Dr. Bashir Mahmud Ellias's Blog

Know Thyself

প্রতিরক্ষা সুন্নাহ এবং আখেরী জা মানা আল্লামা ইমরান নজর হোসেন

1 Comment

প্রতিরক্ষা সুন্নাহ এবং আখেরী জামানা

মহানবীর (সাঃ) অনুসারীরা ইসলামী দুনিয়া বিশেষতঃ সমগ্র মানবজাতি বর্তমানে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতো ভয়ঙ্কর অশুভ পরিবর্তনের দিকে যাইতেছে । একটি জঘন্য শয়তানী দুনিয়া সামনে আসিতেছে । আরো ব্যাপক জুলুম অত্যাচারের দুনিয়া আসিতেছে । ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক এবং সূদূরপ্রসারী যুদ্ধ আসিতেছে । আর এই সবই হইতেছে ইজরাঈলের পক্ষে । যায়োনিষ্টরা যাহাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে ইসরাঈলকে পরবর্তী বিশ্বনিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র সুপারপাওয়ার হিসাবে অধিষ্টিত করিতে পারে । যেভাবে আসিয়াছিল প্যাক্স ব্রিটানিকার পরিবর্তে প্যাক্স অ্যামেরিকানা । একইভাবে আসিতেছে প্যাক্স অ্যামেরিকানার পরিবর্তে প্যাক্স জুড্যাইকা । এমনটা কেন হইতেছ ? পনের বছর আগে আমি একটি বই লিখিয়াছিলাম “পবিত্র কোরআনে জেরুজালেম” যাহাতে বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হইয়াছে । ইসলামী চিন্তাবিদগণ যদি এই সংকটময় মুহূর্তে দুনিয়ার বাস্তব ba032-russia2bpakistan2b2b34অবস্থা মানুষকে বুঝাইতেছে ব্যর্থ হন, কেবল মুসলমানগণই নয় বরং সমগ্র মানবজাতিই বর্তমানে আলেমদের নিকট জানিতে চাহেন কিভাবে এই ক্রান্তিকাল মোকাবিলা করিতে হইবে । তাহারা যদি মানবজাতিকে প্রস্তুত করিতে ব্যর্থ হন, তবে স্মরণ করুন আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বে নবী করিম (সাঃ) কি বলিয়া গিয়াছেন যাহা শুনিলে এমনকি অমুসলিমরাও বিস্মিত হইবেন । হাদীসটি বায়হাকী শরীফে আছে । মহানবী (সাঃ) বলিয়াছেন যে, “মানুষের উপর এমন একটি সময় আসিবে যখন ইসলামের নাম ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকিবে না । কোরআনের লেখাগুলি ছাড়া (বাস্তবজীবনে) আর কিছুই অবশিষ্ট থাকিবে না । মসজিদগুলি হইবে আলিশান অট্টালিকা কিন্তু তাহা হইতে কেউ সুপথের সন্ধ্যান লাভ করিবে না । সেই (অন্ধকার) যুগের আলেমগণ হইবে আকাশের নীচে সবচাইতে নিকৃষ্ট মানব । তাহারা হইবে (মানুষের) পথভ্রষ্টতার ফিতনার কেন্দ্রবিন্দু ।” কাজেই এখন আলেমদের দ্বায়িত্ব হইল বর্তমান বিশ্ব যেই নির্মম বাস্তবতার মোকাবেলা করিতেছে তাহা মানুষের নিকট ব্যাখা করা এবং এই কাজে কোরআনকে ব্যবহার করা । পবিত্র কোরআনের সুরা নাহলে আল্লাহ তায়ালা বলিয়াছেন, “এই কোরআন আপনার প্রতি অবতীর্ন করিয়াছি যাহাতে রহিয়াছে সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা”। আলেমদের জন্য আরো প্রয়োজন হইল বিশ্বনবীর (সাঃ) সুন্নাহ এবং জীবনাদর্শকে এই যুগের সমস্যাবলীর সমাধানে ব্যবহার করা । কেননা মহান আল্লাহ তাঁহার শেষ নবী (সাঃ) সম্পর্কে বলিয়াছেন যে, “নিশ্চয় আপনি সর্বোত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী”। অর্থাৎ মহানবীর (সাঃ) আদর্শ সমগ্র সৃষ্টি জগতের জন্য প্রযোজ্য এবং অনন্তকালের জন্য প্রযোজ্য । কসমেটিকস ইসলাম অর্থাৎ সাজুগুজু ইসলাম এই কাজ সম্পাদন করিতে অক্ষম । কসমেটিকস ইসলাম হইল যাহারা বলে একবার ঘরে যান একবার মসজিদে যান আবার ঘরে যান আবার মসজিদে যান ঘরে যান মসজিদে যান আর একই বয়ান বারবার ঘুরাইয়া ফিরাইয়া দেওয়া হইতেছে ষাট সত্তর বছর যাবত । সুতরাং সাজসজ্জার ইসলাম উটপাখির মতো বালির নীচে মাথা ঢুকাইয়া রাখিয়াছে এবং বর্তমান পৃথিবীর সমস্যাবলী নিয়া অধ্যয়ন গবেষণা কিংবা মোকাবেলার কোন প্রচেষ্টা নাই । কাজেই কসমেটিকস ইসলাম নিয়া পড়িয়া থাকিলে মুসলমান হিসাবে আমাদের দ্বায়িত্ব পালনে কখনও সফলকাম হইবে না । অন্যদিকে আছে প্রোটেস্ট্যান্ট ইসলাম (সালাফী) যাহাতে কোন যুক্তিবাদী চিন্তা নাই বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা নাই কিভাবে সত্যকে আধুনিক যুগে প্রয়োগ করা যায় কিভাবে কুরআনকে ব্যবহার করিয়া আধুনিক যুগের বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করা যায় । সালাফী ইসলাম মনে করে আল্লাহ, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এবং প্রথম যুগের মুসলমানগণ ছাড়া কোরআন-হাদীসকে ব্যাখ্যা করিবার অধিকার কাহারও নাই । কোন ইমরান হোসেন তাহা করিতে পারিবে না । আমরা তাহাকে সেই সুযোগ দিব না । তাহাতে কি হইয়াছে ? দুনিয়ার মানুষ এখন ইমরানের কথা শুনিতেছে । এই জন্য আমরা আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা জানাইছি । আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় নবীজি (সাঃ) সুন্নাহ অর্থাৎ রীতিনীতি । কাজেই আমরা আপনাকে উপদেশ দিতেছি স্মরণ করাইয়া দিতেছি দাঁড়ি রাখেন । কেননা ইহা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ । আল্লাহ কোন দুর্ঘটনাক্রমে পুরুষদের মুখে দাঁড়ি দেন নাই । তিনি পুরুষদের মুখে দাঁড়ি দিয়াছেন তাঁহার প্রজ্ঞার বিবেচনায় । ফলে অনেক দূর হইতেও আমরা বুঝিতে পারি কে পুরুষ আর কে নারী তাহাদের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের দিকে না তাকাইয়াও । ইহাই হল ঐশী জ্ঞান ।

