Dr. Bashir Mahmud Ellias's Blog

Know Thyself

যে-কোন মুহূর্তে শুরু হবে মালহামা/আরমাগেডন/৩য় বিশ্বযুদ্ধ শায়খ ইমরান নজর হোসেন

1 Comment

যে-কোন মুহূর্তে শুরু হবে মালহামা/ আরমাগেডন/ ৩য় বিশ্বযুদ্ধ
মহানবীর (সাঃ) ভবিষ্য‍ৎবাণীকৃত মালহামা (মহাযুদ্ধ) এখন নাকের ডগায় আসিয়া পড়িয়াছে । অথচ আমরা কোরআন না পড়িবার কারণে হালুয়া রুটি খাইতেছি আর নাক ডাকিয়া ঘুমাইতেছি । কোরআন পড়া কোন জরুরি কাজ নয় । ছেলেকে অক্সফোর্ডে পাঠাইয়াছি কমপিউটার সাইন্স পড়িবার জন্য । সেটা বেশী জরুরি । এই হইল এখন মোহাম্মদ (সাঃ)-এর উম্মাতের অবস্থা । মালহামাকে (মহাযুদ্ধ) তাহারা বলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ । কিন্তু ইহা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো হইবে না । ইহা হইবে পারমাণবিক যুদ্ধ, হাজার হাজার এটম বোমা ইহাতে বিস্ফারিত হইবে । ইহার তুলনায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে মনে হইবে চিনাবাদামের মতো । সেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এখন নাকের ডগায় আসিয়া পড়িয়াছি । খুব সম্ভবতঃ নভেম্বরের ৪ তারিখের পূর্বেই তাহা শুরু হইবে । কারণ ট্রাম্প তাহাদের (যায়োনিষ্টদের) জন্য হুমকি হইয়া দাঁড়াইতে পারে । যখনই পাকিস্তানে কোন শক্ত মেরুদন্ডের শাসক ক্ষমতাশীন হইয়াছে তাহারা (যায়োনিষ্টরা) তাহাকে হত্যা করিয়াছে । যখনই আমেরিকায় কোন যোগ্যতাসম্পন্ন শাসক ক্ষমতাশীন হইয়াছে তাহারা (যায়োনিষ্টরা) তাহাকে হত্যা করিয়াছে । এজন্য তাহারা কেনেডীকে হত্যা করিয়াছে (তাহাদের নির্দেশ মতো চলিতে অস্বীকার করিবার কারণে) । ব্রিটিশ জনগণ এখন আর ব্রিটেনের সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে না । আমেরিকার জনগণও এখন আর আমেরিকান সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে না । কাজেই ট্রাম্প যদিও মাঝে মাঝে বোকার মতো কথা বলে কিন্তু সে প্রমাণ করিয়াছে যে তাহার স্বাধীনভাবে চিন্তা করিবার শক্তি আছে । সে কাহারো ইশারায় চলে না । ডোনাল্ড ট্রাম্প বলিয়াছেন যে, আমি একজন ব্যবসায়ী । রাশিয়ার সাথে আমরা অযথা শত্রুতা করিব আর এই সুযোগে রাশিয়ার সাথে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য একচেটিয়া চীন দখল করিয়া নিবে তাহা হইতে পারে না । কাজেই তাহারা (যায়োনিষ্টরা) যাহা করিবার নভেম্বরের ৪ তারিখের পূর্বেই করিয়া ফেলিবে । কেননা সেদিন আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ।
6575%2B%2Bnuke.jpg

 

আল্লাহকে ধন্যবাদ যে রাশিয়া তাহাদের ভয়ে ভীত নহে । আল্লাহকে ধন্যবাদ যে চীন তাহাদের ভয়ে ভীত নহে । আল্লাহকে হাজার বার ধন্যবাদ যে রাশিয়া তাহাদের ভয়ে ভীত নয় । আল্লাহকে হাজার বার ধন্যবাদ যে চীন তাহাদের ভয়ে ভীত নয় । মুসলমান হওয়ার একটি সুবিধা এই যে, মুসলমান কখনও মরিতে ভয় পায় না । মুসলমানরা কোটি কোটিতে মরিতে রাজী, তারপরও আমরা চাই জালেমরা যেন ধুলায় মিশিয়া যায় । পৃথিবীতে যেনো পুণরায় সত্য এবং ন্যায় প্রতিষ্টিত হয় । মালহামা নাকের ডগায় আসিয়া পড়িয়াছে অথচ আলেম-ওলামাদের মুখে কিছুই শোনা যায় না । আমরা এখনও হালুয়া রুটি খাইতেছি আর নাক ডাকিয়া ঘুমাইতেছি । এই হইল মোহাম্মাদ (সাঃ)-এর উম্মাতের অবস্থা ! তাহারা চিনাবাদাম নিয়া মরনপণ জিহাদ করিতেছে ।

মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন
অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

