Dr. Bashir Mahmud Ellias's Blog

Know Thyself

রাশিয়ার সাথে মুসলমানদের জোট গঠ নে মহানবীর (সাঃ) ভবিষ্যতবাণী

3 Comments

আখেরী  জামানায়  রাশিয়ার  সাথে  মুসলমানদের  জোট  গঠনে  মহানবীর  (সাঃ)  ভবিষ্যতবাণী

রাসুলুল্লাহ  (সাঃ)  বলিয়াছেন,  “শীঘ্রই  তোমরা  রুমের (অর্থাৎ  খ্রীষ্টানদের)  সাথে  জোট  বাধিবে ।  তারপর  তোমরা  এবং  তাহারা  মিলিতভাবে  অন্য  এক  শত্রুর  বিরুদ্ধে  যুদ্ধে  লিপ্ত  হইবে  এবং  তাহাতে  বিজয়ী  হইয়া  যুদ্ধলদ্ধ  সম্পদ  লাভ  করিবে ।” (আবু  দাউদ  শরীফ ঃ ৪২৪৪)  কাজেই  আমেরিকার  পরিবর্তে  ইসরাঈল  যখন  পরাশক্তি  হইবে,  তখনও  নতুন  ধরনের  অর্থব্যবস্থা  আসিবে,  পেট্টোডলারের  দাপট  থাকিবে  না  আর  সাথে  সাথে  আসিবে  বিরাট  বিশাল  ভয়ঙ্কর  যুদ্ধ (তৃতীয়  বিশ্বযুদ্ধ),  এই  মামুলি  বিষয়টি  বুঝিবার  জন্য  আপনার  পিএইচডি  ডিগ্রীধারী  হওয়ার  দরকার  নাই ।  কিন্তু  কোন  শক্তির  বিরুদ্ধে  এই  তৃতীয়  বিশ্বযুদ্ধ / মালহামা  সংঘটিত  হইবে ?   পৃথিবীতে  দুইটি  শক্তি  আছে  যাহারা  ইসরাঈলের  এই  দুরভিসন্ধির  বিরুদ্ধে  রুখিয়া  দাঁড়াইবে ।  এক  নাম্বার  হইল  হযরত  মোহাম্মদ (সাঃ)-এর  অনুসারীরা,  যাহাদের  কিবলাহ  হইল  মক্কা  শরীফ ।  তবে  আমাদের  মধ্যে  অনেক  লোক  আছে  যাহাদের  কেবলাহ  ওয়াশিংটনে ।  এমন  কথা  বলিবার  জন্য  দয়া  করিয়া  আমাকে  ক্ষমা  করবেন ।  হ্যাঁ,  আমাদের  মধ্যে  এমন  লোক  আছে  যাহাদের  নিকট  ইসলামের  চাইতে  আমেরিকান  ভিসা  বেশী  গুরুত্বপূর্ণ ।  আমার  ইউএস  ভিসা  আমার  কাছে  অধিক  মূল্যবান,  আল্লাহ  এবং  আল্লাহর  রাসুলের (সাঃ)  হুকুম  মানিয়া  চলিবার  চাইতে ।  কাজেই  এমন  কথা  বলিবার  জন্য  আমাকে  ক্ষমা  করিবেন,  দয়া  করিয়া  আমার  ওপর  বিরক্ত  হইবেন  না,  কেননা  আমারও  কিছু  দ্বায়িত্ব  আছে ।  কাজেই  আসন্ন  মহাযুদ্ধে (মালহামায়) আক্রান্ত  হইবে  প্রধানত  মুসলমানরা,  কেননা  তাহারাই  ইসরাঈলের  বিরুদ্ধে  সবচেয়ে  বেশী  রুখিয়া  দাঁড়াইবে ।  অন্য  আরেকদল  লোকের  বিরুদ্ধে  এই  মহাযুদ্ধ  সংঘটিত  হইবে  যাহারা  ইসরাঈলের  বিরুদ্ধে  রুখিয়া  দাঁড়াইয়াছে ।  সেই  অন্য  দলের  লোকেরা  কাহারা ?  ইহার  উত্তর  পাওয়া  যাইবে  পবিত্র  কোরআনের  সুরা  মায়েদায়,  এই  যুগের  প্রেক্ষাপটে  ইহা  সবচাইতে  গুরুত্বপূর্ণ  আয়াত ।  আল্লাহ  তায়ালা  বলেন,  (এমন  একটি  সময়  আসিবে  যখন)  তোমরা  দেখিতে  পাইবে  মানুষের  মধ্যে  তোমাদের  প্রতি  শত্রুতায়  সবচাইতে  জঘন্য  হইবে  ইহুদীরা  এবং  (ইহুদীদের  সাথে  সাথে)  আরেকটি  দল  হইবে  মোশরেকরা (যাহাদের  সকল  কর্মকান্ডের  ভিত্তি  হইল  শিরক / মূর্তিপূজা) ।  তারপর  আল্লাহ  বলিতেছেন,  (সেই  সময়)  তোমাদের  প্রতি  ভালবাসা  এবং  মমতায়  সর্বাধিক  হইবে  একদল  লোক  যাহারা  বলে  আমরা  খ্রিষ্টান । ba032-russia2bpakistan2b2b34

একটি  উদাহরণ  দেই,  আল্লাহ  পবিত্র  কোরআনে  বলেন,  যখন  জুমু’আর  নামাযের  জন্য  আহবান  করা  হয়,  তখন  ক্রয়-বিক্রয়  বন্ধ  করিয়া  আল্লাহর  স্মরণের  দিকে  ধাবিত  হও ।  কিন্তু  তাহারা  জুমআর  নাম  পাল্টাইয়া  নতুন  নাম  দিয়াছে  ফ্রাইডে ।  ফ্রাই  কে ?  কে  কে  স্প্যানিস  ভাষা  জানেন ?  ফ্রাই  হইল  স্ক্যান্ডিন্যাভিয়ান  দেবী  যাকে  তাহারা  পূজা  করে ।  ফ্রাইডে  হইল  দেবী  ফ্রাইয়ের  পূজার  দিন ।  সুতরাং  তোমরা  দুই  শ্রেণীর  লোক  দ্বারা  প্রবলভাবে  আক্রান্ত  হইবে,  ইহুদী  এবং  মোশরেক ।  কাজেই  সেই  সময়  যখন  ইহুদীরা  হইবে  তোমাদের  প্রতি  সর্বাধিক  শত্রুভাবাপন্ন  এবং  এই  শিরক  ভিত্তিক  সভ্যতা  তোমাদের  বিরুদ্ধে  পৈশাচিক  যুদ্ধ  ঘোষণা  করিবে ।  একই  কথা  বারবার  পূণরাবৃত্তি  করিবার  জন্য  আমি  দুঃখিত।  আল্লাহ  বলেন,  সেই  সময়  তোমাদের  প্রতি  ভালবাসা  এবং  মমতায়  সর্বাধিক  হইবে  একদল  লোক  যাহারা  বলে  আমরা  খ্রিষ্টান ।  আল্লাহ  এখানেই  থামিয়া  যান  নাই,  তিনি  আরো  বলিতেছেন,  ইহার  কারণ  তাহারা  মঠবাসী / আশ্রয়বাসী  সাধু  দরবেশ  এবং  তাহারা  অহংকারী  নয় ।  আমি  যদি  একটি  হোটেলে  গিয়া  কারি  চিকেনের  অর্ডার  দেই,  তারপর  জামার  আস্তিন  ঘুটাইয়া  আল্লাহর  দেওয়া  কাটা  চামচ  অর্থাৎ  হাত  দিয়া  খাওয়া  শুরু  করি,  তবে  এই  লোকেরা  বলিবে,  এইভাবে  খাওয়া  সভ্য  লোকের  কাজ  নয় । …হা..হা..হা… আমার  উত্তর  হইল,  তোমার  সভ্যতা  ভদ্রতা  লোহিত  সাগরে  নিক্ষেপ  কর ।   তোমরা  অহংকারী  বলিয়াই  সারা  দুনিয়ার  মানুষকে  তোমাদের  কার্বন  কপি  বানাইতে  চাও ।  তোমাদের  এই  দৃষ্টিভঙ্গির  আমার  নিকট  কানাকড়িও  মূল্য  নাই ।  তোমরা  কিভাবে  ভাবিতে  পারো  যে,  একজন  গ্রীষ্মমণ্ডলীয়  দেশের  অধিবাসী  হইয়াও  আমাকে  ভদ্রলোক  হওয়ার  জন্য,  তোমাদের  সাথে  চলাফেরার  যোগ্য  হওয়ার  জন্য  সুটকোট  জেকেট  এবং  টাই  পড়িতে  হইবে ?  ইহা  হইল  পাগলাগারদ !  সুতরাং  একদল  লোক  আছে  যাহারা  দাম্ভিক  অহংকারী ।  তাহারা  চায়  অন্যদেরকে  তাদের  কার্বন  কপিতে  পরিণত  করিতে ।  তাহারা  চায়  তামাম  পৃথিবীকে  নিয়ন্ত্রণ  করিতে ।  তাহলে  ইহারা  কোন  খ্রিষ্টান  যাহারা  মুসলমানদের  প্রতি  ভালবাসা  এবং  মমতায়  অধিক  নিকটবর্তী  হইবে ?  ইহারা  হইল  সেই  খ্রীষ্টান  যাহাদের  মধ্যে  আছে  মঠবাসী / আশ্রমবাসী  সাধু-সন্ন্যাসীর  দল ।  তাহারা  অহংকারী  নয় ।   তাহারা  সারা  দুনিয়া  শাসন  করিতে  চায়  না ।