অবশ্য আপনি যখন দাঁড়ি রাখিবেন তখন সেগুলো নিয়া আপনার বাচ্চা খেলা করিবার সুযোগ পায় । কাজেই আপনি যখন দাঁড়ি সেভ করিয়া ফেলেন, তখন নিশ্চিতভাবেই আপনি আপনার শিশুর খেলাধুলার অধিকার হরণ করিলেন । কারণ শিশুরা আর দাঁড়ি নিয়া খেলাধুলা করিতে পারিতেছে না । সুন্নাহ আছে পোষাক পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে যেগুলো আমরা পরিধান করিয়া থাকি । পোষাকের কিছু সুনির্দিষ্ট ডিজাইন যাহা শালীনতা বজায় রাখে । কিন্তু ইহাই একমাত্র সুন্নাহ নয় । সুন্নাহ আছে আমাদের পানাহারের ক্ষেত্রেও । কিন্তু ইহাই একমাত্র সুন্নাহ নয় । আপনি যেই পৃথিবীতে বসবাস করেন সেই সম্পর্কে জ্ঞান রাখাও সুন্নাহ । আরো সূক্ষ্মভাবে বলিতে গেলে আপনার আত্মরক্ষা, প্রতিরক্ষা, সামরিক বা যুদ্ধকৌশলগত পরিস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞান রাখাও সুন্নাহ । আপনি সত্য মিথ্যার যুদ্ধে লিপ্ত আছেন । আর মিথ্যার সেনাবাহিনী সর্বদাই আপনার উপর আক্রমণের চেষ্টায় লিপ্ত আছে । কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্য অবশ্যই বিলুপ্ত করিয়া দিবে মিথ্যাকে । সুতরাং প্রতিরক্ষা পরিস্থিতি বা যুদ্ধকৌশলগত কলাকৌশল হইল সত্য মিথ্যার লড়াই । সুতরাং প্রতিরক্ষা বা সামরিক বা যুদ্ধকৌশলগত বিষয়গুলি কিভাবে মোকাবেলা করিতে হইবে তাহা জানাও সুন্নাহ । কাজেই আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় হইল সামরিক বা যুদ্ধকৌশলগত সুন্নাহ, যেই সম্পর্কে আপনি আগে কখনও শুনেন নাই । কারণ এই বিষয়টি এখন আর কেউ শিক্ষা দেন না । আমরা আজকে আলোচনা করিব মহানবীর (সাঃ) সামরিক বা যুদ্ধকৌশলগত সুন্নাহ । কাজেই বিশ্বনবীর (সাঃ) সামরিক সুন্নাহসমূহ স্মরণ এবং বিশ্লেষণ করিয়া আমাদের আজকের এই জটিল বিশ্ব পরিস্থিতিতে প্রয়োগের কৌশল আলোচনা করিব । আর এই কাজে আমাদের থাকিতে হইবে দূরদৃষ্টিগত এবং অন্তর্দৃষ্টিগত চিন্তাভাবনার যোগ্যতা । কাজেই আল্লাহর পবিত্র নাম নিয়ে আমরা সত্য মিথ্যা এবং ন্যায় অন্যায়ের লড়াই নিয়ে আলোচনার সূচনা করিতেছি । নবী করীম (সাঃ) এর উপরে আক্রমণ পরিচালনা করা হইয়াছিল । কুরাইশগণ ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করিয়াছিল, জুলুম অত্যাচার, অবিচার এবং মিথ্যার সৈন্যবাহিনী । আপনি যখন দেখিবেন ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হইয়াছে তখন কি করিবেন ? আপনি যদি যথেষ্ট শক্তিশালী না হইয়া থাকেন, তবে আপনি কি আপোষ করিবেন যাহাতে আপনি যেখানে আছেন সেখানে বসবাস করিতে পারেন ? যাহাতে আপনার গ্রীনকার্ড ঠিক থাকে, আপনার চাকরি ঠিক থাকে এবং আপনার গাড়ি-বাড়িও ঠিক থাকে ? নাকি আপনি যেই পরিণতিই হোক না কেন তাহা পরোয়া না করিয়া সত্যকে আকড়াইয়া থাকিবেন ? সুন্নাহ হইল প্রয়োজনে (জন্মভূমি) মক্কা ত্যাগ করুন তবু সত্যকে ত্যাগ করিবেন না । এবং আপনি সত্যকে প্রচার করিতে থাকুন । এমন অবস্থা যখন আসিবে তখন হিজরত দেশত্যাগ করিতে হইবে । আর এজন্য এখন অনেক মানুষ বিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, অষ্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর থেকে হিজরত করিতেছেন । কারণ সেখানে এখন আর সত্যকে প্রচার করিবার স্বাধীনতা নাই । কিন্তু রাসুলে পাক (সাঃ) যখন হিজরত করিলেন তাহাতে কিন্তু কুরাইশগণ তাঁহাকে ছাড়িয়া দেন নাই । তাহারা নবীজির (সাঃ) পেছনে পেছনে ধাওয়া করিয়া আসিয়াছে । ফলে সংগঠিত হইয়াছে বদরের যুদ্ধ । তাহাতে আমরা তাহাদেরকে দিয়াছি অপমানজনক পরাজয় ।