তিন মাসের খাবার পানি সংগ্রহ করিয়া রাখুন
রাসুলাল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে জানাইয়াছেন যে, একটি ভয়ঙ্কর মহাযুদ্ধ সংঘটিত হইবে যাহাতে যুদ্ধরত সৈন্যদের শতকরা ৯৯ জন নিহত হইবে । প্রচলিত গতানুগতিক যুদ্ধে কখনও শতকরা ৯৯ জন নিহত হয় নাই, ইতিহাসে এমন কোন যুদ্ধ সংঘটিত হয় নাই । সুতরাং যেই যুদ্ধটি আসিতেছে তাহা এমন যুদ্ধ হইবে যাহার সাথে মানবজাতি কখনও পরিচিত নয় । আমরা বলি ইহা হইবে পারমাণবিক যুদ্ধ অর্থাৎ ইহাতে ব্যাপক গণবিধ্বংসী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা হইবে । একমাত্র এই ধরনের যুদ্ধেই দুই পক্ষের শতকরা ৯৯ ভাগ লোকের মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে । যাহারা আমার এই ইন্টারভিউ শুনিতেছেন তাহারা সাবধান থাকিবেন, তাহাদেরকে সচেতন করা আমাদের কর্তব্য । এমন একটি যুদ্ধে সাধারণত খাবার, পানি এবং জ্বালানির সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস হইয়া যাইবে । বড় বড় শহরগুলোতে যাহারা বসবাস করেন তাহারা যুদ্ধের পরে দেখিতে পাইবেন অরাজকতা, লুটপাট, ডাকাতি, খুনাখুনি । ইহা হইবে পারমাণবিক যুদ্ধে বাঁচিয়া যাওয়া মানুষদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টার কারণে । সুতরাং আপনাদেরকে বড় বড় শহরগুলো ত্যাগ করিয়া গ্রাম অঞ্চলে চলিয়া যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকিতে হইবে । দ্বিতীয় কথা হইল আমাদের নিজের এবং স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার, পানি এবং জ্বালানি যেমন মোমবাতি সংগ্রহ করিয়া রাখা উচিত । আমার মতে অন্তত তিন মাস জীবন ধারণের মতো মওজুত থাকা উচিত । আমি কয়েক দিন আগে মার্কেটে গিয়া খাবার কেনাকাটা শুরু করিয়াছি বিশেষত কৌটাজাত খাবার । পানির ব্যাপারে আমাদেরকে পার্থক্য নির্ণয় করিতে হইবে, কোনটা পান করিবার জন্য এবং কোনটা রান্নাবান্না আর শৌচক্রিয়ার পানি । পান করিবার পানি সাধারণত প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে বরং কাচেঁর বোতলে সংরক্ষন করা উচিত । আমরা জানি না পারমাণবিক যুদ্ধ সংঘটিত হইলে পারমাণবিক রেডিয়েশানে প্লাষ্টিকের বোতলের কি অবস্থা হয় । তবে কাঁচের বোতল রক্ষা পাইবে বলিয়া আমরা আশা করিতে পারি । বড় বড় বোতলে পানি সংরক্ষণের চাইতে ছোট ছোট বোতলে পানি মওজুত করা উচিত । কেননা একটি বড় বোতল ভাঙিয়া গেলে আপনি দশ বিশ লিটার পানি হারাইয়া ফেলিবেন । পানির বোতলগুলি এমন জায়গায় সংরক্ষন করা উচিত যাহাতে বিল্ডিং ভাঙিয়া পড়িলেও বোতলগুলি অক্ষত থাকে । আমাদের আরো গুদামজাত করা উচিত খাবার, পানি, জ্বালানী আমার মতে অন্তত তিন মাসের প্রয়োজন পূরণ করিবার মতো পারমাণবিক যুদ্ধ সংঘঠিত হওয়ার সময় । আমি ভাবিতেছিলাম সম্ভবতঃ আগামী এক বছর বা কিছুটা কম বেশী সময়ের মধ্যে যুদ্ধটি সংঘটিত হইতে পারে । কিন্তু আমি সতর্ক করিতে চাই যে যুদ্ধটি তাহার চাইতেও কম সময়ে সংঘটিত হইতে পারে । আমরা যখন কোন ভবিষ্যতবাণী করি তখন সব সময়ই আশা করি তাহা সত্য না হউক । তাহা মিথ্যা প্রমাণিত হইলে আমরা বরং খুশী হইব । কিন্তু যাহারা আমাদের কথা শোনেন এবং আমাদের মতামতকে শ্রদ্ধা করেন তাহাদেরকে বলিতেছি যে যুদ্ধটি এক বছর অতিক্রমের পূর্বেই সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে । পারমাণবিক যুদ্ধের পরে কি ঘটিবে তাহাও গুরুত্বপূর্ণ । ইহা কেবল পারমাণবিক যুদ্ধ থেকে আত্মরক্ষার বিষয় নয়, ইহা বরং পারমাণবিক যুদ্ধের পরবর্তী প্রধান ঘটনাটিও গুরুত্বপূর্ণ । মরিস, আপনার ইন্টারভিউর মাধ্যমে আমি মানুষকে সাবধান করিতে পারিতেছি যাহা অন্যথায় মানুষ জানিতে পারিত না । ইসলামী আখেরী জামানা বিদ্যা আমাদেরকে জানাইয়াছে যে মহাযুদ্ধের পরে কন্সট্যান্টিনোপোল বিজিত হইবে । ইহা ঠিক যে খ্রীষ্টানদের আখেরী জামানা বিদ্যাতেও মহাযুদ্ধের পরে কন্সট্যান্টিনোপোল বিজয়ের কথা আছে, কিন্তু ততটা নিশ্চিতভাবে নয় যতটা ইসলামী আখেরী জামানা বিদ্যাতে আছে । কন্সট্যান্টিনোপোল বিজয়ের সময় সেখানে অবশ্যই গৃহযুদ্ধ চলিতে থাকিবে । কারণ তুরষ্কে গৃহযুদ্ধ ছাড়া কখনও কন্সট্যান্টিনোপোল জয় করা সম্ভব নয় । কাজেই আমাদের বিশেষত রাশিয়ার নীতি এমন ভাবে পরিবর্তন করিতে হইবে যাহাতে আপনারা তুরষ্কের সংখ্যাগরিষ্ট জনগণের মতামতকে উত্তেজিত করা যাইবে না । সংখ্যাগরিষ্ট তুর্কী জনগণের মনোভাব যায়োনিষ্ট ন্যাটো বিরোধী । এই ব্যাপারে আমি রাশিয়ান সরকারকে সতর্ক করিয়াছি । আমি জানি না কখন দেখিতে পাইব রাশিয়ান সরকারের এমন নীতি গ্রহনের উদ্যোগ যে, তুরষ্কের সমস্ত মানুষের মনোভাবকে বিরুপভাবাপন্ন করা হইবে না । কেননা সেক্ষেত্রে তুর্কী জাতীয়তাবাদ মাথাচাড়া দিয়া উঠিবে এবং জাতীয়তাবাদীরা নেতৃত্বে চলিয়া আসিতে পারে । তুরষ্ক কর্তৃক রাশিয়ার জঙ্গী বিমান গুলি করিয়া ভূপাতিত করিবার প্রেক্ষাপটে বর্তমানে কন্সট্যান্টিনোপল বিজয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বলভাবে দৃষ্টিগোচর হইতেছে । মরিস ঃ শায়খ ইমরান, রাশিয়ান সরকারের মনোভাব আপনার আকাঙ্খার সাথে সাদৃশ্যশীল মনে হইতেছে । সম্প্রতি তাহারা জানাইয়াছে যে, তাহারা তুরষ্কের জনগণকে নিজেদের শত্রু মনে করে না ।
মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন
অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস
Sheikh Imran Hosein Expects The Nuclear War In 1 Year লেকচারের অনুবাদ

