব্যবসা । ঠিক আছে ভালো কথা, মানুষকে সুযোগ দিন তাহারা যাহা ইচ্ছা গ্রহন করুক । তাহারা যদি অন্ধ হয় তাহলে অন্ধভাবে গ্রহন করিবে এবং তাহার খেসারত দিবে । মানুষের পছন্দ-অপছন্দের অধিকার আছে এবং আমরা সেই অধিকার হরণ করিতে চাই না । কিন্তু আপনি যদি আমাদের পেছনে লাগেন, বলেন আমরা ভুল বলিতেছি এবং আমাদের কন্ঠ স্তব্ধ করিতে চান, সেক্ষেত্রে আমরা আপনার চ্যালেঞ্জের জবাব দিব যখন আমাদের ধৈর্য শেষ হইয়া আসিয়াছে । আমরা বলিব, আসুন, আমরা দুইজনে মিলিয়া আল্লাহর নিকট দোয়া করি, আমাদের মধ্যে যে ভ্রান্ত পথে আছে তাহার যেন জাহান্নামে চিরস্থায়ী শাস্তি হয় ।

মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

A Hadis regarding a minor sign of Last age লেকচারের অনুবাদ

আদর্শ মুসলিম গ্রামে চলুন
আপনার জন্য শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়ার প্রয়োজন নাই যদি আপনার শহর ভালো লাগে ।
যদিও আপনার চক্ষু থাকে অথচ দেখিতে পান না যে মহিলারা কাপড় পরিধান করিয়াও নগ্ন থাকে
যদিও আপনার চক্ষু থাকে অথচ দেখিতে পান না নারীরা পুরুষদের বেশভূষা ধারন করে
যদিও আপনার চক্ষু থাকে অথচ দেখিতে পান না উচু উচু বিল্ডিং
যদিও আপনার চক্ষু আছে অথচ দেখিতে পান না মদ্যপানের ব্যাপক বৃদ্ধি
যদিও আপনার চক্ষু আছে অথচ দেখিতে পান না পতিতাবৃত্তির প্রসার

…..আপনি দেখিতে পান না বড় সাইজের শস্য-ফল-ফ্রুট এবং ভেজাল

…..আপনি দেখিতে পান না শহরগুলোতে শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি

…..আপনি দেখিতে পান না আল্লাহবিরোধী পৃথিবী
আপনি যদি এই বিষয়গুলি দেখিতে না পান তবে আমি আপনাকে শহর ত্যাগ করিতে বলিব না
শহরেই থাকুন সেটা আপনার ইচ্ছা
কিন্তু আপনি যাহা দেখিতে পান না আমরা তাহা দেখিতে পাইতেছি যেই বিষয়গুলি আমরা উল্লেখ করিলাম
আমরা মনে করি শহর ত্যাগ করিবার সময় আসিয়া গিয়াছে
আপনি যদি শহর ত্যাগ করিতে না চান তবে না করুন
কিন্তু আমাদের শহর পরিত্যাগ করা ঠেকাতে চান কেন ?
আমাদের ধারনা জাহাজ ডুবিতে যাইতেছে
আমাদের ধারনা জাহাজকে ডুবার হাত থেকে কেউ রক্ষা করিতে পারিবে না
আমাদের ধারনা আমরা যে নৌকায় উঠিয়াছি তাহা ডুবিতেছে এবং কেহই তাহার ডুবা রোধ করিতে পারিবে না
সুতরাং এখন সাধারণ কান্ডজ্ঞানের দাবী হইল আমাদেরকে জাহাজ থেকে নামিয়া যাইতে হইবে
কাজেই আমরা মুসলিম গ্রামে চলিয়া যাইতেছি
যদি আপনি তাহা করিতে না চান
যদি আপনি ডুবন্ত জাহাজেই থাকিতে চান তবে থাকুন
আমরা সেখানে আদৌ থাকিতে চাই না
ইহা আপনার ইচ্ছা
জাহাজ যখন ডুবিয়া যাইবে তাহার সাথে আপনিও ডুবিয়া যাইবেন
আমরা যখন মুসলিম গ্রামে চলিয়া যাইব
আমরা যখন শহর হইতে নিজেদের সরাইয়া নিব
আমরা তাহলে সুরা কাহাফের অনুসরন করিলাম