এখনও আফগানিস্তানে পৃথিবীর শক্তিশালী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আমাদের দশ বছরের সফল গেরিলা যুদ্ধ তাহাদের জন্য চরম অপমানজনক পরাজয় । গত দশ বছরে তাহারা আফগানিস্তানে তাহাদের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিয়াছে কিন্তু এখনও সফল হয় নাই । সুতরাং বদর যুদ্ধে আমরাই ছিলাম বিজয়ী । কিন্তু তাহাদের জন্য বিষয়টি এতোই অপমানজনক ছিল যে তাহারা প্রতিশোধ নিতে চাহিতেছিল । সুতরাং তাহাদের পক্ষে যতটা বড় সেনাবাহিনী নিয়া সম্ভব পুণরায় তাহারা ওহুদ যুদ্ধে ঝাপাইয়া পড়িল । ইহা ছিল তাহাদের নিজেদের শক্তি সামর্থের সমষ্টি, এখনও তাহারা অন্যদের থেকে কোন সাহায্য-সহযোগিতা গ্রহন করে নাই । কুরাইশরা অনেক ক্ষতি করিয়াছিল বটে তবে আমাদেরকে বিনাশ করিতে পারে নাই, কারণ আমরা পাহাড়ের নিকটে আশ্রয় নিয়াছিলাম । কুরাইশরা বলিতেছিল যে, আমরা বদর যুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়াছি কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধ তখনও থাকিয়া গেছে অসমাপ্ত বরং চলিতেছিল । দুই বছর পরে তাহারা সবচাইতে বড় সৈন্যবাহিনী নিয়া আমাদেরকে চিরতরে নির্মূল করিতে খন্দক যুদ্ধে হামলা করে মদীনা অবরোধ করে । কিন্তু প্রাকৃতিক ‍দুর্যোগের কারণে তাহাদেরকে তাবু গুটাইয়া বাড়ি ফিরিয়া যাইতে হয় । খন্দক যুদ্ধের অবরোধ যখন চলিতেছিল তখন আমরা মদীনার ইহুদী এবং মূর্তিপূজারীদের সাথে একটি জোট গঠন করি । এই ত্রিপক্ষীয় জোট গঠনের কিছু শর্ত ছিল যাহাদের একটি হইল এই জোটের কোন পক্ষ অন্য পক্ষের শত্রুকে সাহায্য করিবে না । ফলে আমরা বনু কুরাইজার ইহুদীদেরকে মদীনা থেকে বহিষ্কার করি । তাহারা ঘর-বাড়ি-জমি-জমা-ধন-সম্পত্তি হারাইয়া খাইবারে আশ্রয় নেয় । ইহুদীরা রক্তের নেশায় প্রতিশোধের নেশায় দাঁত কটমট করিতেছিল । খাইবার ছিল মদীনার উত্তর দিকে আর মক্কার কুরাইশদের অবস্থান ছিল মদীনার দক্ষিণ দিকে । আমার কাছে একটি মানচিত্র থাকিলে আপনাদেরকে দেখাইতে পারিতাম । মক্কার কুরাইশরাও খুবই হতাশায় ভোগিতেছিল, তাহারা সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করিয়াও মুসলমানদেরকে ধ্বংস করিতে পারে নাই । আমরা যদি মদীনা বসিয়া থাকি এবং কিছু না করি, একই ভাবে এখনকার দুনিয়াতেও যদি বসিয়া থাকি এবং কিছু না করি, তাহা হইলে তাহার পরিণতি কি হইবে ? ইহার উত্তর হইল খাইবার এবং মক্কা মিলিয়া আমাদের বিরুদ্ধে জোট বাধিবে এবং তখন আমাদের অবস্থা হইবে স্যান্ডউইচের মতো । নবী করীম (সাঃ) পরিস্থিতির যুদ্ধকৌশলগত গুরুত্ব অর্থাৎ সামরিক গুরুত্ব অনুধাবন করিতে পারিলেন । তিনি বুঝিতে পারিলেন যে এখন আর বসিয়া থাকিলে চলিবে না, মসজিদে যাও ঘরে ফিরিয়া আস মসজিদে যাও ঘরে ফিরিয়া আস এই নীতিতে আর চলিবে না । মহানবী (সাঃ) বুঝিতে পারিলেন যে, আমাদেরকে নিজেদেরকেই অগ্রসর হইয়া এমন কিছু করিতে হইবে যাহাতে শত্রুরা খারাপ পরিস্থিতি থেকে সুবিধা উঠাইতে না পারে । প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ নিজেই বিশ্বনবী (সাঃ) কে পথনির্দেশনা দিলেন যাহা এখনকার যুগেও প্রযোজ্য । এখন যেমন ইজরাঈল পরিকল্পনা করিতেছে ইরান-পাকিস্তান-মিশরে হামলা করিবার জন্য । তিনি কি করিলেন ? তিনি স্বপ্নে দেখিলেন যে তিনি মক্কায় আল্লাহর ঘর কাবা শরীফে হজ্জ আদায় করিতেছেন । কিন্তু তিনি কাবা শরীফে কিভাবে যাইবেন, তাহা তো মক্কায় অবস্থিত আর মক্কার কুরাইশদের সাথে তো তাহার যুদ্ধ চলিতেছে । হ্যাঁ, ইহা ছিল শান্তিপূর্ণ আক্রমণ এবং কুটনীতির শ্রেষ্ট পরাকাষ্টা । তিনি ঘুম থেকে জাগ্রত হইলেন, ইহা ছিল ষষ্ট হিজরী, ঘোষণা করিলেন তিনি আল্লাহর ঘরে ওমরাহ আদায় করিবেন । সমস্ত আরবজাতি স্বীকার করে যে, প্রতিটি মানুষের আল্লাহর ঘর জিয়ারতের অধিকার আছে । কাজেই কুরাইশরা যদি কাবা শরীফে হজ্জ আদায়ে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে আমরা সকলের সমর্থন লাভ করিব অন্যদিকে কুরাইশরা হইয়া পড়িবে কোনঠাসা । কিন্তু কুরাইশরা যদি আমাদেরকে হজ্জ আদায় করিতে দেয়, তাহলে কেন তাহারা আমাদের সাথে যুদ্ধ করিতেছে ? আমরা পবিত্র মক্কায় গেলাম, ওমরাহ করিলাম, তাওয়াফ করিলাম, তারপর মদীনা শরীফে ফিরিয়া আসিলাম । তাহলে সমগ্র আরবজাহান কুরাইশদের প্রতি বিদ্রুপের হাসিতে ফাটিয়া পড়িবে । সুতরাং বিশ্বনবী (সাঃ) যখন ঘোষণা করিলেন যে, তিনি মক্কা শরীফে ওমরাহ হজ্জ আদায় করিতে যাইবেন, তাহা কুরাইশদেরকে উভয় সংকটে ফেলিয়া দিল । ইহা ছিল একটি শান্তিপূর্ণ হামলা তাহাদের বিরুদ্ধে যাহারা আপনাদের উপর যুদ্ধ চাপাইয়া দিয়াছে এবং কুটনীতির শ্রেষ্ট পরাকাষ্টা । ইহার একটি যুক্তি ছিল কেন আল্লাহ স্বপ্নের মাধ্যমে খাইবারের পরিবর্তে মক্কার দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছেন । আমরা যদি মক্কায় হজ্জ করিতে যাইতেছি ইহা ঘোষণা না করিতাম, বরং অস্ত্রশস্ত্র নিয়া মক্কায় হামলা করিতাম, তাহলে কি হইত ? খাইবারের ইহুদীরা মদীনা দখল করিয়া নিত এবং আমরা আমাদের মূল ঘাটি হারাইয়া ফেলিতাম । সুতরাং আমরা দক্ষিণে যাইতে পারি না, তাহলে মদীনা হারাইব । আবার আমরা যদি মদীনা ত্যাগ করিয়া খাইবার আক্রমণ করিতাম, তবে মক্কার কুরাইশরা আসিয়া মদীনা দখল করিয়া নিত । কিন্তু আমরা যদি মদীনা ছাড়িয়া আল্লাহর ঘরে হজ্জ আদায়ের জন্য মক্কায় যাই এবং খাইবারের ইহুদীরা আসিয়া মদীনা দখল করিয়া নেয়, সেক্ষেত্রে সমগ্র আরববাসীরা খাইবারের বিরুদ্ধে রুখিয়া দাড়াঁইত । তোমরা কেমন করিয়া সেই লোকদের ওপর হামলা করিলে যাহারা আল্লাহর ঘরের জিয়ারত করিতে আসিয়াছিল ? তোমাদের কি কোন লজ্জা নাই ? তোমাদেরকে এমন শিক্ষা দিব যাহা জীবনেও ভুলিতে পারিবে না ! তখন সমগ্র আরব জাহান মদীনা পুণরুদ্ধারে আমাদের সাথে লড়াই করিত । েইহাই ছিল শান্তিপূর্ণ আক্রমণের চরম পরাকাষ্টা ! ফলে আমরা নির্ভয়ে মক্কায় হজ্জে গমন করিতে সক্ষম হইলাম, আমাদের অনুপুস্থিতিতে খাইবারের ইহুদীরা মদীনা দখল করিয়া নিবে এই ভয় থেকে মুক্ত হইয়া ।