 

Advertisements

Author: bashirmahmudellias

I am an Author, Design specialist, Islamic researcher, Homeopathic consultant.

One thought on “যে-কোন মুহূর্তে শুরু হবে মালহামা/আরমাগেডন/৩য় বিশ্বযুদ্ধ শায়খ ইমরান নজর হোসেন

  1. শাহ নেয়ামাতুল্লাহ ওয়ালী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর ভবিষ্যৎবাণী : বাংলাদেশ পরিস্থিতি এবং গাজওয়াতুল হিন্দ

    আল্লাহ্ তা‘য়ালা প্রদত্ত ইলহাম এর জ্ঞান দ্বারা আজ থেকে প্রায় সাড়ে আটশত বছর পুর্বে ( হিজরী ৫৪৮ সাল মোতাবেক ১১৫২ সালে খ্রিস্টাব্দে) শাহ নেয়ামতুল্লাহ রহঃ তার বিখ্যাত কাব্যগুলো রচনা করেন। অনেক ওলী আউলিয়া মাশায়েখগণ মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ইলহাম পেয়ে থাকেন। উপমহাদেশের ইলমী জনক শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহঃ তার ইলহামী ইলম দিয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ সাওয়াতিউল ইলহাম রচনা করেন, অনুরুপ হযরত শাহ্ নেয়ামতউল্লাহ রহঃ ছিলেন একজন ওলী আল্লাহ। উনি সেই ইলমে লাদুনীর (আল্লাহ্ তা‘য়ালা প্রদত্ত জ্ঞান) কিছু অংশ এই কবিতায় প্রকাশ করেছেন যা কবিতার শেষ পংক্তি থেকে বুঝা যাচ্ছে।
    এটি লিখার পর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত প্রতিটি ভবিষ্যদ্বানী হুবহু মিলে গিয়েছে। ব্রিটিশ বড় লাট লর্ড কার্জনের শাসনামলে (১৮৯৯-১৯০৫) এর প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কবিতার ৩৭ নং প্যারা থেকে খেয়াল করুন। কারন এর পুর্বের লাইন গুলো অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাওয়ায় শুধুমাত্র বর্তমান ও ভবিষতে কি ঘটতে পারে এটাই আমাদের দেখার বিষয়।
    আমাদের দুর্ভাগ্যই বলা চলে! পাকিস্তানি মুসলিম ভাইদের মাঝে কাসীদাগুলো বেশ পরিচিত, প্রসিদ্ধ এবং সমাদৃত অথচ বাংলাদেশে এ সম্পর্কে আমাদের কোনো খোঁজই নেই।কবিতা টি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত “কাসিদায়ে সাওগাত” বইতে পাবেন। এই ছাড়াও মদিনা পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত ”মুসলিম পুনঃজাগরণ প্রসঙ্গ ইমাম মাহদি” বইতেও পাবেন। যারা উর্দু বুঝেন তারা এই নিয়ে ৮ পর্বের সিরিজ আলোচনা শুনতে পারেন, পাকিস্তানী বিশেষজ্ঞ জায়েদ হামিদ খুব সুন্দর করে ব্যাখ্যা সহ কারে উনার সকল ভবিষ্যৎ বাণী (ইলহাম) তুলে ধরেছেন।
    বাংলা ভাষায় রুহুল আমীন খান অনূদিত শাহ নিয়ামতুল্লাহ রহঃ এর একটি কবিতা ১৯৭০/৭১ এর দিকে এদেশে প্রকাশিত হয়েছিল। কবিতাটিতে ৫৪টি প্যারা রয়েছে। কোনো এক ভাই সেটি অনলাইনে সংকলন করেছেন, নতুন টিকা সংযোজন ও পরিমার্জিত করে পুনঃসম্পাদন করে নিম্নে তা দেয়া হলঃ
    (১)
    পশ্চাতে রেখে এই ভারতের অতীত কাহিনী যত
    আগামী দিনের সংবাদ কিছু বলে যাই অবিরত
    টীকা: ভারত= ভারতীয় উপমহাদেশ
    (২)
    দ্বিতীয় দাওরে হুকুমত হবে তুর্কী মুঘলদের
    কিন্তু শাসন হইবে তাদের অবিচার যুলুমের
    টীকাঃ দ্বিতীয় দাওর= ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের দ্বিতীয় অধ্যায়। শাহবুদ্দীন মুহম্মদ ঘোরি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আমল (১১৭৫ সাল) থেকে সুলতান ইব্রাহীম লোদীর শাসনকাল (১৫২৬ সাল) পর্যন্ত প্রথম দাওর। এবং সম্রাট বাবর শাসনকাল (১৫২৬ সাল) থেকে ভারতে মুসলিম দ্বিতীয় দাওর।
    (৩)
    ভোগে ও বিলাসে আমোদে-প্রমোদে মত্ত থাকিবে তারা
    হারিয়ে ফেলিবে স্বকীয় মহিমা তুর্কী স্বভাব ধারা