যাহা আখেরী জামানা সংক্রান্ত সুরা এবং সেই সুরাতে কয়েকজন যুবক শহর ত্যাগ করিয়া গৃহ ত্যাগ করিয়া গুহায় আশ্রয় নিয়াছিল-

তোমরা যখন তাহাদের থেকে পৃথক হলে এবং তাহারা আল্লাহ্‌র পরিবর্তে

যাদের ইবাদত করে তাহাদের থেকে, তখন তোমরা গুহায় আশ্রয় গ্রহণ কর।

তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে দয়া বিস্তার করিবেন

এবং তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের কাজকর্মকে ফলপ্রসু করার ব্যবস্থা করিবেন। -আল কোরআন (১৮:১৬)

আপনি যখন আদর্শ মুসলিম গ্রামে চলিয়া করিবেন, আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা বলেন, তিনি আপনাকে রক্ষা করিবেন, আপনার উপর তাঁহার অনুগ্রহ বর্ষণ করিবেন ।

আপনি কিভাবে হাঁসের ঝাকের সাথে বসে আছেন যেখানে আল্লাহ আপনার উপর রহমত বর্ষণের প্রতিশ্রুতি দিতেছেন ?

মূল – শাইখ ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে ভোট দেওয়া শিরক

ইসলামী বিশ্বের পুরোটাই বর্তমানে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আলিঙন করিয়াছে । আমি অষ্ট্রেলিয়া ত্যাগের পূর্বে আপনাদেরকে একটি কথা বলিতে চাই, যখনই আমি দুইটি বিষয়ে কথা বলি, অনেক মানুষ আমার সাথে অদ্ভূত ব্যবহার করে । ইহাতে আমি কষ্ট পাই বটে কিন্তু তাহাতে আমার কোন পরিবর্তন হইবে না । কেননা আমি ইসলাম প্রচার করি মানুষকে খুশি করিবার জন্য নয় বরং আমার প্রতিপালককে সন্তুষ্ট করিবার জন্য । যখন আমি সুদ সম্পর্কে কথা বলি, তখন কিছু মানুষ আমাকে ঘৃণা করিতে শুরু করে । হ্যাঁ, ইহাতে আমার কিছু যায়-আসে না । যখন কোন মুসলমান আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রতি, সংবিধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে (যাহা ঘোষনা করে যে আল্লাহ এখন আর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী নয়, বরং রাষ্ট্র সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী, আল্লাহ যাহাকে হারাম ঘোষণা করিয়াছেন রাষ্ট্র তাহাকে হালাল ঘোষণা করে) তিনি অবশ্যই শিরক করিলেন । আপনাকে তাহা করিতে হয় নাগরিকত্ব লাভের জন্য ; হ্যাঁ, পাসপোর্ট , ভিসা , গ্রীনকার্ড । আমার কথা যদি বিশ্বাস না করেন, কোন সমস্যা নাই । আপনি যখন কবরে প্রবেশ করিবেন তখন নিজের চোখেই দেখিতে পাইবেন । একজন মুসলমান যখন ভোটকেন্দ্রে যায় এবং সরকার গঠনের জন্য ভোট দেয় (যাহারা শিরক ভিত্তিক সরকার পরিচালনা করিবে) তখন তিনি অবশ্যিই শিরক করিলেন । আমার কথা যদি বিশ্বাস না করেন, কোন সমস্যা নাই । আমার সাথে শত্রুতার কোন দরকার নাই, ভোট দিতে যান, আমি আপনাকে বাধা দিতেছি না । কিন্তু আপনি যখন কবরে যাইবেন, তখন দেখিতে পাইবেন যে আপনি শিরক করিয়াছিলেন । কাজেই অজ্ঞতার মধ্যে বসবাস করিবেন না, এটাই আমার শেষ কথা । বীরপুরুষের মতো উঠে দাঁড়ান এবং সেভাবেই বিষয়টি নিন । ইহা হইল সেই সর্বব্যাপী শিরক, যেই সম্পর্কে মহানবী (সাঃ) ভবিষ্যৎবাণী করিয়া গিয়াছেন । তিনি বলিয়াছিলেন যে, এমন একটি সময় আসিবে যখন শিরক থাকিবে সর্বত্র এমনভাবে যে তাহাকে সনাক্ত করাই কঠিন হইবে ; যেভাবে অন্ধকার রাতে কালো পাথরে থাকা একটি কালো পিপঁড়াকে খুঁজে পাওয়া কঠিন ব্যাপার । কাজেই আপনি যদি বিষয়টি ইতিপূর্বে না জানিয়া থাকেন তবে অবাক হইবেন না । এখন আমার লেকচারের পর তো জানিতে পারিলেন । ইসলামী বিশ্বসহ সারা দুনিয়াতে একই ধরনের রাজনীতি চালু করিবার জন্য ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হইতেছে ।