মক্কার কুরাইশরা খালেদ বিন ওলীদের নেতৃত্বে দুইশত অশ্বারোহী পাঠাইল আমাদের মক্কায় প্রবেশ প্রতিহত করিবার জন্য । নবী করীম (সাঃ) বিষয়টি জানিতে পারিলেন, তাঁহার সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর মাধ্যমে । ফলে তিনি কুরাইশ বাহিনীকে বোকা বানাইয়া ভিন্ন পথে মক্কার নিকটবর্তী হুদাইবিয়া নামক স্থানে পৌছাঁইলেন এবং ঘাটি গাড়িলেন । ইহা ছিল সেই পবিত্র স্থানের অন্তর্ভুক্ত যেখানে যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ । সোজাসাপটা দৌড়াইয়া মক্কায় ঢুকিয়া পড়া আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না । যাহাতে মক্কার লোকেরা বুঝিতে পারে যে, বল এখন তাহাদের কোর্টে । মক্কার কুরাইশরা এখন কি করিবে ? কাজেই মক্কাবাসীরা এখন আমাদেরকে আল্লাহর ঘরে প্রবেশ করিতেও দিতে পারিতেছে না, কেননা তাহাতে সমগ্র আরব জাহান তাহাদের প্রতি ঠাট্টা বিদ্রুপ বর্ষণ করিবে । আবার আমাদেরকে তাড়াইয়াও দিতে পারিতেছে না, কেননা আল্লাহর ঘরের জিয়ারতকারীদের বাধা দেওয়াও আরবজাহানের হাজার বছরের ঐতিহ্যবিরোধী । মাশায়াল্লাহ ! আমরা তাহাদেরকে বাধ্য করিলাম আলোচনার টেবিলে বসিতে, আসিয়া আমাদের সাথে আলোচনা করিতে । কুরাইশরা তাহাদের একজন প্রবীণ ব্যক্তিকে পাঠাইল এবং সে ফিরিয়া গিয়া তাহাদেরকে সতর্ক করিয়া বলিল, এই ব্যক্তিকে (মোহাম্মদ সাঃ) তাঁহার কাজ করিতে দাও । আমি অনেক রাজা-বাদশা-শাহানশাহর দরবারে গিয়াছি কিন্তু আপন লোকজন দ্বারা এমন সম্মানীত এবং সুরক্ষিত আর কাউকে দেখি নাই । তাহারা শান্তিপূর্ণভাবে আসিয়াছে এবং তাহাদের সাথে একটি তরবারি ব্যতীত অন্য কোন অস্ত্র নাই । আর প্রত্যেকের নিরাপত্তার জন্য সাথে একটি তরবারি রাখা আরবদের ঐতিহ্য । কাজেই তাহাকে উত্যক্ত করিও না । তারপরে কুরাইশরা আরেক ব্যক্তিকে প্রেরণ করিল । রাসুলে করীম (সাঃ) যখন তাহাকে দেখিলেন তখন বুঝিতে পারিলেন যে, এই ব্যক্তি ধর্মীয় কর্মকান্ড আধ্যাত্মিক বিষয়াবলী সম্পর্কে গভীর জ্ঞান আছে যদিও সে ছিল মোশরেক । সুতরাং মহানবী (সাঃ) এবার মানসিক যুদ্ধের কলাকৌশল প্রয়োগ করিতে আরম্ভ করিলেন । তিনি নির্দেশ দিলেন কোরবানীর পশুগুলিকে যেন ভালোমতো সাজিয়ে গুজিয়ে তাহার চারদিকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রদর্শন করা হয় । কেন ? কারণ আরবরা যখনই এই ধরণের পশু দেখিতে পায়, তখনই বুঝিতে পারে যে এগুলো কোরবানীর জন্য । কাজেই তিনি আদেশ দিলেন যখনই লোকটি আসিয়া উপস্থিত হইবে তাহার সম্মুখে যেন কোরবানীর পশুগুলিকে প্রদর্শন করা হয় । সেই যুগে কোরবানীর পশুদেরকে গলায় মালা পড়াইয়া নানানভাবে সুসজ্জিত করা হইত । আর এই কারণে প্রতিটি আরবই কোরবানীর উদ্দেশ্যে আনা পশুদের সাজগোজ দেখিয়াই চিনি পারে যে, ইহাদেরকে কোরবানী দেওয়া হইবে । সুতরাং লোকটি যখন কোরবানীর পশুগুলি দেখিলো সে মানসিকভাবে খুবই প্রভাবিত হইয়া ফিরিয়া গেলো । ইহাই ছিল তাহার জন্য যথেষ্ট, সে হজ্জের উদ্দেশ্যে আগত মুসলমানদের সম্পর্কে সুধারনা নিয়া ফিরিয়া গেল । কুরাইশরা বুঝিতে পারিল যে, আমাদের হজ্জ ক্রিয়া সম্পাদনে বাধা দেওয়া তাহাদের সমীচীন হইবে না । সুতরাং তাহারা আলোচনার টেবিলে বসিতে বাধ্য হইল । তারপরে তাহারা পাঠাইল সোহায়েলকে, সে ছিল একজন কুটনীতিক । সোহায়েল পৌঁছিবার পূর্বেই মনে মনে আত্মসমর্পন করিয়াছিল । আমরা পবিত্র কাবায় তোমাদের হ্জ্জ সম্পাদনে বাধা দিতে পারি না । কিন্তু সোহায়েল আসিয়াছিল কোন মতে কুরাইশদের মুখ রক্ষার একটি উপায় বাহির করিবার জন্য । এক নাম্বারে কুরাইশরা দশ বছরের জন্য শান্তিচুক্তির প্রস্তাব দিলো । ইহার অর্থ এই নয় যে, দশ বছরের শান্তিচুক্তি একটি সুন্নাহ । তাহারা যদি পাঁচ বছরের চুক্তির প্রস্তাব দিতো আমরা তাহাও গ্রহন করিতাম । তাহারা যদি পনের বছরের শান্তিচুক্তির প্রস্তাব দিতো আমরা পনের বছরই গ্রহন করিতাম । কারণ আমরা চাহিতেছিলাম একটি শান্তিচুক্তি । আমি আপনাদেরকে বলিব কেন । কুরাইশদের দশ বছরের শান্তিচুক্তির এই প্রস্তাব ছিল আমাদের যুদ্ধকৌশলগত বিজয়ের একটি অসাধারণ সূচনা । সুতরাং সোহায়েলের প্রস্তাবে আমরা ছিলাম দারুণ খুশি । আমরা আমাদের আনন্দ গোপন করিতে পারি নাই । কাজেই শান্তিচুক্তি সম্পাদনের ফলাফল হইল এই যে, কুরাইশরা আর আমাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত নহে । সুতরাং এখন থেকে মুসলমানরা মক্কায় হজ্জে আসিলে কুরাইশরা আর অপমানিত বোধ করিবে না, কারণ তাহাদের সাথে এখন আমাদের শান্তিচুক্তি রহিয়াছে । কাজেই শান্তিচুক্তির প্রস্তাব দেওয়া কুরাইশদের পক্ষে একটি বুদ্ধিমানের কাজ ছিল, আমরাও তাহাই আকাঙ্খা করিতেছিলাম । ইহার মধ্যেও কুরাইশরা কিছু প্রতিশোধ চাহিতেছিল । তাই তাহারা শর্ত দিলো যে, এই বছর মুসলমানরা হজ্জ করিতে পারিবে না । আর আমরাও সাথে সাথে রাজী হইয়া গেলাম ।