    টীকা: মুঘল শাসকদের অনেকই আল্লাহ ওয়ালা ছিলেন। তবে কেউ কেউ প্রকৃত ইসলামী আইনকানুন ও শরীয়তি আমল থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। আর হাদীস শরীফেই আছে: যখন মুসলমানরা ইসলাম থেকে দূরে সরে যাবে, তখন তার উপর গজব স্বরূপ বহিশত্রুকে চাপিয়ে দেয়া হবে।
    (৪)
    তাদের হারায়ে ভিন দেশী হবে শাসন দণ্ডধারী
    জাকিয়া বসিবে, নিজ নামে তারা মুদ্রা করিবে জারি
    টীকাঃ ভিন দেশী= ইংরেজদের বোঝানো হয়েছে
    (৫)
    এরপর হবে রাশিয়া-জাপানে ঘোরতর এক রণ
    রুশকে হারিয়ে এ রণে বিজয়ী হইবে জাপানীগণ
    (৬)
    শেষে দেশ-সীমা নিবে ঠিক করে মিলিয়া উভয় দল
    চুক্তিও হবে, কিন্তু তাদের অন্তরে রবে ছল
    টীকা: বিশ শতকের প্রারম্ভে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। জাপান কোরিয়ার উপর আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে পীত সাগর, পোট অব আর্থার ও ভলডিভস্টকে অবস্থানরাত রুশ নৌবহরগুলো আটক করার মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধ শুরু হয়। অবশেষে রাশিয়া জাপানের সাথে চুক্তি করতে বাধ্য হয়।
    (৭)
    ভারতে তখন দেখা দিবে প্লেগ আকালিক দুর্যোগ
    মারা যাবে তাতে বহু মুসলিম হবে মহাদুর্ভোগ
    টীকা: ১৮৯৮-১৯০৮ সাল পর্যন্ত ভারতে মহামারী আকারে প্লেগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। এতে প্রায় ৫ লক্ষ লোকের জীবনাবসান হয়। ১৭৭০ সালে ভারতে মহাদুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হয়। বংগ প্রদেশে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এ থেকে উদ্ভুত মহামারিতে এ প্রদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রাণ হারায়।
    (৮)
    এরপর পরই ভয়াবহ এক ভূকম্পনের ফলে
    জাপানের এক তৃতীয় অংশ যাবে হায় রসাতলে
    টীকা: ১৯৪৪ সালে জাপানের টোকিও এবং ইয়াকুহামায় প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।
    (৯)
    পশ্চিমে চার সালব্যাপী ঘোরতর মহারণ
    প্রতারণা বলে হারাবে এ রণে জীমকে আলিফগণ
    টীকা: ১৯১৪-১৯১৮ সাল পর্যন্ত চার বছরাধিকাল ধরে ইউরোপে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
    জীম= জার্মানি, আলিফ=ইংল্যান্ড।
    (১০)
    এ সমর হবে বহু দেশ জুড়ে অতীব ভয়ঙ্কর
    নিহত হইবে এতে এক কোটি ত্রিশ লাখ নারী-নর
    টীকা: ব্রিটিশ সরকারের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ি প্রথম মহাযুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৩১ লক্ষ লোক মারা যায়।
    (১১)
    অতঃপর হবে রণ বন্ধের চুক্তি উভয় দেশে
    কিন্তু তা হবে ক্ষণভঙ্গুর টিকিবে না অবশেষে
    টীকা: ১৯১৯ সালে প্যারিসের ভার্সাই প্রাসাদে প্রথম মহাযুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে ‘ভার্সাই সন্ধি’ হয়, কিন্তু তা টিকেনি।
    (১২)
    নিরবে চলিবে মহাসমরের প্রস্তুতি বেশুমার
    ‘জীম’ ও আলিফে খ- লড়াই ঘটিবে বারংবার
    (১৩)
    চীন ও জাপানে দু’দেশ যখন লিপ্ত থাকিবে রণে
    নাসারা তখন রণ প্রস্তুতি চালাবে সঙ্গোপনে
    টীকা: নাসারা মানে খ্রিষ্টান
    (১৪)
    প্রথম মহাসমরের শেষে একুশ বছর পর
    শুরু হবে ফের আরো ভয়াবহ দ্বিতীয় সমর
    টীকা: ১ম মহাযুদ্ধ সমাপ্তি হয় ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর, এবং দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে সূচনা হয় ১৯৩৯ সালে ৩রা সেপ্টেম্বর। দুই যুদ্ধের মধ্যবর্তী সময় প্রায় ২১ বছর।
    (১৫)
    হিন্দ বাসী এই সমরে যদিও সহায়তা দিয়ে যাবে