তাহারা  অন্যদেরকে  তাহাদের  কার্বন  কপি  বানাতে  চায়  না ।  খ্রীষ্টান  জগত  প্রধানত  দুই  ভাগে  বিভক্ত ।  এক  ভাগ  হইল  সেটা  যাহারা  ২৫  শে  ডিসেম্বর  বড়দিন  পালন  করে  আরেক  ভাগ  হইল  যাহারা  ৭ই  জানুয়ারী  বড়দিন  পালন  করে ।  এদের  এক  ভাগকে  বলা  হয়  পাশ্চাত্য  খ্রীষ্টবাদ (ক্যাথলিক)  আর  অন্য  ভাগকে  বলা  হয়  অর্থোডক্স  খ্রীষ্টবাদ ।  রাশিয়া  হইল  অর্থোডক্স  খ্রীষ্টানদের  নেতা,  সেখানে  আছে  এই  সাধু-দরবেশদের  মঠ  ব্যবস্থা ।  পাশ্চাত্যের  খ্রীষ্টবাদে  একজন  ছাড়া  অন্য  কাহারো  দাঁড়ি  রাখার  অনুমতি  নাই ।  আপনি  পুলিশে  চাকুরি  করিলে  দাঁড়ি  রাখিতে  পারিবেন  না ।  আপনি  হোটেলে  চাকরি  করিলে  দাঁড়ি  রাখিতে  পারিবেন  না।  সেখানে  একজন  মাত্র  দাঁড়িওয়ালা  লোক  বছরে  একবার  ঘোড়ার  গাড়িতে  চড়িয়া  আসেন ।  কাজেই  ইহা  হইল  শান্তাক্লজ  খ্রীষ্টবাদ ।   কিন্তু  অর্থোডক্স  খ্রিষ্টান  জগতে  এসব  শান্তাক্লজ  কালচার  নাই ।  আমি  যখন  রাশিয়াতে  বেড়াতে  যাই,  দেখিলাম  দাঁড়িওয়ালা  লোক  প্রচুর ।  আমাকে  মষ্কো  ষ্টেট  ইউনির্ভাসিটিতে  লেকচার  দেওয়ার  জন্য  যিনি  দাওয়াত  দিয়াছিলেন,  অধ্যাপক  আলেকজান্ডার  ডুগিন,  তিনিও  একজন  দাঁড়িওয়ালা  লোক,  তাহারও  দেখিলাম  বড়  বড়  দাঁড়ি,  আমার  পাশেই  বসিয়াছিলেন ।  কাজেই  দুই  ধরনের  লোক  ইসরাঈলের  জন্য  হুমকি  হইয়া  দাঁড়াইবে,  তাহারা  হইল  মুসলমান  এবং  অর্থোডক্স  খ্রিষ্টান ।  অর্থোডক্স  খ্রীষ্টানদের  কথা  কি  কোরআনে  আছে ?  হ্যাঁ,  একটি  বড়  সুরাই  আছে  তাদের  সম্পর্কে,  সুরা  রুম,  সম্ভবত  ৩১  নাম্বার  সুরা ।  দেখুন  সুরাটি  কিভাবে  শুরু  হইয়াছে ।  “রুমানরা  পরাজিত  হইয়াছে” ।  সেই  সময়  যেহেতু  ওয়াশিংটন  ছিল  না,  ন্যাটো  ছিল  না,  কাজেই  আল্লাহ  তায়ালা  ইহাদেরকে  ইশারা  করিবার  প্রশ্নই  আসে  না ।  দেখুন  আল্লাহ  তায়ালা  ভবিষ্যতবাণী  করিতেছেন,  “শীঘ্রই  তাহারা (রোমানরা)  বিজয়ী  হইবে  যখন  মুসলমানরা  আনন্দ  উদযাপন  করিবে”।  তাহলে  এই  রুম (রোমান)  কাহারা ?  এই  রুম  হইল  অর্থোডক্স  খ্রীষ্টানরা ,  বাইজানটাইন  সাম্রাজ্য ।  কন্সট্যান্টিপুল  ছিল  তাহাদের  রাজধানী ।  বর্তমানে  রাশিয়া  হইল  রোমানদের  নেতা ।  গ্রীসও  রুমের  অন্তর্ভূক্ত ।  আরর্মেনিয়াও  রুমের  অন্তর্ভূক্ত ।  বুলগেরিয়াও  রুমের  অন্তর্ভূক্ত ।  পারমানবিক  মহাযুদ্ধ  কেন  আসিতেছে  ইহার  কারণ  কি ?  ইহার  কারণ  মুসলিম  বিশ্বে  একমাত্র  পারমাণবিক  অস্ত্রধারী  শক্তি  একমাত্র  পাকিস্তান ।  কিন্তু  পাকিস্তান  কিছুটা  ওজনে  হালকা ।  কিন্তু  অর্থোডক্স  খ্রীষ্টানরাও  রাশিয়ার  কারণে  একটি  প্রভাবশালী  পারমাণবিক  শক্তি ।

সুতরাং  আমেরিকার  পরে  ইজরাঈলের  পক্ষে  কিছুতে  নতুন  পরাশক্তি / সুপারপাওয়ার  হওয়া  সম্ভব  নয়  যতক্ষণ  না  পাকিস্তান  এবং  রাশিয়া  তাহার  নিকট  আত্মসমর্পন  করে । রাশিয়ার  ব্যাপারে  তাহারা  যাহা  করিয়াছিল,  ইহুদীরা  সেখানে  বলশেভিক  (কমুনিষ্ট)  বিপ্লব  সংঘটিত  করিয়াছিল  অর্থোডক্স  খ্রীষ্টবাদকে  ধ্বংস  করিবার  জন্য ।  তাহারা  নাস্তিক  রাষ্ট্র  সোভিয়েত  ইউনিয়ন  প্রতিষ্টা  করিয়াছিল  অর্থোডক্স  খ্রীষ্টানদেরকে  ধ্বংস  করিবার  জন্য,  অথচ  ইহারা  রাশিয়ান  ইহুদী  ছিল  না ।  নাস্তিক  কমিউনিষ্ট  আমলে  রাশিয়ায়  হাজার  হাজার  পাদরী / পুরোহিতকে  হত্যা  করা  হইয়াছিল,  হাজার  হাজার  মঠ / আশ্রম  বন্ধ  করিয়া  দেওয়া  হইয়াছিল ।  তাহাদের  পরিকল্পনা  তাহারা  করিয়াছিল  কিন্তু  সফলকাম  হইতে  পারে  নাই ।  যখন  ১৯৮৯  সালে  সৌভিয়েত  ইউনিয়নের  পতন  হয়,  রাশিয়া  পুণরায়  তাহাদের  অর্থোডক্স  খ্রীষ্টবাদে  ফিরিয়া  যায় ।  অর্থোডক্স  খ্রীষ্টবাদে  তাহাদের  প্রত্যাবর্তন  পুরোপুরি  সম্পন্ন  হয়  নাই,  প্রক্রিয়া  এখনও  চলিতেছে ।  রাশিয়া  অর্থোডক্স  খ্রীস্টবাদে  ফিরিয়া  যাওয়ার  কারণে  যায়োনিস্টদের (ইহুদীবাদীদের)  নিকট,  ওয়াশিংটনের  নিকট  মাথানত  করিতে  অস্বীকার  করে ।  আর  এই  কারণে  তাহারা  রাশিয়ার  বিরুদ্ধে,  পাকিস্তানের  বিরুদ্ধে  যুদ্ধের  আয়োজন  করিতেছে,  যাহাতে  রাশিয়া  পারমাণবিক  শক্তি  হিসাবে  টিকিয়া  থাকিতে  না  পারে,  পাকিস্তান  পারমাণবিক  শক্তি  হিসাবে  টিকিয়া  থাকিতে  না  পারে ।