আমাদেরকে মনে রাখিতে হইবে যে, চাল এবং চালের খোসার মধ্যে একটা পার্থক্য আছে । আমরা চালের জন্য যুদ্ধ করিতেছিলাম, চালের খোসার জন্য নয় । কাজেই এখানে আমাদের জন্য একটি কূটনৈতিক সুন্নাহ বিদ্যমান । তাই আমরাও যখন কোন চুক্তি করিব, তখন যেন ফলের দিকে লক্ষ্য রাখি, ফলের খোসার দিকে নয় । সোহায়েল বলল, তোমাদেরকে এখানে হুদায়বিয়ায় কোরবানী করিতে হইবে । হায় আল্লাহ ! কোরবানী করিতে হয় মক্কায়, এখানে হুদায়বিয়ায় কিভাবে করিব ? কোন মুসলমানই হুদায়বিয়ায় কোরবানী করিতে রাজী হইল না । তখন বিশ্বনবীর (সাঃ) একজন স্ত্রী তাঁহাকে বলিলেন, আপনি নিজের কোরবানী করিয়া ফেলুন । তখন সকলেই আপনাকে অনুসরন করিতে শুরু করিবে । ফলে রাসুলে করিম (সাঃ) তাঁহার পবিত্র হস্তে ছুরি নিয়া একটি পশুকে কোরবানী করিলেন । তারপর সকল মুসলমানগণ নিজ নিজ পশু কোরবানী করিতে শুরু করিলেন ।