    তার থেকে তারা প্রার্থিত কোন সুফল নাহিকো পাবে
    টীকা: ভারতীয়রা ব্রিটিশ সরকারের প্রদত্ত যে সকল আশ্বাসের প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে তাদের সহায়তা করেছিল, যুদ্ধের পর তা বাস্তবায়ন করেনি।
    (১৬)
    বিজ্ঞানীগণ এ লড়াইকালে অতিশয় আধুনিক
    করিবে তৈয়ার অতি ভয়াবহ হাতিয়ার আনবিক
    টীকা: মূল কবিতায় ব্যবহৃত শব্দটি হচ্ছে ‘আলোতে বকর’ যার শাব্দিক অর্থ বিদ্যুৎ অস্ত্র, অনুবাদক বিদ্যুৎ অস্ত্রের পরিবর্তে ‘আনবিক অস্ত্র তরজমা করেছেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে আমেরিকা হিরোসিমা-নাগাসাকিতে আনবিক বোমা নিক্ষেপ করে। এতে লাখ লাখ বেসামরিক লোক নিহত হয়। কবিতায় বিদ্যুৎ অস্ত্র বলতে মূলত আনবিক অস্ত্রই বুঝানো হয়েছে।
    (১৭)
    গায়েবী ধনির যন্ত্র বানাবে নিকটে আসিবে দূর
    প্রাচ্যে বসেও শুনিতে পাইবে প্রতীচীর গান-সুর
    টীকা: গায়েবী ধনীর যন্ত্র রেডিও-টিভি
    (১৮)
    মিলিত হইয়া ‘প্রথম আলিফ’ ‘দ্বিতীয় আলিফ’ দ্বয়
    গড়িয়া তুলিবে রুশ-চীন সাথে আতাত সুনিশ্চয়
    (১৯)
    ঝাপিয়ে পড়িবে ‘তৃতীয় আলিফ’ এবং দু’জীম ঘারে
    ছুড়িয়া মারিবে গজবী পাহাড় আনবিক হাতিয়ারে।
    টীকা: প্রথম আলিফ= ইংল্যান্ড দ্বিতীয় আলিফ=আমেরিকা তৃতীয় আলিফ= ইটালি দুই জীম=জার্মানি ও জাপান
    (প্যারা: ১৯- এর শেষ)
    অতি ভয়াবহ নিষ্ঠুরতম ধ্বংসযজ্ঞ শেষে
    প্রতারণা বলে প্রথম পক্ষ দাড়াবে বিজয়ী বেশে
    (২০)
    জগৎ জুড়িয়া ছয় সালব্যাপী এই রণে ভয়াবহ
    হালাক হইবে অগিণত লোক ধন ও সম্পদসহ
    টীকা: জাতিসংঘের হিসেব মতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রায় ৬ কোটি লোক মারা গিয়েছিল।
    (প্যারা: ২১)
    মহাধ্বংসের এ মহাসমর অবসানে অবশেষে
    নাসারা শাসক ভারত ছাড়িয়া চলে যাবে নিজ দেশে
    কিন্তু তাহারা চিরকাল তরে এদেশবাসীর মনে
    মহাক্ষতিকর বিষাক্ত বীজ বুনে যাবে সেই সনে
    টীকা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয় ১৯৪৫ সালে, আর ভারত উপমহাদেশ থেকে নাসারা তথা ইংরেজ খ্রিস্টানরা চলে যায় ১৯৪৭ এ। এই প্যারার দ্বিতীয় অংশের ব্যাখ্যা দুই রকম আছে।
    ক) এই অঞ্চলের বিভেদ তৈরী জন্য ইংরেজ খ্রিস্টানরা কাশ্মীরকে হিন্দুদের দিয়ে প্যাচ বাধিয়ে যায়।
    খ) ইংরেজরা চলে গেলেও তাদের সংস্কৃতি এমনভাবে রেখে গেছে যে এই উপমহাদেশে লোকজন এখনও সব যায়গায় ব্রিটিশ নিয়ম-কানুন-ভাষা-সংস্কৃতি অনুসরণ করে।
    ** অনেকে এই ক্ষতিকর বিজ বলতে লা-মাযহাবী তথা আহলে হাদীস এবং কাদিয়ানী গোষ্ঠী মন্তব্য করেছেন।
    (২২)
    ভারত ভাঙ্গিয়া হইবে দু’ভাগ শঠতায় নেতাদের
    মহাদুর্ভোগ দুর্দশা হবে দু’দেশেরি মানুষের
    টীকা: দেশভাগের সময় মুসলমানরা আরো অনেক বেশি এলাকা পেত। কিন্তু সেই সময় অনেক মুসলমান নেতার গাদ্দারির কারণে অনেক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা হিন্দুদের অধীনে চলে যায়। ফলে কষ্টে পরে সাধারণ মুসলমানরা। এখনও ভারতের মুসলমানরা সেই গাদ্দারির ফল ভোগ করছে।
    (২৩)
    মুকুটবিহীন নাদান বাদশা পাইবে শাসনভার
    কানুন ও তার ফর্মান হবে আজেবাজে একছার
    টীকা: এই প্যারা থেকে ভারত বিভাগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ধরা যায়। এই সময় এই অঞ্চলে মুসলমানদের ঝান্ডাবাহী কোন সরকার আসেনি।