এখন  আমরা  পুণরায়  রাশিয়ার  প্রসঙ্গে  আসি ।  রাশিয়া  তাহাদের  নিকট  নতজানু  হইতে  নারাজ ।  রাশিয়া  বলে,  তোমরা  যুদ্ধ  চাইলে  তোমাদের  যুদ্ধই  দিব ।  কিন্তু  রাশিয়ার  ব্যাপারে  তাহাদের  একটি  মহাপরিকল্পনা  আছে,  যাহা  একটু  আগে  আমি  সভাপতির  নিকট  ব্যাখ্যা  করিতেছিলাম ।  পবিত্র  কোরআনের  সুরা  কাহফে  আছে  জুলকারনাইনের  কথা ।  কারন্‌  মানে  শিং  আবার  কারন্‌  মানে  যুগ / সময় / কাল ।  কিন্তু  কোরআনে  কারন্‌  শব্দটি  আল্লাহ  যতবার  ব্যবহার  করিয়াছেন  যুগ  হিসাবেই  ব্যবহার  করিয়াছেন,  কখনও  শিং  হিসাবে  ব্যবহার  করেন  নাই ।  সুতরাং  ‍জুল  কারন্‌  মানে  দুই  যুগ ।  যুলকারনাইনের  ছিল  ক্ষমতা,  আল্লাহ  তাহাকে  শক্তি  দিয়াছিলেন  আর  তাহার  ছিল  ঈমান ।  সে  সূর্য  যেদিকে  অস্ত  যায়  সেদিকে  ভ্রমণ  করিতেছিল ।  সেখানে  তিনি  এমন  একটি  জলাধারের  সম্মুখীন  হইলেন  যাহার  পানি  ছিল  কালো  অন্ধকার  রঙের ।  জুলকারনাইনের  সেখানে  একদল  লোকের  সাথে  সাক্ষাত  হইল ।  আল্লাহ  বলিলেন,  হে  জুলকারনাইন !  তুমি  তাহাদের  সাথে  কিরূপ  ব্যবহার  করিতে  চাও ?  যুলকারনাইন  বলিলেন,  হে  আল্লাহ !  তাহারা  যদি  অত্যাচারী  হয়  তবে  আমি  তাহাদেরকে  কঠোর  শাস্তি  দিব  আর  (আমার  শাস্তি  শেষ  হইলে  পরকালে)  আপনিও  তাহাদেরকে  শাস্তি  দিবেন ।  আর  তাহারা  যদি  ঈমানদার  এবং  সৎকর্মশীল  হয়,  তবে  আমি  তাহাদেরকে  পুরষ্কৃত  করিব ।  সুতরাং  এই  আয়াতের  শিক্ষা  হইল  আল্লাহ  প্রদত্ত  ক্ষমতাকে  ব্যবহার  করিতে  হইবে  অত্যাচারীদের  জালেমদের  শায়েস্তা  করিবার  কাজে।  তারপর  তিনি  অভিযানে  বাহির  হইলেন  পূর্ব  দিকে  আপনাদের  নিশ্চয়ই  মনে  আছে  এবং  তৃতীয়বার  অভিযানে  বাহির  হন  দুই  পর্বতের  মধ্যবর্তী  রাস্তা  ইয়াজুজ-মাজুজের  দেশে ।  এই  কালো  এবং  অন্ধকার  পানির  জলাশয়টি  কোরআনের  সকল  তাফসিরেই  একবাক্যে  কৃষ্ণসাগর  বলিয়া  অভিহিত  করা  হইয়াছে ।  আর  আপনার  যদি  ভূগোল  সম্পর্কে  জ্ঞান  থাকে  তবে  দেখিবেন  ভূমধ্যসাগরের  উপরের  দিকেই  আছে  কৃষ্ণসাগর ।  কৃষ্ণসাগর  ছাড়া  রাশিয়ার  কোন  নৌবন্দর  নাই ।  কারণ  রাশিয়ার  উত্তর  দিকের  পুরোটাই  বরফ  আচ্ছাদিত ।  কাজেই  রাশিয়ার  যদি  নৌবাহিনী  থাকে,  তবে  তাহার  জন্য  কৃষ্ণসাগর  খুবই  গুরুত্বপূর্ণ ।  কৃষ্ণসাগর  থেকে  রাশিয়াকে  বিতাড়িত  করিতে  পারিলে  রাশিয়া  আর  ইসরাঈল  এবং  যায়োনিষ্টদের  জন্য  কোন  হুমকি  সৃষ্টি  করিতে  পারিবে  না ।   কাজেই  কৃষ্ণসাগরের  গুরুত্ব  অত্যন্ত  বেশী ।