কিন্তু কুরাইশরা চাহিল ক্ষতের মধ্যে আরেকটু লবন ছিটাইয়া দেওয়ার জন্য । তাহারা বলিল, এই বছর তোমরা হজ্জ করিতে পারিবে না, কাবা শরীফে তাওয়াফ করিতে পারিবে না । আগামী বছর তোমরা হজ্জ করিতে আসিবে, তবে মাত্র তিন দিনের জন্য, প্রবেশ করিবে আর বাহির হইয়া যাইবে । এই তিন দিন আমরা মক্কা শহর খালি করিয়া দিব । এই কথা অবশ্য তাহারা চুক্তিপত্রে উল্লেখ করে নাই । এবার তাহারা আরো অধিক অপমানজনক শর্ত দিল, মনোযোগ দিয়া শুনন । কুরাইশদের কেউ যদি ইসলাম গ্রহন করিয়া মক্কা ত্যাগ করিয়া মদীনায় চলিয়া যায়, তবে তাহাকে ফেরত দিতে হইবে । কিন্তু মদীনার কেউ যদি মদীনা ত্যাগ করিয়া মক্কায় চলিয়া আসে, তবে আমরা তাহাকে ফেরত দিব না । এই শর্ত মুসলমানদের নিকট গ্রহনযোগ্য মনে হইল না । এই শর্ত তো নিরপেক্ষ মনে হইল না । ইহা তো এক পাক্ষিক হইয়া গেল । ইহাতে তো কুরাইশদেরকে বেশী সুবিধা দেওয়া হইল । আমরা কেন এমন শর্ত মানিয়া নিব যাহাতে তাহাদের বেশী সুবিধা হইবে ? কিন্তু মহানবী (সাঃ) তাঁহার দূরদৃষ্টিতে যাহা বুঝিতে পারিয়াছিলেন সাহাবায়ে কেরামগণ তাহা বুঝিতে পারেন নাই । পবিত্র মক্কার কেউ যদি ইসলাম গ্রহন করিয়া মদীনায় আসে এবং আমরা তাহাকে মদীনায় আশ্রয় না দেই, তাহলে সে কোথায় ঘাটি গাড়িবে ? সোবহানাল্লাহ ! এসব লোক এমন জায়গায় গিয়া আশ্রয় নিবে যাহা কুরাইশদের পছন্দ হইবে না । আর এই ব্যাপারে কুরাইশরা আমাদেরকে দায়ী করিতে পারিবে না । সুতরাং এইভাবে আমরা শান্তিচুক্তি সম্পাদন করিলাম । তারপর শান্তিচুক্তি সম্পর্কে তাঁহার মতামত প্রকাশ করিলেন । সুরা ফাতাহর প্রথম আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করিলেন, “নিশ্চয় আমি আপনাকে সুস্পষ্ট বিজয় দান করিয়াছি”। এখানে বিজয় কোথায় পাইলেন ? আমি আপনাকে একটু পরেই সেটি বলিতেছি । আমরা মদীনা শরীফে ফিরিয়া গেলাম । একজন আদর্শ নেতা হিসাবে নবী করিম (সাঃ) কাউকে (আসন্ন খাইবার অভিযান সম্পর্কে) কিছু বলিলেন না । এমনকি তাঁহার স্ত্রীদেরকেও না । তিনি তাঁহার লোকদেরকে দুই সপ্তাহ বিশ্রাম নিতে দিলেন ।