    **মুকুটবিহীন নাদান বাদশাহ বলতে অনেকে ‘গণতন্ত্র’কে বুঝিয়েছে। আব্রাহাম লিংকনের তৈরী গণতন্ত্রকে জনগণের তন্ত্র বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা হচ্ছে জন-নিপীড়নের তন্ত্র। এই গণতন্ত্রের নিয়ম কানুন যে আজেবাজে সে সম্পর্কে শেষ লাইনে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
    (২৪)
    দুর্নীতি ঘুষ কাজে অবহেলা নীতিহীনতার ফলে
    শাহী ফর্মান হবে পয়মাল দেশ যাবে রসাতলে
    টীকা: সমসাময়িক দুর্নীতি বুঝানো হয়েছে।
    (২৫)
    হায় আফসোস করিবেন যত আলেম ও জ্ঞানীগণ
    মূর্খ বেকুফ নাদান লোকেরা করিবে আস্ফালন।
    (২৬)
    পেয়ারা নবীর উম্মতগণ ভুলিবে আপন শান
    ঘোরতর পাপ পঙ্কিলতায় ডুবিবে মুসলমান
    (২৭)
    কালের চক্রে স্নেহ-তমীজের ঘটিবে যে অবসান
    লুণ্ঠিত হবে মানী লোকদের ইজ্জত সম্মান
    (২৮)
    উঠিয়া যাইবে বাছ ও বিচার হালাল ও হারামের
    লজ্জা রবে না, লুণ্ঠিত হবে ইজ্জত নারীদের
    (২৯)
    পশুর অধম হইবে তাহারা ভাই-বোনে, মা-বেটায়
    জেনা ব্যাভিচারে হইবে লিপ্ত পিতা আর কন্যায়
    (৩০)
    নগ্নতা আল অশ্লীলতায় ভরে যাবে সব গেহ
    নারীরা উপরে সেজে রবে সতী ভেতরে বেচিবে দেহ
    (৩১)
    উপরে সাধুর লেবাস ভেতরে পাপের বেসাতি পুরা
    নারী দেহ নিয়ে চালাবে ব্যবসা ইবলিস বন্ধুরা
    (৩২)
    নামায ও রোজা, হজ্জ্ব যাকাতের কমে যাবে আগ্রহ
    ধর্মের কাজ মনে হবে বোঝা দারুন দুর্বিষহ
    (৩৩)
    কলিজার খুন পান করে বলি শোন হে বৎসগণ
    খোদার ওয়াস্তে ভুলে যাও সব নাসারার আচরণ
    (৩৪)
    পশ্চিমা ঐ অশ্লীলতা ও নগ্নতা বেহায়ামি
    ডোবাবে তোদের, খোদার কঠোর গজব আসিবে নামি
    (৩৫)
    ধ্বংস নিহত হবে মুসলিম বিধর্মীদের হাতে
    হবে নাজেহাল, ছেড়ে যাবে দেশ ভাসিবে রক্তপাতে
    (৩৬)
    মুসলমানের জান-মাল হবে খেলনা- মুল্যহত
    রক্ত তাদের প্রবাহিত হবে সাগর স্রােতের মত
    (৩৭)
    এরপর যাবে ভেগে নারকীরা পাঞ্জাব কেন্দ্রের
    ধন সম্পদ আসিবে তাদের দখলে মুমিনদের
    টীকা ১: এখানে পাঞ্জাব কেন্দ্রের বলতে কাশ্মীর মনে করা হয়।
    টীকা ২: প্রথম মত: ১৯৪৮ সালে মুসলিম সুলতান নিজামের অধীনস্ত হায়দারাবাদ শহরটি দখল করে নেয় হিন্দুরা। সে সময় প্রায় ২ লক্ষ মুসলমানকে শহীদ করে মুশরিক হিন্দুরা, ১ লক্ষ মা বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করে, হাজার হাজার মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়। শুধু নিজামের প্রাসাদ থেকে নিয়ে যায় ৪ ট্রাক সোনা গয়না।
    দ্বিতীয় মত: হিন্দুস্তানের যুদ্ধের পুর্বে মুসলিমরা সর্বপ্রথম ভারতের কাছ থেকে একটি এলাকা দখল করে নেবে। এটা হচ্ছে পাকিস্তান সিমান্তলগ্ন পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মির এলাকাটা। কারণ কাশ্মিরের স্থানীয় মুজাহিদ, আইএস, আল-ক্বায়েদা, তালেবান সহ আরো অনেক জিহাদি গ্রুপ ব্যপক আকারে প্রস্তুতুতি নেওয়া শুরু করেছে জম্মু কাশ্মির কে ভারতের দখল থেকে মুক্ত করার জন্য।
    (৩৮)
    অনুরূপ হবে পতন একটি শহর মুমিনদের
    তাহাদের ধনসম্পদ যাবে দখলে হিন্দুদের
    (৩৯)
    হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ সেখানে চালাইবে তারা ভারি
    ঘরে ঘরে হবে ঘোর কারবালা ক্রন্দন আহাজারি
    টিকা: ৩৮ ও ৩৯ নং প্যারায় বলা হয়েছে, মুসলিমরা যখন কাশ্মির দখল নেবে এর পরই হিন্দুরা মুসলিমদের একটি এলাকা দখলে নেবে। এবং সেখানে ব্যাপক হত্যা ধংসযগ্য চালাবে। মুসলমানদের ধন-সম্পদ ভারত সরকার লুটপাটের মাদ্ধমে নিয়ে নেবে, মুসলিমদের ঘরে ঘরে কারবালার ন্যায় রুপধারন করবে কিন্তু আপনি কি জানেন? মুসলিমদের যে দেশটা ভারত সরকার দখলে নিয়ে এ ধরনের হত্যা ধংসযগ্য চালাবে সেটা কোন দেশ? হা সেটা আপনার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। অর্থাৎ মুসলমানরা কাশ্মীর জয় করার পর হিন্দুরা বাংলাদেশ দখল করবে।