মালহামার (মহাযুদ্ধের  অর্থাৎ  তৃতীয়  বিশ্বযুদ্ধের)  পরে  খুব  সম্ভবত  ইলেক্ট্রনিক  যুদ্ধাস্ত্র (মিসাইল/জঙ্গী বিমান)  থাকিবে  না,  কেননা  পারমাণবিক  যুদ্ধ  তো  এমনই।  সুতরাং  মালহামার  পরে  যুদ্ধ  হবে  কেবল  স্থল  এবং  নৌ  পথে ।  কাজেই  আমেরিকার  পরে  যখন  ইসরাঈল  নতুন  সুপারপাওয়ার  হইবে,  তখন  ইসরাঈলের  নিরাপত্তার  প্রতি  হুমকি  আসিবে  এক  নাম্বারে  পাকিস্তানের  পক্ষ  হইতে  এবং  দুই  নাম্বারে  রাশিয়ার  পক্ষ  হইতে,  নৌবাহিনীর  হামলা ।  সুতরাং  ইসরাঈলের  জন্য  কৃষ্ণসাগরের  সামরিক  গুরুত্ব  অপরিসীম ।  কৃষ্ণসাগরে  প্রবেশের  সবচাইতে  সুবিধাজনক  এলাকা  কোনটি  কেউ  বলতে  পারেন ?  ক্রিমিয়া ?  হ্যাঁ,  ক্রিমিয়া ।  আপনার  নিশ্চয়  ভূগোল  নিয়ে  পড়াশুনা  আছে ।  কাজেই  বলা  যায়  ক্রিমিয়া  যাহার  দখলে  কৃষ্ণসাগর  তাহার  দখলে ।  আর  ক্রিমিয়া  ছিল  রাশিয়ার  ভূখন্ড ।  তাহাদের  পরিকল্পনা  ছিল,  বলা  যায়  মাস্টারপ্লান  ছিল  সোভিয়েত  কমুনিষ্ট  রাষ্ট্র  প্রতিষ্টা  করা ।  তারপর  ১৯৫৪  সালে  অর্থাৎ  ইজরাঈলের  প্রতিষ্টার  ছয়  বছর  পরে  নিকিতা  ক্রুশ্চেভ  রাশিয়ানদের  মতামত  ছাড়াই  রাশিয়ান  ভূখন্ড  ক্রিমিয়াকে  স্থানান্তর  করিয়া  ইউক্রেনের  অন্তর্ভূক্ত  করিয়া  দেয় ।  কিন্তু  তখনও  কোন  সমস্যা  ছিল  না,  যেহেতু  রাশিয়া  এবং  ইউক্রেন  দুটোই  সৌভিয়েত  ইউনিয়নের  অধীনে  ছিল ।  তারপর  সমস্যা  দেখা  দিল  যখন  যায়োনিষ্টরা  রঙিন  বিপ্লবের  মাধ্যমে  সৌভিয়েত  ইউনিয়নের  পতন  ঘটায় ।  তাহারা  সৌভিয়েত  ইউনিয়নের  পতন  ঘটায়  কেন  ?  যাহাতে  ইউক্রেন  একটি  স্বাধীন  রাষ্ট্র  হিসাবে  আবির্ভূত  হয় ।  ফলে  রাশিয়া  হবে  একটি  ফেডারেশান  আর  ক্রিমিয়া  হবে  ইউক্রেনের  অংশ ।  এই  ভূরাজনৈতিক  পরিকল্পনার  দ্বিতীয়  অংশ  হইল  ইউক্রেনে  একটি  পাশ্চাত্যপন্থী  সরকার  প্রতিষ্টা  করা  যাহাতে  সে  যায়োনিষ্ট  ন্যাটোর  সদস্য  হইয়া  যায় ।  আর  ইউক্রেন  ন্যাটোর  সদস্য  হইতে  পারিলে  রাশিয়াকে  বলিবে,  ক্রিমিয়া  থেকে  দূর  হও ।  ফলে  রাশিয়ার  আর  কোন  নৌবন্দর  থাকিবে  না  এবং  ইসরাঈলের  নিরাপত্তা  নিশ্চিত  হইবে ।  কাজেই  বছর  খানেক  আগে  ডিসেম্বরে  তাহারা  কি  করিয়াছে  ?  রাস্তায়  কিছূ  মিছিল  মিটিংয়ের  আয়োজন  করিয়া  ইউক্রেনের  রাশিয়াপন্থী  সরকারের  পতন  ঘটাইয়া  একটি  পাশ্চাত্যপন্থী  সরকার  প্রতিষ্টা  করিয়াছে ।  এই  ঘটনার  সাথে  সাথে  রাশিয়া  এমন  দ্রুত  পদক্ষেপ  নিয়াছে,  যাহাতে  পাশ্চাত্য  যারপর  নাই  বিস্মিত  হইয়াছে ।  রাশিয়া  তখন  ক্রিমিয়ার  পার্লামেন্টের  স্মরণাপন্ন  হয়  এবং  ক্রিমিয়ার  পার্লামেন্ট  নিরঙ্কুশ  সংখ্যাগরিষ্ট  ভোটে  একটি  সিদ্ধান্ত  পাস  করে  যে,  ক্রিমিয়া  রাশিয়ার  অন্তর্ভূক্ত  হইতে  চায় ।  অন্যদিকে  রাশিয়ার  পার্লামেন্ট  সাথে  সাথেই  ক্রিমিয়ার  পার্লামেন্টের  আবেদন  গ্রহন  করিয়া  আরেকটি  রেজুলুশান  পাস  করিবার  মাধ্যমে  ক্রিমিয়াকে  রাশিয়ার  অন্তর্ভূক্ত  করিয়া  নেয় ।  মাত্র  দুই  সপ্তাহের  মধ্যেই  পুরো  ঘটনাটি  ঘটিয়া  গেলো ।  সুতরাং  বলা  যায়  ইহা  ছিল  যায়োনিষ্ট  আন্দোলনের  গালে  ইতিহাসের  সবচেয়ে  বড়  চপেটাঘাত ।  কারণ  এখন  রাশিয়া  আবার  ক্রিমিয়াকে  ফিরিয়া  পাইয়াছে  এবং  রাশিয়া  বর্তমানে  একটি  পারমাণবিক  শক্তি ।  একশ  বছর  আগে  তো  এমনটা  ছিল  না ।  রাশিয়া  বর্তমানে  কৃষ্ণসাগর  তীরবর্তী  সকল  দেশের  নিয়ন্ত্রণ  শক্তি  এবং  তুরষ্কসহ  সকল  দেশকেই  রাশিয়া  আক্রমণের  পূর্বে  দুইবার  ভাবিতে  হইবে ।  কাজেই  অত্র  এলাকার  ভূরাজনেতিক  অবস্থা  নাটকীয়ভাবে  পাল্টাইয়া  গিয়াছে ।  কাজেই  তাহারা  রাশিয়া  আক্রমণ  করিতে  যত  বিলম্ব  করিবে  রাশিয়া  ততই  আরো  শক্তিশালী  হইয়া  উঠিবে ।

সুতরাং  এক  হইতে  দুই  বছরের  মধ্যে   তৃতীয়  বিশ্বযুদ্ধ / মালহামা  শুরুর  বিষয়টি  যুক্তিসঙ্গত ।  কারণ  তাহারা  যদি  বেশী  দেরি  করে,  তবে  রাশিয়া  আরো  অধিক  শক্তিশালী  হইয়া  উঠিবে ।  রাশিয়া  কি  পারমাণবিক  বিশ্বযুদ্ধ  থেকে  পেছনে  ফিরিয়া  যাইবে ?  নাহ,  রাশিয়া  পিছাইতে  প্রস্তুত  নয় ।  কাজেই  পারমাণবিক  বিশ্বযুদ্ধ  আসিতেছে ।  জালিমদের  বিরুদ্ধে  রুখিয়া  দাঁড়ানো,  ইহাই  রাশিয়ার  ভাগ্যলিপি ।  জালেমদের  দমনে  শক্তি  প্রয়োগ  করা ।  জুলকারনাইন  ইহা  প্রথমবার  করিয়াছিলেন ।  ভ্লাদিমির  পুতিন  এই  যুগের  যুলকারনাইন ।  হ্যাঁ,  আপনারা  আমার  সাথে  একমত  নাও  হইতে  পারেন ।  সেই  অধিকার  আপনাদের  আছে ।  কিন্তু  আমি  মনে  করি  পুতিন  দ্বিতীয়  যুগের  জুলকারনাইন ।  আল্লাহ  তাহার  মাধ্যমে  এই  যুগের  জালেম  ইয়াজুজ  মাজুজকে  শায়েস্তা  করিবেন ।   কেননা  জুলকারনাইন  অর্থ  দুই  যুগ ।  পৃথিবীর  একই  অঞ্চলে  একবার  যেই  ঘটনা  ঘটিয়াছিল,  সেখানে  আবারো  তাহা  ঘটিতে  যাইতেছে ।  ইহা  কোরআনের  সুরা  কাহফে  আছে ।  সুরা  কাহফে  এমনটাই  ইশারা  করা  হইয়াছে ।  কাজেই  আসন্ন  পারমাণবিক  বিশ্বযুদ্ধে  রাশিয়া  তাহার  শক্তি  ব্যবহার  করিবে  জালেমদের  শায়েস্তা  করিতে ।  আগামীকাল  ইনশায়াল্লাহ  আমি  এই  বিষয়টিকে  ভিন্ন  প্রেক্ষাপটে  ব্যাখ্যা  করিব ।  পারমাণবিক  যুদ্ধের  হুমকি  দেওয়ার  পাশাপাশি  তাহারা  রাশিয়ার  মুদ্রা  রুবলের  উপর  হামলা  শুরু  করিয়াছে ।  তাহারা  রাশিয়ার  মুদ্রা  রুবলের  উপর  হামলা  শুরু  করিয়াছে ।  রাশিয়ান  রুবল  তাহার  মূল্যমান  হারাইতেছে  মূল্য  হারাইতেছে  মূল্য  হারাইতেছে  বিপুল  মুদ্রাস্ফাতির  শিকার  হইতেছে ।  ইহা  প্রকৃতপক্ষে  অর্থনৈতিক  নয়  বরং  সম্পূর্ণ  রাজনৈতিক  কারণে ।  আমি  যখন  জুলাইতে  মষ্কো  সফর  করি  তখন  এক  ডলার  সমান  ছিল  ৩৩  রুবল ।  তারপর  রাশিয়া  যখন  ক্রিমিয়া  দখল  করিল,  তখন  বলিল,  আমি  ক্রিমিয়া  ফেরত  দিব  না,  তোমরা  যাহা  ইচ্ছা  করিতে  পারো ।  তখন  হইতে  রহস্যজনকভাবে  হঠাৎ  আন্তর্জাতিক  বাজারে  তেলের  দাম  কমিতে  লাগিল ।  সুতরাং  তাহারা  অর্থনৈতিক  অস্ত্র  দিয়ে  মুদ্রানীতির  অস্ত্র  দিয়া  রাশিয়াকে  আক্রমণ  করিতেছে ।  আগামীকালের  লেকচারে  ইনশাআল্লাহ  আমরা  আলোচনা  করিব  হাদীসে  বর্ণিত  “সোনার  পাহাড়”  সমন্ধে ।  মহান  আল্লাহর  নিকট  আমরা  প্রার্থনা  করি  আসন্ন  পারমাণবিক  মহাযুদ্ধ  মোকাবেলার  জ্ঞান  তিনি  আমাদেরকে  দান  করেন ।  কি  করিতে  হইবে,  কিভাবে  প্রস্তুতি  নিতে  হইবে  এবং  মহাযুদ্ধ  পরবর্তীতে  পৃথিবীর  অবস্থা  কেমন  হইবে ?  আবার  আমাদেরকে  সুরা  কাহফের  স্মরণাপন্ন  হইতে  হইবে ।  আমাদেরকে  শহর  ছাড়িয়া  পালাইতে  হইবে ।  কেননা  শহরগুলি  ধ্বংস  হইয়া  যাইবে ।  যাহারা  মৃত্যুবরণ  করিবে  তাহারা  ভাগ্যবান  আর  যাহারা  বাঁচিয়া  থাকিবেন  তাহারা  দুর্ভাগা,  কেন ?  কেননা  একটি  শহরের  দুই  কোটি  অধিবাসীর  মধ্যে  যাহারা  বাঁচিয়া  থাকিবেন  তাহাদের  খাবার  দরকার  কিন্তু  খাবার  নাই,  তাহাদের  পানি  দরকার  কিন্তু  পানি  নাই ।  কেননা  এসব  শহরের  খাবার-পানি  বাইরে  থেকে  সরবরাহ  করা  হয়  আর  যুদ্ধের  ফলে  খাবার-পানির  সরবরাহ  লাইন  ভাঙিয়া  পড়িবে ।  কাজেই  খাবার-পানি  সংগ্রহের  আপ্রাণ  চেষ্টা  মানুষকে  উশৃঙ্খল-উন্মাদ  করিয়া  ফেলিবে ।  আপনি  নিশ্চয়  এমন  পরিস্থিতিতে  বসবাস  করিতে  চাহিবেন  না ।  সুতরাং  নিজের  নিরাপত্তার  জন্য  দূরবর্তী  গ্রামাঞ্চলে  চলিয়া  যান ।  পর্যাপ্ত  খাবার  সংগ্রহে  রাখেন,  যথেষ্ট  পানি  সংগ্রহে  রাখেন  এবং  সারাক্ষন  আল্লাহর  নিকট  দোয়া  করিতে  থাকেন ।