দুই সপ্তাহ শেষে তিনি খাইবারে যুদ্ধাভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিলেন । আমরা খাইবারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করিব । আর অভিযানের প্রস্তুতির জন্য আপনারা পাঁচ সাত দিন সময় পাইবেন না, বরং ঘোষনার সাথে সাথেই অভিযানে রওয়ানা হইলেন । কাজেই গুপ্তচরদের হাতে সংবাদ পাঠানোর মতো সময় ছিল না । সেই যুগে টেলিফোনও ছিল না আর না ছিল মোবাইল যাহাতে তাহারা সংবাদ পাইতে পারে । সুতরাং ইহা ছিল আরেকটি প্রতিরক্ষা উদ্যোগ তবে তাহা শান্তিপূর্ণ হামলা ছিল না । খাইবার আমাদের মাংস ছিন্নভিন্ন করিতে ছিল । তাহারা ঘৃণা এবং আক্রোশে ফোস্‌ ফোস্‌ করিতে ছিল । খাইবার ছিল মদীনার জন্য একটি বিরাট নিরাপত্তা হুমকি । কাজেই তিনি খাইবারে একটি সফল অভিযান চালাইলেন মদীনাকে অরক্ষিত রাখিয়াই । কারণ মক্কার কুরাইশদের এখন হাত বাধা, তাহাদের সাথে আমাদের শান্তিচুক্তি হইয়াছে (অস্ত্রবিরতি)। সুতরাং কুরাইশদের মদীনা দখল করিয়া নেওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই । খাইবারের ইহুদীরা যখন সকালে ঘুম থেকে উঠিয়া চক্ষু মর্দন করিয়া চারদিকে তাকাইলো, মুসলিম সেনাবাহিনী দেখিয়া তাহাদের বিস্ময়ের কোন সীমা রহিল না । আমরা খাইবারকে প্রস্তুতি নেওয়ার কোন সময় দেই নাই, চারদিকে ঘিরিয়া ফেলিয়া অবরোধ আরোপ করিয়াছি । কাজেই আল্লাহ তায়ালা যখন বলিলেন, “নিশ্চয় আমি আপনাকে দিয়াছি সুস্পষ্ট বিজয়” ইহার মানে হইল কুরাইশদের সাথে যখন শান্তিচুক্তি হইল, তখনই প্রকৃতপক্ষে খাইবারের পতন হইল । আর যখন খাইবারের পতন হইল তখন প্রকৃতপক্ষে মক্কারও পতন হইল, ইহা কেবল একটু সময়ের ব্যাপার মাত্র । সমগ্র আরব জাহান ঘটনার গতিপ্রকৃতি লক্ষ্য করিতেছি । বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হইয়াছে, উহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হইয়াছে, খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হইয়াছে, তারপর চলিতেছিল সামরিক শক্তির সমতা । তারপর সকল আরব গোত্রগুলি দেখিয়াছে হুদায়বিয়ার শান্তিচুক্তি আর তাহাতে লেখা ছিল যে-কোন আরব গোত্র ইচ্ছা করিলে কুরাইশদের সাথে যোগ দিতে পারিবে অথবা মুসলমানদের সাথে যোগ দিতে পারিবে । কাজেই আরব জাহানে বর্তমানে আমাদের রাজনৈতিক মর্যাদা কুরাইশদের সমান । কাজেই আরবজাতি বিস্মিত হইল যখন আমরা হুদায়বিয়াতে কুরাইশদের সাথে শান্তিচুক্তি করিলাম । তারপর আমরা যখন মদীনায় ফিরিয়া আসিলাম এবং হামলা করিয়া খাইবারের ইহুদীদেরকে পরাজিত করিলাম, তখন আরবজাতির চিন্তার জগতে উলট-পালট গেল । ফলে তাহারা ইসলামের শক্তিকে সম্মানের দৃষ্টিতে এবং প্রশংসার দৃষ্টিতে দেখিতে লাগিলেন এবং ইসলাম গ্রহন করিতে লাগিলেন ।