    (৪০)
    মুসলিম নেতা-অথচ বন্ধু কাফেরের তলে তলে
    মদদ করিবে অরি কে সে এক পাপ চুক্তির ছলে
    টীকা: বর্তমান সময়ে এই উপমহাদেশে এ ধরনের নেতার অভাব নেই। যারা উপর দিয়ে মুসলমানদের নেতা সেজে থাকে, কিন্তু ভেতর দিয়ে কাফিরদের এক নম্বর দালাল। সমগ্র ভারতে উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানে এর যথেষ্ট উদাহরণ আছে-যে নেতারা নামধারী মুসলমান হবে, কিন্তু গোপনে গোপনে হিন্দুবান্ধব হবে। মুসলিমদের ধংস করার জন্য ভারত সরকাররের সাথে গোপনে পাপ চুক্তি করবে।
    (৪১)
    প্রথম অক্ষরে থাকিবে শীনে’র অবস্থান
    শেষের অক্ষরে থাকিবে নূন’ ও বিরাজমান
    ঘটিবে তখন এসব ঘটনা মাঝখানে দু’ঈদের
    ধিক্কার দিবে বিশ্বের লোক জালিম হিন্দুদের
    টীকা: ইসলাম ধ্বংসকারি এই শাসককে চিনার উপায় হল তার নামের প্রথম অক্ষর হবে (শ) এবং শেষের অক্ষর হবে (ন)। কেউ কেউ বলেন হতে পারেন তিনি আমাদের দেশের প্রধান মন্ত্রী। (আল্লাহ ভালো জানেন।) আর এসব ঘটনা ঘটবে দুই ইদের মাঝে। যেটা হতে পারে আগামি ইদ থেকে দুই তিন বছরের মধ্যে। প্রিয়ে ভায়েরা একটু কল্পনা করুন এদেশে যখন ভারতীয় সেনাবাহিনী ঢুকে আপনার পিতা, আপনার ভাই ও আত্নীয় সজনদের নির্মমভাবে হত্যা আপনার মা বোনদের ধর্ষন করবে তখন কি অবস্থা হবে একটু ভেবেছেন? আপনি ভেবেছেন কি আপনার সাজানো সংসার আপনার চাকুরী আপনার ব্যবসার ভবিষত কি? সময় খুব অল্প যুদ্ধের প্রস্তুতি নিন হিন্দু মালাউনদের কচুকাট কাটার জন্য। এছাড়া যে আর কোন পথ নেই। এটাই রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্ল-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ভবিষৎবানী।
    (৪২)
    মহরম মাসে হাতিয়ার হাতে পাইবে মুমিনগণ
    ঝঞ্বারবেগে করিবে তাহারা পাল্টা আক্রমণ
    (৪৩)
    সৃষ্টি হইবে ভারত ব্যাপিয়া প্রচণ্ড আলোড়ন
    ‘উসমান’ এসে নিবে জেহাদের বজ্র কঠিন পণ
    (৪৪)
    ‘সাহেবে কিরান-‘হাবীবুল্লাহ’ হাতে নিয়ে শমসের
    খোদায়ী মদদে ঝাপিয়ে পড়িবে ময়দানে যুদ্ধে
    টীকা: এখানে মুসলমানদের সেনাপতির কথা বলা হয়েছে। শনি ও বৃহস্পতিগ্রহ অথবা শুক্র ও বৃহস্পতি গ্রহের একই রৈখিক কোণে অবস্থানকালীন সময়ে যে যাতকের জন্ম অথবা এ সময়ে মাতৃগর্ভে যে যাতকের ভ্রুনের সঞ্চার ঘটে তাকে বলা হয় সাহেবে কিরান বা সৌভাগ্যবান। সেই মহান সেনাপতির নাম বা উপাধি হবে ‘হাবীবুল্লাহ’।
    (৪৫)
    কাপিবে মেদিনী সীমান্ত বীর গাজীদের পদভারে
    ভারতের পানে আগাইবে তারা মহারণ হুঙ্কারে
    টীকা: আক্রমণকারীরা ভারত উপমহাদেশের হিন্দু দখলকৃত এলাকার বাইরে থাকবে এবং হিন্দু দখলকৃত এলাকা দখল করতে হুঙ্কার দিয়ে এগিয়ে যাবে।
    (৪৬)
    পঙ্গপালের মত ধেয়ে এসে এসব ‘গাজীয়ে দ্বীন’
    যুদ্ধে জিতিয়া বিজয় ঝাণ্ডা করিবেন উড্ডিন
    (৪৭)
    মিলে এক সাথে দক্ষিণী ফৌজ ইরানী ও আফগান
    বিজয় করিয়া কবজায় পুরা আনিবে হিন্দুস্তান
    টীকা: হিন্দুস্তান সম্পূর্ণরূপে মুসলমানদের দখলে আসবে।
    (৪৮)
    বরবাদ করে দেয়া হবে দ্বীন ঈমানের দুশমন
    অঝোর ধারায় হবে আল্লা’র রহমাত বরিষান
    (৪৯)
    দ্বীনের বৈরী আছিল শুরুতে ছয় হরফেতে নাম
    প্রথম হরফ গাফ সে কবুল করিবে দ্বীন ইসলাম
    টীকা: ছয় অক্ষর বিশিষ্ট একটি নাম যার প্রথম অক্ষরটি হবে ‘গাফ’ এমন এক প্রভাবশালী হিন্দু ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম পক্ষে যোগদান করবেন। তিনি কে তা এখন বুঝা যাচ্ছে না।