আমেরিকা  এবং  রাশিয়া  ইয়াজুজ  মাজুজ  নয় ।  তবে  তাহাদের  ভেতরেই  ইয়াজুজ  মাজুজ  রহিয়াছে ।  আর  সেই  ইয়াজুজ  মাজুজরা  তাহাদেরকে  মালহামার (পারমাণবিক  যুদ্ধের)  উসকানি  দিতেছে ।  মালহামার  অর্থাৎ  মহাযুদ্ধের  মাধ্যমে  আমেরিকা  রাশিয়া  ধ্বংস  হইলেও  ইয়াজুজ  মাজুজ  থাকিয়া  যাইবে ।  ইয়াজুজ  মাজুজ  ধ্বংস  হইবে  হযরত  ঈশা  ইবনে  মারিয়াম (আঃ)-এর  আগমণের  পরে ।  ইসরাঈল দিন গুনছে, এই ধ্বংসাবশেষ থেকে বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করা তার জন্য সহজ হবে। এবং ইসরাঈল এর জন্য খুব সুবিধা হবে যদি দুই সুপারপাওয়ার [ন্যাটো-(আমেরিকা, ইউরোপ, তুরস্ক) এবং রাশিয়ান এলায়ান্স- (রাশিয়া, চীন, ইরান, সিরিয়া)] একে অপরকে ধ্বংস করে ফেলে।

বর্তমান  দুনিয়ায়  যুক্তরাষ্ট্রের  পরে  ইসরাঈলের  সবচাইতে  বড়  সামরিক  কৌশলগত  বন্ধু  সহযোগী  হইল  ভারত ।  ইন্ডিয়ান  ন্যাশনাল  কংগ্রেসের  অধীনে  ইন্ডিয়া  ছিল  ধর্মনিরপেক্ষ  ইন্ডিয়া ।  কিন্তু  এখন  ইন্ডিয়া  হিন্দু  ইন্ডিয়াতে  পরিণত  হইয়াছে ।  গান্ধীর  হিন্দু  ইন্ডিয়া  নয়,  ভিন্ন  ধরনের  হিন্দু  ইন্ডিয়া ।  এই  হিন্দু  ভারত  যোগ  দিবে  ইজরাঈলের  সাথে  সামরিক  সম্পর্কে ।  সুতরাং  পাকিস্তানের  পারমাণবিক  স্থাপনা  এবং  নিউক্লিয়ার  অস্ত্রগুলি  ধ্বংস  করিতে,  পাকিস্তানকে  বিনাশ  করিতে  এবং  পাকিস্তানকে  টুকরা  টুকরা  করিবার  প্রচেষ্টায়  ভারত  পালন  করিবে  সবচাইতে  গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা  ।  আমি  বিশ্বাস  করি  যে,  ভারতীয়  মুসলমানরা  বিষয়টি  জানে ।  সুতরাং  ইহা  হইল  সেই  সম্ভাব্য  যুদ্ধ  যাহা  আসিতেছে ।  দ্বিতীয়তঃ  হইল  ইরানের  ওপর  হামলা ।  আপনার  বলিতে  হইবে  না  যে,  ইরানীরা  শিয়া  আর  আমরা  সুন্নী ।  আমি  ইহা  জানি ।  কিন্তু  আপনি  যদি  বলেন  যে,  শিয়ারা  কাফের,  তবে  আমি  আপনার  সাথে  একমত  নই ।  সেটা  আপনার  মতামত  আমার  নয় ।  কিন্তু  তাহারা  যখন  ইরানে  হামলা  করিবে,  তাহা  কেবল  পারমাণবিক  অস্ত্রের  সম্ভাব্য  হামলার  ভয়ে  হইবে  না ।  তাহাদের  আরেকটি  টার্গেট  আছে  আর  তাহা  হইল  ইরানের  শাসকগোষ্টী  পরিবর্তন  করা ।  কারণ  ইরানের  বর্তমান  শাসকরা  ইসরাঈলের  সামনে  নত  হইতে  রাজী  নয় ।  গাদ্দাফীর  অধীনে  লিবিয়া  কখনও  ইজরাঈলের  সামনে  মাথানত  করে  নাই ।  তুমি  যদি  ইসরাঈলের  সামনে  মাথানত  না  করো,  তবে  আমরা  তোমার  বিরুদ্ধে  কিছু  নির্বোধ  মোজাহিদ  প্রেরণ  করিব ।  কিছু  নির্বোধ  যাহারা  নিজেদেরকে  বলে  মোজাহেদীন ।  তোমরা  মোজাহেদিন  নও,  তোমরা  বোকা ।  আমি  তাহাদেরকে  বলিয়াছি  তোমরা  মোজাহিদ  নও  তোমরা  নির্বোধ ।  কারণ  কোরআন  তোমাদেরকে  নিষেধ  করিয়াছে  ইহুদী-খ্রীষ্টানদের  জোটের  সাথে  যোগদান  করিতে  যাহা  বর্তমানে  যায়োনিষ্ট  জোট  ন্যাটো ।  যদি  তোমরা  তাহা  কর,  তবে  আল্লাহ  বলিয়াছেন  “তোমরা  যাহাদের  সাথে  যোগদান  করিবে  তোমরা  তাহাদের  অন্তর্ভূক্ত  গণ্য  হইবে”  অর্থাৎ  তোমরা  ইসলাম  থেকে  বহিষ্কৃত  হইবে ।  লিবিয়া  যেহেতু  ইসরাঈলের  কাছে  মাথা  নত  করিতে  রাজী  হয়  নাই,  এজন্য  তাহারা  লিবিয়া  আক্রমণ  করিয়াছে ।  এবং  যেহেতু  ইরান  মাথা  নত  করিতে  ইচ্ছুক  নয়  ইজরাঈলের  কাছে,  সেজন্য  তাহারা  ইরানে  হামলা  করিবে ।  ইরানে  আক্রমণের  উদ্দেশ্য  হইবে  শাসকগোষ্টি  বা  শাসনব্যবস্থা  পরিবর্তন  করা,  যাহাতে  ইরানে  একটি  নতুন  সরকার  ক্ষমতা  গ্রহন  করিবে  যেমনটা  আছে  সৌদী  আরবে ।  যাহাকে  বলা  হয়  এমেরিকান  কিংডম  অব  সৌদী  এরাবিয়া,  নির্লজ্জ  আমেরিকান  কিংডম  অব  সৌদী  অ্যারাবিয়া  যাহারা  যায়োনিষ্টদের  সাথে  জোট  বাধিয়াছে ।  যাহারা  সৌদী  আরবের  নিয়ন্ত্রণ  নিয়া  সেখানে  ইসরাঈলের  সবচেয়ে  বড়  সামরিক  সহযোগীর  ভূমিকায়  অবতীর্ন  হইয়াছে ।   ধিক্কার  জানাই  তোমাদের !  কাজেই  ইরানেও  তাহারা  ইহা  করিতে  চায় ।