প্রকৃতপক্ষে হুদায়বিয়া এবং খাইবারের পরেই সবচাইতে বেশী সংখ্যক আরব ইসলাম গ্রহন করেন । সুতরাং আমাদের এই সামরিক শক্তি বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই পরিবর্তনের ফলে, মক্কার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ হামলা এবং খাইবারের বিরুদ্ধে সফল অভিযানের ফলস্রুতি । দুই বছর মাত্র অতিক্রান্ত হইয়াছে, ছয় হিজরী হইতে আট হিজরী, এই দুই বছরে অগণিত গোত্র ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়াছে । মক্কার কুরাইশগণ হতাশার সাথে দেখিতে লাগিলো মহানবীর (সাঃ) সঠিক নেতৃত্ব এবং কর্মকৌশলের কারণে আমাদের পাল্লা কেবলই ভারী হইতেছে এবং তাহারা উৎখাত হইয়া যাওয়ার পর্যায়ে পৌঁছিয়া গিয়াছে । আর নবী করীম (সাঃ) আপনাদেরকে এমন ইসলাম দিয়া যান নাই যে, একবার ঘরে যাও একবার মসজিদে যাও একবার ঘরে যাও একবার মসজিদে যাও, তারপর উট পাখির মতো বালুর নীচে মাথা ঢুকাইয়া রাখো এবং এমন ভাব ধরিয়া থাকো যেন দুনিয়ার কোন অস্তিত্ব নাই । ইহা ইসলাম নয়, বরং ইহা হইল সাজুগুজু ইসলাম । আপনাদের ভাই ইমরান আজকে এইভাবে কথা বলিতেছেন এজন্য নয় যে, তাঁহার অন্তরে আপনাদের প্রতি শত্রুতা বিদ্যমান আছে অথবা আপনাদেরকে বিব্রত করা । বরং তিনি আপনাদের ঈমান এবং পরহেজগারীকে প্রশংসার দৃষ্টিতে দেখিয়া থাকেন । আপনারা আমারই ভাই । আমি কেবল আপনাদেরকে জাগ্রত হওয়ার জন্য আহবান জানাইতেছি, বেশী দেরী হওয়ার পূর্বেই যখন জাগ্রত হইলে আর কোন লাভ হইবে না ।

মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন

অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

Strategic Sunnah and the end time Sheikh Imran Hosein লেকচারের অনুবাদ

??

Author: bashirmahmudellias

I am an Author, Design specialist, Islamic researcher, Homeopathic consultant.

One thought on “প্রতিরক্ষা সুন্নাহ এবং আখেরী জা মানা আল্লামা ইমরান নজর হোসেন

  1. AS SALAAM MU ALAIKUM ,

    MY SON MD. ABDUL AHAD AGED ABOUT 1 YEAR 4 MONTHS IS HAVING BETA THALASSEMIA -MAJOR.HIS HAEMOGLOBIN LEVEL IS 7.60 G/DL AND HIS RETICULOCYTE COUNT IS 2.82% AS ON 20/04/2016.
    DOCTORS HERE IN BANGALORE -INDIA ARE ADVISING FOR BLOOD TRANSFUSION AS THEY ARE TELLING THAT HIS SPLEEN IS ENLARGED AND HIS LIVER IS ALSO A BIT ENLARGED.
    MY PERSONAL IMPRESSION OF MY SON IS THAT HIS FOREHEAD IS ENLARGED,VOMITTING AND FATIGUE .

    NOTE:BLOOD TRANSFUSION NOT YET STARTED AND NOT FINANCIALLY CAPABLE FOR BONE MARROW TRANSPLANT

    KINDLY ADVISE ACCORDING MEDICATION.
    WAITING FOR YOUR REPLY

    REGARDS
    ABDUL RAHIM

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s