মূল – শাইখ ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

আমরাই ইয়াজুজ-মাজুজ

আল্লাহর রাসুল (সাঃ) পরিষ্কার বলিয়া দিয়াছেন যে, এক বাটি (অর্থথাৎ এক লিটার) পানি দিয়া ওজু করিতে হইবে । হাতকে গর্তের মতো করিয়া এক কোশ পানি নিয়া এক একটি অঙ্গ ধৌত করিতে হইবে । প্রবাহিত পানি দিয়া অজু করিতে নবী করিম (সাঃ) নিষেধ করিয়াছেন । এখন আমরা বাসায় এবং মসজিদে সর্বত্র পানির ট্যাপ ছাড়িয়া দিয়া অজু করি । ইহাতে যে কি পরিমাণ পানির অপচয় হয় আল্লাহ জানে । মহানবী (সাঃ) ভবিষ্যৎবাণী করিয়াছেন যে, কেয়ামতের পূর্বে ইয়াজুজ-মাজুজ নামের একটি জাতির আর্বিভাব হইবে যাহারা পানি পান করিতে করিতে নদী পর্যন্ত শুকাইয়া ফেলিবে অর্থাৎ তাহারা হইবে পানির মহাঅপচয়কারী । এখন অজু-গোসল, কৃষিকাজ এবং কলকারখানায় আমরা এমনভাবে পানির অপচয় করিতেছি যে, আক্ষরিক অর্থেই পৃথিবীর অনেক নদী-নালা বর্তমানে শুকাইয়া গিয়াছে । সাহাবায়ে কেরাম বর্তমানে বাঁচিয়া থাকিলে নিশ্চিতভাবেই বিশ্বাস করিতেন যে, আমরা সেই ইয়াজুজ-মাজুজ !!!

মূল – শাইখ ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

যাহারা টেলিভিশন দেখিতে দেওয়ার মাধ্যমে শিশুদের মগজ ধোলাইয়ের সুযোগ করিয়া দিয়াছেন, তাহাদেরকে একদিন অবশ্যই জবাবদিহি করিতে হইবে । টেলিভিশন কি কোন নিষ্পাপ জিনিস ? টেলিভিশনের প্রতিটি অনুষ্টান (মুসলমানদেরকে আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুল সাঃ থেকে দূরে সরাইয়া নেওয়ার জন্য) অনেক পরিকল্পনা করিয়া তৈরী করা হইয়া থাকে ।

মূল – শাইখ ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

দাজ্জাল সম্পর্কে বিশ্বনবী (সাঃ) যাহা বলিয়াছেন, তাহা বুঝিতে চাহিলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি এবং ইতিহাসের উপর আপনাকে অন্তত বিশ বছর পড়াশুনা করিতে হইবে ।

মূল – শাইখ ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

Author: bashirmahmudellias

I am an Author, Design specialist, Islamic researcher, Homeopathic consultant.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s