ইরানের  এই  সরকারকে  উৎখাত  করা  এবং  তাহার  বদলে  বন্ধুভাবাপন্ন  সরকারকে  প্রতিষ্টা  করা ।  আর  তখনই  নবী  করিম (সাঃ)  এর  ভবিষ্যতবাণী  বাস্তবায়িত  হইবে ।  হাদীসটি  আপনারা  জানেন,  “(ইরানের)  ইস্ফাহানের  সত্তর  হাজার  ইহুদী  দাজ্জালের  দলে  যোগ  দিবে” ।  কিন্তু  ইরানের  বর্তমান  সরকারের  আমলে  তাহা  হইবে  না ।  তৃতীয়  সম্ভাব্য  যুদ্ধক্ষেত্র  হইবে  সিরিয়া ।  কারণ  তাহারা  সিরিয়াতে  কেবল  শাসকগোষ্ঠি  পরিবর্তন  করিতে  চায়  না,  যেমনটা  তাহারা  করিয়াছে  লিবিয়াতে,  সিরিয়াতে  একটি  বন্ধুভাবাপন্ন  সরকার  প্রতিষ্টা  করা,  নাহ  তাহারা  তাহার  চাইতেও  বেশী  কিছু  করিতে  চায় ।  ইসরাঈল  হইল  রাশিয়ার  সহযোগী  বা  বন্ধু  ।  আপনারা  যদি  আমার  “আধুনিক  বিশ্বে  ইয়াজুজ-মাজুজ”  বইটি  পড়িয়া  থাকেন  তবে  ইয়াজুজ  মাজুজ  সম্পর্কে  জানিতে  পারিবেন ।  রাশিয়া  এবং  তাহার  সহযোগিরা  (চীন)  হইল  মাজুজ ।  আমেরিকা  এবং  ব্রিটিশ  জোট  হইল  ইয়াজুজ (ন্যাটো) ।  সুতরাং  ইয়াজুজ  মাজুজের  যুদ্ধ  আসিতেছে ।  আর  ইহা  হইবে  পারমাণবিক  যুদ্ধ ।  আজ  থেকে  আনুমানিক  বিশ  বছর  পরে  যখন  যুদ্ধ  শেষ  হইবে  মানবজাতির  ক্ষুদ্র  একটি  ভগ্নাংশ  মাত্র  তখন  বাঁচিয়া  থাকিবে ।  এই  কথা  একমাত্র  ইসলামী  বিশেষজ্ঞরা  বলিতে  পারেন ।  কেননা  আমরা  পড়িয়াছি  কোরআন  এবং  মোহাম্মদ (সাঃ)-এর  বাণী ।  সিরিয়াতে  আছে  রাশিয়ার  একটি  নৌ  ঘাটি ।  ইহা  ভূমধ্যসাগরে  রাশিয়ার  একমাত্র  নৌঘাটি ।  কাজেই  আপনি  যদি  সিরিয়ার  শাসকগোষ্ঠি  পরিবর্তন  করিতে  চান,  তবে  রাশিয়ার  কাছ  থেকে  ভয়াবহ  ঘুষি  খাইবেন ।  আপনাকে  চীনের  সাথেও  মোকাবিলা  করিতে  হইবে ।

সুতরাং  আমাদের  সামনে  সম্ভাব্য  তিনটি  যুদ্ধ  ক্ষেত্র  বিদ্যমান – পাকিস্তান,  ইরান  এবং  সিরিয়া ।  আর  চতুর্থ  যুদ্ধক্ষেত্র  সম্ভবত  মিশর ।  কারণ  মিশরের  ভূখন্ডের  একটি  অংশ  ইজরাঈল  দখল  করিতে  চায় ।  ইহার  কারণ  তাওরাত  কিতাবে  কেউ  একজন  লিখিয়া  দিয়াছে  যে,  পবিত্র  ভূমি  নীল  নদী  থেকে  ফোরাত  নদী  পর্যন্ত  বিস্তৃত ।  অর্থাৎ  নীল  নদের  পাদদেশ  হইতে  লোহিত  সাগর  পর্যন্ত  ভূখন্ডের  মালিক  হইল  ইসরাঈল ।  কাজেই  আমরা  আশা  করিতেছি  আগামী  কয়েক  মাসের  মধ্যেই  মহাযুদ্ধ  শুরু  হইবে ।  এই  ব্যাপারে  ইসলামিক  মনীষীদের  প্রস্তুত  থাকা  উচিত।  আগামীকাল  যদি  পাকিস্তানের  পারমাণবিক  স্থাপনা  এবং  পারমাণবিক  অস্ত্র  ধ্বংস  করিবার  এবং  পাকিস্তানকে  টুকরা  টুকরা  করিবার  প্রচেষ্টা  ভারত  শুরু  করে,  তখন  মুসলিম  আলেমদের  ভূমিকা  কি  হইবে  তাহা  স্থির  করা  প্রয়োজন ।  ইহা  হইল  বর্তমানে  আমাদের  সামনে  আগত  সবচাইতে  জটিল  মুহূর্ত ।  আগামীকাল  আমরা  দেখিতে  পাইব  ইহা  কেবল  সামরিক  হুমকি  নয়,  সাথে  সাথে  রাজনৈতিক  এবং  অর্থনৈতিক  হুমকিও  বটে ।  কাগজের  মুদ্রা  বিলুপ্ত  হইতেছে  এবং  তাহার  বদলে  কেবলমাত্র  ইলেকট্রনিক  মুদ্রা  চালু  হইতেছে ।  আপনারা  তখন  ইলেকট্রনিক  অর্থব্যবস্থার  কারাগারে  বন্দি  হইয়া  পড়িবেন ।

আমি  যদি  ব্রেটনউড  একর্ড  না  পড়িতাম,  আমি  যদি  আন্তর্জাতিক  মুদ্রা  অর্থনীতি  না  পড়িতাম,  আমি  যদি  আন্তর্জাতিক  মুদ্রা  তহবিল (আইএমএফ)  চুক্তির  ধারা-উপধারা  না  পড়িতাম,  আমি  যদি  গত  চল্লিশ  বছর  যাবত  ইন্টারন্যাশান্যাল  মনিটরী  ইকোনোমিক্স  না  পড়িতাম,  সর্বোপরি  আমি  যদি  কোরআন  না  পড়িতাম,  তবে  আজও  ফোরাত  নদী  এবং  সোনার  পাহাড়  সংক্রান্ত  হাদীসের  মর্ম  বুঝিতে  পারিতাম  না ।  সত্যিকার  অর্থেই  বুঝিতে  অক্ষম  হইতাম ।  এই  হাদীসের  অর্থ  বুঝিতাম  না  যতক্ষন  না  কাঙ্খিত  ঘটনা  সংঘটিত  হইত  এবং  ভারত  ঘোষণা  করে  যে,  যখন  আমেরিকা  ইরানের  তেল  বিক্রির  উপর  অবরোধ  আরোপ  করে,  ব্যাংকিং  সিষ্টেম ।  তারপর  ইউরোপীয়  ইউনিয়নও  আমেরিকার  সাথে  অবরোধে  যোগ  দেয় ।  তখন  ইন্ডিয়া  ঘোষনা  করে  যাহা  আমার  জন্য  ছিল  খুবই  বিব্রতকর,  হিন্দু  ইন্ডিয়া  তাহা  করিয়া  দেখাইল  যাহা  এমনকি  দুনিয়ার  কোন  মুসলিম  সরকারও  করিতে  সক্ষম  হয়  নাই ।  আমরা  আবার  এইসব  লোকদেরকেই  আমাদের  নেতা  মনে  করি  এবং  নির্বাচনে  ভোট  দেওয়ার  জন্য  ভোট  কেন্দ্রে  যাই !  ভারত  ঘোষণা  করে  তাহারা  আমেরিকান  অবরোধ  এবং  যায়োনিষ্ট  ইউরোপিয়ান  অবরোধ  বাইপাস  করে  ইরানী  তেল  ক্রয়  করিবে  সোনার  বিনিময়ে  এবং  ইরানও  ভারতের  নিকট  তেল  বিক্রয়ে  রাজী  হয়  সোনার  বিনিময়ে ।