    (৫০)
    আল্লা’র খাস রহমাতে হবে মুমিনেরা খোশদিল
    হিন্দু রসুম-রেওয়াজ এ ভূমে থাকিবে না এক তিল
    টীকা: ভারত বর্ষে হিন্দু ধর্ম তো দূরে হিন্দুদের কোন রসম রেওয়াজও থাকবে না। (সুবহানাল্লাহ)
    (৫১)
    ভারতের মত পশ্চিমাদেরও ঘটিবে বিপর্যয়
    তৃতীয় বিশ্ব সমর সেখানে ঘটাইবে মহালয়
    টীকা: বর্তমান সময়ে স্পষ্ট সেই তৃতীয় সমরের প্রস্তুতি চলছে। অর্থ্যাৎ সমগ্র বিশ্ব জুড়ে মুসলমাদের বিরুদ্ধে কাফিররা যুদ্ধ করছে তথা জুলুম নির্যাতন করছে। এই জুলুম নির্যাতনই তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধে রুপ নিয়ে একসময় তাদের ধ্বংসের কারণ হবে। এখানে বলা হচ্ছে মহালয় বা কেয়ামত শুরু হবে যাতে পশ্চিমারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।
    (৫২)
    এ রণে হবে ‘আলিফ’ এরূপ পয়মাল মিসমার
    মুছে যাবে দেশ, ইতিহাসে শুধু নামটি থাকিবে তার
    টীকা: এ যুদ্ধের কারণে আলিফ = আমেরিকা এরূপ ধ্বংস হবে যে ইতিহাসে শুধু তার নাম থাকবে, কিন্তু বাস্তবে তার কোন অস্তিত্ব থাকবে না। বর্তমানে মুছে যাওয়ার আগাম বার্তা স্বরূপ দেশটিতে আমরা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অর্থনৈতিক মন্দা চরমভাবে দেখতে পাচ্ছি।
    (৫৩)
    যত অপরাধ তিল তিল করে জমেছে খাতায় তার
    শাস্তি উহার ভুগতেই হবে নাই নাই নিস্তার
    কুদরতী হাতে কঠিন দণ্ড দেয়া হবে তাহাদের
    ধরা বুকে শির তুলিয়া নাসারা দাড়াবে না কভু ফের
    টীকা: এখানে স্পষ্ট যিনি এই শাস্তি দিবেন তা হবে কুদরতি হাতে। যদিও বা আল্লাহ তায়ালার ক্ষেত্রে কুদরত, নবী রাসূলের ক্ষেত্রে মুজিজা, এবং ওলী আল্লাহ গণের ক্ষেত্রে কারামত শব্দ ব্যাবহৃত হয়। এখানে কাফিরদের শাস্তি কোন ওলী আল্লাহ কারামতের মাধ্যমেই দিবেন এটাই বুঝান হয়েছে। এই শাস্তির কারণে নাসারা বা খ্রিস্টানরা আর কখনই মাথা তুলে দাড়াতে পারবে না।
    (৫৪)
    যেই বেঈমান দুনিয়া ধ্বংস করিল আপন কামে
    নিপাতিত শেষকালে সে নিজেই জাহান্নামে
    (৫৫)
    রহস্যভেদী যে রতন হার গাথিলাম আমি তা – – যে
    গায়েবী মদদ লভিতে, আসিবে উস্তাদসম কাজে।
    (৫৬)
    অতিসত্বর যদি আল্লা’র মদদ পাইতে চাও
    তাহার হুকুম তালিমের কাজে নিজেকে বিলিয়ে দাও
    টীকাঃ বর্তমানে সমস্ত ফিতনা হতে হিফাজত হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে সমস্ত হারাম কাজ থেকে খাস তওবা করা। সেটা হারাম আমল হোক কিংবা কাফের মুশরিক প্রনিত বিভিন্ন নিয়ম কানুন হোক।
    (৫৭)
    ‘কানা জাহুকার’ প্রকাশ ঘটার সালেই প্রতিশ্রুত
    ইমাম মাহাদি দুনিয়ার বুকে হবেন আবির্ভূত
    টীকাঃ ‘কানা জাহুকার’ সূরা বনী ইসরাইলের ৮১ নং আয়াতের শেষ অংশ। যার অর্থ মিথ্যার বিনাশ অনিবার্য। পূর্ব আয়াতটির অর্থ ‘সত্য সমাগত মিথ্যা বিলুপ্ত’। অর্থাৎ যখন মিথ্যার বিনাশ কাল উপস্থিত হবে তখন উপযুক্ত সময়েই আবির্ভূত হবেন ‘মাহদী’ বা ‘পথ প্রদর্শক’। উনার আবির্ভাবের মধ্য দিয়ে বাতিল ধ্বংস হবে।
    (৫৮)
    চুপ হয়ে যাও ওহে নেয়ামত এগিও না মোটে আর
    ফাঁস করিও না খোদার গায়বী রহস্য — আসরার
    এ কাসিদা বলা করিলাম শেষ ‘কুনুত কানয’ সালে
    (অদ্ভুত এই রহস্য গাঁথা ফলিতেছে কালে কালে)
    টীকাঃ ‘কুনুত কানয সাল’ অর্থাৎ হিজরি সন ৫৪৮ মোতাবেক ১১৫৮ ইংরেজি সাল হচ্ছে এ কাসিদার রচনা কাল। এটা আরবি হরফের নাম অনুযায়ী সাংকেতিক হিসাব।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s