রাশিয়া  এবং  চীনও  দ্রুত  তাহাদের  অনুসরন  করে ।  কাজেই  তাহারা  যাহা  করিয়াছে,  তাহাতে  বর্তমানে  আমরা  দেখিতে  যাইতেছি  যাহাকে  বলে  পেট্টোডলারের  মৃত্যু ।  ইতিপূর্বে  আমি  কখনও  দাজ্জালের  কর্মকৌশল  বুঝিতে  সক্ষম  হই  নাই ।  ইরানের  কেন  তাহাদের  ইসলামী  বিপ্লবের  পরে  এতোগুলো  বছর  লাগিলো  এই  সামান্য  বিষয়টি  বুঝিতে  যে  সোনাই  হইল  আসল  মুদ্রা ?  ইসলামিক  প্রজাতন্ত্র  ইরানকে  নিয়ে  শিয়ারা  অনেক  গৌরব  করিয়া  থাকে ।  পাকিস্তানও  একটি  ইসলামী  প্রজাতন্ত্র  হইতে  পারিত  সেটি  আমেরিকান  প্রজাতন্ত্র  হওয়ার  পূর্বে  !  ইহা  হইল  শিয়া  আলেমদের  অমার্জনীয়  ব্যর্থতা ।  শিয়া  আলেমদের  চাইতে  নিকৃষ্ট  হইলাম  আমরা  সুন্নী  আলেমগণ ।  কারণ  দেরিতে  হইলেও  ইরান  স্বর্নের  বিনিময়ে  তেল  বিক্রি  করিতেছে ।  কিন্তু  সৌদী  আরব  কখনও  সোনার  বিনিময়ে  তেল  বিক্রি  করিবে  না ।  যতক্ষন  না  আংকেল  শ্যাম  (অর্থাৎ  যুক্তরাষ্ট্র)  বলিবে  যে,  সৌদী  তোমাকে  অনুমতি  দিলাম ।  যায়নবাদী  কাতার  কখনও  তাহা  করিবে  না ।  যায়োনিষ্ট  সৌদী  রাজতন্ত্র  কখনও  তাহা  করিবে  না ।  যায়োনিষ্টদের  অনুমতি  ছাড়া  তাহাদের  পুতুল  কোন  মুসলিম  দেশই  তাহা  করিবে  না ।  কাজেই  আজ  রাতে  আমরা  ইরানের  জন্য  হাত  উঠাইয়া  দোয়া  করি,  তাহারা  যাবতীয়  হুমকিকে  অবজ্ঞা  করিয়া  সোনার  বিনিময়ে  তেল  বিক্রি  করিতেছে । যাহা  সাদ্দাম  হোসেন  করিতে  চাহিয়াছিল,  ফলে  তাহারা  সাদ্দাম  হোসেনকে  উৎখাত  করিয়াছে ।  যাহা  মোয়াম্মার  গাদ্দাফী  করিতে  চাহিয়াছিল,  ফলে  তাহারা  গাদ্দাফীর  পতন  ঘটাইয়াছে ।  কিন্তু  আপনারা  যদি  ইরানে  হামলা  করেন,  ইহা  ভিন্ন  ব্যাপার ।  কেননা  সেক্ষেত্রে  আপনারা  বিশ্বযুদ্ধের  উসকানী  দিলেন ।  আপনারা  ইরান  আক্রমণ  করিতে  পারেন  না,  কারণ  সেক্ষেত্রে  আপনি  পারমাণবিক  যুদ্ধের  উসকানী  দিলেন  যাহা  আমেরিকা  এবং  ইউরোপকে  ধ্বংস  করিবে ।  সেই  কারণেই  মার্কিন  যুক্তরাষ্ট্র  চায়  না  ইরানে  আক্রমণ  করিতে ।  এই  মামুলি  বিষয়টি  বুঝিতে  আপনাকে  পিএইচডি  করিতে  হইবে  না ।  কাজেই  শিয়া  আলেমদের  নিয়া  আমরা  গর্বিত  নই,  যেহেতু  ইসলামে  মুদ্রা  হিসাবে  সোনার  গুরুত্ব  বুঝিতে  তাহাদের  অনেকগুলো  বছর  লাগিয়া  গিয়াছে ।

এজন্যই  রাসুলে  করীম (সাঃ)  বলিয়াছেন,  “সেই  সোনা  অবশ্যই  স্পর্শ  করিবে  না”।  মানে  হইল  পেট্টোডলার  অর্থনীতি  গ্রহন  করিও  না ।  যাহার  মাধ্যমে  মার্কিন  ডলারের  অকল্পনীয়  উত্থান  ঘটিবে  এবং  কাগজের  মুদ্রা  ব্যবস্থা  প্রতিষ্টিত  হইবে ।  আর  কেবল  সম্প্রতি  যখন  ভারত  ঘোষণা  করিয়াছে  যে,  আমরা  সোনার  বিনিময়ে  ইরানের  তেল  ক্রয়  করিব,  তখনই  দেখিতেছি  পেট্টোডলার  অর্থনীতির  পতনের  সূচনা  হইয়াছে ।  কোন  ইসলামী  পন্ডিত  নয়,  বরং  ইহা  হইল  ইন্ডিয়া,  রাশিয়া  এবং  চীন  (যাহারা  সোনাকে  মুদ্রা  হিসাবে  ব্যবহারের  কথা  বলিতেছে) ।  সালাফী  আলেমগনও  নয়,  সূফী  আলেমগণও  নয়,  নাহ ।  আমি  জানি  কেবল  একজন  সুফী  শায়খের  কথা,  আরও  থাকিতে  পারেন  কিন্তু  আমার  জানা  নাই,  তুরষ্কের  নাজিম  আল  কুব্রিশী,  যিনি  অনেক  বছর  যাবত  দিনার  এবং  দিরহামের  কথা  বলিতেছেন ।  তিনি  তাহার  মুরিদ  ভক্তদেরকে  অন্তত  চল্লিশটি  দিনার  ঘরে  সঞ্চিত  রাখিবার  হুকুম  করিতেন ।  শায়খ  নাজিম  এই  কাজটি  বছরের  পর  বছর  যাবত  করিয়া  আসিতেছেন ।

আমি  মনে  করি  মালহামা  অর্থাৎ  পারমাণবিক  যুদ্ধে  রাশিয়া  ব্যাপকভাবে  ক্ষতিগ্রস্ত  হইলেও  তাহার  পরেও  রাশিয়া  একটি শক্তি  হিসাবে  টিকিয়া  থাকিবে ।  ইহা  আমি  কিভাবে  বলিলাম  ?  কারণ  নবী  করীম (সাঃ)  ভবিষ্যতবাণী  করিয়াছেন  যে  মালহামার  পরে  কন্সট্যান্টিনোপল  (তুরষ্ক)  বিজিত  হইবে ।  কাজেই  তখন  মুসলিম  এবং  অর্থোডক্স  খ্রিস্টানদের  সম্মিলিত  বাহিনী  তুরষ্ক  বিজয়  করিবে ।  যাহারা  প্রচার  করিয়া  বেড়ান  যে,  আজ  থেকে  ছয়শত  বছর  পূর্বে  সুলতান  ফতেহ  মোহাম্মদের  কন্সট্যান্টিনোপল/ তুরষ্ক  বিজয়ের  মাধ্যমেই  মহানবীর (সাঃ)  ভবিষ্যতবাণী  পূর্ণ  হইয়াছে,  তাহা  একটি  ফালতু  কথা ।  কারণ  বিশ্বনবী (সাঃ)  ভবিষ্যতবাণী  করিয়াছেন  যে,  কন্সট্যান্টিনোপল  (তুরষ্ক)  বিজিত  হইবে  মালহামার  পরে  আর  মালহামা  এখনও  সংঘটিত  হয়  নাই ।  ইসলামী  আখেরী  জামানা  বিদ্যা  আমাদেরকে  জানাইয়াছে  যে,  মহাযুদ্ধের  পরে  কন্সট্যান্টিনোপোল  বিজিত  হইবে ।  ইহা  ঠিক  যে  খ্রীষ্টানদের  আখেরী  জামানা  বিদ্যাতেও  মহাযুদ্ধের  পরে  কন্সট্যান্টিনোপোল  বিজয়ের  কথা  আছে,  কিন্তু  ততটা  নিশ্চিতভাবে  নয়  যতটা  ইসলামী  আখেরী  জামানা  বিদ্যাতে  আছে ।  কন্সট্যান্টিনোপোল  বিজয়ের  সময়  সেখানে  অবশ্যই  গৃহযুদ্ধ  চলিতে  থাকিবে ।  কারণ  তুরষ্কে  গৃহযুদ্ধ  ছাড়া  কখনও  কন্সট্যান্টিনোপোল  জয়  করা  সম্ভব  নয় ।  কাজেই  আমাদের  বিশেষত  রাশিয়ার  নীতি  এমন  ভাবে  পরিবর্তন  করিতে  হইবে  যাহাতে  আপনারা  তুরষ্কের  সংখ্যাগরিষ্ট  জনগণের  মতামতকে  উত্তেজিত  করা  যাইবে  না ।  সংখ্যাগরিষ্ট  তুর্কী  জনগণের  মনোভাব  যায়োনিষ্ট  ন্যাটো  বিরোধী ।  এই  ব্যাপারে  আমি  রাশিয়ান  সরকারকে  সতর্ক  করিয়াছি ।  আমি  জানি  না  কখন  দেখিতে  পাইব  রাশিয়ান  সরকারের  এমন  নীতি  গ্রহনের  উদ্যোগ  যে,  তুরষ্কের  সমস্ত  মানুষের  মনোভাবকে  বিরুপভাবাপন্ন  করা  হইবে  না ।  কেননা  সেক্ষেত্রে  তুর্কী  জাতীয়তাবাদ  মাথাচাড়া  দিয়া  উঠিবে  এবং  জাতীয়তাবাদীরা  নেতৃত্বে  চলিয়া   আসিতে  পারে ।  তুরষ্ক  কর্তৃক  রাশিয়ার  জঙ্গী  বিমান  গুলি  করিয়া   ভূপাতিত  করিবার  প্রেক্ষাপটে  বর্তমানে  কন্সট্যান্টিনোপল  বিজয়ের  সম্ভাবনা  উজ্জ্বলভাবে  দৃষ্টিগোচর  হইতেছে ।  তুরষ্ক  বিজয়ের  পরে  আমরা  অর্থোডক্স  খ্রিষ্টানদের  প্রধান  গির্জা  হাগিয়া  সোফিয়াকে  খ্রীষ্টানদের  নিকট  ফিরাইয়া  দিব  এবং  এজন্য  তাহাদের  নিকট  ক্ষমাও  প্রার্থনা  করিব ।  সুলতান  ফতেহ  মোহাম্মদ  যেই  গির্জাকে  লজ্জাজনকভাবে  অপমানজনকভাবে  বলপূর্বক  মসজিদে  রূপান্তরিত  করিয়াছিলেন ।  কোরআন-হাদীসের  কোথাও  বলা  নাই  যে  ভিন্ন  ধর্মাবলম্বীদের  উপাসনালয়কে  মসজিদে  পরিণত  করা  বৈধ ।

তুর্কী  উসমানী  খলিফাগণ  দীর্ঘ  পাঁচশত  বছর  জিহাদের  নামে  পূর্ব  ইউরোপ  এবং  রাশিয়ার  অর্থোডক্স  খ্রিস্টানদের  উপর  যেই  বর্বর  পৈশাচিক  জুলুম  অত্যাচার  করিয়াছে,  তাহাদের  নারী  ও  শিশুদেরকে  ক্রীতদাসে  পরিণত  করিয়াছে,  তাহার  জন্যও  আমরা  অর্থোডক্স  খ্রিষ্টানদের  নিকট  ক্ষমা  প্রার্থনা  করিব ।  (যদিও  উসমানীয়  সুলতানগণ  নিজেদেরকে  খলীফা  বলিয়া  দাবী  করিতেন,  কিন্তু  প্রকৃতপক্ষে  তাহা  খিলাফাহ  ছিল  না  বরং  তাহা  ছিল  রাজতন্ত্র)।  সে  যাক,  মুসলমানদেরকে  আল্লাহ  তায়ালা  দুই  কারণে  জিহাদের  অনুমতি  দিয়াছেন,  একটি  হলো  যদি  কোন  জাতি  মুসলমানদের  বিরুদ্ধে  যুদ্ধ  করিতে  আসে  তখন  আত্মরক্ষার্থে  তাহাদের  বিরুদ্ধে  যুদ্ধ  করা  এবং  আরেকটি  হইল  যদি  কোন  দুর্বল  জাতির  উপর  কোন  শক্তিশালী  জাতি  জুলুম  অত্যাচার  করে  যাহা  মোকাবেলা  করিবার  ক্ষমতা  সেই  দুর্বল  জাতির  নাই ।  সেই  দুর্বল  জাতিকে  জুলুম  অত্যাচার  থেকে  রক্ষা  করিবার  জন্য  জিহাদ  করা,  তবে  শর্ত  হইল  সেই  দুর্বল  জাতির  লোকেরা  মুসলমানদেরকে  সাহায্যের  জন্য  আহ্বান  জানাইবে  এবং  তাহাদের  আগমণকে  স্বাগত  জানাইবে ।  তুর্কী  উসমানী  খলিফাগণ  অর্থোডক্স  খ্রিষ্টান  দেশগুলোতে  যে  পাঁচশ  বছর  বিরতিহীন  জিহাদ  চালাইয়াছে,  সেই  জাতিগুলোর  কেউ  কি  তাহাদেরকে  এই  জন্য  আহ্বান  জানাইয়াছিল  এবং  তাহাদেরকে  স্বাগত  জানাইতে  আসিয়াছিল ?  কাজেই  এগুলোকে  জিহাদ  বলা  যায়  না  বরং  বলিতে  হইবে  পৈশাচিক  জুলুম ।  যেই  বাইজান্টাইন  খ্রীষ্টানদের  সাথে  জোট  গঠনের  জন্য  নবীজি (সাঃ)  ভবিষ্যতবাণী  করিয়া  গিয়াছেন,  জিহাদের  নামে  তাহাদের  উপর  পাঁচশত  বছরের  এই  জুলুম-অত্যাচার  প্রকৃতপক্ষে  ইহুদীদের  একটি  সুদূরপ্রসারী  চক্রান্ত   ছাড়া  আর  কিছু  নয় ।  কাজেই  অর্থোডক্স  খ্রীষ্টানদের  মধ্যে  মুসলমানদের  প্রতি  যে  ঘৃণার  সৃষ্টি  হইয়াছে,  তাহা  দূর  করিবার  জন্য  আমাদেরকেই  প্রচারনা  চালাইয়া  যাইতে  হইবে ।  তাহাদেরকে  বুঝাইতে  হইবে  যে,  তুর্কী  ওসমানী  সুলতানগণ  তাহাদের  উপর  যত  জুলুম  ‍অত্যাচার  করিয়াছে,  তাহা  নেহায়েতই  রাজনৈতিক  ব্যাপার ।  কোরআন-হাদীসে  এসব  অপকর্মের  কোন  সমর্থন  নাই ।

মূল –  আল্লামা  ইমরান  নজর  হোসেন

অনুবাদ – বশীর  মাহমুদ  ইলিয়াস

A Mountain of Gold, India, Iran and Akhirul-Zaman  লেকচারের  অনুবাদ

 

Author: bashirmahmudellias

I am an Author, Design specialist, Islamic researcher, Homeopathic consultant.

3 thoughts on “রাশিয়ার সাথে মুসলমানদের জোট গঠ নে মহানবীর (সাঃ) ভবিষ্যতবাণী

  1. আসসালামু য়ালাইকুম। আপনার ব্লগ থেকে শায়খ ইমরান নযর হোসেনের লেকচারের অনুবাদ্গুলো আমার ব্লগ থেকে শেয়ার করছি। জানি না এটা আপনার চোখে পড়েছে কি না? আশা করি ইহাতে আপনার অমত নেই। প্রতিটি পোস্টে যথাযথাভাবে আপনার কার্টেসি দেয়ার চেষ্টা করছি। আলহামদুলিল্লাহ, ভালোই সাড়া পাচ্ছি। ফেসবুকে আপনাকে রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলাম। জাযাকাল্লাহু খাইরান।

    https://hudhudmail.wordpress.com

    https://www.facebook.com/syllabus1

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s